📄 ইংরেজদের অনুকরণে চুল রাখা
চুল রাখার নিয়ম নীতি সম্পর্কেও শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান রয়েছে। এসব নির্দেশনার প্রতি যত্নবান হওয়া সকল মুসলমানের জন্য জরুরি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত বাবরি চুল রাখতেন। যা কখনও কানের লতি পর্যন্ত, আবার কখনও এর চেয়েও লম্বা হতো। হজ ও উমরার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা মুড়ানোর কথাও পাওয়া যায়। তাঁর থেকে কমপক্ষে একটি প্রমাণিত হয় যে, চুল রাখলে সব রাখতে হবে, আর কাটলে বা মুণ্ডালে সব মুড়াতে হবে। এমন যেন না হয় যে, কোথাও ছোট, কোথাও লম্বা, কোথাও মুড়ানো, কোথাও চুল রাখা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কাজা’ (কোথাও মুড়ানো, আবার কোথাও চুল রাখা) করতে নিষেধ করেছেন।
উলামায়ে কেরাম উক্ত হাদিস থেকে এই মাসআলা উদঘাটন করেন যে, একই সময়ে চুল কোথাও বড়, কোথাও ছোট রাখা জায়েয নেই। যেমন, আজকাল ইংরেজদের অনুকরণে পেছনের দিকে ছোট এবং সামনের দিকে বড় রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে চুল রাখার মধ্যে দুটি খারাপ দিক পাওয়া যায়:
১. হাদিসের নিষেধাজ্ঞার বিপরীত আমল।
২. অমুসলিম সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন।
অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
কেউ কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করলে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।
আফসোস! আজ অমুসলিম সম্প্রদায়ের রীতিনীতি আমাদের নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণনা করলে শতকরা দু-চার জন লোক পাওয়া যাবে, যারা চুল রাখার ব্যাপারে শরিয়ত-নির্ভরতা মেনে চলে। তাদের বাদ দিলে এখন শুধু ইংলিশ হেয়ার কাটেরই প্রচলন দেখা যায়। মাথার টুপি থাকে না, ইংরেজদের অনুকরণের ছাপ পাওয়া যায়। শিশু বাচ্চা থেকে শুরু করে যুবক-বৃদ্ধ সকলের মাঝেই এলোমেলো চুল রাখার প্রতি আকর্ষণ দেখা যায়। অপরদিকে নববী আদর্শ অনুসরণের চিন্তাও মাথায় আসে না।
টিকাঃ
১৭৫. বুখারী, ২/৮৭৭।
১৭৬. মিশকাত, ২/৩৭৫।
📄 নারীদের চুল
চুল নারীদের ভূষণ। শরীয়ত মাথার চুলকে নারীদের সৌন্দর্য সাব্যস্ত করেছে এবং নারীদের চুল মুড়াতে নিষেধ করেছে। এক হাদিসে এসেছে,
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَحْلِقَ الْمَرْأَةُ رَأْسَهَا.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের মাথার চুল মুড়াতে নিষেধ করেছেন।
হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব দুররে মুখতারে এসেছে, স্বামীর অনুমতিসাপেক্ষে নারী নিজের মাথার চুল কাটলেও গুনাহগার ও অভিশপ্ত হবে। কারণ সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির কথা মান্য করা যায় না।
নারীদের চুল কাটার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো, এ কাজের মাধ্যমে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হবে, যা নারীদের জন্য নাজায়েয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন।
উপরিউক্ত বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায় যে, আজকাল নারীদের চুল কাটার যে ব্যাপক প্রচলন রয়েছে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিঃসন্দেহে হারাম। যেমন পুরুষদের জন্য দাড়ি কাটা হারাম, অনুরূপ নারীদের জন্য চুল কাটা হারাম। গোটা পৃথিবীর মানুষ এই কাজকে নির্লজ্জতা না বললেও আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তা লজ্জাহীনতার অন্তর্ভুক্ত। সর্বদা এ কাজ থেকে নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে বাঁচানো উচিত।
টিকাঃ
১৭৭. নাসাঈ, ১/২৭৫।
১৭৮. দুররে মুখতার, ৬/৪০৭।