📄 নিঃসন্দেহে ব্যাংকের ইন্টারেস্টও সুদ
মুজতাহিদগণের ফাতাওয়া অনুযায়ী কতিপয় জ্ঞানী ব্যক্তিগণ বেশ কিছুদিন আগ থেকে একটি ভুল ধারণা সৃষ্টি করে রেখেছে যে, ব্যাংকে টাকা সঞ্চয় করলে ব্যাংক সে টাকা দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্য করে। অতঃপর অর্জিত মুনাফার একাংশ সঞ্চয়কারীদের প্রদান করে। সুতরাং তা সুদ হতে পারে না; বরং অতিরিক্ত টাকাকে অংশীদারিত্বের বিনিময়ে সাব্যস্ত করা হবে। নিঃসন্দেহে এটা একটা ভিত্তিহীন কথা। ইসলামী আইনশাস্ত্রের মতে ব্যাংকের ইন্টারেস্ট সন্দেহাতীতভাবে 'রাবা আন-নাসিয়্যা'র অন্তর্গত। তা হারাম হওয়ার ব্যাপারে উলামায়েকেরাম ও ফুকাহাগণ একমত। কারণ ব্যাংকে যে বর্ধিত মুনাফা পাওয়া যায়, তা কেবল সময় অতিবাহিত হওয়ার কারণে পাওয়া যায়। এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশীদারিত্বের কোনো লক্ষণ কল্পনা করা যায় না। কাজেই এটি একটি চরম অপব্যাখ্যা যা ব্যাংকে প্রচলিত সুদকে 'রাবা আন-নাসিয়্যা' বহির্ভূত গণ্য করে সাধারণ ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বে শামিল করা হবে। এটা শয়তানের কুমন্ত্রণা বৈ কিছুই নয়। উলামায়েকেরাম একাধিকবার এই ব্যাখ্যাকে খণ্ডন করেছেন।
📄 সুদ এবং দারুল হরব
হিন্দুস্থানের সুদি কারবারীরা ব্যাপকভাবে বলে, যেহেতু হিন্দুস্থান দারুল হরব (বিধর্মীদের শাসনাধীন রাষ্ট্র), তাই এখানে সকল প্রকার সুদি লেনদেন জায়েজ আছে। এজন্য এই অবস্থাকে ভালোভাবে বোঝা দরকার:
এক. প্রথম কথা হলো, উলামায়েকেরাম ও ফকিহগণ এ ব্যাপারে ঐকমত্য পোষণ করেন যে, এমন সুদ, যার মাধ্যমে অমুসলিম হারবী ব্যক্তি আর্থিকভাবে লাভবান হয়, তা কোনোভাবেই হালাল নয়। মতানৈক্য কেবল সুদগ্রহণের ক্ষেত্রে। আল্লামা শামী রহ. বলেন, وَقَدْ أَلْزَمَ الصَّحَابُ فِي الدَّرْسِ أَنَّ مُرَادَهُمْ مِنْ حِلِّ الرِّبَا وَالْقِمَارِ مَا إِذَا حَصَلَتِ الزِّيَادَةُ لِلْمُسْلِمِ نَظَرًا إِلَى الْعِلَّةِ. মাশায়েখকেরাম দরসে এ কথা বর্ণনা করেন যে, দারুল হরবে সুদ বা জুয়ার বৈধতা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, মুসলমানদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়া। এ ক্ষেত্রে সুদের বৈধতার কারণের দিকে তাকালে এ কথাই বুঝে আসে। ২৩৯
এ থেকে বোঝা যায়, দারুল হরবের ভাবনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য সরকারি ব্যাংক থেকে যে সুদি ঋণ নেওয়া হয়, তা কেবলই মূর্খতা ও ভুল ধারণার ফসল। কোনো দারুল হরবে কোনো মুসলমানের জন্য সুদি ঋণ নেওয়া জায়েজ নেই।
দুই. তবে দারুল হরবে হারবী ব্যক্তি থেকে সুদগ্রহণের ব্যাপারে ফুকাহায়েকেরামের দুই ধরনের মতামত পাওয়া যায় :
ক. ইমাম আবু ইউসুফ রহ. ও ইমামত্রয় (ইমাম মালেক, শাফেয়ী, আহমদ রহ.)-এর মতে কোনো মুসলমানের জন্য কোথাও (চাই দারুল হরব হোক বা দারুল ইসলাম) সুদি লেনদেন কিংবা কোনো বাতিল চুক্তি করার কোনো রকম বৈধতা নেই। দলিল শক্তিশালী হওয়ার দিক থেকে আলোচ্য ফিকহগণের মত খুবই দৃঢ়। ২২০
খ. পক্ষান্তরে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর মতে দারুল হরবে আহলে হরব তথা সেখানকার বিধর্মীদের ধনসম্পদ যেহেতু মুসলমানের জন্য সাধারণত বৈধ, তাই সুদি লেনদেনও তাদের সাথে বৈধ। মোটকথা, আহলে হরবের সত্ত্বাধিকারের ভিত্তিতে তাদের সম্পদ কবজা করাকে বৈধ মনে করা হয়। ২২১
কিন্তু মনে রাখতে হবে, উল্লিখিত ফুকাহায়েকেরামের মতে এই ধরনের সুদি লেনদেন কয়েকটি শর্তসাপেক্ষে জায়েজ। যথা : ১. প্রকৃত দারুল হরব হতে হবে। ২. আহলে হরবের পক্ষ থেকে হতে হবে। ৩. দারুল হরবের মুসলমানের পক্ষ থেকে না হতে হবে। ৪. লেনদেনকারী মুসলিম ব্যক্তি বহিরাগত হতে হবে। ২২২
উল্লিখিত শর্তাবলির কোনো একটি শর্ত না পাওয়া গেলে সুদ গ্রহণ করা জায়েজ হবে না। এখন একটু ভেবে দেখুন, এ সকল শর্ত হিন্দুস্থানে বিদ্যমান আছে কি না?
প্রথমত হিন্দুস্থান দারুল হরব কি না? এ নিয়ে কঠিন মতানৈক্য রয়েছে। কারণ, এখানে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় মুসলমানদের গণতান্ত্রিক অধিকার দেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয়ত নিয়ম-মাফিক সরকারি ব্যাংকগুলোর মালিক রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক। যাতে হিন্দু মুসলমান সকলেই অংশীদারিত্ব রয়েছে। কাজেই কেউ ব্যাংক থেকে সুদ গ্রহণ করলে, সে শুধু হরবীদের থেকেই সুদ গ্রহণ করে না, বরং মুসলমানদের থেকেও গ্রহণ করে। এ কারণে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শর্তের বিদ্যমানতায় সন্দেহ সৃষ্টি হলো। পাশাপাশি অধিকাংশ ফুকাহার কিতাবে এই অনুমতি কেবল নিরুপায়গ্রস্ত মুসলিম ব্যক্তিকে দেওয়া হয়েছে। তাই এখানে বসবাসকারী মুসলমানদের এ বিষয়ে কোনো শিথিলতা প্রদর্শন করা যাবে না। এই ভিত্তিতেই হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ কাসেম নানূতুবী রহ. দারুল হরবের মুসলমানদের জন্য এ স্থানে থাকাকালীন সুদগ্রহণকে নাজায়েজ লিখেছেন। ২৩০
জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের পক্ষ থেকে ১৮-১৯ রজব ১৪২৬ হিজরিতে সংঘটিত ইদারায়ে মাবাহিসে ফিকহিয়া সম্মেলনে বর্তমান আকাবিরে উলামায়ে দেওবন্দ হযরত নানূতুবী রহ.-এর সঙ্গে সহমত পোষণ করে হিন্দুস্থানে মুসলিম নাগরিকদের জন্য সুদি লেনদেনের প্রতি নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।
খাতামুল মুহাদ্দেসীন হযরত মাওলানা ফাতাহ মুহাম্মাদ লাখনৌবী রহ. তাঁর লিখা গ্রন্থ ইতরুল হিদায়ায় লিখেছেন, ‘যারা দারুল কুফর তথা কাফের রাষ্ট্রে নিরুপায়তার সাথে বসবাস করে বা আগমন করে অথবা পরস্পর সংস্কৃতিতে আবদ্ধ থাকে, তাদের জন্য শরিয়ত-বিবর্জিত যেকোনো মোআমালা করা নাজায়েয। যেমন : বাইয়ে ফাসেদ, বাইয়ে বাতিল, ইজারায়ে ফাসেদ, ইজারায়ে বাতিল, সুদ, ঘুষ ইত্যাদি। আর এই হাদিস (الربوا بين المسلم والعربي)-এর অর্থ হলো, মুসলমান দারুল হরবে কাফেরের কাছ থেকে সুদ গ্রহণ করলে সে (দুনিয়ায়) সুদখোরির শাস্তি পাবে না। যদিও হারাম মালিকানা গ্রহণের জন্য কিয়ামতের দিন হিসাব দিতে হবে। কিন্তু সুদ দেওয়া কোনোভাবেই জায়েয নেই। পক্ষান্তরে যদি সুদীগ্রহীতা কোনো চুক্তিতে আবদ্ধ হয় কিংবা সে সেখানকারই প্রজা হয়, তবে সুদগ্রহণও জায়েয নেই। ২৩১
কিন্তু যদি ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মুহাম্মাদ রহ.-এর মতকে সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য মনে করা হয়, তা হলে বিজ্ঞ উলামায়েকেরাম তাদের মতের এই ব্যাখ্যা করেন যে, ধরুন, কোনো ব্যক্তি দারুল হরব থেকে টাকা পয়সা নিয়ে দারুল ইসলামে চলে এলো। এখন এই বিষয়টি যদি মুসলমান বিচারকের সামনে উপস্থিত হয়, তা হলে বিচারক এই টাকা দারুল হরবে ফেরৎ পাঠানোর নির্দেশ দেবেন না। তবে সুদগ্রহণকারী সুদগ্রহণের গুনাহ থেকে কখনোই মুক্তি পাবে না। বুঝা গেল, মুসলমানদের জন্য বৈধতার হুকুমটি কাজীর ফয়সালার দিক থেকে হলেও দিয়ানতদারির দিক থেকে কিয়ামতের জবাবদিহিতা থেকে মুক্তি পাবে না। হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. তাঁর উসতাদ হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইয়াকুব রহ. থেকে এই ব্যাখ্যাই বর্ণনা করেছেন। ২১৬
ইতরুল হিদায়া গ্রন্থের রচয়িতা মাওলানা ফাতাহ মুহাম্মাদ লাখনৌবী রহ. লেখেন, ‘যেই সম্পদ এমন দারুল কুফর থেকে আনা হলো, যাদের সঙ্গে কোনো সন্ধি চুক্তি নেই, অথবা জোরপূর্বক কিংবা কৌশলে আনা হলো, তা হালাল। আর শরিয়ত-নির্দিষ্ট সত্ত্বাধিকারের মাধ্যমে যদি কোনো সম্পদ অর্জিত হয়—যেমন: সুদ, জুয়া, ঘিনা ইত্যাদি। তা হলে এই সম্পদের উপর মালিকানা সাব্যস্ত হবে বটে, কারণ তা অনাধিকারভুক্ত সম্পদ; তবে হালাল হবে না। কারণ উপার্জন-পদ্ধতি শরিয়তসম্মত নয়। ২১৭
মোটকথা, সুদখোরদের পক্ষ থেকে হিন্দুস্থানকে দারুল হরব বলে সুদের বৈধতার আশ্রয়গ্রহণ করা সদুদ্দেশ্য নয়। অন্য সকল আলেমের মতে দারুল হরব তথা বিধর্মী রাষ্ট্রও সুদি লেনদেন হারাম। এর উপরই ফাতওয়া প্রদান করা হয়। এ কারণে যে মুসলমানরাই সত্যিকার অর্থে আল্লাহর প্রতি লজ্জা রাখে, তার লেনদেন থেকে সুদ দূর করার চেষ্টা করা উচিত এবং সাময়িক উপকারের জন্য অপব্যাখ্যার আশ্রয় না নেওয়া উচিত। اللّهُمَّ وَفَّقْنَا لِمَا تُحِبُّ وَتَرْضَى
টিকাঃ
২৩৯. শামী (করাচি), ৫/৫৬৬।
২২০. বাদাইউস সানায়ে, ৫/১৯২।
২২১. বাদাইউস সানায়ে, ৫/১৯২।
২২২. ইমদাদুল ফাতাওয়া, ৩/৬৫৭।
২৩০. যাকরুবা, ৭১।
২৩১. ইতরুল হিদায়া, ১৮১।
২১৬. ফায়সালায়ে ইসলামী হুকুমতে শরয়ী আহকাম, ৫৮।
২১৭. ইতরুল হিদায়া, ১৮০।
📄 জুয়া ও পাশা
উপার্জনের যেসকল পথকে ইসলাম কঠোর ভাষায় নিষেধ করেছে, জুয়া ও পাশা খেলা সেগুলোর অন্যতম। কুরআনে কারিমে সুরা মায়দায় জুয়া ও মদকে একত্রে উল্লেখপূর্বক উভয় কাজকে নাপাক সাব্যস্ত করেছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পাশা খেলা সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন, مَنْ لَّعِبَ بِالشَّرَنِجِ, فَكَأَنَّمَا غَمَسَ يَدَهُ فِي لَحْمِ خِنْزِيرِ وَدَمِهِ যে ব্যক্তি পাশা খেলল, সে যেন নিজের হাতকে শুকরের রক্ত ও মাংসে রঙিন করল। ২১৮
দেখুন, পাশা খেলাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন ঘৃণিত কাজের সাথে তুলনা করেছেন, যা কোনো মুসলমান কল্পনাও করতে পারে না। পাশা খেলার দুনিয়াবী ও দীনী ক্ষতি দিবালোকের ন্যায় সুস্পষ্ট। আল্লামা আলুসী রহ. তাফসিরে রুহুল মা'আনীতে লেখেন, وَمَنْ মَفَاسِدِ الْمَيْسِرِ أَنَّ فِيهِ أَكْلَ الْاَمْوَالِ بِالْبَاطِلِ وَاِنَّهُ يَدْعُو كَثِيرًا مِنَ الْمُقَامِرِينَ إِلَى السُّرِقَةِ وَتَلِفِ النَّفْسِ وَاِضَاعَةِ الْعِيَالِ وَارْتِكَابِ الْاُمُورِ الْقَبِيحَةِ وَالرَّذَائِلِ الشَّنِيعَةِ وَالْعَدَاوَةِ الْكَامِنَةِ وَالظَّاهِرَةِ, وَهَذَا اَمْرٌ مُشَاهَدٌ لَّا يُنْكِرُهُ الَّا مَنْ اَعْمَاهُ اللَّهُ تَعَالَى وَاصَمَّهُ.
জুয়ার উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হলো : ১. অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ, ২. অধিকাংশ জুয়ারীর চরিত্র কলুষিত হওয়া, ৩. জীবন ধ্বংস করা, ৪. পরিবারের প্রতি যত্নবান না হওয়া, ৫. জনকল্যাণ কাজে অক্ষম হওয়া, ৬. প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শত্রুতা পোষণ করা। এগুলো অভিজ্ঞতার আলোকে প্রমাণিত বিষয়। আল্লাহ তায়ালা যাকে অন্ধ ও বধির করেছেন, সে ব্যতীত কেউ এগুলো অস্বীকার করতে পারে না। ২১৬
অভিজ্ঞতার আলোকে একথা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত, যে সমাজে পাশা খেলার প্রচলন বৃদ্ধি পায়, সেই সমাজ অন্যায়-অপকর্মের চারণভূমিতে পরিণত হয়। কারণ যখন বিনাকষ্টে কেউ হারাম উপার্জনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন মেহনত ও পরিশ্রমের মাধ্যমে আয়-রোজগার করা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। লাখো পরিবার এই অপকর্মে লিপ্ত হয়ে ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিক্ষিপ্ত হয়েছে এবং উভয় জগতের ব্যর্থতা ক্রয় করেছে।
টিকাঃ
২১৮. মুসলিম, ২/২৪০১।
২১৬. তাফসিরে রুহুল মা'আনী, ২/১০০।
📄 লটারী
বর্তমান যুগে জুয়া ও পাশার অসংখ্য পদ্ধতি প্রচলিত আছে। এগুলো সবই হারাম। তন্মধ্যে লটারী এমন এক অভিশাপ, যার মাধ্যমে সুকৌশলে দরিদ্র জাতির রক্ত চুষে খাওয়া হয়। ধরুন, কোনো লটারী কোম্পানি তিন লাখ টাকার টিকিট বিক্রি করল। তা থেকে এক লাখ টাকা পুরস্কার হিসেবে প্রদান করল। সুতরাং কোম্পানি যে দুই লাখ টাকা আয় করল, এ টাকাটা কোত্থেকে এলো? এই টাকা রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের টাকা। এদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উপার্জিত সম্পদ ক্ষমতাশীলদের হাতে চলে যায় এবং সাধারণ লোকেরা শুধু লাভের আশায় নিজের রক্ত পানি করে উপার্জিত অর্থ খুশি মনে প্রতারক জালেমদের হাতে সোপর্দ করে। আমাদের সামনে এমন বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে যে, লটারীর চক্করে পড়ে বহু মানুষ ঘরের আসবাবপত্র, স্ত্রীর অলংকারাদি, এমনকি পোশাক-পরিচ্ছেদ ও জায়গা-জমি বিক্রি করেছে কিংবা বন্ধক রেখে রেখেছে এবং দেখতে দেখতেই মহাভাবাপন্ন কাঙালে পরিণত হয়েছে।
অতঃপর আজকাল পাড়ায় পাড়ায় কিসমতের নামে পুঁজি সঞ্চয় করা হচ্ছে। এগুলো মূলত জুয়ার পদ্ধতি প্রচলিত আছে। যেমন যার নাম সবার আগে ওঠে সে খুব সস্তায় ভালো পণ্য অথবা অনেক টাকার মালিক হয়ে যায়, আর অবশিষ্ট লোকেরা নিজের নামকে অপেক্ষায় বসে থাকে। ঘুড়ি ওড়ানো, কবুতর ওড়ানো, দাবা, ক্যারামবোর্ড – এসব খেলায় দুই পক্ষের মধ্যে হার-জিতের ভিত্তিতে লেনদেনের শর্ত রাখা হয় – এমন সব খেলাই হারাম। এমনকি উলামায়েকেরাম লেখেন, 'ছোট্ট ছেলেমেয়েদের খেলাধুলায় বাজি ধরা হলে তা-ও জুয়া হিসেবে বিবেচিত হবে।' বড়-ছোট সবাইকে এ সব কাজ থেকে বিরত থেকে আল্লাহর প্রতি পূর্ণরূপে লজ্জাবান হওয়া উচিত।