📄 এক মদখোরের ঘটনা
এ জন্য বড়াই করতে নেই, অহংকার করতে নেই। বরং সবসময় এ কথা মনে ধরে রাখতে হয় যে, আমার চেয়ে বদ আমলওয়ালা আর কেউ নেই। সহিহ বুখারীর হাদীসে এসেছে, এক লোক মদপান করেছিল, একবার, দুইবার, তিনবার। নবীজী ﷺ প্রত্যেকবার এনে তাকে শাস্তি দিলেন। তৃতীয়বার যখন ঘটল তখন এক সাহাবী তাকে লা'নত করে বসলেন। নবীজী ﷺ তখন ওই সাহাবীকে সতর্ক করে বললেন
لا تَلْعَنُوهُ، فَوَاللَّهِ ما عَلِمْتُ إِنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
খবরদার! তোমরা একে লা'নত দিও না। কারণ সে আল্লাহ এবং তার রাসূলকে ভালোবাসে। ৩
এ হাদীস থেকেও বোঝা যায়, যতবড় গুনাহগার হোক তাকে ঘৃণা করার কিচ্ছু নেই। যতক্ষণ তার মাঝে কুফুরী পাওয়া যাবে না। কারণ হতে পারে লোকটা আমার চেয়ে বড় তাওবাকারী হয়ে যাবে। আর এও হতে পারে যে, লোকটার এমন কোনো আমল তার অন্তরে আছে যে আমলটা আল্লাহ তাআলা খুব পছন্দ করেন।
টিকাঃ
৩ বুখারী : ২৬২৩
📄 আবু জর গিফারি রাযি.-এর ঘটনা
সাহাবী আবু জর গিফারি রাযি. চাদর মুড়ি দিয়ে মসজিদের কর্নারে বসা। জিবরাইল আ. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বললেন, মসজিদের কর্নারে চাদর মুড়ি দিয়ে যে লোকটা বসে আছেন এ লোকটাকে আপনারা যতটা চিনেন আমরা আকাশের ফেরেশতারা আরও বেশি চিনি। কারণ তাঁর কথা আমাদের মাঝে আলোচনা হয়। নবীজী ﷺ বললেন, কেন? জিবরাইল আ. বললেন, তাঁর মাঝে দুটি বৈশিষ্ট্য আছে।
এক. তিনি নিজেকে সবচেয়ে ছোট মনে করেন।
দুই. তিনি বেশি বেশি قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحد পড়েন । ৪
হাদীসের মাঝে এসেছে, যে ব্যক্তি দশবার قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ পড়বে আল্লাহ জান্নাতে তাঁর জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে দিবেন । ৫
সুতরাং নিজেকে ছোট মনে করা এ কথার আলামত যে, আল্লাহ আমাকে দয়া করতে চাচ্ছেন। আর আমিও রেডি আছি দয়া নেওয়ার জন্য।
টিকাঃ
৪ তাফসীরে কাবীর : ৩০/১৬০
৫ মাজমাউয যাওয়াইয়িদ : ৭/১৪৫
📄 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি কেমন হওয়া চাই
নিজের গুনাহের দিকে তাকিয়ে নিজেকে ছোট মনে করার এই মানসিকতা আপনাকে বহু গুনাহ থেকে রক্ষা করবে। হ্যাঁ, এর পরেও মাঝে মধ্যে গুনাহ হয়ে যাবে। মাঝে মধ্যে অহংকার চলে আসবে, গীবত হয়ে যাবে, হিংসা হয়ে যাবে। হয়তো কিছু হারামও ঢুকে যেতে পারে। কিংবা হঠাৎ মোবাইলে, ফেসবুকে একটা গুনাহ হয়ে যেতে পারে। তখন আপনি কী করবেন? গুনাহ-টার সঙ্গে তখন আপনার আচরণ কেমন হবে?
📄 প্রথমত চেষ্টা করতে হবে যেন গুনাহ না হয়
প্রথমত চেষ্টা করতে হবে যেন গুনাহ না হয়। তাওবা করলে গুনাহ মাফ হয় এ কথা নিশ্চিত। কিন্তু গুনাহের একটা তাসির আছে। আর তা হলো, গুনাহ গুনাহ-কে টানে। তাওবা করলে গুনাহ মাফ হয়ে গেলেও এর তাসির থাকে। তাই সতর্কতা হল, সেফ জোনে (Safe Zone) থাকা। আর এটাই হল মূল। এটার চেয়ে বড় আমল আরেকটি নেই।