📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ বা জায়গা দখল করা

📄 অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ বা জায়গা দখল করা


হারাম উপার্জনের আরেক মাধ্যম হলো বিনা অধিকারে অন্যের সম্পদ বা জমি দখল করে নেওয়া। কুরআন কারিমে একাধিক স্থানে পরস্পর সন্তুষ্টি ব্যতীত অন্যায়াভাবে অপরের সম্পদ ভোগে কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,

مَنْ ظَلَمَ قِيدَ شِبْرٍ مِنَ الْأَرْضِ، طَوَّقَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ مِنْ سَبْعِ أَرَضِينَ.

যে ব্যক্তি এক বিঘত পরিমাণ অন্যের জমি জুলুম করে আত্মসাৎ করে কিয়ামতের দিন, সাত তবক জমিনের হার তার গলায় পরানো হবে। ২১৮

আলোচ্য হাদিসের কয়েকটি ব্যাখ্যা হতে পারে : ১. আল্লামা বাগাবী রহ. বলেন, ‘ঐ ব্যক্তিকে এক বিঘত পরিমাণ জমি সাত তবক জমিনের নিচ পর্যন্ত খনন করার নির্দেশ দেওয়া হবে। তা খনন করার সময় সে মনে করবে, তার গলায় সাত তবক জমিন পরিয়ে দেওয়া হয়েছে।' বুখারী শরিফের অন্য এক হাদিসে এই ব্যাখ্যার সমর্থন পাওয়া যায়। ২. আরেকটি ব্যাখ্যা হলো, আত্মসাৎকৃত জমিনের সঙ্গে সাত তবক জমিন মিলিয়ে যে ওজন হয়, এই পরিমাণ ওজন তার মাথায় তোলার নির্দেশ দেওয়া হবে। মুসনাদে আহমদ ও তাবারানীর বর্ণনা অনুযায়ী এই ব্যাখ্যাটি শক্তিশালী।

অন্য এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি অন্যায়াভাবে অপরের সামান্য জমি আত্মসাৎ করবে, আল্লাহ তায়ালা তার নফল, ওয়াজিব কোনো ইবাদত কবুল করবেন না। ২১৯

আবু হুমাইদ সায়েদী রহ. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

لَا يَحِلُّ لِمُسْلِمٍ أَنْ يَأْخُذَ عَصًا بِغَيْرِ طِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ.

কোনো মুসলমানের জন্য halaal নয়, সে অন্যের একটি লাঠিও তার আন্তরিক সন্তুষ্টি ব্যতীত গ্রহণ করবে। ২২০

এ সকল হাদিস দ্বারা একথা সুস্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয় যে, কারও সম্পত্তি আত্মসাৎ করা আল্লাহর নিকট ভীষণ অপছন্দনীয় কাজ এবং আখেরাতে অবর্ণনীয় অপমানের কারণ।

আক্ষেপের বিষয় হলো, আখেরাতের দৃষ্টিতে যা জঘন্য, বর্তমানে সে কাজকেই গর্বের মনে করা হয়। এর কুপ্রভাবে আইল বা পরনালা নিয়ে বহু বছর বছর মামলা-মোকদ্দমা চলতে থাকে এবং অন্যায়াভাবে মামলায় জয়লাভ করাকে গর্ব ও মর্যাদার বিষয় মনে করা হয়। এ সকল অন্যায় কাজের মূল কারণ হলো আখেরাতের প্রতি উদাসীনতা এবং আল্লাহর আযাবের ব্যাপারে অজ্ঞতা। আত্মসাৎ করার শাস্তির কথা যদি লোকদের জানা থাকত, তা হলে কোনো বিবেকবান মানুষই দুই-চার গজ জায়গার জন্য ঝগড়া-বিবাদ ও মামলা-মোকদ্দমা করে নিজের দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জাহান ধ্বংস করতে রাজি হতো না।

হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَنْ كَانَتْ عِنْدَهُ مَظْلَمَةٌ لِأَخِيهِ مِنْ عِرْضِهِ أَوْ مَالِهِ فَلْيُوْজِها إِلَيْهِ قَبْلَ أَنْ يَأْتِيَ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، لَا يُقْبَلُ فِيهِ دِينَارٌ وَلَا دِرْهَمٌ، إِنْ كَانَ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْهُ وَأُعْطِيَ صَاحِبَهُ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ عَمَلٌ صَالِحٌ أُخِذَ مِنْ سَيِّئَاتِ صَاحِبِهِ فَحُمِلَ عَلَيْهِ.

যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের মানহানি করে কিংবা সম্পদ আত্মসাৎ করে তার উপর জুলুম করেছে, সে যেন সেই দিন আসার পূর্বে তার সাথে মীমাংসা করে নেয়, যেদিন দিনার বা দিরহাম কোনো কাজে আসবে না, বরং জালিমের নেকি থেকে মজলুমের হক আদায় করা হবে। আর যদি তার কোনো নেক আমল না থাকে, তবে মজলুম ভাইয়ের গুনাহ তার ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হবে। ২২১

একারণে প্রত্যেক মুসলমানকে জুলুম ও আত্মসাৎ থেকে বেঁচে আল্লাহর প্রতি প্রকৃত লজ্জা প্রমাণ দেওয়া এবং আখেরাতের নিদারুণ পরিণতি থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করা উচিত।

টিকাঃ
২১৮. বুখারী, ১/৪৮৩, হাদিস নং-২৪৫৮; মুসলিম, ১/৩০৩; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৯।
২১৯. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/১০।
২২০. ইবনে হিব্বান; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/১১।
২২১. বুখারী, ২/৯৬৭, হাদিস নং-৬০৫০; মুসনাদে আহমদ, ২/০০৫-৪৩২; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/১২৯।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ঘুষ

📄 ঘুষ


অবৈধ সহায়তার জন্য প্রদত্ত বা গৃহীত অর্থকে ঘুষ বলা হয়। ঘুষ এতটা জঘন্য ও ভয়াবহ জিনিস যে, এর দরুন মানুষের সামাজিক-জীবনপদ্ধতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে যায় এবং পেশাদার অপরাধীরা ঘুষের সাহায্যে ফুলে-ফেঁপে ওঠার সুযোগ পেয়ে যায়। যে ব্যক্তি একবার ঘুষের স্বাদ আস্বাদন করে, তার দৃষ্টি না নিজ ধর্ম ও গোত্রের উপকার সাধনের উপর থাকে, আর না রাষ্ট্রের শান্তি ও নিরাপত্তার রক্ষার প্রতি থাকে; বরং তার দৃষ্টি থাকে নিজের স্বার্থসিদ্ধির উপর। টাকার নেশায় সে কারও ক্ষতির কোনো পরওয়া করে না। ঘুষখোরের হৃদয় পাথরে পরিণত হয়, তার মন-মস্তিস্ক থেকে দয়ামায়া হারিয়ে যায়। এ কারণেই শরিয়তে ঘুষগ্রহীতা ও দাতা উভয়ের কঠোর ভাষায় নিন্দা করা হয়েছে।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي.
ঘুষগ্রহীতা ও ঘুষদাতা, উভয়ের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত। ২২২

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,
الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي فِي النَّارِ.
ঘুষগ্রহীতা ও ঘুষদাতা উভয়ই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ২২৩

এছাড়া এক হাদিসে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষগ্রহণকারী, প্রদানকারী এবং মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিকে অভিশাপ দিয়েছেন। ২২৪

অপর এক হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি ঘুষ গ্রহণ করে অন্যায় বিচার করবে, আল্লাহ তায়ালা তাকে জাহান্নামের এত গভীরে নিক্ষেপ করবেন, পঁচিশ বছর পর্যন্ত নিচে পতিত হবার পরও সে তার গভীরতায় পৌছতে পারবে না। ২২৫ আল্লাহ তায়ালা আমাদের হেফাজত করুন।

উপরিউক্ত কঠোর হুশিয়ারি থেকে ঘুষের নিদারুণ পরিণতি সহজেই অনুমান করা যায়। তা ছাড়া ঘুষ এমন এক ব্যাধি, যার দরুন শুধু আখেরাতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না, বরং দুনিয়ার জীবনেও এর পরিণাম ভোগ করতে হয়। এসব বিষয় জ্ঞানী ব্যক্তিদের অজানা নয়। আপনি পর্যবেক্ষণ সরকারি অফিস-আদালতের দিকে তাকিয়ে দেখুন, ঘুষের বাজার কতটা রমরমা? এমন কোন কাজ আছে, যা ঘুষের সাহায্যে অবৈধভাবে বাস্তবায়ন করা হয় না? বিদ্যুৎ চুরি থেকে শুরু করে বিনা টিকিটে ট্রেন ও বাসে চড়া পর্যন্ত ঘুষের ব্যাপক প্রচলন রয়েছে। আর আদালত, থানা এবং কাস্টমে তো এটা ধৃষ্টতার সাথে চাপ প্রয়োগ করে ঘুষ আদায় করা হয়, যেন ঘুষ তাদের আইনত অধিকার। এসব স্থানে সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘুষের সাথে জড়িত থাকে। যার ফলস্বরূপ সুশীল, স্বাধীনতাপ্রাপ্ত ও আত্মমর্যাদাবোধ সম্পন্ন আমাদের দেশ আরও উন্নত রাষ্ট্রগুলো থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। বাস্তবতা হলো, ঘুষখোররাই এই দেশের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। ঘুষের অভিশাপ যতদিন থাকবে, ততদিন দেশের কোনো উপকরণ থেকে যথাযথ উপকার লাভ করা সম্ভব হবে না। ঘুষখোরের পরিণামে মানুষ কাজে ফাঁকি দেয়, আত্মমর্যাদাহীন ও স্বার্থপর হয়ে ওঠে। নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনে সে পিছপা নয়। এতে দেশ ও জাতির সীমাহীন ক্ষতি সাধিত হয়। তাই ঘুষের অভিশাপ থেকে দেশ ও সমাজকে রক্ষা করা দরকার, ঘুষ আদানপ্রদানের প্রবণতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দরকার এবং স্বার্থসিদ্ধির দরজা বন্ধ করা দরকার।

ঘুষের টাকা কোনো অবস্থাতেই হালাল নয়। তবে নিজের হক বিনষ্ট হওয়া কিংবা বড় ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকলে কতিপয় অবস্থাতে ঘুষ প্রদানকে ফুকাহায়েকেরাম বৈধ বলেন। ২২৬

টিকাঃ
২২২. ইবনে হিব্বান; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/১২৯।
২২৩. তাবারানী; আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/১২৯।
২২৪. আদাবুল খাসসাফ, ৮৯।
২২৫. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/১২৯।
২২৬. শাম‘আ (করাচি), ৬/৪২০।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 মজুতদারী

📄 মজুতদারী


জনসাধারণের ক্ষতি করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুদামজাত রেখে অধিক লাভবান হতে ইসলাম নিষেধ করেছে। পরিভাষায় একে ‘মজুতদারী’ বলা হয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর ভাষায় মজুতদারী থেকে নিষেধ করেছেন।

১. হযরত উমর রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, মَنِ احْتَكَرَ فَهُوَ خَاطِئٌ. যে ব্যক্তি (খাদ্য ইত্যাদি) গুদামজাত করল, সে ভুল কাজ করল। ২২৭

২. এক মারফু হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, بِئْسَ الْعَبْدُ الْمُحْتَكِرُ إِنْ أَرْخَصَ اللَّهُ الْأَسْعَارَ حَزَنَ, وَإِنْ أَغْلَاهَا اللَّهُ فَرِحَ. গুদামজাতকারী এতটাই নিকৃষ্ট যে, আল্লাহ তায়ালা যদি দ্রব্যমূল্যের নিম্নগতি ঘটান, তা হলে সে চিন্তিত হয়। আর যদি দ্রব্যমূল্যের স্ফীতি ঘটান, তা হলে সে খুব আনন্দিত হয়। ২২৮

৩. হযরত উসমান ইবনে আফফান রা.-এর গোলাম ফররুখ রহ. বলেন, ‘একবার কিছু সবজি জাতীয় বস্তু মদিনার নবীর ফটকে স্তূপীকৃত ছিল। তখন ছিল হযরত উমর রা.-এর শাসনামল। তিনি সেগুলো দেখে জিজ্ঞেস করলেন, “এগুলো কোত্থেকে এলো?” লোকেরা জানাল, “এগুলো আমদানি করা হয়েছে।” একথা শুনে হযরত উমর রা. এই সবজির জন্য এবং এগুলোর আমদানিকারকদের জন্য বরকতের দোয়া করলেন। তখন কতিপয় লোক সংবাদ দিলো যে, এগুলো গুদামজাত করা হয়েছে। হযরত উমর রা. বললেন, “এ কাজ কে করেছে?” লোকজন বলল, “ফররুখ এবং আপনার অমুক ক্রীতদাস।” হযরত উমর রা. তাদের উভয়কে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেন। তারা বলল, “আমরা তো নিজেদের মাল কেনাবেচা করেছি (অর্থাৎ এতে অন্যের কী ক্ষতি হয়েছে)।” এর জবাবে হযরত উমর রা. বললেন, “আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মَنِ احْتَكَرَ عَلَى الْمُسْلِمِينَ طَعَامَهُمْ أَيَّامًا بِلَيْلَادِ أَوْ قَالَ بِالْإِفْلَاسِ যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যদ্রব্য গুদামজাত করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করেন এবং অভাবগ্রস্ত করেন।”

‘একথা শুনে ফররুখ রহ. বলেন, “আমি আপনাকে এবং আল্লাহকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ভবিষ্যতে এ কাজ আমি কখনও করব না।” অতঃপর তিনি মিশর চলে যান।' এই হাদিসের বর্ণনাকারী আবু ইয়াহইয়া রহ. বলেন, ‘অপর ব্যক্তিকে আমি কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত দেখেছি এবং দেখেছি সে ভীষণ অভাবগ্রস্ত।' ১৫৩

গুদামজাতকরণের নিষেধাজ্ঞা তখনই প্রযোজ্য, যখন এর কারণে জনসাধারণ ও শহরবাসী ক্ষতিগ্রস্থ হবে। জনসাধারণ ক্ষতিগ্রস্থ হয়, এমন সকল বস্তু গুদামজাত করা নিষেধ। যেমন: খাদ্যদ্রব্য, কাপড়, প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি। হ্যাঁ, যদি গুদামজাতের দরুন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তবে কোনো সমস্যা নেই। কেউ যদি মৌসুমের শেষে মূল্য বৃদ্ধির আশায় মৌসুমের শুরুতে কোনো কিছু বেশি পরিমাণ মজুদ করে, তবে তা-ও নিষিদ্ধ। কারণ এই মূল্যবৃদ্ধি তার কোনো কাজের ভিত্তিতে ঘটবে না। ১৫৪

টিকাঃ
২২৭. মুসলিম, ২/৩০৯।
২২৮. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ২/৩৬৪।
১৫৩. আত-তারগিব ওয়াত তারহিব, ২/৬৮৬।
১৫৪. শামী (করাচি), ৬/৩৫৮।

ফন্ট সাইজ
15px
17px