📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 একটু ভাবুন!

📄 একটু ভাবুন!


এই আলোচনার মাধ্যমে আমাদের সামনে শরিয়তে দাড়ির অবস্থান, মর্যাদা ও গুরুত্ব ফুটে উঠেছে। পক্ষান্তরে উম্মতের সংখ্যাগরিষ্ঠ লোকের আমল এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এত ব্যাপক ভাবে দাড়ি মুড়ানো শুরু হয়েছে যে, তা নাজায়েয হওয়ার কথাই মানুষ ভুলে গেছে। অবস্থা এতটাই শোচনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, যদি কাউকে শুধরানো হয় বা বুঝানো হয়, তা হলে ভুল স্বীকার করার পরিবর্তে সে হাজার হাজার অর্থহীন ওজর-আপত্তি উত্থাপন করে বসে। অথচ গুনাহের ওজর পেশ করাও এক ধরনের গুনাহ।

আফসোস এর বিষয় হলো, অন্যান্য সম্প্রদায়—যাদের আখিরাতে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই, তারা নিজেদের আদর্শ বাস্তবায়নে যথাযথ গুরুত্বারোপ করে এবং সর্বত্র নিজেদের স্বতন্ত্র অস্তিত্ব উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। অন্যদিকে মুসলমানগণ—যারা বিশ্বমানবতার বুনিয়াদ ও সফলতার জিম্মাদার, যারা পরকালীন সফলতার সুসংবাদ নিয়ে দুনিয়ায় আগমন করেছে, তারা নিজেদের স্বতন্ত্র প্ল্যাটফর্ম তৈরি না করে অন্যান্য সম্প্রদায়ের অন্ধ অনুকরণ করে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন করতে বসেছে। এটা কেবল আফসোসের বিষয়ই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ। হিন্দুদের মাঝে শিখদের সংখ্যা হলো মাত্র দুই কোটি। কিন্তু তারা নিজেদের আদর্শ ও প্রতীক এতটা মজবুতভাবে আঁকড়ে ধরেছে যে, যদি লাখো জনতার মাঝে একজনও শিখ থাকে, তা হলে বহু দূরে পাগড়ি, দাড়ি, জামার কারণে তাকে চেনা যায়। তারা নিজেদের আদর্শকে সর্বদা বুকে আঁকড়ে রাখে। তারা পার্লামেন্টের সদস্য হোক অথবা গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হোক। অনুরূপ সেনাধ্যক্ষ সদস্য হোক কিংবা কোনো কোম্পানির কর্মকর্তা হোক। অথচ হিন্দুস্থানে কমপক্ষে ২০ কোটি মুসলমানের বসবাস, তবু ব্যাপকভাবে তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ, বেশ-ভূষায় পরিচয় বহনকারী এমন কোনো আদর্শ নেই, যা তাদের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট হিসেবে পরিগণিত হয়। বর্তমানকালে মুসলিম ও অমুসলিমদের মাঝে পার্থক্য নির্ণয় খুবই কঠিন। এই উদাসীনতা, অসাবধানতার কারণেই আজ মুসলমানদের কষ্ট অবর্ণনীয়। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের দাবি আদায়ের ক্ষমতা রাখে না। এই অশুভ পরিণাম নববী দিক-নির্দেশনা থেকে দূরে থাকার ফল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের পথ একটাই, তা হলো, নিজেদের আমলের নিয়মিত খোঁজ-খবর নেওয়া এবং পরিবেশ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত না হয়ে ইনসাফের সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেওয়া যে, আমাদের জীবনকে আমরা সঠিক পথে পরিচালিত করব। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 ইংরেজদের অনুকরণে চুল রাখা

📄 ইংরেজদের অনুকরণে চুল রাখা


চুল রাখার নিয়ম নীতি সম্পর্কেও শরিয়তে স্পষ্ট নির্দেশনা বিদ্যমান রয়েছে। এসব নির্দেশনার প্রতি যত্নবান হওয়া সকল মুসলমানের জন্য জরুরি। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাধারণত বাবরি চুল রাখতেন। যা কখনও কানের লতি পর্যন্ত, আবার কখনও এর চেয়েও লম্বা হতো। হজ ও উমরার সময় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মাথা মুড়ানোর কথাও পাওয়া যায়। তাঁর থেকে কমপক্ষে একটি প্রমাণিত হয় যে, চুল রাখলে সব রাখতে হবে, আর কাটলে বা মুণ্ডালে সব মুড়াতে হবে। এমন যেন না হয় যে, কোথাও ছোট, কোথাও লম্বা, কোথাও মুড়ানো, কোথাও চুল রাখা। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘কাজা’ (কোথাও মুড়ানো, আবার কোথাও চুল রাখা) করতে নিষেধ করেছেন।

উলামায়ে কেরাম উক্ত হাদিস থেকে এই মাসআলা উদঘাটন করেন যে, একই সময়ে চুল কোথাও বড়, কোথাও ছোট রাখা জায়েয নেই। যেমন, আজকাল ইংরেজদের অনুকরণে পেছনের দিকে ছোট এবং সামনের দিকে বড় রাখা হয়। এই পদ্ধতিতে চুল রাখার মধ্যে দুটি খারাপ দিক পাওয়া যায়:
১. হাদিসের নিষেধাজ্ঞার বিপরীত আমল।
২. অমুসলিম সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য অবলম্বন।

অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ
কেউ কোনো সম্প্রদায়ের সাদৃশ্য গ্রহণ করলে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।

আফসোস! আজ অমুসলিম সম্প্রদায়ের রীতিনীতি আমাদের নিকট সর্বাপেক্ষা প্রিয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। গণনা করলে শতকরা দু-চার জন লোক পাওয়া যাবে, যারা চুল রাখার ব্যাপারে শরিয়ত-নির্ভরতা মেনে চলে। তাদের বাদ দিলে এখন শুধু ইংলিশ হেয়ার কাটেরই প্রচলন দেখা যায়। মাথার টুপি থাকে না, ইংরেজদের অনুকরণের ছাপ পাওয়া যায়। শিশু বাচ্চা থেকে শুরু করে যুবক-বৃদ্ধ সকলের মাঝেই এলোমেলো চুল রাখার প্রতি আকর্ষণ দেখা যায়। অপরদিকে নববী আদর্শ অনুসরণের চিন্তাও মাথায় আসে না।

টিকাঃ
১৭৫. বুখারী, ২/৮৭৭।
১৭৬. মিশকাত, ২/৩৭৫।

📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 নারীদের চুল

📄 নারীদের চুল


চুল নারীদের ভূষণ। শরীয়ত মাথার চুলকে নারীদের সৌন্দর্য সাব্যস্ত করেছে এবং নারীদের চুল মুড়াতে নিষেধ করেছে। এক হাদিসে এসেছে,
نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ تَحْلِقَ الْمَرْأَةُ رَأْسَهَا.
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নারীদের মাথার চুল মুড়াতে নিষেধ করেছেন।

হানাফী মাযহাবের প্রসিদ্ধ কিতাব দুররে মুখতারে এসেছে, স্বামীর অনুমতিসাপেক্ষে নারী নিজের মাথার চুল কাটলেও গুনাহগার ও অভিশপ্ত হবে। কারণ সৃষ্টিকর্তার অবাধ্যতায় কোনো সৃষ্টির কথা মান্য করা যায় না।

নারীদের চুল কাটার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞার মূল কারণ হলো, এ কাজের মাধ্যমে পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বন করা হবে, যা নারীদের জন্য নাজায়েয। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পুরুষের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী নারীকে অভিশাপ দিয়েছেন।

উপরিউক্ত বিস্তারিত বিবরণ থেকে জানা যায় যে, আজকাল নারীদের চুল কাটার যে ব্যাপক প্রচলন রয়েছে, তা শরিয়তের দৃষ্টিতে নিঃসন্দেহে হারাম। যেমন পুরুষদের জন্য দাড়ি কাটা হারাম, অনুরূপ নারীদের জন্য চুল কাটা হারাম। গোটা পৃথিবীর মানুষ এই কাজকে নির্লজ্জতা না বললেও আল্লাহ তায়ালার দৃষ্টিতে তা লজ্জাহীনতার অন্তর্ভুক্ত। সর্বদা এ কাজ থেকে নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে বাঁচানো উচিত।

টিকাঃ
১৭৭. নাসাঈ, ১/২৭৫।
১৭৮. দুররে মুখতার, ৬/৪০৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px