📄 ব্যভিচার অভাব টেনে আনে
হযরত ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
إِذَا ظَهَرَ الزِّنَا الْفَقْرُ وَالْمَسْكَنَةُ.
ব্যভিচার বৃদ্ধি পেলে দারিদ্র্য ও অভাব-অনটন বৃদ্ধি পায়। ১৬৮
অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,
مَا ظَهَرَتِ الْفَاحِشَةُ فِي قَوْمٍ قَطُّ فِعْلِمَ بِهَا فِيهِمُ الْعَلَانِيَةُ إِلَّا ظَهَرَ فِيهِمُ الطَّاعُونُ وَالأَوْجَاعُ الَّتِي لَمْ تَكُنْ فِي أَسْلَافِهِمْ.
যখন কোনো জনপদে ব্যাপকহারে অশ্লীলতা বৃদ্ধি পাবে, তখন সে জনপদে মহামারি এবং এমন ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে, যা পূর্ববর্তীদের মাঝে ছিল না। ১৬৯
امام বাইহাকী রহ. শুআবুল ঈমানে একটি হাদিসে বর্ণনা করেন, যেখানে বলা হয়েছে,
الزِّنَا يُورِثُ الْفَقْرَ.
ব্যভিচার দারিদ্র্য সৃষ্টি করে। ১৭০
বর্তমান যুগ এসব হাদিসের বাস্তব নমুনা। নির্লজ্জতা ও ব্যভিচারের দ্বারা গোটা প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সমাজে এমন সব মারাত্মক রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে, যেগুলোর নামও এখন পর্যন্ত শোনা যায়নি এবং এসব রোগের কোনো চিকিৎসাও নেই। আর দারিদ্র্য ও অভাব-অনটনও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। অভাবের অর্থ শুধু এই নয় যে, মানুষ রুজি-রোজগারে কষ্ট ভোগ করবে; বরং অভাব-অনটন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মুখাপেক্ষিতা। বর্তমানে সেসব নির্লজ্জ সমাজে প্রতিটি পদে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েছে। কোথাও বিদ্যুতের অভাব, কোথাও গ্যাসের অভাব, কোথাও চাকরির অভাব। মোট কথা মানুষ বর্তমানে নিজের কামনা-বাসনার বশবর্তী হয়ে নিজেরাই নিজেদের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সময়, জীবন ও সম্পদ থেকে বরকত উঠে গেছে। আর যোগ্যতা ও ক্ষমতা অর্থহীন কাজে নষ্ট হচ্ছে!
টিকাঃ
১৬৮. ফায়যুল কাদীর, ৪/৩৮২।
১৬৯. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩৮৮।
১৭০. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৪/২৬৩।