📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত তালহা রা.-এর বদান্যতা

📄 হযরত তালহা রা.-এর বদান্যতা


৯. হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. একবার একখণ্ড জমি হযরত উসমানের কাছে বিক্রি করেন। জমির মূল্য হাতে এলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে, যদি রাতভর এই সম্পদ নিজের কাছে রাখি, আর এমতাবস্থায় আমার মৃত্যু চলে আসে, তা হলে আমার কী হবে? সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের ভাগের অংশ ফকির, মিসকিন ও বিধবা মহিলাদের মাঝে তা বন্টন করার নির্দেশ প্রদান করেন। এমনকি সকালবেলা হাতে এক দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। ৩৭২

১০. হযরত যিয়াদ ইবনে জারির রহ. বলেন, একবার হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. এক মজলিসে এক লাখ দিরহাম দান করেন। অথচ তাঁর জীবন এতটা সাদামাটা ছিল যে, নিজের চাদরের কিনারা নিজেই সেলাই করতেন। ৩৭৩

টিকাঃ
৩৭২. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।
৩৭৩. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত আয়েশা রা.-এর দানশীলতা

📄 হযরত আয়েশা রা.-এর দানশীলতা


১১. একবার আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. তাঁর খালা উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা.-এর উদ্দেশে দুটি ব্যাগে ৮০ হাজার দিরহাম ভরে রওনা হন। সেদিন হযরত আয়েশা রা. রোযা রেখেছিলেন। তবুও সকাল থেকে গরিব ও প্রয়োজনগ্রস্ত লোকদের মাঝে তা বন্টন করতে থাকেন। এমনকি এক দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। সন্ধ্যায় খাদেমা বরাবরের মতো রুটি ও তেল উপস্থিত করে বলল, 'আম্মাজান, যদি এই সম্পদ থেকে এক দিরহাম বাঁচিয়ে গোশত ক্রয় করতেন, তা হলে আজ তা দিয়ে ইফতার করা যেত।' হযরত আয়েশা রা. বলেন, 'যদি আগে স্মরণ করিয়ে দিতে তা হলে আমি তোমার ইচ্ছা পূরণ করতাম।' ৩৭৪

টিকাঃ
৩৭৪. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত সায়িদ ইবনে যায়েদের দানশীলতা

📄 হযরত সায়িদ ইবনে যায়েদের দানশীলতা


১২. হযরত সায়িদ ইবনে যায়েদ রা. এর কাছে এক লোক আল্লাহর ওয়াস্তে ভিক্ষা চাইল। হযরত সায়িদ রা. গোলামকে বললেন, 'তাকে পাঁচশ দিয়ে দাও।' গোলাম জিজ্ঞেস করল, 'হযরত, পাঁচশ দীনার না দিরহাম?' হযরত সায়িদ রা. বলেন, 'আমার ইচ্ছা তো ছিল দীনার দেওয়ার। কিন্তু তুমি যেহেতু তার সামনে দিরহামের কথা উল্লেখ করেছ, তাই এখন দিরহামই দাও।' একথা শুনে ভিক্ষুক কাঁদতে শুরু করল। হযরত সায়িদ রা. তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'কেন কাঁদছ?' সে বলল, 'মুনীব, আমি ভাবছি, আপনার মতো দানশীল ব্যক্তিকে যমিন কীভাবে নিজের মাঝে মিশিয়ে ফেলবে?' ৩৭৫

টিকাঃ
৩৭৫. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা.-এর দানশীলতা

📄 হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা.-এর দানশীলতা


১৩. হযরত শাহর ইবনে হাউশাব রা. বলেন, এক লোক হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা.-এর কাছে চাইতে এলো। তখন তাঁর বাঁদি তাঁর সম্মুখে কোনো কাজ করছিল। হযরত আবদুল্লাহ ভিক্ষুককে বললেন, 'এই বাঁদিকে নিয়ে যাও, আজ থেকে সে তোমার।' একথা শুনে বাঁদি চিৎকার করে বলল, 'মুনীব, আপনি আমাকে মেরে ফেললেন।' হযরত আবদুল্লাহ রা. জিজ্ঞেস করলেন, 'কীভাবে?' বাঁদি উত্তর দিল, 'আপনি আমাকে এমন এক ব্যক্তির কাছে অর্পণ করলেন, অর্থসংকট যাকে ভিক্ষা করতে বাধ্য করেছে।' একথা শুনে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. ভিক্ষুককে বললেন, 'তুমি চাইলে একে আমার কাছে বিক্রি করতে পারো।' ভিক্ষুক বলল, 'ঠিক আছে। আপনার ইচ্ছামতো তার মূল্য প্রদান করুন।' হযরত বললেন, 'আমি বাঁদিকে একশ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে ক্রয় করলাম। তুমি আমার কাছে দুইশ স্বর্ণমুদ্রায় বিক্রি করো।' হযরত আবদুল্লাহ রা. তাকে দুইশ স্বর্ণমুদ্রা দিয়ে বাঁদিকে ফেরত নিয়ে বললেন, 'এগুলো শেষ হয়ে গেলে আবার এসো।' এমন দৃশ্য দেখে বাঁদি বলল, 'আমার কারণে আপনাকে অনেক বোঝা বহন করতে হলো!' হযরত আবদুল্লাহ রা. বললেন, 'তোমার প্রতি আমার ব্যয়িত সম্পদের চেয়ে তোমার ইজ্জত-সম্মান আমার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান।' ৩৭৬

১৪. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. প্রতিবেশিদের চল্লিশটি পরিবারের খরচ বহন করতেন এবং দুই ঈদে তাদের জন্য নতুন কাপড়ের ব্যবস্থা করতেন। একবার তিনি এক এলাকায় ভ্রমণকালে একটি খেজুরবাগানে ছায়া গ্রহণ করেছিলেন। এমন সময় এক হাবশী গোলামকে বাগানে কাজ করতে দেখলেন। গোলামের জন্য দুপুরের খাবার আনা হয়েছে। তাতে কয়েক টুকরো রুটি ছিল। গোলামটি যখন খাওয়ার ইচ্ছা করল, তখন একটি কুকুর এলো। সে এক টুকরা রুটি কুকুরটিকে দিল। কুকুরটি তা খেয়ে শেষ করলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় টুকরোটিও দিয়ে দিল। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. এই দৃশ্য দেখছিলেন। তিনি লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, 'প্রতিদিন কী খাবার আসে?' গোলাম বলল, 'এই তিন টুকরা রুটি।' হযরত জিজ্ঞেস করলেন, 'তা হলে নিজে না খেয়ে কুকুরকে কেন খেতে দিলে?' গোলাম উত্তর দিল, 'কুকুরটি এই এলাকার নয়; অনেক দূর থেকে সে আমার নিকট এসেছে। ও খালি পেটে চলে যাবে, বিষয়টা ভালো লাগেনি।' হযরত আবদুল্লাহ রা. জিজ্ঞেস করলেন, 'তা হলে তুমি আজকে কী খাবে?' গোলাম সাদামাটা উত্তর দিল, 'কাল পর্যন্ত ক্ষুধার্ত থাকব।' হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. বলেন, 'আমি মনে মনে ভাবলাম, দানশীলতার কারণে মানুষ আমাকে নিন্দা করে। অথচ এই গোলাম তো দেখছি, আমার চেয়ে বড় দানশীল।' অতঃপর তিনি বাগানের মালিকের পরিচয় জিজ্ঞেস করেন। গোলাম বলল, 'মদিনার অমুক।' এরপর আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. মদিনায় ফিরে এসে সেই মালিকের কাছ থেকে গোলামসহ গোটা বাগান ক্রয় করে গোলামকে আযাদ করে দেন এবং তাকে বলেন, 'আজ থেকে এই বাগানের মালিক তুমি।' ৩৭৮

১৫. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা.-এর সন্তান মুয়াবিয়াকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'আবদুল্লাহ ইবনে জাফর রা. এর বদান্যতা কতদূর পৌঁছেছিল?' তিনি উত্তর দিলেন, 'তিনি নিজের সম্পদে সবাইকে সমান শরিক মনে করতেন। সব ভিক্ষুককে মনভরে দান করতেন। নিজের প্রয়োজনের কথা ভুলে যেতেন। নিজে অভাবী হওয়ার ভয় পেতেন না।' ৩৭৯

টিকাঃ
৩৭৬. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।
৩৭৭. মাকারিমুল আখলাক, ২৭০।
৩৭৮. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৯০।
৩৭৯. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৪/৪০৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px