📄 হযরত হুসাইন রা.-এর দানশীলতা
১৬. এক ব্যক্তি বর্ণনা করেন, আমি ২০-৩০টি উট নিয়ে মদিনায় হাজির হলাম। উদ্দেশ্য হলো, মদিনাবাসীর খেজুর গ্রহণ করব। তারা আমাকে বলল, 'আমর ইবনে উসমান ও হুসাইন ইবনে আলী রা. স্ব-স্ব বাগানে উপস্থিত আছেন, তাদের কাছে চাও।' তিনি বলেন, 'আমি সর্বপ্রথম আমর ইবনে উসমান রা.-এর কাছে উপস্থিত হলাম। তিনি দুই উট খেজুর দিলেন। এরপর আমি হুসাইন রা.-এর বাগানে গেলাম। আমি তাঁকে চিনলাম না। দেখলাম এক লোক জমিনে বসা। তাঁর চারপাশে গোলামরা ঘিরে আছে। মাঝখানে একটা বড় পাত্রে মোটা রুটি ও গোশত। সবাই মিলে তা খাচ্ছে। আমি গিয়ে সালাম দিলাম। হুসাইন রা. আমাকে ডেকে নিজের সঙ্গে খাওয়ালেন। এরপর একটি ছোট নদীর দিকে গিয়ে হাত ধুলেন, পানি পান করলেন। অতঃপর আমার উদ্দেশে বললেন, 'কেন এসেছো?' আমি বললাম, 'আমি কয়েকটি উট নিয়ে আপনাদের কাছে এসেছি। আমার উদ্দেশ্য হলো, আপনাদের থেকে খেজুর নিয়ে উট ভর্তি করে নিয়ে যাওয়া।' হযরত বললেন, 'যাও, উট নিয়ে আসো।' আমি উটগুলো নিয়ে উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, 'এগুলো নিয়ে গুদাম ঘরে যাও, সেখান থেকে যা ইচ্ছা গ্রহণ করো।' বর্ণনাকারী বলেন, 'আমি সব উট ভর্তি করে খেজুর নিয়ে চলে এলাম। মনে মনে ভাবলাম, এই হলো প্রকৃত দানশীলতা।' ৩৮০
টিকাঃ
৩৮০. মাকারিমুল আখলাক, ২৮৭।
📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর দানশীলতা
১৭. হযরত আবু আইয়ুব আনসারী রা. বসরা গমন করেন এবং হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর মেহমান হন। ইবনে আব্বাস রা. তাঁর জন্য নিজের স্থান ছেড়ে দেন এবং বলেন, ‘হিজরতের সময় আপনি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে যেমন মেহমানদারীমূলক আচরণ করেছিলেন, আজ আমিও আপনার সঙ্গে তেমন আচরণ করব।' অতঃপর তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘আপনার ঋণ কত?’ আবু আইয়ুব আনসারী রা. বললেন, ‘২০ হাজার।' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস বললেন, ‘ঘরের সকল আসবাব আপনার মালিকানাধীন।' ৩৯৪
টিকাঃ
৩৯৪. মাকারিমুল আখলাক, ২৭৯।
📄 নবীপরিবারের দানশীলতা
১৮. হযরত হুমাইদ ইবনে বিলাল রা. বলেন, বনু হাশেম ও বনু উমাইয়ার দুই লোক ঝগড়ায় লিপ্ত হলো। উভয়ের দাবি হলো, তার বংশই অধিক দানশীল। অবশেষে তারা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হলো যে, প্রত্যেক বংশে চাঁদা তোলা হোক। এরপর ফয়সালা হবে। উভয়েই নিজ নিজ গোত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির কাছে চাঁদা তুলতে শুরু করল। বনু উমাইয়ার লোকটি দশ ব্যক্তির কাছে মোট চাঁদা পেল এক লাখ টাকা। হাশেমী ব্যক্তি প্রথমে হযরত উবাইদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.-এর কাছে গেলে তিনি একাকী একলাখ দিরহাম দান করেন। অতঃপর হযরত হাসান রা.-এর কাছে গেলে তিনি এক লাখ তিরিশ হাজার দিরহাম দেন। অতঃপর লোকটি হযরত হুসাইন রা.-এর কাছে যান। তিনিও এক লাখ তিরিশ হাজার টাকা অর্পণ করেন। এই তিন ব্যক্তিই তিন লাখ ষাট হাজার দিরহাম অর্পণ করেন। এভাবে হাশেমী ব্যক্তি নিজ দাবিতে জয় লাভ করে। অতঃপর সিদ্ধান্ত হলো, এসব দিরহাম দাতাদের কাছে ফেরত দেওয়া হবে। উমুবী ব্যক্তি দাতাদের কাছে গিয়ে বিস্তারিত ঘটনা খুলে বলে দিরহাম ফেরত দিলে তারা তা গ্রহণ করেন। অপরদিকে হাশেমী ব্যক্তি ফেরত দিতে গেলে হযরত উবাইদুল্লাহ, হযরত হাসান ও হযরত হুসাইন রা. গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, 'আমরা দান করে ফেরত নিই না।' ৩৯৫
টিকাঃ
৩৯৫. মাকারিমুল আখলাক, ২৮০।