📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর দানশীলতা
১৭. হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা. বসরা গমন করেন এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর মেহমান হন। ইবনে আব্বাস রা. তাঁর জন্য নিজের স্থান ছেড়ে দেন এবং বলেন, ‘হিজরতের সময় আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে যেমন মেহমানদারীমূলক আচরণ করেছিলেন, আজ আমিও আপনার সঙ্গে তেমন আচরণ করব।' অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার ঋণ কত?’ আবু আইয়ুব আনসারী রা. বললেন, ‘২০ হাজার।' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বললেন, ‘ঘরের সকল আসবাব আপনার মালিকানাধীন।' ৩৯৪
টিকাঃ
৩৯৪. মাকারিমুল আখলাক, ২৭৯।
📄 নবীপরিবারের দানশীলতা
১৮. হযরত হুমাইদ ইবনে বিলাল রা. বলেন, বনু হাশেম ও বনু উমাইয়ার দুই লোক ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। উভয়ের দাবি হলো, তার বংশই অধিক দানশীল। অবশেষে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, প্রত্যেক বংশে চাঁদা তোলা হোক। এরপর ফয়সালা হবে। উভয়েই নিজ নিজ গোত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে চাঁদা তুলতে শুরু করল। বনু উমাইয়ার লোকটি দশ ব্যক্তির কাছে মোট চাঁদা পেল এক লাখ টাকা। হাশেমী ব্যক্তি প্রথমে হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর কাছে গেলে তিনি একাকী একলাখ দিরহাম দান করেন। অতঃপর হযরত হাসান রা.-এর কাছে গেলে তিনি এক লাখ তিরিশ হাজার দিরহাম দেন। অতঃপর লোকটি হযরত হুসাইন রা.-এর কাছে যান। তিনিও এক লাখ তিরিশ হাজার টাকা অর্পণ করেন। এই তিন ব্যক্তিই তিন লাখ ষাট হাজার দিরহাম অর্পণ করেন। এভাবে হাশেমী ব্যক্তি নিজ দাবিতে জয় লাভ করে। অতঃপর সিদ্ধান্ত হলো, এসব দিরহাম দাতাদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। উমুবী ব্যক্তি দাতাদের কাছে গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে দিরহাম ফেরত দিলে তারা তা গ্রহণ করেন। অপরদিকে হাশেমী ব্যক্তি ফেরত দিতে গেলে হযরত উবাইদুল্লাহ, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন রা. গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, 'আমরা দান করে ফেরত নিই না।' ৩৯৫
টিকাঃ
৩৯৫. মাকারিমুল আখলাক, ২৮০।