📄 হযরত উসমান গনী রা.-এর দানশীলতা
৬. তাবুক যুদ্ধে হযরত উসমান রা. দানশীলতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাবুকের যুদ্ধের সময় তিনি প্রয়োজনীয় সামানাদিসহ তিনশ উট দান করেছিলেন। আরও এক হাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে তা ঢেলে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণমুদ্রাগুলো হাতে নিয়ে বলছিলেন, ‘মা দাররা উসমানা মা ফায়ালা বা’দা হাজা’—আজকের পর উসমান যাই করুক, তার কোনো ক্ষতি হবে না। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁর সদকা কবুল হওয়ার বরকতে তিনি পূর্ণ কল্যাণের অধিকারী হয়েছেন। ৩৬৯
৭. একবার মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। হযরত উসমান রা. সিরিয়া থেকে একশ উট ভর্তি করে শস্য আনার ব্যবস্থা করলেন। শস্যভর্তি উটগুলো মদিনায় পৌঁছলে শহরের ব্যবসায়ীরা হযরত উসমান রা.-এর নিকট এসে আবেদন করল, 'আমিরুল মুমিনিন, যত দিরহামের বিনিময়ে আপনি এ শস্য ক্রয় করেছেন, সে পরিমাণ লাভে তা আমাদের নিকট বিক্রি করুন।' হযরত উসমান রা. উত্তর দিলেন, 'এর চেয়ে বেশি দাম উঠেছে।' ব্যবসায়ীরা বলল, 'ঠিক আছে দ্বিগুণ লাভ দেওয়া হবে।' উসমান রা. পুনরায় উত্তর দিলেন, 'এর চেয়ে বেশি মূল্যের আলোচনা হয়েছে।' ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে পাঁচগুণ দাম বেড়ে যায়। হযরত উসমান রা. তবুও রাজি নন। তিনি বারবার এক কথাই বলছিলেন, 'এর চেয়ে বেশি দাম উঠেছে।' ব্যবসায়ীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'মদিনার ব্যবসায়ী তো আমরাই, তা হলে এর চেয়ে বেশি মূল্য কে দিতে চাইল?' হযরত উসমান রা. বলেন, 'মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দশগুণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা কি দশগুণ কিংবা তার চেয়ে বেশি মূল্য দিতে পারবে?' ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করল। অতঃপর হযরত উসমান রা. ঘোষণা দিলেন, 'হে লোকসকল, তোমরা সাক্ষী থাকো। এসব শস্য মদিনার গরিব-মিসকিনদের সদকা করা হলো।' পরে শস্যগুলো গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হয়। ৩৭০
টিকাঃ
৩৬৯. মাকারিমুল আখলাক, ২৬৬।
৩৭০. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৭।
📄 হযরত আলী রা.-এর দানশীলতা
৮. হযরত আবু জাফর রা. বলেন, যদিও ইন্তিকালের সময় হযরত আলী রা.-এর বাৎসরিক আয় এক লাখ দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শাহাদাতের দিন তিনি ১৭ হাজার দিরহাম ঋণী ছিলেন। আমি লোকজনকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, 'বিষয় হলো, তাঁর যেসব বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের গণিমতের সম্পত্তিতে নির্ধারিত অংশ ছিল না, তারা তাঁর কাছে এসে সওয়াল করত। আর তিনি তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতেন।' হযরত ইন্তিকালের পরে হযরত হাসান রা. জমি ইত্যাদি বিক্রি করে তাঁর ঋণ আদায় করেন এবং প্রত্যেক বছর তাঁর পক্ষ থেকে একশ গোলাম আযাদ করতেন। হযরত হাসান রা.-এর পর হযরত হুসাইন রা.-ও মৃত্যু পর্যন্ত এই আমল ধরে রেখেছিলেন। ৩৭১
টিকাঃ
৩৭১. মাকারিমুল আখলাক, ২৭০।
📄 হযরত তালহা রা.-এর বদান্যতা
৯. হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. একবার একখণ্ড জমি হযরত উসমানের কাছে বিক্রি করেন। জমির মূল্য হাতে এলে তিনি চিন্তিত হয়ে পড়লেন যে, যদি রাতভর এই সম্পদ নিজের কাছে রাখি, আর এমতাবস্থায় আমার মৃত্যু চলে আসে, তা হলে আমার কী হবে? সঙ্গে সঙ্গে তিনি নিজের ভাগের অংশ ফকির, মিসকিন ও বিধবা মহিলাদের মাঝে তা বন্টন করার নির্দেশ প্রদান করেন। এমনকি সকালবেলা হাতে এক দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। ৩৭২
১০. হযরত যিয়াদ ইবনে জারির রহ. বলেন, একবার হযরত তালহা ইবনে উবাইদুল্লাহ রা. এক মজলিসে এক লাখ দিরহাম দান করেন। অথচ তাঁর জীবন এতটা সাদামাটা ছিল যে, নিজের চাদরের কিনারা নিজেই সেলাই করতেন। ৩৭৩
টিকাঃ
৩৭২. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।
৩৭৩. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।
📄 হযরত আয়েশা রা.-এর দানশীলতা
১১. একবার আবদুল্লাহ ইবনে যুবায়ের রা. তাঁর খালা উম্মুল মুমিনিন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা রা.-এর উদ্দেশে দুটি ব্যাগে ৮০ হাজার দিরহাম ভরে রওনা হন। সেদিন হযরত আয়েশা রা. রোযা রেখেছিলেন। তবুও সকাল থেকে গরিব ও প্রয়োজনগ্রস্ত লোকদের মাঝে তা বন্টন করতে থাকেন। এমনকি এক দিরহামও অবশিষ্ট ছিল না। সন্ধ্যায় খাদেমা বরাবরের মতো রুটি ও তেল উপস্থিত করে বলল, 'আম্মাজান, যদি এই সম্পদ থেকে এক দিরহাম বাঁচিয়ে গোশত ক্রয় করতেন, তা হলে আজ তা দিয়ে ইফতার করা যেত।' হযরত আয়েশা রা. বলেন, 'যদি আগে স্মরণ করিয়ে দিতে তা হলে আমি তোমার ইচ্ছা পূরণ করতাম।' ৩৭৪
টিকাঃ
৩৭৪. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৮।