📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 অন্যের ঘরে উঁকিঝুঁকি দেওয়া

📄 অন্যের ঘরে উঁকিঝুঁকি দেওয়া


চোখের মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া গুনাহসমূহের মধ্যে অন্যতম গুনাহ হলো দরজা-জানালার ফাঁক দিয়ে অন্যের ঘরে উঁকি মারা। অথবা ঘরের দরজা খোলা থাকলে সরাসরি দরজার সামনে গিয়ে দাঁড়ানো। কারণ ঘরে প্রবেশের পূর্বে ঘরের ভেতর তাকানো অনুমতি গ্রহণের উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়। এ বিষয়ে নিম্নে কয়েকটি হাদিস তুলে ধরা হলো:
১. একবার হযরত সাআদ ইবনে মুয়ায রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হুজরার দরজার বরাবর দাঁড়িয়ে প্রবেশের অনুমতি প্রার্থনা করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁকে দরজার এক প্রান্তে দাঁড়ানোর ইশারা করে ইরশাদ করেন, ‘হে মুয়ায, এভাবে একপাশে আড়ালে দাঁড়াবে। এই জন্য যে অনুমতিগ্রহণের বিধান প্রবর্তিত হওয়ার কারণ হলো, যাতে আগন্তুক ব্যক্তি ঘরের অভ্যন্তরীণ দৃশ্য দেখে না ফেলে।’ ১০৯
২. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উঁকি মারাকে ভীষণ অপছন্দ করতেন। হযরত সাহল ইবনে সাআদ রা. বলেন, একবার এক ব্যক্তি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো এক হুজরায় উঁকি মারল। তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে একটা মিদরা ছিল, যা দিয়ে তিনি মাথা চুলকাচ্ছিলেন। তখন তিনি বললেন,
‘لَوْ أَعْلَمُ أَنَّكَ تُنْظُرُ لَطَعَنْتُ بِهِ فِي عَيْنِكَ، إِنَّمَا جُعِلَ الْإِسْتِئْذَانُ مِنْ أَجْلِ الْبَصَرِ.’
যদি আমি জানতাম যে, তুমি উঁকি মারবে, তা হলে এ দিয়ে তোমার চোখ ফুঁড়ে দিতাম। তাকানোর জন্যই অনুমতির বিধান দেওয়া হয়েছে। ১৪৯
বুখারী ও মুসলিম শরীফে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে ঘরের ভেতরে তাকাবে, ঘরবাসীর জন্য তার চোখ ফুঁড়ে দেওয়া জায়েয আছে। ১৫০
৩. হযরত উমর ইবনে খাত্তাব রা. বলেন,
‘مَنْ مَلَأَ عَيْنَيْهِ مِنْ قَاعَةِ بَيْتٍ، قَبْلَ أَنْ يُؤْذَنَ لَهُ فَقَدْ فَسَقَ.’
যে ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে ঘরের ভেতরাংশে চোখ ভরে দেখল, সে গুনাহের কাজ করল। ১৫১
কাজেই আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে নিষিদ্ধ বস্তু অবলোকন থেকে হেফাযত করা প্রকৃত অর্থে আল্লাহর প্রতি লজ্জা রাখার দাবি ও পূর্বশর্ত। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমিন।

টিকাঃ
১০৯. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/৪৬৩, হাদিস নং-৮৮২৬।
১৪৯. বুখারী, ২/৯২২, হাদিস নং-৫৯৩৮।
১৫০. মুসলিম, ২/২১২।
১৫১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৩/৪৪৪।

ফন্ট সাইজ
15px
17px