📄 দৃষ্টি সম্প্রসারণ করুন
হাদিস শরীফে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে ইসলামী সমাজ থেকে এসব গুনাহের মূলোৎপাটন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এত কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন, যেগুলোকে পাঠ করলে গা শিউরে ওঠে। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু হাদিস প্রদান হলো:
১. মিরাজের সফরে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বচক্ষে জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করার সময় কতিপয় জাহান্নামীকে মৃত ভক্ষক দেখতে দেখেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন, هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ. এরা সে সকল লোক, যারা (দুনিয়াতে) মানুষের গোশত (তথা সম্মান) ভক্ষণ করত (অর্থাৎ গিবত করত)। ৮৮
২. অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামে এমন কিছু হতভাগাকে দেখেন, যারা নিজের নখ দিয়ে নিজের চেহারা ও বুকে আঘাত করছে। তাদের সম্পর্কে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম বলেন, يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيقعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ. এরা ঐ সকল মানুষ, যারা মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং মানুষের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে খেলা করত। ৮৯
৩. এক দীর্ঘ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি মিরাজের সফরে এমন কতিপয় নারীকে দেখেছি, তাদের পার্শ্বদ্বয় থেকে গোশত কেটে তা খেতে দেওয়া হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে, 'দুনিয়াতে যেভাবে তুমি নিজ ভাইয়ের গোশত খেতে, তেমনি আজও এই গোশত খাও।' আমি হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, هَؤُلَاءِ الْهَمَّازُونَ، اللَّمَّازُونَ، الْآكِلُونَ। এরা ঐ সকল মানুষ, যারা মুখ ও চোখের ইশারায় গিবত করত। ৯০
৪. এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিবত ও মুসলমানের মানহানিকে জঘন্য সুদ আখ্যায়িত করে ইরশাদ করেন, إِنَّ الرِّبَا نَيِّفٌ وَسَبْعُونَ بَابًا أَهْوَنُهَا بَابًا مِثْلُ مَنْ أَتَى أُمَّهُ فِي الْإِسْلَامِ وَدِرْهَمٌ مِنَ الرِّبَا أَشَدُّ مِنْ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ زِنْيَةً وَالْغِيبَةُ وَالْقَذْفُ وَالْإِفْكُ حَرِيمُ لِلْمُسْلِمِ وَالنَّصْلِ. সুদের গুনাহের সত্তর অধিক স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর ঐ ব্যক্তির গুনাহের মতো, যে (নাউযুবিল্লাহ) মুসলমান অবস্থায় নিজের মায়ের সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। সুদ হিসেবে প্রাপ্ত এক দিরহামের গুনাহ পঁয়ত্রিশবার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সমান। আর সবচেয়ে বড়, কঠিন ও জঘন্যতম সুদ হলো কোনো মুসলমানের মানহানি করা। ৯১
৫. একবার হযরত আয়েশা রা. হতে অনিচ্ছাকৃতভাবে উম্মুল মুমিনিন হযরত সাফিয়া রা. সম্পর্কে গিবত হয়ে গেলে তিনি ইশারায় হযরত সাফিয়া রা.-কে খাটো বলেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রা.- কে এভাবে সতর্ক করেন, لَقَدْ قُلْتِ كَلِمَةً لَوْ مُزِجَ بِهَا الْبَحْرُ لَمَزَجَتْهُ. তুমি এমন একটি কথা বললে, যদি তা সমুদ্রে ঢেলে দেওয়া হয়, তবে সমুদ্রের পানি নষ্ট হয়ে যাবে। ৯২
৬. হযরত আবু সাঈদ ও জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়েকেরামের সমাবেশে বলেন, গিবত যিনার চেয়েও ভয়ংকর। সাহাবায়েকেরাম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা কীভাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, إِنَّ الرَّجُلَ لَيُزَنِي فَيَتُوْبُ فَيَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ فَيَتُوبُ اللهُ غَيْرَ مُتَقَبِّلٍ لَهُ وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يُوقِفَهُ اللَّهُ عَلَى صَاحِبِهِ. কারণ, কেউ যিনা করার পর তাওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তার তাওবা কবুল করেন। অন্য বর্ণনামতে, তাকে মাফ করে দেন। পক্ষান্তরে গিবতকারীকে আল্লাহ তায়ালা ততক্ষণ পর্যন্ত মাফ করেন না, যতক্ষণ না গিবতকৃত ব্যক্তি তাকে মাফ করে। ৯৩
৭. বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু বকর রা.-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, গিবত করার কারণে মানুষ কবরের আযাবের উপযুক্ত হয়। তিনি বলেন, বেইনা আনা আমাশী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এই দুই কবরবাসীর শাস্তি হচ্ছে। বড় কোনো অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি হচ্ছে না। তাদের শাস্তির কারণ হলো, পেশাব ও গিবত (তথা পেশাবের ছিটা থেকে না বাঁচা ও গিবত করা)।' ৯৪
৮. হযরত ওফি ইবনে আওস আসবাহী রহ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, চার জাহান্নামী অন্যান্য জাহান্নামীদের কষ্ট দেবে। ... সবশেষে যে ব্যক্তি নিজের গোশত ভক্ষণ করছে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ব্যক্তির কী হলো, কেন সে আমাদের কষ্টের উপর কষ্ট দিচ্ছে?' সে উত্তর দেবে, 'এই হতভাগা গিবত করার মাধ্যমে অন্যের গোশত ভক্ষণ করত এবং পরনিন্দা করে বেড়াত।' ৯৫
৯. হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, মَنْ أَكَلَ لَحْمَ أَخِيهِ فِي الدُّنْيَا، قَرَّبَ إِلَيْهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ لَهُ: كُلْهُ حَيًّا كَمَا أَكَلْتَهُ مَيِّتًا. যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে (গিবত করবে), কিয়ামতের দিন সেই গোশত তার নিকট নিয়ে আসা হবে। তাকে বলা হবে, যেভাবে দুনিয়াতে জীবিত থাকাকালীন (আপন ভাইয়ের) গোশত খেয়েছিলে, এখন মৃত অবস্থায় এর গোশত খাও। ৯৬
১০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় মজলিস থেকে এক ব্যক্তি অন্যত্র চলে গেলে অপর এক ব্যক্তি তার গিবত করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গিবতকারীকে শুনে তাকে দাঁত খিলাল করার নির্দেশ দেন। সে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি তো গোশত খাইনি! তবে কেন খিলাল করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, إِنَّكَ أَكَلْتَ لَحْمَ أَخِيكَ. তুমি (গিবতের মাধ্যমে) তোমার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করেছ। ৯৭
১১. হযরত আয়েশা রা. নিজ জীবনের ঘটনা বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনদশায় একবার আমি এক মহিলা সম্পর্কে বলি যে, তার আঁচল লম্বা। আমার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইবার বলেন, থুথু ফেল, থুথু ফেল। অতঃপর আমি থুথু ফেললে সাথে এক টুকরা গোশত বেরিয়ে এলো (এটাঁই ছিল গিবতের ফল)। ৯৮
১২. হযরত জাবের রা. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় দুর্গন্ধময় দমকা বাতাস প্রবাহিত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা কি জানো, এটা কীসের বাতাস? এটা ঐসব লোকের (দুর্গন্ধ) বায়ু, যারা মুমিনের গিবত করে। ৯৯
টিকাঃ
৮৮. আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩০০।
৮৯. আবু দাউদ, ২/৮১৮; ওয়াজুল ইমান বিল বাইহাকী, ৫/৩০০; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩০০।
৯০. বাইহাকী; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩০০।
৯১. বাইহাকী, ৫/২৮৮; হাদিস নং-৬৭১৫; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩২৩।
৯২. আহমদ; তিরমিযী; আবু দাউদ; তাফসিরে ইবনে কাসির, ৪/৪১৪।
৯৩. বাইহাকী, ৫/৩০৬; হাদিস নং-৬৭৪২; আবু-মিশকাত, ২/৪৫৩।
৯৪. মুসনাদে আহমদ, ৫/৩২, হাদিস নং-২৯৩৪।
৯৫. ইবনে আবিদ দুনিয়া; তাবারানী; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩২৫।
৯৬. মুসনাদে আবু ইয়ালা, আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩২৪।
৯৭. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩২৫।
৯৮. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩২৭।
৯৯. মুসনাদে আহমদ; আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩৬১।
📄 উলামায়েকেরামের গিবত
উলামায়েকেরাম তথা দীনের কাজারি ব্যক্তিবর্গের গিবত করা সাধারণ লোকের গিবতের তুলনায় অধিক জঘন্য ও নিকৃষ্ট। এর কারণ হলো, উলামায়েকেরাম আল্লাহ তায়ালার নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তাই তাদের বেইজ্জত ও অসম্মান করাকেও আল্লাহ তায়ালা অধিক অপছন্দ করেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ. যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করি। ১০০ অনুরূপ একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, لحُوْমُ الْعُلَمَاءِ مَسْمُوْمَةٌ. উলামায়েকেরামের গোশত বিষাক্ত। উলামায়েকেরামের গিবত করলে মানুষ চরম শাস্তির সম্মুখীন হয়। উলামায়ে-কেরামের সমালোচনা ও নিন্দা করা এমন অপরাধ, যার শাস্তি আল্লাহ তায়ালা শুধু আখেরাতেই নয়, দুনিয়াতেও দিয়ে থাকেন। যারা এ ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তারা কুদরতীভাবে অপদস্থ হয় এবং চরম হতভাগ্য হয়। কাজেই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, নিজেকে আল্লাহ তায়ালার আযাব থেকে বাঁচানো এবং আল্লাহর ওলী ও বিশেষ বান্দাদের গিবত করে নিজেদের ধ্বংস না করা এবং এমন কোনো মজলিস-মাহফিলে শরিক না হওয়া, যেখানে অন্যের গিবত করা হয়।
টিকাঃ
১০০. বুখারী, ২/৯৬২।
📄 চোগলখোরী
চোগলখোরী মূলত গিবতের উচ্চস্তরের নাম। এর অর্থ হলো, বিপর্যয় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে কারও গোপন বিষয় অন্যের কাছে প্রকাশ করা। ১০১ কুরআনে কারিমে একাধিক স্থানে চোগলখোরদের অভিশাপ দেওয়া হয়েছে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চোগলখোর সম্পর্কে অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন। মুসলিম শরিফের এক হাদীসে এসেছে, لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ نَمَّامٌ. চোগলখোর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। ১০২ অন্যত্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, কবরের অধিকাংশ আযাব চোগলখোরী ও পেশাবের ছিটা থেকে না বাঁচার কারণে হয়। ১০৩ এজন্য যবান হেফাজতের একটি অন্যতম দিক হলো, আমরা যবানকে চোগলখোরীর দুর্গন্ধ থেকে হেফাযত করব।
টিকাঃ
১০১. 'বিপর্যায় সৃষ্টির উদ্দেশ্যে'—শব্দটি যুক্ত করার কারণ হলো, যদি কোনো ব্যক্তির গোপন বিষয় প্রকাশের পেছনে কোনো শরয়ী কল্যাণ থাকে, তবে তা প্রকাশ করাকে কোনো সমস্যা নেই। বরং ক্ষেত্রবিশেষে এমনটা করা আবশ্যক হয়ে দাঁড়ায়। শরহে মুসলিম লিন নববী রহ., ৯/৭৫।
১০২. মুসলিম, ১/৭৬।
১০৩. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩২৩।
📄 পরনিন্দা বা গিবত শুনলে করণীয়
সাধারণত মানুষের অভ্যাস হলো, কেউ তার সামনে গিবত করলে, হয়তো তার কথার সুর সুন্ন মেলায় অথবা নীরব থাকে। অথচ এই দুইটার কোনোটা ই শরীয়তসম্মতও পন্থা নয়। হযরত আনাস রা. বর্ণনা করেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, مَنْ أَغْتِيْبَ عِنْدَهُ أَخُوْهُ الْمُسْلِمُ وَهُوَ يَسْتَطِيْعُ نَصْرَهُ فَنَصَرَهُ، نَصَرَهُ اللَّهُ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ. যদি কারও সামনে মুসলমান ভাইয়ের গিবত করা হয় এবং সে গিবতকৃত মুসলমান ভাইয়ের সহযোগিতা করতে সক্ষম হওয়া সত্ত্বেও তাকে সহযোগিতা না করে, তবে এই গুনাহ তাকে দুনিয়া-আখেরাতে উভয় স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। ১০৪ আলোচ্য হাদীস থেকে বুঝা যায়, গিবত শোনার পর নীরব থাকাও গুনাহ। যথাসাধ্য নিজের মুসলমান ভাইয়ের প্রতি সুধারণা পোষণ করে তার নিষ্কলুষতা বর্ণনা করা উচিত। এটা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি নিজের সাধ্যমতে গিবতকৃত ব্যক্তির পক্ষ অবলম্বন করবে, দুনিয়া-আখেরাতে আল্লাহ তায়ালা তাকে সহায়তা করেন। ১০৫
ইমাম গাযালী রহ. ইয়াহ্ইয়াউল উলূম এ লিখেছেন, 'কারও গিবত বা নিন্দা শুনলে ছয়টি কাজ করবে : ১. চোগলখোরের কথা কখনও বিশ্বাস করবে না। কারণ শরীয়তের দৃষ্টিতে সে ফাসেক। ২. চোগলখোরকে তার হীন কর্মের জন্য সতর্ক করবে এবং লজ্জা দেবে। ৩. চোগলখোরের কাজকে মন থেকে ঘৃণা করবে এবং এই ঘৃণার প্রকাশ ঘটাবে। ৪. যার চোগলখোরী করা হয়েছে তার ব্যাপারে মন্দ ধারণা পোষণ করবে না। ৫. চোগলখোরের কথার ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণে যাবে না এবং তার কথার সত্যতা যাচাই করবে না। ৬. চোগলখোরের এই কাজকে অন্যত্র বর্ণনা করবে না। অন্যথায় নিজেই চোগলখোর হয়ে যাবে। ১০৬
টিকাঃ
১০৪. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩৬৪।
১০৫. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩৩২।
১০৬. ইয়াহ্ইয়াউল উলূম, ৩/৬৪।