📘 গুনাহমুক্ত জীবন 📄 লজ্জার প্রেরণা সৃষ্টি হওয়ার উপায়

📄 লজ্জার প্রেরণা সৃষ্টি হওয়ার উপায়


আল্লাহ তায়ালার প্রতি লজ্জার আগ্রহ ও প্রেরণা কীভাবে সৃষ্টি হয়? এ বিষয়ে বুযুর্গানে দীন এবং উলামায়েকেরামের নিম্নোক্ত কথামালা প্রণিধানযোগ্য:

১. হযরত জুনাইদ বাগদাদী রহ. বলেন, ‘সর্বাবস্থায় আল্লাহর নেয়ামতরাজি স্মরণ করার সঙ্গে সঙ্গে নিজের অলসতা-অবহেলা ও গুনাহের প্রতি দৃষ্টিপাত করলে যে মানসিক অবস্থা সৃষ্টি হয়, তাকেই লজ্জা বলে।’ ১৯

২. হযরত যুননুন মিসরী রহ. বলেন, ‘যে জিনিস আল্লাহ তায়ালাকে যথাযথ লজ্জা করার প্রতি মানুষকে অনুপ্রাণিত করে, তা হলো মানুষের প্রতি আল্লাহর অসংখ্য নেয়ামত ও অনুগ্রহ। আল্লাহ তায়ালার অনুগ্রহ ও ইহসানের শোকরিয়া আদায় করা ওয়াজিব। সুতরাং আল্লাহর বড়ই ও মহত্ত্ব যেমন অসীম, অনুরূপ আল্লাহর কৃতজ্ঞতারও কোনো সীমা-পরিসীমা নেই।’ ২০

৩. হযরত মুহাম্মদ ইবনে ফজল রহ. বলেন, ‘লজ্জা সৃষ্টির উপায় হলো, প্রথমে তুমি অনুগ্রহশীল নেয়ামতদাতা নেয়ামতের প্রতি দৃষ্টি ফেরাবে। এরপর গভীরভাবে ভাববে, এসব নেয়ামতের বিনিময়ে আল্লাহর সঙ্গে কেমন আচরণ করা উচিত, তা কি তুমি করেছ? সর্বদা এই দুটি বিষয় মাথায় রাখলে তোমার মাঝে লজ্জাশীলতার গুণ সক্রিয় হবে, ইনশাআল্লাহ।’ ২১

উলামায়েকেরামদের উপরিউক্ত বক্তব্যের সারমর্ম হলো, প্রথমত আমাদের উচিত আল্লাহ তায়ালার অসংখ্য নেয়ামতকে—যা সর্বদা বৃষ্টির ন্যায় আমাদের উপর বর্ষিত হয়—সব সময় স্মরণ রাখা। এরপর দেখা উচিত, আমরা এসব নেয়ামতের কতটুকু হক আদায় করছি? পক্ষান্তরে আমরা কত বেশি অবহেলা করছি? এই দুটি বিষয় সর্বদা অন্তরে জাগরুক থাকলে এমনিতেই আমাদের মাঝে এই অনুভূতি জাগ্রত হবে যে, আমাদের পক্ষে এমন কাজ কখনও উচিত হবে না, যার কারণে আমাদের উপর আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন এবং এসব নেয়ামতের অকৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়। এই অনুভূতির নামই লজ্জা, যা মুমিন বান্দার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ গুণ। আল্লাহ তায়ালা এই উম্মতের প্রত্যেককে লজ্জার গুনে গুণান্বিত করুন। আমিন।

টিকাঃ
১৯. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/১৪৭।
২০. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/১৪৭।
২১. শুআবুল ঈমান লিল বাইহাকী, ৬/১৪৭।

ফন্ট সাইজ
15px
17px