📄 মজুতদারী
জনসাধারণের ক্ষতি করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুদামজাত রেখে অধিক লাভবান হতে ইসলাম নিষেধ করেছে। পরিভাষায় একে ‘মজুতদারী’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর ভাষায় মজুতদারী থেকে নিষেধ করেছেন।
১. হযরত উমর রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ. যে ব্যক্তি (খাদ্য ইত্যাদি) গুদামজাত করল, সে ভুল কাজ করল। ২২৭
২. এক মারফু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, بِئْسَ الْعَبْدُ الْمُحْتَكِرُ إِنْ أَرْخَصَ اللَّهُ الْأَسْعَارَ حَزَنَ, وَإِنْ أَغْلَاهَا اللَّهُ فَرِحَ. গুদামজাতকারী এতটাই নিকৃষ্ট যে, আল্লাহ তায়ালা যদি দ্রব্যমূল্যের নিম্নগতি ঘটান, তা হলে সে চিন্তিত হয়। আর যদি দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটান, তা হলে সে খুব আনন্দিত হয়। ২২৮
৩. হযরত উসমান ইবনে আফফান রা.-এর গোলাম ফররুখ রহ. বলেন, ‘একবার কিছু সবজি জাতীয় বস্তু মদিনার নবীর ফটকে স্তূপীকৃত ছিল। তখন ছিল হযরত উমর রা.-এর শাসনামল। তিনি সেগুলো দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “এগুলো কোত্থেকে এলো?” লোকেরা জানাল, “এগুলো আমদানি করা হয়েছে।” একথা শুনে হযরত উমর রা. এই সবজির জন্য এবং এগুলোর আমদানিকারকদের জন্য বরকতের দোয়া করলেন। তখন কতিপয় লোক সংবাদ দিলো যে, এগুলো গুদামজাত করা হয়েছে। হযরত উমর রা. বললেন, “এ কাজ কে করেছে?” লোকজন বলল, “ফররুখ এবং আপনার অমুক ক্রীতদাস।” হযরত উমর রা. তাদের উভয়কে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারা বলল, “আমরা তো নিজেদের মাল কেনাবেচা করেছি (অর্থাৎ এতে অন্যের কী ক্ষতি হয়েছে)।” এর জবাবে হযরত উমর রা. বললেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মَنِ احْتَكَرَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ طَعَامَهُمْ أَيَّامًا بِلَيْلَادِ أَوْ قَالَ بِالْإِفْلَاسِ যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করেন এবং অভাবগ্রস্ত করেন।”
‘একথা শুনে ফররুখ রহ. বলেন, “আমি আপনাকে এবং আল্লাহকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এ কাজ আমি কখনও করব না।” অতঃপর তিনি মিশর চলে যান।' এই হাদিসের বর্ণনাকারী আবু ইয়াহইয়া রহ. বলেন, ‘অপর ব্যক্তিকে আমি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত দেখেছি এবং দেখেছি সে ভীষণ অভাবগ্রস্ত।' ১৫৩
গুদামজাতকরণের নিষেধাজ্ঞা তখনই প্রযোজ্য, যখন এর কারণে জনসাধারণ ও শহরবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এমন সকল বস্তু গুদামজাত করা নিষেধ। যেমন: খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। হ্যাঁ, যদি গুদামজাতের দরুন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তবে কোনো সমস্যা নেই। কেউ যদি মৌসুমের শেষে মূল্য বৃদ্ধির আশায় মৌসুমের শুরুতে কোনো কিছু বেশি পরিমাণ মজুদ করে, তবে তা-ও নিষিদ্ধ। কারণ এই মূল্যবৃদ্ধি তার কোনো কাজের ভিত্তিতে ঘটবে না। ১৫৪
টিকাঃ
২২৭. মুসলিম, ২/৩০৯।
২২৮. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ২/৩৬৪।
১৫৩. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ২/৬৮৬।
১৫৪. শামী (করাচি), ৬/৩৫৮।