📄 ছোট্ট গুনাহ্ জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে
একটা জিনিস চিন্তা করে দেখুন, হাদীসে এসেছে- এক ব্যক্তি একটা বিড়ালকে বেঁধে রেখে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামী হয়ে গিয়েছে। একজন মুজাহিদ শুধু একটা রশি চুরি করার কারণে জাহান্নামী হয়ে গিয়েছে। আরও এসেছে, একজন লোক আমল করতে করতে জান্নাতের পাড়ে চলে আসে, তারপর সে হঠাৎ এমন একটা কথা বলে বসে যার কারণে সে জাহান্নামের পাড়ে চলে যায়।
তাহলে বলুন, কোনো গুনাহ-কে ছোট করে দেখার সুযোগ আছে?
📄 একজন মুমিন সগিরাকেও কবিরা গুনাহ মনে করে
মূলত একজন মুমিন বান্দা সগিরাকেও কবিরা মনে করে। হাদীসে এসেছে ঈমানদার ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে এত বিরাট মনে করে, যেন সে একটা পর্বতের নিচে উপবিষ্ট আছে, আর সে আশঙ্কা করছে যে, সম্ভবত পর্বতটা তার ওপর ধ্বসে পড়বে। আর পাপিষ্ঠ ব্যক্তি তার গুনাহগুলোকে মাছির মত মনে করে, যা তার নাকে বসে চলে যায়। ১৮
এ জন্যই হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. বলতেন, তোমরা সগিরা আর কবিরা গুনাহের মধ্যে পার্থক্য কর। অথচ তোমরা কি দেখ না, একটা ছোট আগুনের কয়লাও বড় একটা তুলার গুদামকে জ্বালিয়ে দিতে পারে, যেভাবে দাউ দাউ করা আগুন জ্বালিয়ে দিতে পারে!
لا تَحْقِرَنَّ صَغِيْرَةً إِنَّ الْجِبَالَ مِنَ الْحَصَى
গুনাহ-কে ছোট মনে করো না। বড় পাহাড় ছোট ছোট পাথর দিয়েই তৈরি হয়।
টিকাঃ
১৮ বুখারী : ৬৩০৮
📄 সালাফদের মাঝে প্রচলিত প্রবাদ
আমরা যেমন আমাদের প্রবাদও তেমন। আমরা নাচি, তাই আমাদের প্রবাদও হল, নাচতে না জানলে উঠান বাঁকা। সালাফগণ যেমন ছিলেন, তাঁদের প্রবাদগুলোও তেমন ছিল। তাঁদের মাঝে প্রবাদ ছিল
لا تنظر إلى صغر الذنب وانظر إلى عِظَم مَنْ خالفت
তুমি এটা দেখো না যে, সগিরা গুনাহ করছ; বরং তুমি এটা দেখো যে, তুমি কার নাফরমানি করছ! ১৯
সুতরাং গুনাহের সঙ্গে আমাদের দ্বিতীয় আচরণ হল, গুনাহ-কে ছোট বা তুচ্ছ মনে না করা।
টিকাঃ
১৯ হিলয়াতুল আওলিয়া : ৫/২২৩
📄 তিন. গুনাহ প্রকাশ না করা এবং প্রকাশ্যে না করা
আমাদের গুনাহগুলো দুই ধরণের। প্রকাশ্য গুনাহ এবং গোপন গুনাহ। এ গুনাহগুলো করায় ইবলিশ এবং নফস। এ দুই শত্রু থেকে বাঁচানোর জন্য আমাদের একমাত্র সাহায্যকারী হলেন আল্লাহ। এখন আপনি যদি উল্টো আল্লাহর অহংকারে আঘাত করে বসেন তাহলে আল্লাহ আপনাকে সাহায্য না করে শত্রুর হাতে ছেড়ে দিবেন ।
এ কারণে নবীজী ﷺ বলেন
كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ
আমার সব উম্মত মাফ পাবে কিন্তু যে প্রকাশ্যে গুনাহ করেছে সে ছাড়া। ২০
টিকাঃ
২০ বুখারী : ৬০৬৯