📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 সর্বাধিক ক্ষতিকর বস্তু

📄 সর্বাধিক ক্ষতিকর বস্তু


অন্য এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

يَا بَنِيَا الْعَرَبِ، يَا بَنِيَا الْعَرَبِ! إِنَّ أَخْوَفَ مَا أَخَافُ عَلَيْكُمُ الزِّنَى وَالشُّهْوَةُ الْخَفِيَّةُ.

হে আরবের ব্যভিচারীরা, হে আরবের ব্যভিচারীরা, আমি তোমাদের ব্যাপারে দুটি বস্তুর ক্ষেত্রে সর্বাধিক ভয় পাই। তা হলো, ব্যভিচার ও গোপনে প্রবৃত্তি চরিতার্থকরণ। ১৫২

অর্থাৎ যিনা-ব্যভিচার এমন জঘন্য কাজ, যার কারণে সমাজব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায় এবং ঘরে ঘরে ফিতনা-ফাসাদ ও রক্তপাতের অবস্থা সৃষ্টি হয়ে যায়। এমনকি বংশধারা সন্দেহযুক্ত হয়ে যায়। কাজেই এই জঘন্য কাজ থেকে যথাসাধ্য বেঁচে থাকা এবং যিনার সকল দ্বার রুদ্ধ করা অতীব জরুরি।

টিকাঃ
১৫২. তাবারানী, আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩৮৬।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ব্যভিচারীর দোয়া কবুল হয় না

📄 ব্যভিচারীর দোয়া কবুল হয় না


হযরত উসমান ইবনে আবুল আস রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

تُفْتَحُ أَبْوَابُ السَّمَاءِ نِصْفَ اللَّيْلِ، فَيُنَادِي مُنَادٍ: هَلْ مِنْ دَاعٍ فَيُسْتَجَابَ لَهُ؟ هَلْ مِنْ سَائِلٍ فَيُعْطَى؟ هَلْ مِنْ مَكْرُوبٍ فَيُفَرَّجَ عَنْهُ؟ فَلَا يَبْقَى مُسْلِمٌ يَدْعُو بِدَعْوَةٍ إِلَّا اسْتَجَابَ اللَّهُ لَهُ إِلَّا زَانِيَةً تَسْعَى بِفَرْجِهَا أَوْ عِشَارٍ.

মাঝরাতে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয়। অতঃপর একজন আহ্বানকারী আহ্বান করতে থাকে, 'কোনো দোয়াকারী রয়েছে কি, যার দোয়া কবুল করা হবে? কোনো প্রার্থনাকারী আছে কি, যাকে দান করা হবে? কোনো বিপদগ্রস্ত আছে কি, যার বিপদ দূর করা হবে?' তখন প্রত্যেক মুসলমানের দোয়া আল্লাহ তায়ালা কবুল করেন। তবে দুজনের দোয়া কবুল করেন না : ১. ব্যভিচারিণী, যে নিজের লজ্জাস্থানকে খারাপ কাজে ব্যবহার করে, ২. অন্যায় কর আদায়কারী। ১৫৩

অন্য এক হাদিসে এসেছে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা তিন ব্যক্তির সঙ্গে না কথা বলবেন, আর না তাদের গুনাহ মাফ করবেন : ১. বৃদ্ধ ব্যভিচারী, ২. মিথ্যুক রাজা, ৩. দরিদ্র অহংকারী। ১৬০

টিকাঃ
১৫৩. মুসনাদে আহমদ, ৪/৭৪; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩৮৪।
১৬০. মুসলিম, ১/৭১; আবূ দাউদ, ইবন হিব্বান, ৩/২৫০।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ব্যভিচারীরা আগুনের গর্তে নিক্ষিপ্ত হবে

📄 ব্যভিচারীরা আগুনের গর্তে নিক্ষিপ্ত হবে


রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অভ্যাস ছিল, তিনি সাহাবায়ে-কেরামকে প্রায়ই জিজ্ঞেস করতেন, তোমাদের কেউ স্বপ্ন দেখলে বলো। একদিন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকালবেলা নিজের এক দীর্ঘ স্বপ্নের কথা বর্ণনা করলেন যে, আমি স্বপ্নে দেখলাম দুজন ব্যক্তি আমার কাছে এলো এবং আমাকে নিয়ে চলল। অতঃপর এমন কিছু লোকের পাশ দিয়ে আমরা অতিক্রম করলাম, যাদের বিভিন্ন শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল। (অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন,)

فَأَتَيْنَا عَلَى مِثْلِ التَّنُّورِ قَالَ وَأَحْسَبُ أَنَّهُ কَانَ يَقُولُ فَإِذَا فِيهِ لَغَطٌ وَأَصْوَاتٌ قَالَ فَا طَّلَعْنَا فِيهِ فَإِذَا فِيهِ رِجَالٌ وَنِسَاءٌ عُرَاةٌ فَإِذَا هُمْ يَأْتِيهِمْ لَهَبٌ مِنْ أَسْفَلَ مِنْهُمْ فَإِذَا أَتَاهُمْ ذَلِكَ اللَّهَبُ ضَوْضَوْا.

'অতঃপর আমরা চুলার মতো একটা গর্তের কাছে পৌঁছলাম।' বর্ণনাকারী বলেন, 'আমার মনে হয় তিনি বলছিলেন, তথায় শোরগোলের শব্দ ছিল।' তিনি বলেন, 'আমরা উঁকি মারলাম। দেখলাম, তাতে বেশ কিছু উলঙ্গ নারী ও পুরুষ রয়েছে। আর নিচ থেকে উদ্গত আগুনের লেলিহান শিখা তাদের স্পর্শ করছে। যখনই অগ্নিশিখা তাদের স্পর্শ করে, তখনই তারা উচ্চৈঃস্বরে চিৎকার করে ওঠে।' রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাথিদের কাছে এদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা বলেন, 'সামনে চলুন।' অতঃপর সব দৃশ্য অবলোকন শেষে সবার পরিচয় প্রদান করেন। এক পর্যায়ে চুলার মতো গর্তের ভেতরের লোকদের পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,

أَمَا الرِّجَالُ وَالنِّسَاءُ الْعُرَاةُ الَّذِينَ هُمْ فِي مِثْلِ بِنَاءِ التَّنُّورِ فَإِنَّهُمُ الزُّنَاةُ وَالزَّوَافِعُ.

আর এসকল উলঙ্গ নারীপুরুষ, যারা চুলার মতো গর্তের অভ্যন্তরে রয়েছে, তারা হলো ব্যভিচারী ও ব্যভিচারিণী দল। ১৬১

মুহাদ্দিসিনে কেরাম লেখেন, 'ব্যভিচারীদের এই অপমানজনক পরিণতি তাদের অন্যায়ের উপযুক্ত শাস্তি। কারণ : ১. ব্যভিচারীরা সাধারণত গোপনে এ কাজ সম্পাদন করে থাকে। এর উপযুক্ত শাস্তি হলো, বস্ত্রহীন করে অপমানিত করা। ২. ব্যভিচারীরা শরীরের নিম্নভাগকে মাধ্যমে গুনাহ করে। এর উপযুক্ত শাস্তি হলো, চুলায় নিক্ষেপ করে নিচ থেকে আগুনে লাগিয়ে দেওয়া।' ১৬২

টিকাঃ
১৬১. বুখারী, ২/১০৪৪, হাদিস নং-৬৯৭।
১৬২. ফাতহুল বারী, ২/১০৪৪।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ব্যভিচারীদের শরীর দুর্গন্ধময় হবে

📄 ব্যভিচারীদের শরীর দুর্গন্ধময় হবে


আরেক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক লম্বা স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন,

ثُمَّ انْطَلَقْتُ بِي فَإِذَا أَنَا بِقَوْمٍ أَشَدَّ شَيْءٍ انْتِفَاخًا وَأَنْتَنَهُ رِيحًا كَانَ رِيحُهُمْ الْمَرَاحِيضُ قُلْتُ مَنْ هَؤُلَاءِ؟ قَالَ هَؤُلَاءِ الزَّانُونَ.

অতঃপর আমাকে এমন কতিপয় লোকের পাশ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো, যাদের শরীর (পঁচে) ফুলে গিয়েছিল এবং তাদের শরীর থেকে ভীষণ দুর্গন্ধ আসছিল; অনেকটা মলমূত্রের গন্ধের মতো। আমি এদের পরিচয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে ফেরেশতা বললেন, এরা ব্যভিচারী। ১৬৩

এক বর্ণনায় হযরত বুরাইদা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্য বর্ণনা করেন যে, সপ্তম আসমান ও সপ্তম জমিন বৃদ্ধ ব্যভিচারীর প্রতি অভিসম্পাত করে। আর ব্যভিচারিণী মহিলাদের লজ্জাস্থানের দুর্গন্ধ জাহান্নাম নিজে কষ্ট পায়। ১৬৪

অন্য এক স্থানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মিথ্যাবাদীদের শাস্তি বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, তাদেরকে 'খুবা' নদীর পানি পান করানো হবে। এবং সেই নদীর পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন,

نَهْرٍ يَجْرِي مِنْ فُرُوجِ الْمُومِسَاتِ يُؤْذِى أَهْلَ النَّارِ رِيحُ فُرُوجِهِمْ .

এটা এমন নদী, যা ব্যভিচারিণীদের লজ্জাস্থান থেকে প্রবাহিত। যাদের লজ্জাস্থানের দুর্গন্ধ জাহান্নামবাসীকে কষ্ট দেয়। ১৬৫

টিকাঃ
১৬৩. সহিহ ইবনে খুযাইমা; ইবনে হিব্বান; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩৮৬।
১৬৪. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩৮০।
১৬৫. মুসনাদে আহমদ; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩৮৬।

ফন্ট সাইজ
15px
17px