📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 তাওবার সংক্ষিপ্ত ফজিলত

📄 তাওবার সংক্ষিপ্ত ফজিলত


নবীজী ﷺ বলেছেন
كل ابن آدم خطاء ، وخير الخطائينَ التَّوَّابُونَ
সকল আদম সন্তান ভুলকারী। আর ভুলকারীদের মধ্যে সেরা তারাই, যারা তাওবাকারী। ১১
বোঝা গেল, অনিচ্ছাকৃতভাবে গুনাহ হওয়াটা ভুল তবে বড় ভুল নয়। বড় ভুল হল তাওবা না করা।

টিকাঃ
১১ তিরমিযী : ২৪৯৯

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 তাওবার তাওফীক কার হয় না

📄 তাওবার তাওফীক কার হয় না


অপর হাদীসে নবীজী ﷺ বলেছেন
للَّهُ أَشَدُّ فَرَحًا بِتَوْبَةِ عَبْدِهِ
বান্দা তাওবা করলে আল্লাহ সবচেয়ে বেশি খুশি হন। ১২
যার জিন্দেগীতে ইস্তেগফার নেই, তাওবার তাওফীক তার হয় না। যার জিন্দেগীতে ইস্তেগফার বেশি আছে আল্লাহ তাকে তাওবার তাওফীক দিয়ে দেন।
সাহাবায়ে কেরাম রাযি. বলতেন এবং এটা হাদীসও যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন
مَا أَصَرَّ مَنِ اسْتَغْفَرَ وَإِنْ عَادَ فِي الْيَوْمِ سَبْعِينَ مَرَّةً
যে ব্যক্তি দিনে সত্তরবার একই গুনাহ করার পরও আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে ইস্তেগফার করবে, সে যেন প্রকৃতপক্ষে গুনাহ বার বার করেনি। ১৩
অর্থাৎ সে ব্যক্তি বেশি ইস্তেগফার করার কারণে শেষ পর্যন্ত ওই গুনাহের ওপর অটল থাকতে পারে না; বরং সে তাওবা করে নেয়।

টিকাঃ
১২ মুসলিম : ২৭৪৭
১৩ তিরমিযী : ৩৫৫৯

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 তাওবার একটি দৃষ্টান্ত

📄 তাওবার একটি দৃষ্টান্ত


একবার আমরা কয়েকজন ফেরি দিয়ে আসছিলাম, সম্ভবত মাদারীপুর থেকে। রাত ২-৩ টা হবে। দেখলাম ফেরিটাকে বেঁধে রাখা হয়েছে বিশাল মোটা দড়ি দ্বারা। একটার সঙ্গে একটা পেঁচানোর পরে দড়িটা এ রকম মোটা হয়েছে। এখন সে এত শক্তিশালী যে, একটা বিশাল ফেরিকে ধরে রেখেছে।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 ইস্তেগফারের স্তূপ গড়ে তুলুন

📄 ইস্তেগফারের স্তূপ গড়ে তুলুন


যে ফেরির ভিতরে বিভিন্ন গাড়িসহ কয়েক টন মাল আছে। কিন্তু দড়িটা যদি আলাদা আলাদা হত, এত শক্তিশালী হত? হত না। যখন আপনি একটা গুনাহ করেন, তাওবাটা করে ফেলেন। দেখবেন ওই রশিটা ছিঁড়ে গেছে। এটার সঙ্গে আরেকটা জোড়া লাগতে পারেনি। নবীজী ﷺ এটাই বলেন
إِنَّ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ فَإِنْ تَابَ وَنَزَعَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ
যখন কোনো মুমিন একটি গুনাহ করে তখন তার অন্তরে একটি কালো দাগ পড়ে, তারপর যখন সে তাওবা করে গুনাহ-টি অপসারণ করে এবং ইস্তিগফার করে তখন তার অন্তর চকচকে পরিষ্কার হয়ে যায়। ১৪
ইস্তেগফার আপনার জিন্দেগীতে এত বেশি করুন, এত বেশি পড়ুন যেন ইস্তেগফারের স্তূপ লেগে যায়।
বলতে পারেন, কী পরিমাণ পড়ব?
আমি বলব, আপনার জিন্দেগীতে যতটা সেকেন্ড ততটা সেকেন্ড আপনি ইস্তেগফার পড়েন।
আপনি বলতে পারেন, কেন?
আমি বলব, আমাদের জিন্দেগীর প্রতিটা সেকেন্ড গুনাহের ভিতর অতিবাহিত হয়।
বলতে পারেন, না হুজুর! আমরা তো ইবাদতও করি।
আমি বলব, ইবাদতের ভিতরে যখন রিয়া আসে তখন প্রতিটা সেকেন্ড গুনাহ হিসেবে কাউন্ট হয়ে যায়। আমরা ফেসবুক দেখতে দেখতে, ইউটিউব দেখতে দেখতে ঘুমাই। ফলে আমাদের ঘুমও গুনাহের ভিতরে চলে যায়। তাই আমি বলব, যেহেতু আমাদের প্রতিটা সেকেন্ড গুনাহের ভিতর কাটে, তাই প্রতিটা মুহূর্তে আমার যেন একটা ইস্তেগফার থাকে।
সুতরাং ইস্তেগফার কত বার করবেন- এই প্রশ্ন নেই। যতবার গুনাহ হয়েছে ততবার করবেন। ইস্তেগফার যত পড়বেন গুনাহ তত হালকা হতে থাকবে।

টিকাঃ
১৪ মুসনাদে আহমাদ : ৭৯৫২

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00