📄 গুনাহের চিন্তা আসার পরেও গুনাহ না করার ফজিলত
এখন প্রশ্ন হল, এরপরেও যদি গুনাহ হয়ে যায় তাহলে আমরা কী করবো? গুনাহের সঙ্গে আমাদের আদব বা আচরণবিধি কেমন হবে?
এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা হল, গুনাহ হওয়ার দুটো স্তর। একটা হল মনে গুনাহের চিন্তা আসা।
যেমন আমি চিন্তা করলাম, এ কয়দিনে তো বহু সিরিয়াল মিস হয়ে গিয়েছে, ই'তিকাফ শেষ হওয়ার পরে সিরিয়াল দেখতে হবে। ই'তিকাফে ছিলাম গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে তো কথা বলতে পারিনি। ই'তিকাফ শেষে কথা বলতে হবে।
গুনাহ-টা যদি এভাবে মনে মনে থাকে তাহলে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাফ। আল্লাহ ফেরেশতাকেও মনের এ খবর জানতে দিবেন না; বরং যদি গুনাহ-টা মনে আসার পরেও না করেন তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরশতাকে হুকুম করবেন যে, আমার এ বান্দার মনে গুনাহের চিন্তা এসেছিল কিন্তু করেনি, সুতরাং তার আমলনামায় নেকী লেখো। নবীজী ﷺ বলেন
ومَن هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْها، كَتَبَها اللهُ له عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً
যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের ইচ্ছা করে আর তা না করে, তাহলে আল্লাহ তার জন্য পরিপূর্ণ নেকি লিখে দেন। ৯
তাহলে এটা হল একটা পর্যায় যে, ইচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।
টিকাঃ
৯ বুখারী : ৬৪৯১
📄 মুয়াবিয়া রাযি.-এর ঘটনা
আরেকটা পর্যায় হল, গুনাহ-টা মন থেকে বাইরে বের হয়ে আসা অর্থাৎ গুনাহ পরিপূর্ণভাবে অস্তিত্বে চলে আসা। তখন গুনাহের সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করতে হয় যেন গুনাহ-টা দ্বিতীয়বার অস্তিত্বে আসার সুযোগ না পায়।
মুয়াবিয়া রাযি.-এর একদিন তাহাজ্জুদ ছুটে গিয়েছিল। তাই পরের দিন আল্লাহ্র কাছে এমন কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন যে, তাহাজ্জুদ পড়লে যে ফজিলত পেতেন, আল্লাহ তাঁর চেয়ে অনেক বেশি ফজিলত দিয়ে দিলেন।
পরের দিন তাহাজ্জুদের সময় ইবলিশ এসে তাঁকে ঘুম থেকে জাগাচ্ছিল। তিনি ইবলিশের হাত ধরে ফেললেন। জিজ্ঞেস করলেন, কে তুমি? সে বলল, আমি ইবলিশ। একদিন আপনাকে তাহাজ্জুদে ধোঁকা দিয়ে মিস করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি এমন কান্নাকাটি করলেন আল্লাহ আপনাকে তাহাজ্জুদের চেয়ে অনেক বেশি সওয়াব দিয়ে দিয়েছেন। তাই ভেবে দেখলাম, লস প্রজেক্টে হাত দিয়েছি। ভাবলাম আপনি তাহাজ্জুদ পড়েন এটাই বরং ভাল।
এটা ছিল সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে। আর আমাদের অবস্থা তো হল, ইবলিশ যখনই আসে সিট খালি পায়!
📄 ইবলিশকে মানসিকভাবে কষ্ট দিন
একটা চুটকি বলি। আমাদের এলাকায় একটা কুকুর প্রতিদিন মসজিদের সামনে এসে ময়লা করত। একদিন আমার এক উস্তাদ সম্পর্কে আমার ফুফাও হন। মাওলানা সাইদুল হক রহ.। আল্লাহওয়ালা ছিলেন। কুকুরটাকে বেঁধে ভালো করে পিটালেন। এরপর থেকে ফুফাকে ১০০ গজ দূর থেকে দেখলেও সে ভয়ে দৌড়ে পালাত।
এবার চিন্তা করে দেখুন, ওমর রাযি. ইবলিশকে কী পরিমাণ মানসিক শাস্তি দিলে ওমর রাযি. এক পথ ধরলে ইবলিশ অন্য পথ ধরত। তাই আমাদের কাজ হল ইবলিশকে মানসিক নির্যাতন করা।
হাসান বসরি রহ.-কে জিজ্ঞাসা করা হল, ইবলিশকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী আমল কোনটা? তিনি বললেন, ইবলিশকে কষ্ট দেওয়ার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী আমল হল তাওবা।
📄 আদাবুযযুনুব তথা গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি ০৬টি
সুতরাং গুনাহের ব্যাপারে আমাদের প্রথম আচরণ হবে তাওবা। এভাবে গুনাহের সঙ্গে আমরা সর্বমোট ৬টি আচরণ দেখাবো। এগুলোকে বলা হয়, আদাবুযযুনুব। এ আচরণগুলো করলে ইবলিশ মানসিকভাবে প্রচণ্ড কষ্ট পাবে। সে কিছুটা হলেও ভয় পাবে। সে তখন দেখবে যে, লাভ কম। তখন সে ওখানেই যাবে যেখানে তার লাভ বেশি হবে। আমাদের কাছে আসা সে কমিয়ে দিবে।