📄 গুনাহ করে প্রকাশ করাটাও প্রকাশ্যে গুনাহ করার শামিল
তাহলে কি গোপনে গুনাহ করবো? না, গোপনেও গুনাহ করবো না; কেননা গুনাহ তো গুনাহ-ই। কিন্তু গোপনে হয়ে যেতে পারে। যদি হয়ে যায় তবে প্রকাশ করবো না। রাতে মুভি দেখে ফেলেছি সকালে বলে বেড়াব না যে, গতকাল খুব মজার একটা মুভি দেখেছি; কেননা গুনাহ করে প্রকাশ করাটাও প্রকাশ্যে গুনাহ করার শামিল। নবীজী ﷺ বলেন
وَإِنَّ مِنَ الْمَجَانَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ، فَيَقُولَ يَا فُلاَنُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
আর নিশ্চয় এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোনো ব্যক্তি রাতে গুনাহ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে ভোর হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করল যে, আল্লাহ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার ওপর আল্লাহর পর্দা খুলে ফেলল। ২১
সুতরাং গুনাহের সঙ্গে আমাদের তৃতীয় আচরণ হবে, প্রকাশ না করা এবং প্রকাশ্যে না করা।
টিকাঃ
২১ বুখারী : ৬০৬৯
📄 চার. গুনাহ যেন প্রতিক্রিয়াশীল না হয়
কিছু গুনাহ আছে এমন যা কেবল একজনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অন্যদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমরা সদকায়ে জারিয়ার কথা শুনেছি। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ্ আছে এমন যে, জারি থাকে।
গুনাহ আমাদের দ্বারা হয়ে যাবে। কিন্তু আমি সবসময় সতর্ক থাকবো যেন জারি থাকে এমন গুনাহ না হয়। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ আছে ছোট কিন্তু স্থানের কারণে সেটা বড় হয়ে যায়। যেমন হারাম শরিফ। কুদৃষ্টি দেওয়া গুনাহ। কিন্তু হারাম শরীফে বসে দেওয়া আরও বড় গুনাহ।
অনুরূপভাবে কিছু সময় আছে, যে সময়ে গুনাহ-কে বড় করে দেখা হয়। যেমন কোনো লোক যদি লাইলাতুল কদরে মাহরুম হয়ে যায় তাহলে নবীজী ﷺ বলেন যে, সব কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়ে যায়। কারণ সে এত বড় সময়টাকে মূল্য দিতে পারেনি। রমযানে যে নিজেকে মাফ করাতে পারে না; জিবরাইল আ. বলেন, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে গেল। কেন? কারণ এত বড় রমযান আসল, এত বড় অফার আসল অথচ সে এই অফারটা নিতে পারেনি!
সুতরাং বোঝা গেল, কিছু সময় আছে এমন যে, ওই সময়ে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়।
আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন যাদের সামনে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়। যেমন নবীজী ﷺ এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ডান হাতে খানা খাও। তার মাঝে অহংকার চেপে বসল। সে বলে বসল, আমি ডান হাতে খেতে পারি না। নবীজী ﷺ বললেন, তুমি ডান হাতে খেতেও পারবে না। পরবর্তীতে তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।
আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন, গুনাহ-টা হয়তো ছোট কিন্তু ওই ব্যক্তির জন্য গুনাহ-টা বড়। যেমন ইমাম সাহেব যদি ইস্তেঞ্জার পরে শুধু পানি নেন মুসল্লিদের সামনে। যদিও পানি ও ঢিলার যে কোনো একটা নিলেই হয়ে যায়। কিন্তু মুসল্লিরা বলে বসবে, হায়রে! আমরা কোন ইমামের পিছনে নামায পড়ি, ঢিলা কুলুখ কিছু নেয় না, পানিও খরচ করে না!
আমি বলবো না যে, লোকটার কোনো দোষ নেই। বরং আমি এ কথা বলব যে, ওই লোকের চেয়ে ইমাম সাহেবের দোষ বেশি। কারণ নবীজী ﷺ বলেন
اتَّقُوا مَوَاضِعَ الشُّهَمَةِ
তোমার ওপর অপবাদ আসতে পারে এমন কথা থেকে, কাজ থেকে, জায়গা থেকে বেঁচে থাক। ২২
টিকাঃ
২২ ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন : খণ্ড ০৩ পৃ. ২৩
📄 দাঈদের ব্যক্তিত্ব ঠিক রাখতে হয়
সুতরাং একজন ইমাম হিসেবে, একজন দাঈ হিসেবে আপনাকে সতর্ক থাকতে হবে। যেখানে সেখানে বসে যাওয়া নয়, যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে যাওয়া নয়, যেখানে সেখানে চা খাওয়া নয়। কেন? যেন আমার কথার ওজন থাকে, ব্যক্তিত্ব ঠিক থাকে এবং যেন দাওয়াতের কাজে সুবিধা হয়। এটা অহংকার নয়। নিজের স্ত্রীর সঙ্গে, বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে মজা করেন, কে আপনাকে ধরে রাখবে? কিন্তু সব জায়গায় যদি সব কাজ করি তাহলে ব্যক্তিত্ব নষ্ট হবে।
📄 এটা অহংকার নয়; আত্মমর্যাদাবোধ
আল্লাহ তাআলা আমাদের আম্মাজান, রাসূল ﷺ এর স্ত্রীদের বলেন
يَا نِسَاءِ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِّنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَّعْرُوفًا
হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সঙ্গে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। ২৩
উক্ত আয়াতের আলোকে আমি আপনাকে এ কথা বলব যে, আপনি দীনদার, আপনার দাড়ি আছে টুপি আছে; সুতরাং আপনি কিন্তু অন্যদের মত নন। এর অর্থ এ নয় যে, আপনি অহংকার করছেন। এটা হল, নিজেকে চেনা। এটাকে বলা হয় আত্মমর্যাদাবোধ।
টিকাঃ
২৩ সূরা আহযাব : ৩২