📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 নাক ডাস্টবিনে কিন্তু পাছা আসমানে

📄 নাক ডাস্টবিনে কিন্তু পাছা আসমানে


أنف في الماء إست في السماء
এটি একটি আরবী প্রবাদ। মানে নাক হল পানিতে- ডাস্টবিনে কিন্তু পাছা হল আসমানে।
ঘটনা হল এই, এক ব্যক্তি টয়লেটের ভিতর পড়ে গিয়েছে। আগের যুগের টয়লেট, সেনেটারি না। ওই যে গাছ-টাছ দিয়ে যেগুলো বানানো হত।
আরেকজন তাকে তুলতে গিয়েছে। যে বেচারা তুলতে গিয়েছে তার নাকে সর্দি। তাই টয়লেটওয়ালা ওই ব্যক্তিকে বলে, নাক ঝেড়ে আসো। আমাকে তুলতে যেও না; আগে নাক পরিষ্কার করে আসো।
চিন্তা করুন, সে যে কোথায় আছে এই খবর নেই। কিন্তু লোকটার নাকের ময়লাটা ঠিকই সে দেখেছে!
তো আমাদের অবস্থা হল এই যে, আমরা যে কোথায় আছি এটা দেখি না। কিন্তু কে বাঁকা চললো, কে ত্যাড়া করে তাকালো, কে এমন করে চলল, কে এমন করে কথা বলল- এগুলো আমরা খুব দেখি!
আল্লাহর বান্দা! খুব ভাল করে বুঝুন, যে ব্যক্তি এ ধরণের মানসিকতা রাখে তার ওপর আল্লাহ তাআলা প্রচণ্ড রকমের অসন্তুষ্ট।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 দুনিয়াতে থাকলে গুনাহ কিছু না কিছু হবেই

📄 দুনিয়াতে থাকলে গুনাহ কিছু না কিছু হবেই


হ্যাঁ, আমরা যেহেতু দুনিয়াতে আছি, তাই আমাদের গুনাহ হয়ে যেতে পারে। দুনিয়াতে থাকাকালীন বাতাস যখন প্রবাহিত হয় তখন আতরের পাশ দিয়ে গেলে সুগন্ধি লাগে, ডাস্টবিনের পাশ দিয়ে গেলে গন্ধ লাগে! এটা কি আপনি প্রতিহত করতে পারবেন? বলতে পারবেন যে, আমি ভিআইপি মানুষ, আমার নাকে কেন গন্ধ লাগবে? বরং বাতাস তার গতিতে সুগন্ধি কিংবা দুর্গন্ধ আপনার নাকে পৌঁছাবেই।
অনুরূপভাবে আমরা যেহেতু দুনিয়াতে আছি, এ কথা আমরা কেউই বলতে পারব না, মরণের আগ পর্যন্তও না যে, আমার দ্বারা গুনাহ হবে না। এটা বলতে পারব না যে, আমার দ্বারা অহংকার হবে না, আমলে রিয়া আসবে না, গীবত হয়ে যাবে না, চোখের ব্যাভিচার হয়ে যাবে না।
আপনাদের হয়তো ধারণা যে, বড় কোনো বুজুর্গ হয়তো বলতে পারবেন। ধরুন, আব্দুল কাদের জিলানী এ মাপের কোনো বুজুর্গ হয়তো এ কথা বলতে পারবেন। তাহলে শুনুন, তিনিও বলতে পারবেন না। কেননা দুনিয়া মানেই হল, গুনাহের মুখোমুখি আপনাকে হতে হবে। দুনিয়া মানেই হল, কখনো কখনো আমার অহংকার চলে আসবে, গীবত হয়ে যাবে, কুদৃষ্টি হয়ে যাবে, রিয়া প্রকাশ পেয়ে যাবে। কিন্তু আল্লাহ তাআলা দেখতে চান যে, এ অবস্থাতে আমার মাঝে কি গোলামীর গুণ আছে না ইবলিশের গুণ আছে!

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 নিজেকে গুনাহগার মনে করুন

📄 নিজেকে গুনাহগার মনে করুন


তাহলে গুনাহ হয়ে যাওয়া এটা বড় বিষয় নয়। হ্যাঁ, এ নিয়ে টেনশন করবেন অবশ্যই। তাহলেই তো গুনাহ থেকে বাঁচতে পারবেন। কিন্তু আল্লাহর ক্ষমা পাওয়ার জন্য এটা বড় বাধা নয়। বড় বাধা হল, ইবলিশের আচরণ আমার আর আপনার মাঝে চলে আসা।
আল্লাহর দরবারে আমরা যদি সবসময় নিজেকে অপরাধী মনে করতে পারি, যদি মনে করতে পারি যে, আমি সবচেয়ে বড় গুনাহগার, আমার চেয়ে বড় গুনাহগার আর কেউ নেই, আমি মানুষের হক সবচেয়ে বেশি নষ্টকারী, আল্লাহর হক নষ্টকারী, আমার সব সময় তাওবা করতে হবে, আমার এ গুনাহগুলো না জানি কেমনে মাফ হবে। আহ! আমার আমল তো ইবলিশ নিয়ে গেল, রিয়া শেষ করে দিল, আহ! আমার আমল তো নফস নিয়ে গেল- যদি এ ধরণের মানসিকতা লালন করতে পারি তাহলে নিজেকে এভাবে যত নিচু করতে পারব আল্লাহ আমাদেরকে তত উঁচু করতে থাকবেন। এটাকে বলা হয় বিনয়। সকল মুসলমান থেকে নিজেকে ছোট মনে করা। সবার চেয়ে নিজের আমল খারাপ মনে করা। সবার চেয়ে নিজেকে বড় গুনাহগার মনে করা। নবীজী ﷺ বলেন, তুমি আল্লাহর জন্য ছোট হও رفعه الله আল্লাহ তোমাকে বড় করে দিবেন।

📘 গুনাহের সঙ্গে আচরণবিধি > 📄 ইবলিশের আচরণ যেন চলে না আসে

📄 ইবলিশের আচরণ যেন চলে না আসে


আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, কিন্তু যদি ইবলিশের স্বভাব আমাদের মাঝে চলে আসে অর্থাৎ যদি এভাবে চিন্তা করি যে, আমি তো এ নেক কাজটা করি, অমুক তো মদখোর, অমুক তো এ কাজটা করে না, অমুক তো এত বড় গুনাহগার তাহলে শুনুন, খুব ভাল করে শুনুন, 'আল্লাহর কাছে পানাহ চাই, আল্লাহ সকল বেঈমানী থেকে আমাদের সকলকে হেফাজত করুন, সকল নেফাকী থেকে আমাদের বাঁচিয়ে রাখুন' কিন্তু আমি আর আপনি ঈমান নিয়ে মারা যাবো, এর নিশ্চয়তাটা কোথায় আছে? কে এই নিশ্চয়তা দিতে পারবে যে, সে ঈমান নিয়ে মারা যাবে?
এ নিশ্চয়তা আমরা কেউই দিতে পারব না। আল্লাহর একান্ত রহমত ছাড়া ঈমান নিয়ে কেউ মরতে পারবে না।।
আল্লাহ তাআলা আমাদের ঈমানের দৌলত নসীব করুন আমীন।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00