📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 দাঈদের ব্যক্তিত্ব ঠিক রাখতে হয়

📄 দাঈদের ব্যক্তিত্ব ঠিক রাখতে হয়


সুতরাং একজন ইমাম হিসেবে, একজন দাঈ হিসেবে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। যেখানে সেখানে বসে যাওয়া নয়, যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাওয়া নয়, যেখানে সেখানে চা খাওয়া নয়। কেন? যেন আমার কথার ওজন থাকে, ব্যক্তিত্ব ঠিক থাকে এবং যেন দাওয়াতের কাজে সুবিধা হয়। এটা অহংকার নয়। নিজের স্ত্রীর সঙ্গে, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মজা করেন, কে আপনাকে ধরে রাখবে? কিন্তু সব জায়গায় যদি সব কাজ করি তাহলে ব্যক্তিত্ব নষ্ট হবে।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 এটা অহংকার নয়; আত্মমর্যাদাবোধ

📄 এটা অহংকার নয়; আত্মমর্যাদাবোধ


আল্লাহ তাআলা আমাদের আম্মাজান, রাসূল ﷺ এর স্ত্রীদের বলেন
يَا نِسَاءِ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। ২৩
উক্ত আয়াতের আলোকে আমি আপনাকে এ কথা বলব যে, আপনি দীনদার, আপনার দাড়ি আছে টুপি আছে; সুতরাং আপনি কিন্তু অন্যদের মত নন। এর অর্থ এ নয় যে, আপনি অহংকার করছেন। এটা হল, নিজেকে চেনা। এটাকে বলা হয় আত্মমর্যাদাবোধ।

টিকাঃ
২৩ সূরা আহযাব : ৩২

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 আত্মমর্যাদাবোধ আর অহংকার এক নয়

📄 আত্মমর্যাদাবোধ আর অহংকার এক নয়


আত্মমর্যাদাবোধ আর অহংকার এক নয়। অহংকার হল আমি নিজেকে বড় মনে করলাম আর অন্যকে ছোট মনে করলাম। আর আত্মমর্যাদাবোধ হল আমি আমার ব্যক্তিত্বকে ঠিক রাখলাম অন্যকে বড় মনে করেই।
হাকিমুল উম্মত আশরাফ আলী থানভী রহ. বলেন, আমি নিজেকে তোমাদের সবার চেয়ে ছোট মনে করি। একজন শাগরেদ বলল, হযরত! এটা কীভাবে সম্ভব! তিনি বললেন, দেখো, আমার অবস্থা হল এমন যে, এক বাদশাহ একজন দারোয়ান রেখেছে এবং দারোয়ানকে এই নির্দেশ দিয়ে রেখেছে, যে লোকই রাত এতটার পরে আসবে এমনকি যদি রাজপুত্রও আসে তবে তাকে গেটের ভিতরে ঢুকতে দিবে না। এখন রাত ১২টায় আসলো রাজপুত্র। দারোয়ান তাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। এর অর্থ কি রাজপুত্র ছোট আর দারোয়ান বড়? অনুরূপভাবে আল্লাহ তাআলা আমাকে তোমাদের ইসলাহ করার জিম্মাদারি দিয়েছেন, কিন্তু আমি তো দারোয়ান আর তোমরা তো রাজপুত্র।
সুতরাং একদিকে অহংকার করা যাবে না, অপরদিকে বিনয়ের অর্থ এই নয় যে, নিজের ব্যক্তিত্বকে মিটিয়ে দেওয়া। আমি যদি দাড়ি টুপি পরে ক্রিকেট খেলা দেখার জন্য দোকানে দাঁড়িয়ে থাকি এটা কি ঠিক হবে? তাবলীগ করার পরও যদি আমার বাসায় টেলিভিশন থাকে এটা কি ঠিক হচ্ছে? চিল্লা দিলাম কিন্তু মেয়েকে পর্দা শিখাই না, এটা কি ঠিক হচ্ছে? আমাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, আমি তো অন্যদের মতো নই ।
যাই হোক, বলতে চেয়েছিলাম, সময়, স্থান, ব্যক্তির কারণে কিছু গুনাহ বড় করে দেখা হয়। এগুলো খেয়াল করে চলা। খেয়াল রাখা যেন আমার গুনাহ জারি না থাকে এবং আমার গুনাহ যেন বড় না হয়ে যায় ।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 পাঁচ. গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে একটি আমল করে নেয়া

📄 পাঁচ. গুনাহ হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে একটি আমল করে নেয়া


আগেই বলেছি, গুনাহ হয়ে যাবে। গুনাহ হয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা নেক আমল করে নিব। নবীজী ﷺ বলেন
إِنَّ مَثَلَ الَّذِي يَعْمَلُ السَّيِّئَاتِ ثُمَّ يَعْمَلُ الْحَسَنَاتِ: كَمَثَلِ رَجُلٍ كَانَتْ عَلَيْهِ دِرْعُ ضَيِّقَةٌ قَدْ خَنَقَتْهُ, ثُمَّ عَمِلَ حَسَنَةً فَانْفَكَتْ حَلْقَةً، ثُمَّ عَمِلَ حَسَنَةً أُخْرَى فَانْفَكَتْ حَلْقَةً أُخْرَى حَتَّى يَخْرُجَ إِلَى الْأَرْضِ
যে ব্যক্তি কোনো গুনাহ করার পরপরই নেক আমল করে, সেই ব্যক্তির উপমা এমন একজনের মত যার দেহে ছিল সংকীর্ণ বর্ম; যা তার শ্বাস রোধ করে ফেলেছিল। অতঃপর সে যখন একটি নেক আমল করে, তখন বর্মের একটি আংটা খুলে যায়। তারপর আর একটি পূণ্য করলে আরও একটি আংটা খুলে যায়। ফলে সে সংকীর্ণতার কষ্ট থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। তখন সে হাফ ছেড়ে বাঁচে। ২৪
পানির ভিতর যদি কোনো ব্যক্তিকে চুবিয়ে ধরে রাখা হয় তারপর যদি ছেড়ে দেয়া হয় তাহলে কেমন আরাম লাগে! তেমনিভাবে একজন মুমিন বান্দা গুনাহ করার পর তার কাছে মনে হয় পানির ভিতর কেউ তাকে ধরে রেখেছে। তারপর যখন একটা নেক আমল করে তখন মনে হয় ধরা থেকে কেউ ছেড়ে দিয়েছে। অর্থাৎ নেক আমল করার পর মুমিনের অন্তরটা প্রশান্ত হয়ে যায়।

টিকাঃ
২৪ মুসনাদে আহমাদ : ১৭৩০৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00