📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 সর্বোত্তম আমল

📄 সর্বোত্তম আমল


নবীজী ﷺ বলেন
اتَّقِ المَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ
গুনাহ থেকে বেঁচে থাকো আল্লাহর সবচেয়ে বড় ওলি হতে পারবে। ৬
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযি.-কে যখন জিজ্ঞেস করা হল যে, এক ব্যক্তির ইবাদত কম, গুনাহ কম। আরেক ব্যক্তির ইবাদতও বেশি গুনাহও বেশি। এই দুই ব্যক্তির মাঝে উত্তম কে? তিনি উত্তর দিলেন
لَا أُعْدِلُ بِالسَّلَامَةِ شَيْئًا
গুনাহ থেকে নিরাপদ থাকার মত সমকক্ষ আমল আমি কোনোটিকে মনে করি না। ৭

টিকাঃ
৬ তিরমিযী : ২৩০৫
৭ আদাবুদ-দুনইয়া ওয়াদদীন : ১/৯৮

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 এরপরও গুনাহ হয়ে যেতে পারে

📄 এরপরও গুনাহ হয়ে যেতে পারে


এরপরেও আমাদের গুনাহ হয়ে যেতে পারে। হাদীসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন
لو لَمْ تُذْنِبُوا لَذَهَبَ اللهُ بِكُمْ، وَلَجَاءَ بِقَوْمٍ يُذْنِبُونَ، فَيَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ فَيَغْفِرُ لَهُمْ
যদি তোমরা গুনাহ না কর তবে আমি তোমাদের ধ্বংস করে দিয়ে আরেকটা জাতি তৈরি করবো যারা গুনাহ করবে তারপর তারা আল্লাহর কাছে ইস্তেগফার করবে এবং তিনি তাদের মাফ করে দিবেন। ৮
এর অর্থ কি গুনাহ করবো? না, এর অর্থ এটা নয়; বরং এর অর্থ হল গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার শতভাগ চেষ্টা করলেও গুনাহ হয়ে যাবে। কারণ আমরা আছি দুনিয়াতে। আপনি যদি এসি রুমে থাকেন তবুও কাপড় ময়লা হয়। বাইরে থাকলে বেশি হয়। যদি আপনি গুনাহ থেকে বেঁচে থাকেন এর অর্থ হল, আপনি এসি রুমে আছেন। ময়লা কম হবে কিন্তু হবে। আমাদের মূল কাজ হল, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা।

টিকাঃ
৮ মুসলিম : ২৭৪৯

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 গুনাহের চিন্তা আসার পরেও গুনাহ না করার ফজিলত

📄 গুনাহের চিন্তা আসার পরেও গুনাহ না করার ফজিলত


এখন প্রশ্ন হল, এরপরেও যদি গুনাহ হয়ে যায় তাহলে আমরা কী করবো? গুনাহের সঙ্গে আমাদের আদব বা আচরণবিধি কেমন হবে?
এ প্রসঙ্গে প্রথম কথা হল, গুনাহ হওয়ার দুটো স্তর। একটা হল মনে গুনাহের চিন্তা আসা।
যেমন আমি চিন্তা করলাম, এ কয়দিনে তো বহু সিরিয়াল মিস হয়ে গিয়েছে, ই'তিকাফ শেষ হওয়ার পরে সিরিয়াল দেখতে হবে। ই'তিকাফে ছিলাম গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে তো কথা বলতে পারিনি। ই'তিকাফ শেষে কথা বলতে হবে।
গুনাহ-টা যদি এভাবে মনে মনে থাকে তাহলে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মাফ। আল্লাহ ফেরেশতাকেও মনের এ খবর জানতে দিবেন না; বরং যদি গুনাহ-টা মনে আসার পরেও না করেন তবে আল্লাহ তাআলা তাঁর ফেরশতাকে হুকুম করবেন যে, আমার এ বান্দার মনে গুনাহের চিন্তা এসেছিল কিন্তু করেনি, সুতরাং তার আমলনামায় নেকী লেখো। নবীজী ﷺ বলেন
ومَن هَمَّ بِسَيِّئَةٍ فَلَمْ يَعْمَلْها، كَتَبَها اللهُ له عِنْدَهُ حَسَنَةً كَامِلَةً
যে ব্যক্তি কোনো গুনাহের ইচ্ছা করে আর তা না করে, তাহলে আল্লাহ তার জন্য পরিপূর্ণ নেকি লিখে দেন। ৯
তাহলে এটা হল একটা পর্যায় যে, ইচ্ছার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা।

টিকাঃ
৯ বুখারী : ৬৪৯১

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 মুয়াবিয়া রাযি.-এর ঘটনা

📄 মুয়াবিয়া রাযি.-এর ঘটনা


আরেকটা পর্যায় হল, গুনাহ-টা মন থেকে বাইরে বের হয়ে আসা অর্থাৎ গুনাহ পরিপূর্ণভাবে অস্তিত্বে চলে আসা। তখন গুনাহের সঙ্গে এমন কিছু আচরণ করতে হয় যেন গুনাহ-টা দ্বিতীয়বার অস্তিত্বে আসার সুযোগ না পায়।
মুয়াবিয়া রাযি.-এর একদিন তাহাজ্জুদ ছুটে গিয়েছিল। তাই পরের দিন আল্লাহ্র কাছে এমন কান্নাকাটি শুরু করে দিলেন যে, তাহাজ্জুদ পড়লে যে ফজিলত পেতেন, আল্লাহ তাঁর চেয়ে অনেক বেশি ফজিলত দিয়ে দিলেন।
পরের দিন তাহাজ্জুদের সময় ইবলিশ এসে তাঁকে ঘুম থেকে জাগাচ্ছিল। তিনি ইবলিশের হাত ধরে ফেললেন। জিজ্ঞেস করলেন, কে তুমি? সে বলল, আমি ইবলিশ। একদিন আপনাকে তাহাজ্জুদে ধোঁকা দিয়ে মিস করিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আপনি এমন কান্নাকাটি করলেন আল্লাহ আপনাকে তাহাজ্জুদের চেয়ে অনেক বেশি সওয়াব দিয়ে দিয়েছেন। তাই ভেবে দেখলাম, লস প্রজেক্টে হাত দিয়েছি। ভাবলাম আপনি তাহাজ্জুদ পড়েন এটাই বরং ভাল।
এটা ছিল সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে। আর আমাদের অবস্থা তো হল, ইবলিশ যখনই আসে সিট খালি পায়!

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00