📄 সালাফদের মাঝে প্রচলিত প্রবাদ
আমরা যেমন আমাদের প্রবাদও তেমন। আমরা নাচি, তাই আমাদের প্রবাদও হল, নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। সালাফগণ যেমন ছিলেন, তাঁদের প্রবাদগুলোও তেমন ছিল। তাঁদের মাঝে প্রবাদ ছিল
لا تنظر إلى صغر الذنب وانظر إلى عِظَم مَنْ خالفت
তুমি এটা দেখো না যে, সগিরা গুনাহ করছ; বরং তুমি এটা দেখো যে, তুমি কার নাফরমানি করছ! ১৯
সুতরাং গুনাহের সঙ্গে আমাদের দ্বিতীয় আচরণ হল, গুনাহ-কে ছোট বা তুচ্ছ মনে না করা।
টিকাঃ
১৯ হিলয়াতুল আওলিয়া : ৫/২২৩
📄 তিন. গুনাহ প্রকাশ না করা এবং প্রকাশ্যে না করা
আমাদের গুনাহগুলো দুই ধরণের। প্রকাশ্য গুনাহ এবং গোপন গুনাহ। এ গুনাহগুলো করায় ইবলিশ এবং নফস। এ দুই শত্রু থেকে বাঁচানোর জন্য আমাদের একমাত্র সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ। এখন আপনি যদি উল্টো আল্লাহর অহংকারে আঘাত করে বসেন তাহলে আল্লাহ আপনাকে সাহায্য না করে শত্রুর হাতে ছেড়ে দিবেন ।
এ কারণে নবীজী ﷺ বলেন
كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ
আমার সব উম্মত মাফ পাবে কিন্তু যে প্রকাশ্যে গুনাহ করেছে সে ছাড়া। ২০
টিকাঃ
২০ বুখারী : ৬০৬৯
📄 গুনাহ করে প্রকাশ করাটাও প্রকাশ্যে গুনাহ করার শামিল
তাহলে কি গোপনে গুনাহ করবো? না, গোপনেও গুনাহ করবো না; কেননা গুনাহ তো গুনাহ-ই। কিন্তু গোপনে হয়ে যেতে পারে। যদি হয়ে যায় তবে প্রকাশ করবো না। রাতে মুভি দেখে ফেলেছি সকালে বলে বেড়াব না যে, গতকাল খুব মজার একটা মুভি দেখেছি; কেননা গুনাহ করে প্রকাশ করাটাও প্রকাশ্যে গুনাহ করার শামিল। নবীজী ﷺ বলেন
وَإِنَّ مِنَ الْمَجَانَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ، فَيَقُولَ يَا فُلاَنُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ
আর নিশ্চয় এ বড়ই ধৃষ্টতা যে, কোনো ব্যক্তি রাতে গুনাহ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে ভোর হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক! আমি আজ রাতে এমন এমন কর্ম করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত অতিবাহিত করল যে, আল্লাহ তার কর্ম গোপন রেখেছিলেন, আর সে ভোরে উঠে তার ওপর আল্লাহর পর্দা খুলে ফেলল। ২১
সুতরাং গুনাহের সঙ্গে আমাদের তৃতীয় আচরণ হবে, প্রকাশ না করা এবং প্রকাশ্যে না করা।
টিকাঃ
২১ বুখারী : ৬০৬৯
📄 চার. গুনাহ যেন প্রতিক্রিয়াশীল না হয়
কিছু গুনাহ আছে এমন যা কেবল একজনের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং অন্যদের মাঝেও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমরা সদকায়ে জারিয়ার কথা শুনেছি। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ্ আছে এমন যে, জারি থাকে।
গুনাহ আমাদের দ্বারা হয়ে যাবে। কিন্তু আমি সবসময় সতর্ক থাকবো যেন জারি থাকে এমন গুনাহ না হয়। অনুরূপভাবে কিছু গুনাহ আছে ছোট কিন্তু স্থানের কারণে সেটা বড় হয়ে যায়। যেমন হারাম শরিফ। কুদৃষ্টি দেওয়া গুনাহ। কিন্তু হারাম শরীফে বসে দেওয়া আরও বড় গুনাহ।
অনুরূপভাবে কিছু সময় আছে, যে সময়ে গুনাহ-কে বড় করে দেখা হয়। যেমন কোনো লোক যদি লাইলাতুল কদরে মাহরুম হয়ে যায় তাহলে নবীজী ﷺ বলেন যে, সব কল্যাণ থেকে মাহরুম হয়ে যায়। কারণ সে এত বড় সময়টাকে মূল্য দিতে পারেনি। রমযানে যে নিজেকে মাফ করাতে পারে না; জিবরাইল আ. বলেন, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে সরে গেল। কেন? কারণ এত বড় রমযান আসল, এত বড় অফার আসল অথচ সে এই অফারটা নিতে পারেনি!
সুতরাং বোঝা গেল, কিছু সময় আছে এমন যে, ওই সময়ে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়।
আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন যাদের সামনে গুনাহ করলে সেটা বড় করে দেখা হয়। যেমন নবীজী ﷺ এক ব্যক্তিকে বললেন, তুমি ডান হাতে খানা খাও। তার মাঝে অহংকার চেপে বসল। সে বলে বসল, আমি ডান হাতে খেতে পারি না। নবীজী ﷺ বললেন, তুমি ডান হাতে খেতেও পারবে না। পরবর্তীতে তার হাত অবশ হয়ে গিয়েছিল।
আবার কিছু ব্যক্তি আছে এমন, গুনাহ-টা হয়তো ছোট কিন্তু ওই ব্যক্তির জন্য গুনাহ-টা বড়। যেমন ইমাম সাহেব যদি ইস্তেঞ্জার পরে শুধু পানি নেন মুসল্লিদের সামনে। যদিও পানি ও ঢিলার যে কোনো একটা নিলেই হয়ে যায়। কিন্তু মুসল্লিরা বলে বসবে, হায়রে! আমরা কোন ইমামের পিছনে নামায পড়ি, ঢিলা কুলুখ কিছু নেয় না, পানিও খরচ করে না!
আমি বলবো না যে, লোকটার কোনো দোষ নেই। বরং আমি এ কথা বলব যে, ওই লোকের চেয়ে ইমাম সাহেবের দোষ বেশি। কারণ নবীজী ﷺ বলেন
اتَّقُوا مَوَاضِعَ الشُّهَمَةِ
তোমার ওপর অপবাদ আসতে পারে এমন কথা থেকে, কাজ থেকে, জায়গা থেকে বেঁচে থাক। ২২
টিকাঃ
২২ ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন : খণ্ড ০৩ পৃ. ২৩