📄 রমযানের অবমাননা
পবিত্র রমযান মাসে সবচেয়ে বেশি কাওয়ালী গাওয়া হয়। রমযান প্রতিটা মুহূর্ত অত্যন্ত বরকতময়। এ মাসে প্রতিটি আমলের সওয়াবও বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এমন বরকতময় মুহূর্তগুলোকে কাওয়ালী শুনে নষ্ট করা নেহায়তও গুনাহের কাজ। আফসোস বিষয় হলো, পবিত্র রমযান মাসে বড় বড় শহরের হোটেল ও দোকানগুলোতে রাতভর কাওয়ালী বাজানো হয়। যার কারণে মহল্লাবাসীর জন্য ইবাদত করাও মুশকিল হয়ে পড়ে। এতে আল্লাহ ও রাসূলের অবমাননার সাথে সাথে পবিত্র রমযানেরও অবমাননা হয়। মোটকথা, এক্ষেত্রে আমাদের অলসতা ও অবহেলা সংশোধনযোগ্য। আমরা যদি সত্যিকার অর্থে আল্লাহর প্রতি লজ্জা রাখি এবং আখেরাতে আল্লাহর দরবারে জবাবদিহিতার ভয় রাখি, তা হলে আমাদের সকল প্রকার গুনাহ থেকে বিরত হতে হবে এবং আমাদের কানকে সকল খারাপ আওয়াজ শ্রবণ থেকে হেফাযত করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের আমল করার তাওফিক দান করুন। আমিন।
📄 অন্যের গোপন কথা শ্রবণ করা
কানের সাহায্যে কৃত গুনাহের মাঝে একটি বড় গুনাহ হলো, অন্যের গোপন কথা শোনার চেষ্টা করা। বুখারী শরীফে এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, মَنِ اسْتَمَعَ إِلَى حَدِيثِ قَوْمٍ وَهُمْ لَهُ كَارِهُونَ صُبَّ فِي أُذُنِهِ الْأَنُكُ يَوْমَ الْقِيَامَةِ. যে ব্যক্তি অন্যের এমন কথা মন দিয়ে শোনে, যে কথা অন্যকে শোনাতে মানুষ অপছন্দ করে, কিয়ামতের দিন তার কানে গলিত সীসা ঢেলে দেওয়া হবে।
কুরআনে কারিমেও গুপ্তচরবৃত্তি করতে নিষেধ করা হয়েছে। অন্য এক হাদিসে এসেছে, إِنَّ أَتْبَعَتْ عَوْرَاتِ النَّاسِ أَفْسَدْتَهُمْ أَوْ كِدْتَ أَنْ تُفْسِدَهُمُ. যদি তুমি মানুষের গোপন ত্রুটি-বিচ্যুতির পেছনে লেগে থাকো, তবে তুমি তাদের মাঝে গণ্ডগোল বাঁধিয়ে দেবে, অথবা তাদের গণ্ডগোলের দিকে নিয়ে যাবে।
টিকাঃ
১৩০৭. বুখারী, ২/১০৪২।
১৩০৮. আবু দাউদ, ২/৭০০।
📄 একটি শিক্ষণীয় ঘটনা
আল্লামা আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ কুরতুবী রহ. হযরত আমর ইবনে দিনার রা.- এর বরাতে লেখেন, ‘এক মদিনাবাসীর বোন মারা গেল। ঘটনাক্রমে তাকে দাফন করার সময় ঐ লোকের স্বর্ণালংকারভর্তি একটি ব্যাগ কবরে পড়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ব্যাগটি খোঁজার জন্য যখন খনন করা হলো দেখা গেল, কবরে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। লোকটি গিয়ে তার মাকে জিজ্ঞেস করল, “আমার বোনের আমল কেমন ছিল?” তার মা তাকে উত্তর দিল, “এই তো সে নামায কাযা করত। দ্বিতীয়ত রাতের অন্ধকারে সে পাড়া-প্রতিবেশীর দরজায় কান পেতে তাদের গোপন কথা শুনত।” পরবর্তীকালে ঐ লোক তার স্বচক্ষে দেখা ঘটনার বর্ণনা করে বলেন, “ঐ শাস্তি হলো তার বদ আমলের প্রতিদান। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই ধরনের আযাব থেকে নিরাপদে রাখুন।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমাদের উচিত, নিজের আমলের খোঁজ খবর নেওয়া। আজকাল আমরা সবাই অন্যের ত্রুটি অনুসন্ধানে ব্যস্ত। সমালোচনাযোগ্য কিছু পাওয়া গেলেই তাতে মগ্ন হয়ে পড়ি। সামাজিক বিপর্যয় ও অশান্তির মূল কারণ হলো, নিজের দোষ-ত্রুটির ব্যাপারে উদাসীন হয়ে অন্যের দোষ-ত্রুটি খুঁজে খুঁজে বের করা। অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, যারা অন্যের ত্রুটি অনুসন্ধানে ব্যস্ত থাকে, তাদের অন্তরে কখনও শান্তি আসে না। তারা সর্বদা অস্থিরতা ও মনকষ্টে ভুগতে থাকে। পক্ষান্তরে যে নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকে, নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, অন্যের ব্যাপারে মাথা ঘামায় না, সে শান্তির সাথে জীবনযাপন করে। এসব শরয়ী নির্দেশনা আমাদের জন্য দুনিয়া-আখেরাতের কামিয়াবি ও সফলতা আনায়ন করে। তাই জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আমাদের এসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখা উচিত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।
টিকাঃ
১৩৬৯. কুরতুবী, ৬/৩৪১।