📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ব্যভিচার থেকে বাঁচার একটি উত্তম পন্থা

📄 ব্যভিচার থেকে বাঁচার একটি উত্তম পন্থা


হযরত আবু উমামা রা. বলেন, এক যুবক রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে আরজ করল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনি কি আমাকে যিনার অনুমতি দিতে পারেন?' তার এমন ধৃষ্টতা দেখে উপস্থিত সাহাবায়েকেরাম শোরগোল শুরু করলেন এবং বললেন, 'তাকে মজলিস থেকে বের করে দাও।' কিন্তু রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'তাকে আমার কাছে নিয়ে এসো।' সে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকটবর্তী হলে তিনি তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি তোমার মায়ের সাথে একাজ করাকে ভালো মনে করো?' সে বলল, 'না।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'কেউ-ই নিজের মায়ের সঙ্গে একাজ করাকে ভালো মনে করে না।' অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আচ্ছা, কেউ তোমার মেয়ের সঙ্গে এই কাজ করলে তোমার কি ভালো লাগবে?' সে বলল, 'কখনও নয় ইয়া রাসূলাল্লাহ।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, 'অনুরূপ কেউ-ই নিজের মেয়ের সঙ্গে একাজ করাকে ভালো মনে করে না।' অতঃপর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার বোন, ফুফু, খালাসহ অনেকের কথা উল্লেখ করে তাকে বুঝালে সে একাজের নিকৃষ্টতা বুঝতে পারে। অতঃপর সে বলল, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমার জন্য দোয়া করুন।' রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার মাথায় হাত রেখে নিম্নোক্ত দোয়া করলেন, اللَّهُمَّ اغْفِرْ ذَنْبَهُ وَطَهِّرْ قَلْبَهُ وَحَصِّن فَرْجَهُ. হে আল্লাহ, তার গুনাহ মাফ করুন। তার অন্তরকে পবিত্র করুন এবং তার লজ্জাস্থানকে হেফাযত করুন। বর্ণনাকারী বলেন, 'এরপর সেই যুবকের মাঝে এমন পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল যে, তার দৃষ্টি অবৈধ কোনো কিছুর দিকে প্রসারিত হতো না।' ১৭৮

উক্ত ঘটনায় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে ব্যভিচার থেকে বাঁচার এমন এক উত্তম উপায় শিক্ষা দিয়েছেন, যেকোনো ব্যক্তি সামান্য সময় বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করলে নিজেকে জঘন্য চরিত্র থেকে বিরত রাখতে পারবে। কারণ যার সঙ্গেই ব্যভিচার করার ইচ্ছা হোক না কেন, সে অবশ্যই কারও না কারও বোন বা মা। মানুষ যেভাবে নিজের মা-বোনের সঙ্গে এমন কাজকে বরদাশত করতে পারে না, তা হলে অন্যরা কীভাবে বরদাশত করবে?

টিকাঃ
১৭৮. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৪/৩৮২।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 এটা কিয়ামতের নিকটবর্তী আলামত

📄 এটা কিয়ামতের নিকটবর্তী আলামত


বর্তমানে চতুর্দিকে নির্লজ্জতা, বেহায়াপনা ও উলঙ্গপনার যে স্রোত বয়ে যাচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পূর্বেই এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, যাতে উম্মত এ ধরনের অশ্লীলতা থেকে বেঁচে থাকার চিন্তা করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى يَتَسَافَدَ النَّاسُ فِي الطُّرُقِ كَمَا تَتَسَافَدُ الدَّوَابُ وَيَسْتَغْنِيَ الرِّجَالُ بِالرِّجَالِ وَالنِّسَاءِ بِالنِّসَاءِ. ততদিন কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে না, যতদিন না মানুষ পশুর মতো রাস্তায় (জনসম্মুখে) সহবাস করবে এবং পুরুষ পুরুষত্বের সাথে এবং নারী নারীর সাথে যৌনকামনা পূর্ণ করবে। ১৭৯

অন্যত্র আরেক হাদিসে এসেছে, কিয়ামত এমন অবস্থায় লোকদের উপর কায়েম হবে, যারা সৎ কাজের আদেশ করবে না, অসৎ কাজে বাধা প্রদান করবে না, তারা গাধার মতো (প্রকাশ্যে) যৌনতাড়না পূরণ করবে, একজন পুরুষ কোনো একজন নারীর হাত ধরে নির্জনে যিনা করে জনসম্মুখে ফিরে আসবে। অতঃপর জনতা তাকে দেখে হাসতে থাকবে এবং সে তাদের দেখে হাসতে থাকবে। ১৮০

অর্থাৎ যে যুগে সামান্য লজ্জা-শরমও অবশিষ্ট থাকবে না, ব্যভিচার কোনো লজ্জার বিষয় হিসেবে গণ্য হবে না, মানুষ ও পশুর মধ্যকার পার্থক্য থাকবে না। বর্তমানে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই ভবিষ্যদ্বাণী অক্ষরে অক্ষরে বাস্তব রূপ লাভ করেছে। পশ্চিমা দেশসমূহের অবস্থা তো বলাই বাহুল্য, প্রাচ্যের দেশগুলোও এ ঘৃণ্য অবস্থার শিকার। এমনকি কতিপয় মুসলিম রাষ্ট্রেও ব্যভিচারকে নির্লজ্জতা পরিগণিত হয়। বর্তমানে সর্বত্র ব্যভিচারের শিক্ষা দেওয়া হয়। ভিডিও গেমসের নামে, সভ্যতা-সংস্কৃতির নামে, আবার কোথাও খেলাধুলার নামে নির্লজ্জতার মহড়া দেখানো হয়। টিভি চ্যানেলের অশালীন প্রোগ্রামের মাধ্যমে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে অশ্লীলতার শিক্ষা অতি সহজেই পৌঁছে যায়। বর্তমানে নির্লজ্জতা প্রদর্শনের আন্তর্জাতিক কনফারেন্স পরিচালিত হয়, যার প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো, সারা পৃথিবীর নারী-পুরুষের জন্য অবৈধ মিলনের পথ সুগম করা এবং এ সম্পর্কিত প্রতিবন্ধকতা দূর করা। ব্যভিচারের পথে একটি বড় বাধা ছিল মানুষের স্বভাবজাত লজ্জা। পশ্চিমা সভ্যতা-সংস্কৃতি এই লজ্জাকে বহু আগেই হত্যা করে ফেলেছে। দ্বিতীয় প্রতিবন্ধকতা হলো নারীদের জন্য অবৈধ সহবাসে লিপ্ত হওয়া। এই প্রতিবন্ধকতাকে দূর করার জন্য সর্বত্র জনসম্মুখ ব্যবস্থা ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং সর্বত্র নগ্নতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে; যাতে এই পশুত্ব ও শয়তানী কর্ম নির্বিঘ্নে প্রতিহিত হতে পারে এবং লজ্জা-গুনাহ থেকে উদাসীন হয়ে মানুষও পশুর মতো মনের ক্ষুধা মিটাতে পারে। আল্লাহ আমাদের হেফাযত করুন।

এমন ভয়াবহ ও শঙ্কাময় অবস্থায় প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব হলো, অন্যের অনুকরণে নিজের লজ্জা-শরমের বাতি না নেভানো। বরং নিজের লজ্জাকে পূর্ণরূপে হেফাযতের সাথে সাথে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতিও কড়া নজর রাখা। শয়তানের প্রধান মুখপাত্র টেলিভিশনসহ বিভিন্ন জীবণু থেকে নিজের ঘরের ঈমানী পরিবেশকে হেফাযত করা। এসব কাজ ব্যতীত যথাযথভাবে আল্লাহর প্রতি লজ্জার দাবি পূরণ হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালা নিজ রহমত ও করুণায় প্রত্যেক মুসলমানকে নিজের লজ্জাস্থানের পূর্ণ হেফাযত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
১৭৯. কিতাবুল ফিতান, মারওয়ারী, ৩৯০.
১৮০. কিতাবুল ফিতান, ৩৮২.

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية