📄 ইস্তেগফারের স্তূপ গড়ে তুলুন
যে ফেরির ভিতরে বিভিন্ন গাড়িসহ কয়েক টন মাল আছে। কিন্তু দড়িটা যদি আলাদা আলাদা হত, এত শক্তিশালী হত? হত না। যখন আপনি একটা গুনাহ করেন, তাওবাটা করে ফেলেন। দেখবেন ওই রশিটা ছিঁড়ে গেছে। এটার সঙ্গে আরেকটা জোড়া লাগতে পারেনি। নবীজী ﷺ এটাই বলেন
إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ
যখন কোনো মুমিন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে, তারপর যখন সে তাওবা করে গুনাহ-টি অপসারণ করে এবং ইস্তিগফার করে তখন তার অন্তর চকচকে পরিষ্কার হয়ে যায়। ১৪
ইস্তেগফার আপনার জিন্দেগীতে এত বেশি করুন, এত বেশি পড়ুন যেন ইস্তেগফারের স্তূপ লেগে যায়।
বলতে পারেন, কী পরিমাণ পড়ব?
আমি বলব, আপনার জিন্দেগীতে যতটা সেকেন্ড ততটা সেকেন্ড আপনি ইস্তেগফার পড়েন।
আপনি বলতে পারেন, কেন?
আমি বলব, আমাদের জিন্দেগীর প্রতিটা সেকেন্ড গুনাহের ভিতর অতিবাহিত হয়।
বলতে পারেন, না হুজুর! আমরা তো ইবাদতও করি।
আমি বলব, ইবাদতের ভিতরে যখন রিয়া আসে তখন প্রতিটা সেকেন্ড গুনাহ হিসেবে কাউন্ট হয়ে যায়। আমরা ফেসবুক দেখতে দেখতে, ইউটিউব দেখতে দেখতে ঘুমাই। ফলে আমাদের ঘুমও গুনাহের ভিতরে চলে যায়। তাই আমি বলব, যেহেতু আমাদের প্রতিটা সেকেন্ড গুনাহের ভিতর কাটে, তাই প্রতিটা মুহূর্তে আমার যেন একটা ইস্তেগফার থাকে।
সুতরাং ইস্তেগফার কত বার করবেন- এই প্রশ্ন নেই। যতবার গুনাহ হয়েছে ততবার করবেন। ইস্তেগফার যত পড়বেন গুনাহ তত হালকা হতে থাকবে।
টিকাঃ
১৪ মুসনাদে আহমাদ : ৭৯৫২
📄 আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করতে পারেন
চোখের পানি আনা লাগবে না; বরং গুনাহের কথা মনে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে টপ করে চোখের পানিও পড়ে যাবে। আর আল্লাহ সঙ্গে সঙ্গে এক ফোঁটা চোখের পানি দিয়ে সব গুনাহ ধুয়ে মুছে দিবেন। কেননা চোখের পানিতে রয়েছে এ্যটমিক পাওয়ার। চোখের পানি কেবল এক দু'টি নয়; বরং مُحُورًا مِنْ نَارِ جَهَنَّمَ জাহান্নামের আগুনের বহু সমুদ্রকে নিভিয়ে দিতে পারে। ১৫
আপনি হয়তো মনে করতে পারেন আমার গুনাহ বেশি আল্লাহ মাফ করবেন কিনা?
আমি আপনাকে বলব, আপনি কুরআন হাদীসের একটা জায়গা দেখান যেখানে আছে আল্লাহ বেশি গুনাহ মাফ করতে পারেন না, কম হলে পারেন! বড় গুনাহ মাফ করা আল্লাহর জন্য কঠিন আর ছোট গুনাহ মাফ করা সহজ! বিষয়টা কি এমন? এমন নয়।
বিষয় হল, আমি আল্লাহর কাছে তাওবা করেছি কিনা। যদি আমি তাওবা করি তাহলে বড়-ছোট কোনো বিষয় নয়, বেশি-কম কোনো বিষয় নয়, আল্লাহ সব গুনাহ মাফ করে দিবেন ।
টিকাঃ
১৫ কিতাবুযযুহদ : ০৪
📄 মুনাজাতে কান্নাকাটি আসে না কেন?
অনেকে অভিযোগ করেন যে, মুনাজাতে কান্নাকাটি আসে না।
আব্দুল্লাহ ইবন মুবারক রহ.-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, মুনাজাতে কান্নাকাটি আসে না কেন?
তিনি উত্তরে বলেন من كثر ذنبه قل بكاءه যার গুনাহ বেশি তার কান্নাকাটি আসে কম।
সুতরাং তুমি ইস্তেগফার দিয়ে গুনাহ হালকা করে দাও, আল্লাহ তাআলা কান্নাকাটির দৌলত এমনিতেই নসিব করে দিবেন।
📄 আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি দানের ফজিলত
আল্লাহর ভয়ে চোখের পানি তো এমন দৌলত যে, এক ফোটা দিবেন জাহান্নামের আগুন মাফ, গাল পর্যন্ত আসবে কেয়ামতের ময়দানে শাস্তি মাফ হয়ে যাবে। দাড়ি ভিজবে আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের ময়দানে বেইজ্জত করবেন না। জমিন ভিজবে ওই চেহারা কেয়ামতের ময়দানে ক্লান্ত-শ্রান্ত হবে না। অনিচ্ছায় হেঁচকি দিয়ে কান্না চলে এসেছে তাহলে এর উসিলায় মজলিসের সবাইকে আল্লাহ মাফ করে দিবেন।
এই যে আমি চোখের পানি সম্পর্কে কথাগুলো বলেছি সব কথা হাদীস থেকেই।