📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 ইবলিশের আচরণ যেন চলে না আসে

📄 ইবলিশের আচরণ যেন চলে না আসে


আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, কিন্তু যদি ইবলিশের স্বভাব আমাদের মাঝে চলে আসে অর্থাৎ যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আমি তো এ নেক কাজটা করি, অমুক তো মদখোর, অমুক তো এ কাজটা করে না, অমুক তো এত বড় গুনাহগার তাহলে শুনুন, খুব ভাল করে শুনুন, 'আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, আল্লাহ সকল বেঈমানী থেকে আমাদের সকলকে হেফাজত করুন, সকল নেফাকী থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন' কিন্তু আমি আর আপনি ঈমান নিয়ে মারা যাবো, এর নিশ্চয়তাটা কোথায় আছে? কে এই নিশ্চয়তা দিতে পারবে যে, সে ঈমান নিয়ে মারা যাবে?
এ নিশ্চয়তা আমরা কেউই দিতে পারব না। আল্লাহর একান্ত রহমত ছাড়া ঈমান নিয়ে কেউ মরতে পারবে না।।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈমানের দৌলত নসীব করুন আমীন।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 আবুদ্দারদা রাযি.-এর মৃত্যুকালীন ঘটনা

📄 আবুদ্দারদা রাযি.-এর মৃত্যুকালীন ঘটনা


আরে আমরা কে! আমাদের মূল্যই বা কী! সাহাবায়ে কেরাম রাযি., যাদের ঈমান গঠন করেছেন স্বয়ং নবীজী ﷺ। সাহাবী হযরত আবুদ্দারদা রাযি.। যখন তাঁর মৃত্যু হচ্ছিল, তাঁর স্ত্রী উম্মুদ্দারদা রাযি. তাঁর পাশে বসে আফসোস করছিলেন আর কান্না করছিলেন। আবুদ্দারদা রাযি. তখন স্ত্রীকে বললেন, উম্মুদ্দারদা! এখানে বসে কান্নার দরকার নেই। আমি আমার হাবীব থেকে হাদীস শুনেছি, আল্লাহ তাআলার দুই হাত। এক হাতের মধ্যে আল্লাহ ঈমানদারদের রুহগুলো রেখেছেন। আরেক হাতের মধ্যে আল্লাহ বেঈমানদের রুহগুলো রেখেছেন। আমি আবুদ্দারদার তো জানা নেই, আমার রুহটা আল্লাহর কোন হাতের ভিতর আছে; বাম হাতের ভিতরে না ডান হাতের ভিতর? সুতরাং উম্মুদ্দারদা! তুমি জায়নামায নিয়ে বসে পড়, আল্লাহর কাছে দোয়া কর, আল্লাহ যেন আমাকে ঈমানের হালতে মওত দান করেন।
চিন্তা করে দেখুন, আবুদ্দারদা রাযি. ছিলেন حكيم هذه الامة এই উম্মতের হাকিম, শীর্ষ সাহাবীদের একজন ছিলেন। আলেম সাহাবী ছিলেন। আর তিনি একথা বলছেন!
উম্মুদ্দারদা রাযি. জায়নামায নিয়ে বসে গেলেন। আল্লাহর কাছে দোয়া শুরু করে দিলেন এ মহান সাহাবীর জন্য।
ও আল্লাহর বান্দা! সেখানে আমি আর আপনি কে? আমরা কেন দেখি না যে, আল্লাহ ইবলিশের এক হাজারের বছরের ইবাদতের ব্যাপারে এক সেকেন্ডে বলে দিয়েছেন, দরকার নেই! বালআম বাউরার তিনশ বছরের ইবাদতের ব্যাপারে এক সেকেন্ডে বলে দিয়েছেন, দরকার নেই!
অপর দিকে যে লোকটি একশ লোেক হত্যা করেছে আল্লাহ তাকে মাফ করে জান্নাতে ডেকে নিয়েছেন!
এর কারণ হল, আল্লাহ তাআলা আমলগুলো পরে দেখেন, আগে দেখেন দিলের অবস্থা। ইবাদত করে ভরপুর করে দিলাম কিন্তু দিল ইবলিশ মার্কা। কোনো ফায়দা নেই। দিল এমন যে, মনে করছি আমি সবচেয়ে ভাল, আর সবাই খারাপ। আমারটাই ঠিক, বাকি সব বেঠিক। আমি যে কাজ করি এটাই দীন, বাকি কোনোটাই দীন না। তাহলে কোনো লাভ নেই! কেননা, এটাতো ইবলিশের মানসিকতা। সে বলেছিল, আমিই শ্রেষ্ঠ انا خير منه আমি আদমের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।
যাই হোক, উম্মুদ্দারদা রাযি. আল্লাহর কাছে দোয়া শুরু করে দিলেন যে, ওগো আল্লাহ! আপনি আমার স্বামী আবুদ্দারদাকে ঈমানের হালতে মওত দান করেন।
কিছুক্ষণ পর আবুদ্দারদা রাযি.-এর ইন্তেকাল হল। আলহামদুলিল্লাহ ঈমানের সঙ্গে ইন্তেকাল হয়েছে। ঘোষক ঘোষণা দিল- উম্মুদ্দারদা! ওঠো, আর কান্নাকাটির দরকার নেই, কারণ তোমার স্বামী আবুদ্দারদার ঈমানের সঙ্গে মওত হয়েছে।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 এক মদখোরের ঘটনা

📄 এক মদখোরের ঘটনা


এ জন্য বড়াই করতে নেই, অহংকার করতে নেই। বরং সবসময় এ কথা মনে ধরে রাখতে হয় যে, আমার চেয়ে বদ আমলওয়ালা আর কেউ নেই। সহিহ বুখারীর হাদীসে এসেছে, এক লোক মদপান করেছিল, একবার, দুইবার, তিনবার। নবীজী ﷺ প্রত্যেকবার এনে তাকে শাস্তি দিলেন। তৃতীয়বার যখন ঘটল তখন এক সাহাবী তাকে লা'নত করে বসলেন। নবীজী ﷺ তখন ওই সাহাবীকে সতর্ক করে বললেন
لا تَلْعَنُوهُ، فَوَاللَّهِ ما عَلِمْتُ إِنَّهُ يُحِبُّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ
খবরদার! তোমরা একে লা'নত দিও না। কারণ সে আল্লাহ এবং তার রাসূলকে ভালোবাসে। ৩
এ হাদীস থেকেও বোঝা যায়, যতবড় গুনাহগার হোক তাকে ঘৃণা করার কিচ্ছু নেই। যতক্ষণ তার মাঝে কুফুরী পাওয়া যাবে না। কারণ হতে পারে লোকটা আমার চেয়ে বড় তাওবাকারী হয়ে যাবে। আর এও হতে পারে যে, লোকটার এমন কোনো আমল তার অন্তরে আছে যে আমলটা আল্লাহ তাআলা খুব পছন্দ করেন।

টিকাঃ
৩ বুখারী : ২৬২৩

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 আবু জর গিফারি রাযি.-এর ঘটনা

📄 আবু জর গিফারি রাযি.-এর ঘটনা


সাহাবী আবু জর গিফারি রাযি. চাদর মুড়ি দিয়ে মসজিদের কর্নারে বসা। জিবরাইল আ. রাসূলুল্লাহ ﷺ এর কাছে এসে বললেন, মসজিদের কর্নারে চাদর মুড়ি দিয়ে যে লোকটা বসে আছেন এ লোকটাকে আপনারা যতটা চিনেন আমরা আকাশের ফেরেশতারা আরও বেশি চিনি। কারণ তাঁর কথা আমাদের মাঝে আলোচনা হয়। নবীজী ﷺ বললেন, কেন? জিবরাইল আ. বললেন, তাঁর মাঝে দুটি বৈশিষ্ট্য আছে।
এক. তিনি নিজেকে সবচেয়ে ছোট মনে করেন।
দুই. তিনি বেশি বেশি قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحد পড়েন । ৪
হাদীসের মাঝে এসেছে, যে ব্যক্তি দশবার قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ পড়বে আল্লাহ জান্নাতে তাঁর জন্য একটি বাড়ি তৈরি করে দিবেন । ৫
সুতরাং নিজেকে ছোট মনে করা এ কথার আলামত যে, আল্লাহ আমাকে দয়া করতে চাচ্ছেন। আর আমিও রেডি আছি দয়া নেওয়ার জন্য।

টিকাঃ
৪ তাফসীরে কাবীর : ৩০/১৬০
৫ মাজমাউয যাওয়াইয়িদ : ৭/১৪৫

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00