📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত আবু বকর রা.-এর দানশীলতা

📄 হযরত আবু বকর রা.-এর দানশীলতা


১. হযরত জাবের রা. বলেন, আমি একবার আমিরুল মুমিনিন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর দরবারে কিছু চাওয়ার জন্য উপস্থিত ছিলাম। তিনি আমাকে দান করতে অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করলেন। দ্বিতীয়বার উপস্থিত হলেও মানা করলেন। আমি বললাম, 'আমাকে দান করুন। অন্যথায় আমি ভাবব, আপনি কৃপণতা করছেন।' হযরত আবু বকর বলেন, 'কার্পণ্যের চেয়ে বড় কোনো ব্যাধি নেই। বিষয় হলো, তুমি আমার কাছে এলে আমি হাজার দিনার প্রদানের ইচ্ছা করেছিলাম।' এরপর তিনি আমাকে হাজার দিনার দান করেন। ১০৭

২. হযরত উমর রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দান করার নির্দেশ দিলেন। তখন আমার কাছে অনেক সম্পদ ছিল। আমি মনে মনে ভাবলাম, আজ আমি আবু বকরের উপর জয় লাভ করব। আমি আমার সম্পদের অর্ধেক নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলাম। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'উমর, পরিবারের জন্য কী রেখে এসেছ?' আমি বললাম, 'অর্ধেক সম্পদ রেখে এসেছি।' হযরত উমর রা. বলেন, কিছুক্ষণ পর হযরত আবু বকর তাঁর সম্পদ নিয়ে হাজির হলে হুজুরের প্রশ্নের উত্তরে বললেন, 'পরিবারের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে রেখে এসেছি।' হযরত উমর রা. বলেন, 'আমি হযরত আবু বকরকে বললাম, আমি ভবিষ্যতে কখনও আপনার সঙ্গে মোকাবেলা করব না।' ১০৮

৩. হযরত আবু বকর রা. ইসলাম গ্রহণকালে ৪০ হাজার দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) এর মালিক ছিলেন। তিনি এই সব দিরহাম আল্লাহর পথে ব্যয় করেন। ১০৯ তিনি অনেক গোলাম ক্রয় করে তাদের মুক্ত করে দিতেন। তন্মধ্যে হযরত বিলাল, আমের ইবনে ফাহিরা রা.-এর মতো বিখ্যাত সাহাবীও ছিলেন। ১১০

৪. হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, 'হযরত আবু বকরের সম্পদ আমার যত বেশি কাজে এসেছে, অন্য কারও সম্পদ এত বেশি কাজে আসেনি।' একথা শুনে হযরত আবু বকর রা. ক্রন্দনরত অবস্থায় আরজ করলেন, 'ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি এবং আমার মা তো আপনার জন্যই উৎসর্গীকৃত।' ১১১

টিকাঃ
১০৭. মাকারিমুল আখলাক, ২৬৪।
১০৮. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৭১।
১০৯. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৭৭।
১১০. উসদুল গাবা, ৫/২২২।
১১১. মাকারিমুল আখলাক, ২৬৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত উমর রা.-এর দানশীলতা

📄 হযরত উমর রা.-এর দানশীলতা


৫. মুহাম্মাদ ইবনে সিরীন রহ. বলেন, আমি এ সংবাদ পেয়েছি যে, একবার আমিরুল মুমিনিন হযরত উমর রা.-এর এক আত্মীয় তাঁর কাছে কিছু চাইতে এলে তিনি তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন। লোকজন বিস্মিত হয়ে হযরতকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'সেই ব্যক্তি বাইতুল মালের সম্পদ চাইতে এসেছিল। যদি আমি তাকে বাইতুল মাল থেকে দান করতাম, তা হলে একজন বিশ্বাসঘাতক বাদশাহ হিসেবে আল্লাহর দরবারে আমি কী ওজর পেশ করতাম? তার একান্ত প্রয়োজন থাকলে সে আমার ব্যক্তিগত সম্পদ থেকে চাইতে পারে।' অতঃপর তিনি তাকে ১০ হাজার দিরহাম পাঠিয়ে দেন। ১১২

টিকাঃ
১১২. মাকারিমুল আখলাক, ২৬৮।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত উসমান গনী রা.-এর দানশীলতা

📄 হযরত উসমান গনী রা.-এর দানশীলতা


৬. তাবুক যুদ্ধে হযরত উসমান রা. দানশীলতার ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাবুকের যুদ্ধের সময় তিনি প্রয়োজনীয় সামানাদিসহ তিনশ উট দান করেছিলেন। আরও এক হাজার দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোলে তা ঢেলে দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বর্ণমুদ্রাগুলো হাতে নিয়ে বলছিলেন, ‘মা দাররা উসমানা মা ফায়ালা বা’দা হাজা’—আজকের পর উসমান যাই করুক, তার কোনো ক্ষতি হবে না। এর ব্যাখ্যা হলো, তাঁর সদকা কবুল হওয়ার বরকতে তিনি পূর্ণ কল্যাণের অধিকারী হয়েছেন। ৩৬৯

৭. একবার মদিনায় দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। হযরত উসমান রা. সিরিয়া থেকে একশ উট ভর্তি করে শস্য আনার ব্যবস্থা করলেন। শস্যভর্তি উটগুলো মদিনায় পৌঁছলে শহরের ব্যবসায়ীরা হযরত উসমান রা.-এর নিকট এসে আবেদন করল, 'আমিরুল মুমিনিন, যত দিরহামের বিনিময়ে আপনি এ শস্য ক্রয় করেছেন, সে পরিমাণ লাভে তা আমাদের নিকট বিক্রি করুন।' হযরত উসমান রা. উত্তর দিলেন, 'এর চেয়ে বেশি দাম উঠেছে।' ব্যবসায়ীরা বলল, 'ঠিক আছে দ্বিগুণ লাভ দেওয়া হবে।' উসমান রা. পুনরায় উত্তর দিলেন, 'এর চেয়ে বেশি মূল্যের আলোচনা হয়েছে।' ব্যবসায়ীরাও দাম বাড়াতে থাকে। এক পর্যায়ে পাঁচগুণ দাম বেড়ে যায়। হযরত উসমান রা. তবুও রাজি নন। তিনি বারবার এক কথাই বলছিলেন, 'এর চেয়ে বেশি দাম উঠেছে।' ব্যবসায়ীরা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'মদিনার ব্যবসায়ী তো আমরাই, তা হলে এর চেয়ে বেশি মূল্য কে দিতে চাইল?' হযরত উসমান রা. বলেন, 'মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন দশগুণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তোমরা কি দশগুণ কিংবা তার চেয়ে বেশি মূল্য দিতে পারবে?' ব্যবসায়ীরা অস্বীকার করল। অতঃপর হযরত উসমান রা. ঘোষণা দিলেন, 'হে লোকসকল, তোমরা সাক্ষী থাকো। এসব শস্য মদিনার গরিব-মিসকিনদের সদকা করা হলো।' পরে শস্যগুলো গরিবদের মাঝে বণ্টন করা হয়। ৩৭০

টিকাঃ
৩৬৯. মাকারিমুল আখলাক, ২৬৬।
৩৭০. আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৮৭।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 হযরত আলী রা.-এর দানশীলতা

📄 হযরত আলী রা.-এর দানশীলতা


৮. হযরত আবু জাফর রা. বলেন, যদিও ইন্তিকালের সময় হযরত আলী রা.-এর বাৎসরিক আয় এক লাখ দিরহাম পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল, কিন্তু শাহাদাতের দিন তিনি ১৭ হাজার দিরহাম ঋণী ছিলেন। আমি লোকজনকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে তারা বলল, 'বিষয় হলো, তাঁর যেসব বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের গণিমতের সম্পত্তিতে নির্ধারিত অংশ ছিল না, তারা তাঁর কাছে এসে সওয়াল করত। আর তিনি তাদের প্রতি দয়া প্রদর্শন করতেন।' হযরত ইন্তিকালের পরে হযরত হাসান রা. জমি ইত্যাদি বিক্রি করে তাঁর ঋণ আদায় করেন এবং প্রত্যেক বছর তাঁর পক্ষ থেকে একশ গোলাম আযাদ করতেন। হযরত হাসান রা.-এর পর হযরত হুসাইন রা.-ও মৃত্যু পর্যন্ত এই আমল ধরে রেখেছিলেন। ৩৭১

টিকাঃ
৩৭১. মাকারিমুল আখলাক, ২৭০।

ফন্ট সাইজ
15px
17px