📄 গিবত কাকে বলে?
কাউকে গিবত সম্পর্কে সতর্ক করলে তৎক্ষণাৎ বলে ওঠে, ‘কী হয়েছে? আমি তো বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করেছি।’ যেন বাস্তব অবস্থা বর্ণনা করা জায়েয। অথচ এটা খাম-খেয়ালি বৈ কিছু নয়। হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, أَتَدْرُونَ مَا الْغِيبَةُ ؟ قَالُوا اللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ قَالَ أَرَأَيْتُمْ إِنْ كَانَ فِي أَخِي مَا أَقُولُ ؟ قَالَ : إِنْ كَانَ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدِ اغْتَبْتَهُ ، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ فِيهِ مَا تَقُولُ فَقَدْ بَهَتَّهُ. তোমরা কি জানো, গিবত কাকে বলে? সাহাবায়েকেরাম সমস্বরে বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই এ বিষয়ে সবিশেষ অবহিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, (গিবত হলো) নিজের ভাইয়ের এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা, যা সে অপছন্দ করে। একথা শুনে জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেন, উক্ত দোষটি যদি আমার ভাইয়ের মাঝে বিদ্যমান থাকে (তবুও কি তা গিবত হবে)? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন, দোষটা যদি তার মাঝে বিদ্যমান থাকে, তবেই তো গিবত হবে। আর যদি সেই দোষ তার মাঝে না থাকে, তবে তো তুমি তাকে অপবাদ দিলে (যা গিবতের চেয়েও ভয়াবহ)। ৮১
আলোচ্য হাদিস থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কারও মাঝে বিদ্যমান দোষ নিয়ে আলোচনা করাও গিবত। গিবতের মধ্যে যেসব দোষ-ত্রুটি অন্তর্ভুক্ত, যেগুলোর কারণে যার গিবত করা হয়েছে তার সম্মানহানি হয়। যেমন: দুনিয়াবী দোষ, দীনি দোষ, শারীরিক দোষ, চারিত্রিক দোষ, পরিবার-পরিজনের দোষ কিংবা চাকর-বাকরের দোষ ইত্যাদি। মোটকথা, যে বস্তুর আলোচনায় কারও সম্মানহানি হয়, তা প্রকাশ করাই গিবত। ৮২
টিকাঃ
৮১. মুসলিম, ২/৫২২।
৮২. রুহুল মা'আনী, ২/১৪৮।
📄 সম্মুখে সমালোচনা করাও গুনাহ
উলামায়েকেরাম লেখেন, যেভাবে কারও অগোচরে দোষচর্চা করা গিবত, অনুরূপ কারও সম্মুখ-সমালোচনা করা ও ত্রুটি বর্ণনা করাও গিবতের মতো, বরং গিবতের চেয়েও জঘন্য। কুরআনে কারিমে এমন কার্যকলাপকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর হাদিসে গিবতকে সহজ দ্বারা এমনটাই প্রতিভাত হয়। আল্লামা আলূসী রহ. তাফসিরে রুহুল মা'আনীতে বর্ণনা করেন, فِي الْفَرْقِ بَيْنَ أَن تَكُونَ فِي الْغِيبَةِ مِنَ الْغِتَابِ أَو بِحَضْرَتِهِ هُوَ الْمُعْتَمَدُ. মাওয়াজের কিতাবে লিখিত আছে, ব্যক্তির উপস্থিতি বা অনুপস্থিতিতে গিবত করার মাঝে কোনো পার্থক্য নেই। এটাই নির্ভরযোগ্য অভিমত। ৮৩
সাধারণত গিবতের এই ব্যাখ্যা করা হয় যে, আমি তো এ কথা তার মুখের উপর বলে দিয়েছি। অর্থাৎ গিবতের অর্থ প্রচলিত আছে যে, কারও অনুপস্থিতিতে দোষ চর্চা করা গিবত। পক্ষান্তরে কারও মুখের উপর অপমান করলে বা দোষ বর্ণনা করলে তা গিবত নয়। অথচ মুফাসসিরিনে কেরামের ব্যাখ্যা থেকে এ কথা স্পষ্ট প্রতিভাত হয় যে, কারও সম্মুখে এমন কথা বলা, যা তার মনোকষ্টের কারণ হয় এবং যার কারণে তার মানহানি হয়, এমন সকল প্রকার কর্মকাণ্ড গিবতের মতো শাস্তির উপযুক্ত। এসব বিষয় থেকে পূর্ণরূপে পরহেজ করা জরুরি। তবে গিবতের মাধ্যমে যদি কাউকে হেয় করা না হয়, কারও মানহানি উদ্দেশ্য না থাকে; বরং গিবতকৃত ব্যক্তির সংশোধন বা অন্যকে ক্ষতি থেকে বাঁচানো উদ্দেশ্য হয়, তবে তা প্রয়োজনসাপেক্ষে বা বাধ্যবাধকতার আওতাভুক্ত হবে। যেমনটি সামনে এগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। ৮৭
টিকাঃ
৮৩. রুহুল মা'আনী, ২৬/১৫৮; কিতাবুল ফাওয়াজের, ১/৯৯।
৮৭. আল্লামগীরী, ৫/৩৫২; মাআরেফুল কুরআন, ৮/১২৩। আল্লামা শামী রহ. ১২টি সূরত উল্লেখ করেছেন, যেসব সূরতে কারও নিন্দা করলেও তা গিবতের আওতায় পড়ে না: ১. আফসোস প্রকাশ করার জন্য দোষ বর্ণনা করা। ২. ব্যক্তি নির্দিষ্টকরণ ব্যতীত ব্যাপকাকারে কোনো সমাজ বা গোত্রের সমালোচনা করা। ৩. ব্যাপকাকারে মন্দকাজের নিন্দা করা। ৪. সাধারণ মানুষের সর্তকতার জন্য খারাপ আকিদা পোষণকারী ব্যক্তির আকিদা প্রকাশ করা। ৫. বিচারের সম্মুখে ন্যায় বিচারের জন্য জালেম ব্যক্তির জুলুম বর্ণনা করা। ৬. প্রতিবিধান বা সংশোধন করার সক্ষম এমন ব্যক্তির সম্মুখে অন্যের অপকর্ম তুলে ধরা (যেমন : বাবার সামনে ছেলের অথবা মালিকের সামনে খাদেমের ত্রুটি বর্ণনা করা)। ৭. বিবাহাদি তথা আত্মীয়তার বন্ধন সৃষ্টির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি উল্লেখ করা। ৮. ফাতওয়া গ্রহণের মানসে মুফতি সাহেবের সামনে সঠিক অবস্থা তুলে ধরা। ৯. ক্রেতাকে গোলামের (পণ্যের) দোষ-ত্রুটি বর্ণনা করা। ১০. শুধু পরিচিতি জন কর্তৃক অন্ধ বা ন্যাংড়া বলা। ১১. হাদীস বর্ণনাকারী বা কিতাব রচয়িতাদের অবস্থা বর্ণনা করা। উল্লিখিত সুরসমূহে গিবত অন্তর্ভুক্ত হবে না। তবে শর্ত হলো, উল্লিখিত পদ্ধতিতে মুসলমান ব্যক্তিকে অবমাননার ইচ্ছা না থাকা চাই। শামী (করাচি), ৫/৪০৯; শামী, ৯/৫০৩-৫০৪।
📄 দৃষ্টি সম্প্রসারণ করুন
হাদিস শরীফে অত্যন্ত কঠোরতার সাথে ইসলামী সমাজ থেকে এসব গুনাহের মূলোৎপাটন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ ব্যাপারে এত কঠোর হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন, যেগুলোকে পাঠ করলে গা শিউরে ওঠে। নিম্নে এ সংক্রান্ত কিছু হাদিস প্রদান হলো:
১. মিরাজের সফরে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্বচক্ষে জাহান্নাম প্রত্যক্ষ করার সময় কতিপয় জাহান্নামীকে মৃত ভক্ষক দেখতে দেখেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি উত্তর দেন, هَؤُلَاءِ الَّذِينَ يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ. এরা সে সকল লোক, যারা (দুনিয়াতে) মানুষের গোশত (তথা সম্মান) ভক্ষণ করত (অর্থাৎ গিবত করত)। ৮৮
২. অনুরূপ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জাহান্নামে এমন কিছু হতভাগাকে দেখেন, যারা নিজের নখ দিয়ে নিজের চেহারা ও বুকে আঘাত করছে। তাদের সম্পর্কে হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালাম বলেন, يَأْكُلُونَ لُحُومَ النَّاسِ وَيقعُونَ فِي أَعْرَاضِهِمْ. এরা ঐ সকল মানুষ, যারা মানুষের গোশত ভক্ষণ করত এবং মানুষের ইজ্জত-সম্মান নিয়ে খেলা করত। ৮৯
৩. এক দীর্ঘ হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমি মিরাজের সফরে এমন কতিপয় নারীকে দেখেছি, তাদের পার্শ্বদ্বয় থেকে গোশত কেটে তা খেতে দেওয়া হচ্ছে এবং বলা হচ্ছে, 'দুনিয়াতে যেভাবে তুমি নিজ ভাইয়ের গোশত খেতে, তেমনি আজও এই গোশত খাও।' আমি হযরত জিবরাইল আলাইহিস সালামকে তাদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, هَؤُلَاءِ الْهَمَّازُونَ، اللَّمَّازُونَ، الْآكِلُونَ। এরা ঐ সকল মানুষ, যারা মুখ ও চোখের ইশারায় গিবত করত। ৯০
৪. এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম গিবত ও মুসলমানের মানহানিকে জঘন্য সুদ আখ্যায়িত করে ইরশাদ করেন, إِنَّ الرِّبَا نَيِّفٌ وَسَبْعُونَ بَابًا أَهْوَنُهَا بَابًا مِثْلُ مَنْ أَتَى أُمَّهُ فِي الْإِسْلَامِ وَدِرْهَمٌ مِنَ الرِّبَا أَشَدُّ مِنْ خَمْسٍ وَثَلَاثِينَ زِنْيَةً وَالْغِيبَةُ وَالْقَذْفُ وَالْإِفْكُ حَرِيمُ لِلْمُسْلِمِ وَالنَّصْلِ. সুদের গুনাহের সত্তর অধিক স্তর রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন স্তর ঐ ব্যক্তির গুনাহের মতো, যে (নাউযুবিল্লাহ) মুসলমান অবস্থায় নিজের মায়ের সঙ্গে অপকর্মে লিপ্ত হয়েছে। সুদ হিসেবে প্রাপ্ত এক দিরহামের গুনাহ পঁয়ত্রিশবার ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার সমান। আর সবচেয়ে বড়, কঠিন ও জঘন্যতম সুদ হলো কোনো মুসলমানের মানহানি করা। ৯১
৫. একবার হযরত আয়েশা রা. হতে অনিচ্ছাকৃতভাবে উম্মুল মুমিনিন হযরত সাফিয়া রা. সম্পর্কে গিবত হয়ে গেলে তিনি ইশারায় হযরত সাফিয়া রা.-কে খাটো বলেছিলেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা রা.- কে এভাবে সতর্ক করেন, لَقَدْ قُلْتِ كَلِمَةً لَوْ مُزِجَ بِهَا الْبَحْرُ لَمَزَجَتْهُ. তুমি এমন একটি কথা বললে, যদি তা সমুদ্রে ঢেলে দেওয়া হয়, তবে সমুদ্রের পানি নষ্ট হয়ে যাবে। ৯২
৬. হযরত আবু সাঈদ ও জাবের রা. হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবায়েকেরামের সমাবেশে বলেন, গিবত যিনার চেয়েও ভয়ংকর। সাহাবায়েকেরাম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, তা কীভাবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উত্তর দিলেন, إِنَّ الرَّجُلَ لَيُزَنِي فَيَتُوْبُ فَيَتُوْبُ اللهُ عَلَيْهِ وَفِي رِوَايَةٍ فَيَتُوبُ اللهُ غَيْرَ مُتَقَبِّلٍ لَهُ وَإِنَّ صَاحِبَ الْغِيبَةِ لَا يُغْفَرُ لَهُ حَتَّى يُوقِفَهُ اللَّهُ عَلَى صَاحِبِهِ. কারণ, কেউ যিনা করার পর তাওবা করলে আল্লাহ তায়ালা তার তাওবা কবুল করেন। অন্য বর্ণনামতে, তাকে মাফ করে দেন। পক্ষান্তরে গিবতকারীকে আল্লাহ তায়ালা ততক্ষণ পর্যন্ত মাফ করেন না, যতক্ষণ না গিবতকৃত ব্যক্তি তাকে মাফ করে। ৯৩
৭. বিখ্যাত সাহাবী হযরত আবু বকর রা.-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, গিবত করার কারণে মানুষ কবরের আযাবের উপযুক্ত হয়। তিনি বলেন, বেইনা আনা আমাশী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম... রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'এই দুই কবরবাসীর শাস্তি হচ্ছে। বড় কোনো অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি হচ্ছে না। তাদের শাস্তির কারণ হলো, পেশাব ও গিবত (তথা পেশাবের ছিটা থেকে না বাঁচা ও গিবত করা)।' ৯৪
৮. হযরত ওফি ইবনে আওস আসবাহী রহ. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সূত্রে বর্ণনা করেন যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, চার জাহান্নামী অন্যান্য জাহান্নামীদের কষ্ট দেবে। ... সবশেষে যে ব্যক্তি নিজের গোশত ভক্ষণ করছে, তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত ব্যক্তির কী হলো, কেন সে আমাদের কষ্টের উপর কষ্ট দিচ্ছে?' সে উত্তর দেবে, 'এই হতভাগা গিবত করার মাধ্যমে অন্যের গোশত ভক্ষণ করত এবং পরনিন্দা করে বেড়াত।' ৯৫
৯. হযরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের সতর্ক করে বলেছেন, মَنْ أَكَلَ لَحْمَ أَخِيهِ فِي الدُّنْيَا، قَرَّبَ إِلَيْهِ يَوْমَ الْقِيَامَةِ، فَيُقَالُ لَهُ: كُلْهُ حَيًّا كَمَا أَكَلْتَهُ مَيِّتًا. যে ব্যক্তি দুনিয়াতে তার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করবে (গিবত করবে), কিয়ামতের দিন সেই গোশত তার নিকট নিয়ে আসা হবে। তাকে বলা হবে, যেভাবে দুনিয়াতে জীবিত থাকাকালীন (আপন ভাইয়ের) গোশত খেয়েছিলে, এখন মৃত অবস্থায় এর গোশত খাও। ৯৬
১০. হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আমরা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় মজলিস থেকে এক ব্যক্তি অন্যত্র চলে গেলে অপর এক ব্যক্তি তার গিবত করল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার গিবতকারীকে শুনে তাকে দাঁত খিলাল করার নির্দেশ দেন। সে জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি তো গোশত খাইনি! তবে কেন খিলাল করব? তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, إِنَّكَ أَكَلْتَ لَحْمَ أَخِيكَ. তুমি (গিবতের মাধ্যমে) তোমার ভাইয়ের গোশত ভক্ষণ করেছ। ৯৭
১১. হযরত আয়েশা রা. নিজ জীবনের ঘটনা বর্ণনা করেন যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবনদশায় একবার আমি এক মহিলা সম্পর্কে বলি যে, তার আঁচল লম্বা। আমার কথা শুনে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইবার বলেন, থুথু ফেল, থুথু ফেল। অতঃপর আমি থুথু ফেললে সাথে এক টুকরা গোশত বেরিয়ে এলো (এটাঁই ছিল গিবতের ফল)। ৯৮
১২. হযরত জাবের রা. বলেন, আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। এমতাবস্থায় দুর্গন্ধময় দমকা বাতাস প্রবাহিত হলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, তোমরা কি জানো, এটা কীসের বাতাস? এটা ঐসব লোকের (দুর্গন্ধ) বায়ু, যারা মুমিনের গিবত করে। ৯৯
টিকাঃ
৮৮. আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩০০।
৮৯. আবু দাউদ, ২/৮১৮; ওয়াজুল ইমান বিল বাইহাকী, ৫/৩০০; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩০০।
৯০. বাইহাকী; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩০০।
৯১. বাইহাকী, ৫/২৮৮; হাদিস নং-৬৭১৫; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩২৩।
৯২. আহমদ; তিরমিযী; আবু দাউদ; তাফসিরে ইবনে কাসির, ৪/৪১৪।
৯৩. বাইহাকী, ৫/৩০৬; হাদিস নং-৬৭৪২; আবু-মিশকাত, ২/৪৫৩।
৯৪. মুসনাদে আহমদ, ৫/৩২, হাদিস নং-২৯৩৪।
৯৫. ইবনে আবিদ দুনিয়া; তাবারানী; আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩২৫।
৯৬. মুসনাদে আবু ইয়ালা, আবু-তারগিব ওয়াত তারহিব, ৩/৩২৪।
৯৭. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩২৫।
৯৮. আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩২৭।
৯৯. মুসনাদে আহমদ; আত্ত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ৩/৩৬১।
📄 উলামায়েকেরামের গিবত
উলামায়েকেরাম তথা দীনের কাজারি ব্যক্তিবর্গের গিবত করা সাধারণ লোকের গিবতের তুলনায় অধিক জঘন্য ও নিকৃষ্ট। এর কারণ হলো, উলামায়েকেরাম আল্লাহ তায়ালার নিকট বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। তাই তাদের বেইজ্জত ও অসম্মান করাকেও আল্লাহ তায়ালা অধিক অপছন্দ করেন। হযরত আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقَدْ آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ. যে ব্যক্তি আমার কোনো ওলীর সঙ্গে শত্রুতা পোষণ করে, আমি তার সঙ্গে যুদ্ধ ঘোষণা করি। ১০০ অনুরূপ একটি প্রবাদ বাক্য রয়েছে, لحُوْমُ الْعُلَمَاءِ مَسْمُوْمَةٌ. উলামায়েকেরামের গোশত বিষাক্ত। উলামায়েকেরামের গিবত করলে মানুষ চরম শাস্তির সম্মুখীন হয়। উলামায়ে-কেরামের সমালোচনা ও নিন্দা করা এমন অপরাধ, যার শাস্তি আল্লাহ তায়ালা শুধু আখেরাতেই নয়, দুনিয়াতেও দিয়ে থাকেন। যারা এ ব্যাপারে উদাসীন থাকে, তারা কুদরতীভাবে অপদস্থ হয় এবং চরম হতভাগ্য হয়। কাজেই প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, নিজেকে আল্লাহ তায়ালার আযাব থেকে বাঁচানো এবং আল্লাহর ওলী ও বিশেষ বান্দাদের গিবত করে নিজেদের ধ্বংস না করা এবং এমন কোনো মজলিস-মাহফিলে শরিক না হওয়া, যেখানে অন্যের গিবত করা হয়।
টিকাঃ
১০০. বুখারী, ২/৯৬২।