📄 ছয়. আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ না হওয়া
গুনাহের সঙ্গে সর্বশেষ আচরণ আপনার যেটা হবে তা হল, কখনও আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হবেন না। আমরা একটা আয়াত সচরাচর শুনি, আল্লাহ তাআলা বলেছেন
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَى أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের ওপর যুলুম করেছ অর্থাৎ গুনাহ করেছে; তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। ২৫
তাফসীরে বগভীতে হযরত ইবনু আব্বাস রাযি. এসেছে, এ আয়াতের শানে নুযুল হল, কিছু লোক ছিল যারা অন্যায়ভাবে হত্যা করেছিল এবং অনেক করেছিল। আরও কিছু লোক ছিল, যারা ব্যভিচার করেছিল এবং অনেক করেছিল। তারা এসে রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে আরজ করল, আপনি যে ধর্মের দাওয়াত দেন, তা তো খুবই উত্তম, কিন্তু চিন্তার বিষয় হল এই যে, আমরা অনেক জঘন্য গুনাহ করে ফেলেছি। আমরা যদি ইসলাম গ্রহণ করি, তবে আমাদের তাওবা কবুল হবে কি? এর পরিপ্রেক্ষিতেই আলোচ্য আয়াত অবতীর্ণ হয়।
টিকাঃ
২৫ সুরা যুমার : ৫৩
📄 আল্লাহর রহমতের আশা যেন তামাশা না হয়
সুতরাং যদি গুনাহের সঙ্গে পেছনের পাঁচ আচরণ দেখাতে পারি, বিশেষ করে প্রথম আচরণ অর্থাৎ যদি তাওবা করার তাওফীক হয় তবে আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হব না। কেননা ওলামায়ে কেরাম বলেছেন, অতীত গুনাহ থেকে তাওবা করার পর আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ হওয়াটাও এক প্রকার গুনাহ।
পক্ষান্তরে যদি পিছনের পাঁচ আচরণ দেখাতে না পারি বিশেষ করে তাওবা করতে না পারি তবে আল্লাহর আযাবের ভয় থেকে কখনো পালাব না। কেননা তাওবা না করে কবিরা গুনাহ মাফ হয়ে যাওয়ার আশা করাটা আল্লাহর রহমতের আশা নয়; বরং হাকিমুল উম্মত থানভী রহ. বলেন এটা আল্লাহর রহমতের সঙ্গে তামাশা। এ কারণেই কুরআন মজিদের বিভিন্ন স্থানে এই উভয় দিককে এক সঙ্গেই বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন
نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الأَلِيمُ
অর্থাৎ আমার বান্দাদের বলে দাও, নিশ্চয় আমিই চরম ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু এবং আমার শাস্তিই হল অতি মর্মন্তুদ শাস্তি। ২৬
আল্লাহ আমাদেরকে গুনাহের সঙ্গে উক্ত ছয়টি আচরণ দেখানোর তাওফীক দান করুন আমীন।
وَآخِرُ دَعْوَانَا أَنِ الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينِ
টিকাঃ
২৬ সূরা হিজর : ৪৯-৫০