📄 ইস্তেগফারের ফায়দা
যাই হোক, গুনাহের সঙ্গে আমাদের প্রথম আচরণ হবে তাওবা করা। আর তাওবা সহজ করার জন্য অধিকহারে ইস্তেগফার করতে হবে। যার জিন্দেগীতে ইস্তেগফার নেই তার তাওবা নসীব হয় না।
ইস্তেগফারের ফায়দা এত বেশি যে, বলে শেষ করা যাবে না। যুবকেরা অনেক সময় বেকারত্বের টেনশনে থাকে, বিভিন্ন ধরনের পেরেশানিতে থাকে ইস্তেগফার করলে আল্লাহ এগুলোও দূর করে দেন। হাদীসে এসেছে, আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাযি. থেকে বর্ণিত নবীজী ﷺ বলেন
مَنْ لَزِمَ الِاسْتِغْفَارَ جَعَلَ اللهُ لَهُ مِنْ كُلِّ ضِيقٍ مَخْرَجًا ، وَمِنْ كُلِّ هَم فَرَجًا ، وَرَزَقَهُ مِنْ حَيْثُ لَا يَحْتَسِبُ
যে ব্যক্তি সর্বদা ইস্তেগফার করবে, আল্লাহ তাআলা তাকে প্রতিটি চিন্তা হতে মুক্ত করে দিবেন, প্রতিটি সংকীর্ণতা হতে তার বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করে দিবেন এবং তাকে বেহিসাব রিজিক দান করবেন। ১৬
টিকাঃ
১৬ আবু দাউদ : ১৫১৮
📄 দুই. গুনাহকে ছোট করে না দেখা
গুনাহের সঙ্গে আমাদের দ্বিতীয় যে আচরণ দেখাতে হবে তা হল, যদি কোনো গুনাহ হয়ে যায় তখন এটাকে বিশাল দুর্ঘটনা মনে করবো। আপনি যত বেশি এ মানসিকতা লালন করতে পারবেন গুনাহ-টা তত হালকা হয়ে যাবে।
📄 শত্রুকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই
গুনাহ হল আমাদের শত্রু। শত্রুর ক্ষেত্রে যুদ্ধের কৌশল হল শত্রুকে কখনও ছোট করে দেখতে নেই। শত্রুকে হালকা করে দেখলে সে শক্তি সঞ্চয় করে পুনরায় আক্রমণ করার সুযোগ পেয়ে যায়। আর শত্রুকে বড় করে দেখলে সে এ সুযোগটা পায় না। কারণ আপনি তখন সম্পূর্ন সতর্ক।
একটা ছোট সাপের বাচ্চা, আদর করে মারলেন না। কিন্তু যদি সে কামড় দেয় তাহলে?
এ জন্যই গুনাহের ক্ষেত্রে আমাদের আচরণ হবে এমন যে, কোনো গুনাহকেই আমরা ছোট মনে করবো না। হালকা করে দেখবো না।
হাদীসে এসেছে নবীজী ﷺ বলেন
إياكم ومُحَقَّرات الذنوب
তুমি ওই সকল গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো যেগুলোকে ছোট বলে ধারণা করা হবে। ১৭
টিকাঃ
১৭ সহিহ আলজামি : ২৬৮৬
📄 ছোট্ট গুনাহ্ জাহান্নামে যাওয়ার কারণ হতে পারে
একটা জিনিস চিন্তা করে দেখুন, হাদীসে এসেছে- এক ব্যক্তি একটা বিড়ালকে বেঁধে রেখে মেরে ফেলার কারণে জাহান্নামী হয়ে গিয়েছে। একজন মুজাহিদ শুধু একটা রশি চুরি করার কারণে জাহান্নামী হয়ে গিয়েছে। আরও এসেছে, একজন লোক আমল করতে করতে জান্নাতের পাড়ে চলে আসে, তারপর সে হঠাৎ এমন একটা কথা বলে বসে যার কারণে সে জাহান্নামের পাড়ে চলে যায়।
তাহলে বলুন, কোনো গুনাহ-কে ছোট করে দেখার সুযোগ আছে?