📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 শয়তান

📄 শয়তান


শয়তানের কুমন্ত্রণা ও বনি আদমকে বিভ্রান্ত করার কঠিন পদক্ষেপের ব্যাপারে কোনো মুসলিম অজানা নয়। আর এই ধারাবাহিকতা তখন থেকেই চলে আসছে, যখন তাকে আমাদের পিতা আদমকে সিজদা করার জন্য আদেশ করা হয়েছিল। তখন সে অহংকার করে ঔদ্ধত্ত হয়ে নিজেকে আদম আলাইহিস সালাম-এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে প্রমাণ করার ঘৃণ্য প্রয়াস চালিয়েছিল। অথচ সে আল্লাহর আদেশকে অমান্য করেছিল। এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে পাওয়া যায়-

قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ

আল্লাহ বললেন- আমি যখন নির্দেশ দিয়েছি তখন তোকে কিসে সিজদা করতে বারণ করল? সে বলল' আমি তার চাইতে শ্রেষ্ঠ। আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে সৃষ্টি করেছেন মাটির দ্বারা। ৭৫

ফলে সে আল্লাহর হুকুম লঙ্ঘনের কারণে বিতাড়িত হওয়ার যোগ্য এবং অভিশপ্ত হলো। যেমন: আল্লাহ তাআলা কালামে পাকের মাঝে বলেন-

قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَنْءُ وما مَّدْحُورًا لِّمَن تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكُمْ أَجْمَعِينَ

বের হয়ে যা এখান থেকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে। তাদের যে কেউ তোর পথে চলবে, নিশ্চয় আমি তোদের সবার দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করে দিব। ৭৬

আল্লাহর দুশমন আরও বেশি পরিমাণ ঐদ্ধত্ত হলো। বাড়াবাড়ি করল। বনি আদমকে বিভ্রান্ত করতে ও তাদের মাঝে ফাসাদ ছড়িয়ে দেওয়ার ব্যাপারে ঘোষণা দিয়ে দিল। কুরআন মাজিদে ইরশাদ হচ্ছে-

﴿قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ ﴾

সে বললঃ হে আমার পলনকর্তা, আপনি যেমন আমাকে পথ ভ্রষ্ট করেছেন, আমিও তাদের সবাইকে পৃথিবীতে নানা সৌন্দর্যে আকৃষ্ট করব এবং তাদের সবাইকে পথভ্রষ্ঠ করে দেব। আপনার মনোনীত বান্দাদের ব্যতীত। ৭৭

ঐ সময় থেকে শয়তানের একমাত্র কাজ হলো বনি আদমকে বিভ্রান্ত করা। বিভিন্ন বাহানা ইত্যাদির মাধ্যমে আদমসন্তানকে সত্যপথ সিরাতুল মুস্তাকিম থেকে বিচ্যুত করে জাহান্নামের পথে নিয়ে যাওয়া। এ কারণে মাওলায়ে কারীম শয়তানের ষড়যন্ত্র ও কূটচাল হতে আমাদেরকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সাবধান করে দিয়েছেন এবং তার অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকার আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-

﴿يَبَنِي ءَادَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْءَتِهِمَا إِنَّهُ يَرَبِّكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ ﴾

হে বনী-আদম শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে; যেমন সে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে এমতাবস্থায় যে, তাদের পোশাক তাদের থেকে খুলিয়ে দিয়েছি-যাতে তাদেরকে লজ্জাস্থান দেখিয়ে দেয়। সে এবং তার দলবল তোমাদেরকে দেখে, যেখান থেকে তোমরা তাদেরকে দেখ না। আমি শয়তানদেরকে তাদের বন্ধু করে দিয়েছি, যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না। ৭৮

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-
يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا لَا تَتَّبِعُوا خُطُوَتِ الشَّيْطَانِ وَمَن يَتَّبِعُ خُطُوَتِ الشَّيْطَانِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ

হে ঈমানদারগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না। যে কেউ শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করবে, তখন তো শয়তান নির্লজ্জতা ও মন্দ কাজেরই আদেশ করবে। ৭৯

আল্লাহ তাআলা আরও বলেন-
إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمْ عَدُوٌّ فَاتَّخِذُوهُ عَدُوًّا إِنَّمَا يَدْعُوا حِزْبَهُ لِيَكُونُوا مِنْ أَصْحَابِ السَّعِيرِ

শয়তান তোমাদের শত্রু; অতএব তাকে শত্রু রূপেই গ্রহণ কর। সে তার দলবলকে আহবান করে যেন তারা জাহান্নামী হয়। ৮০

আর শয়তান মানুষের ক্বলবে প্রবেশ করে তাকে ওয়াসওয়াসা দেবার জন্য প্রবেশপথ রয়েছে।

ইমাম গাযযালী রহিমাহুল্লাহ বলেন- জেনে রাখ, কলব হলো দূর্গের মত। আর শয়তান এমন শত্রু, যে দূর্গের ভেতর প্রবেশ করতে চায়। তারপর সে তাদেরকে পরিচালিত করে কর্তৃত্ব করতে চায়। আর দূর্গ রক্ষা করা যাবে না যদি দূর্গের ফটক, প্রবেশপথ এবং ছিদ্রের স্থানগুলোতে পাহারাদারি না করা হয়। আর ফটক ও দরজার পাহারাদারি সে করতে পারবে না, যে তা না জানে। সুতরাং ক্বলবকে শয়তানের ওয়াসওয়াসা থেকে রক্ষা করা আবশ্যক এবং প্রত্যেক মুকাল্লিফ ব্যক্তির জন্য ফরজে আইন। আর যে জিনিস ব্যতীত ওয়াজিব পর্যন্ত পৌঁছা যায় না তা অর্জন করাটাও ওয়াজিব। শয়তানকে ক্বলবের ভেতরে প্রবেশ করা থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয় ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ না তার প্রবেশপথের ব্যাপারে অবগত না হওয়া যায়। সুতরাং প্রবেশপথ জানাটাও ওয়াজিব। আর শয়তান ক্বলবে প্রবেশ করার পথ ও রাস্তা হলো বান্দার অভ্যাস, স্বভাব বা দোষগুণ। আর সেগুলো অনেক। তন্মধ্যে কিছু নিম্নবর্ণিত-

এক. ক্রোধ ও শাহওয়াত: সুতরাং মানুষ যখন রাগান্বিত হয় তখন শয়তান তাকে নিয়ে খেলাধুলা করে, যেমনিভাবে ছোট বাচ্চারা বল নিয়ে খেলাধুলা করে।

দুই. লোভ-লালসা : বান্দা যখনই কোনো জিনিসের লোভ করে বা কোনো জিনিসের প্রতি লালায়িত হয় তখনই তার লোভ তাকে অন্ধ ও বধির করে দেয়। তাই শয়তান লোভীকে তার শাহওয়াত তথা কামনা-বাসনার দিকে পৌঁছার প্রতিটি জিনিসকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ পায়, যদিও তা গর্হিত ও ফাহেশা কাজ হয়ে থাকে।

তিন. খাবারে পরিতৃপ্ত হওয়া/পেট ভরে খাওয়া: খানা স্বচ্ছ হালাল হওয়া সত্ত্বেও পরিতৃপ্ত হয়ে আহার করলে শাহওয়াত শক্তিশালী হয়ে যায়। আর এটিই হলো শয়তানের অস্ত্র।

চার. কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো করা এবং ধীরস্থিরতা ও সাবধানতা অবলম্বনকে পরিহার করা: যখনই কোনো কাজের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ার আশ্রয় নেওয়া হয় শয়তান তখন মানুষের মাঝে তার অনিষ্টতার আমদানি করে থাকে। অথচ তা ব্যক্তি জানতেও পারে না। বুঝতেও পারে না।

পাঁচ, কৃপণতা করা ও দারিদ্রের ভয় করা: কেননা, কৃপণতা এবং দারিদ্রের ভয় করার কারণে ব্যক্তি দান ও খরচ করতে বাঁধাগ্রস্ত হয়। এগুলো তাকে জমিয়ে পঞ্জিভূত করে রাখতে উদ্বুদ্ধ করে।

ছয়. মত-পথ ও মাজহাব এবং নিজের খেয়াল খুশির ব্যাপারে পক্ষপাতিত্ব করা। বিরোধীদের প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করা। তাদের দিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে চাওয়া। এগুলো এমন বিষয়, যা ইবাদতকারী ও ফাসাদকারী সকলকে ধ্বংস করে দেয়।

সাত, মুসলিমদের ব্যাপারে বদধারণা ও কৃধারণা পোষণ করা, অতএব এর থেকে দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।

কলবের ভেতর শয়তান প্রবেশ করার এসকল দরজা ও ফটকগুলো বন্ধ করাটা মানুষের জন্য জরুরি। আর জিকরুল্লাহ এসকল দরজা ও ফটক বন্ধ করতে সাহায্য করে। ৮১

সুতরাং আমরা বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করব। সর্বাবস্থায় জিকির করলে শয়তানের চক্রান্ত থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। নেক আমল করার প্রতি মন আকৃষ্ট হবে।

টিকাঃ
৭৫ সূরা আরাফ: ১২
৭৬ সূরা আরাফ: ১৮
৭৭ সূরা হিজর: ৩৯-৪০
৭৮ সূরা আরাফ: ২৭
৭৯ সূরা নূর: ২১
৮০ সূরা ফাতির: ৬
৮১ মুকাশাফাতুল কুলুব থেকে সংক্ষেপিত: ৭৬-৭৯

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 খারাপ বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠী

📄 খারাপ বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠী


গুনাহে লিপ্ত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়ের মাঝে অন্যতম হলো খারাপ বন্ধ ও অসৎ সঙ্গ। কেননা, খারাপ সঙ্গী তার সৎ সঙ্গীর সামনে পাপ ও গর্হিত কাজগুলোকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করে। আর মানুষ তার সাথির দ্বারাই প্রভাবিত হয়। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: যেমন আবু মুসা আশআরি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে রয়েছে। তিনি বলেন:

"সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত সুগন্ধি বিক্রেতা ও হাপরে ফুতকারকারী ব্যক্তির ন্যায়। সুগন্ধি বিক্রেতা হয়ত সে তোমাকে কিছু সুগন্ধি দিবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে সুগন্ধি ক্রয় করবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে উত্তম ঘ্রাণ পাবে। আর হাপরে ফুতকারকারী হয়ত সে তোমার কাপড়কে জালিয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে পাবে দুর্গন্ধ।৮২

সুতরাং খারাপ ব্যক্তির সাহচর্য কামারের কাছে সাহচর্য গ্রহণের মত, যে হাপরে হাওয়া ভরে যাতে সে লোহার তৈজসপত্র ইত্যাদি বানাতে পারে। তার আগুন থেকে কেবল তুমি খারাপ জিনিসই পাবে। হাপরের কাছে গেলে, তার আগুন তোমার কাপড়কে জালিয়ে দেবে। অথবা তার থেকে তুমি ধুয়া ও বিশ্রী গন্ধ পাবে। আর ফাসাদপ্রবন ও খারাপ লোকের সাহচর্য হয়ত তোমাকে খারাপকাজে অভ্যস্ত করে তুলবে, অথবা তোমাকে খারাপের দিকে পরিচালিত করে নিয়ে যাবে, কিংবা তুমি তার কাছ থেকে এমন কিছু শুনবে যা ক্ষতিকর ও উপকারহীন। ফলে শয়তান তোমাকে বেষ্টন করে নেবে যেভাবে তাদেরকে বেষ্টন করে নিয়েছে। অথবা কমপক্ষে তোমাকে লোকেরা তোমাকে তাদের দলে ও তাদের অনুসরণকারীদের মধ্যে ফেলে দেবে, তাদের মধ্যে গণ্য করবে যদিও তুমি তাদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নও, তাদের তরিকা ও পথ অবলম্বনকারী নও। আল্লাহ তাআলা তাদেরকে রহম করেন যারা নেককার সালেহীন ও আহলুল খায়রকে ভালবাসে এবং তাদের সাহচর্য গ্রহণ করে এবং পাপি ও আহলুশ শারকে অপছন্দ করে এবং তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। ৮৩

এ কারণেই আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো সাথে বন্ধুত্ব স্থাপনকারী কিয়ামতের দিন একে অপরের শত্রুতে পরিণত হবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿الْأَخِلَّاءُ يَوْمَئِذٍ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ إِلَّا الْمُتَّقِينَ﴾
বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়। ৮৪

* অতএব আমরা সত্যবাদী ও নেককারদের সংশ্রব গ্রহণ করব। মিথ্যাবাদী ও ভ্রান্ত এবং অসৎলোকদের থেকে দূরে অবস্থান করব। স্বয়ং আল্লাহ তাআলা সত্যবাদীদের সাথে থাকার আদেশ দিয়েছেন। সূরা তাওবার ১১৯ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿يَأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ﴾
হে ঈমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সংশ্রব গ্রহণ কর।

সুতরাং আমরা সৎলোকের সংশ্রব গ্রহণ করব এবং বদলোক থেকে দূরে থাকব।

টিকাঃ
৮২ বুখারী: ২৫৫৩৩, মুসলিম: ২০৬২৭
৮৩ ফাতহুল মুনয়িম শরহু সহিহি মুসলিম: ১০/১২৭
৮৪ সূরা যুখরুফ: ৬৭

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 উদাসীনতা

📄 উদাসীনতা


আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা ও আখিরাতের ব্যাপারে উদাসীন ও বেখবর থাকলে তা গুনাহে নিমজ্জিত করে, অন্তরকে বিনষ্ট করে এবং ওয়াসওয়াসা ও খারাপকাজের দিকে টেনে নিয়ে যায় এবং গায়েবের ব্যাপারে পরিপূর্ণ জ্ঞানী আল্লাহ তাআলা থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।

অতএব উদাসীন ক্বলব তার দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে বেখবর থাকে। আর মানুষের অন্তর যখনই আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল হয়ে যায় উদাসীন হয়ে তখনই শয়তান তার মাঝে প্রবেশ করার সুযোগ পেয়ে যায়। তার পেছনে লেগে থাকে ও তার জন্য অসৎ সঙ্গী হয়ে যায়; যে তার খারাপ জিনিস ও বিষয়গুলোকে সুন্দর ও সুশোভিত করে তার কাছে মেলে ধরে। আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَانًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ ﴾

যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে চোখ ফিরিয়ে নেয়, আমি তার জন্যে এক শয়তান নিয়োজিত করে দেই, অতঃপর সে-ই হয় তার সঙ্গী। ৮৫

মানুষ গুনাহে নিপতিত হয়ে থাকে কেবল আল্লাহ থেকে গাফেল থাকার কারণে, আল্লাহর আদেশ এর ব্যাপারে গাফেল থাকার কারণে, দুনিয়া ও আখিরাতে পাপাচারে লিপ্ত হওয়ার শাস্তির ব্যাপারে গাফেল থাকার কারণে। আর যারা আল্লাহ তাআলা ও তার সাথে সাক্ষাত লাভের ব্যাপারে গাফেল থাকে, পরকালীন জীবন ছেড়ে পার্থিব জীবন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকে, আল্লাহ তাআলার জাগতিক নিদর্শন ও কুরআনের নিদর্শনের ব্যাপারে গাফেল থাকে তাদের প্রত্যাবর্তন স্থলই হলো জাহান্নাম। কেননা তারা কুফরি করেছে এবং স্বীয় রবের নিদর্শনাবলীর ব্যাপারে গাফলতি করেছে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন:

﴿إِنَّ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَاءَنَا وَرَضُوا بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاطْمَأَنُّوا بِهَا وَالَّذِينَ هُمْ عَنْ آيَاتِنَا غَافِلُونَ أُولَئِكَ مَأْوَاهُمُ النَّارُ بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ﴾

অবশ্যই যেসব লোক আমার সাক্ষাৎ লাভের আশা রাখে না এবং পার্থিব জীবন নিয়েই উৎফুল্ল রয়েছে, তাতেই প্রশান্তি অনুভব করেছে এবং যারা আমার নির্দশনসমূহ সম্পর্কে বেখবর। এমন লোকদের ঠিকানা হলো জাহান্নাম সেসবের বদলা হিসাবে যা তারা অর্জন করছিল। ৮৬

আল্লামা ইবনুল জাওযি রহিমাহুল্লাহ বলেন: গাফলতি উদগত হওয়ার ক্ষেত্রে বড় হলো দুটি জিনিস। একটি হলো পেট ভরে খাওয়া, আরেকটি হলো পেট ভরে যারা খায় তাদের সাথে চলাফেরা করা। অতএব যদি তুমি গাফলতি ও উদাসীনতা থেকে মুক্তি ও পরিত্রাণ পেতে চাও তাহলে তোমার জন্য আবশ্যক হলো ক্ষুধার্ত থাকা।

তিনি বলেন: বান্দার ওপর দুটি জিনিস থেকে ক্ষতিকারক আর কোন কিছু নেই। সেই দুটি হলো, আল্লাহর জিকির থেকে গাফেল থাকা এবং আল্লাহর আদেশের মুখালাফাত করা বিরোধিতা করা।

আর উদাসীনতা ও গাফলতি কল্যাণ থেকে মাহরুম করে আর গুনাহ ক্ষতিকে আবশ্যক করে। গাফলতি জান্নাতের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেয় আর গুনাহ ও পাপাচার জাহান্নামের দরজা উন্মুক্ত করে। ৮৭

ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন- কোন সন্দেহ নেই যে, ক্বলবের মাঝে মরিচা পড়ে যেভাবে তামা, সোনা ইত্যাদির মাঝে মরিচা পড়ে। আর 'অন্তরের মরিচা দুই কারণে হয়; গাফিলতি ও গোনাহ। আবার মরিচা দূরও হয় দুই জিনিসে; জিকির ও ইস্তেগফারে।

যার প্রায় সময় গাফিলতিতে কাটে তার অন্তরে মরিচা জমতে থাকে। গাফিলতি ও অলসতার অনুপাতে প্রতিটি অন্তরে মরিচা পড়ে। অন্তর মরিচাগ্রস্ত হলে তাতে ইলমের ছাপ পড়ে না। তখন বাতিলকে হকের সুরতে দেখে। আর হককে বাতিলের সুরতে। যখন অন্তরে মরিচা জমাট বাঁধে এবং হৃদয় কালো-ধূসর হয়ে যায়, তখন এর কল্পনা ও বোধশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। তখন হক গ্রহণও করে না। বাতিলকে বারণও করে না। আর এটাই অন্তরের সবচেয়ে বড় বিপর্যয়। আর এগুলোর মূলে হলো গাফলতি ও নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ। কেননা, এগুলো অন্তরের নূরকে নিভিয়ে দেয় এবং চক্ষুকে অন্ধ বানিয়ে দেয়। আল্লাহ তাআলা বলেন:

وَلَا تُطِعْ مَنْ أَغْفَلْنَا قَلْبَهُ عَن ذِكْرِنَا وَاتَّبَعَ هَوَلَهُ وَكَانَ أَمْرُهُ فُرُطًا

যার মনকে আমার স্মরণ থেকে গাফেল করে দিয়েছি, যে, নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্য কলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, আপনি তার অনুগত্য করবেন না। (সূরা কাহাফ : ২৮)

সুতরাং আল্লাহ তাআলা ও তার জিকির হতে গাফেল থাকাটা অন্তর কঠিন ও নিষ্ঠুর হওয়া এবং আল্লাহ তাআলা ও তাঁর কথার প্রভাব থেকে দূরে সরে যাওয়ার জন্য সবচেয়ে বড় কারণের অন্যতম।

ইবনুল কাইয়িম রহিমাহুল্লাহ বলেন: যখনই অন্তরের উদাসীনতা প্রবল হয় তখন অন্তরের নিষ্ঠুরতাও কঠোর হতে থাকে। অতপর যখন আল্লাহর জিকির করে তখন ঐ নিষ্ঠুরতা গলে যায় যেভাবে আগুনের মাঝে সীসা গলে যায়। জিকরুল্লাহর মত কোন জিনিস দ্বারাই অন্তরে নিষ্ঠুরতা নির্দয়তাকে গলানো যায় না। সুতরাং জিকির হলো ক্বলবের শিফা ও তার দাওয়া অর্থাৎ ঔষধ। আর গাফলতি ও উদাসীনতা হলো রোগ। সুতরাং রোগাক্রান্ত অন্তরসমূহের শিফা ও আরোগ্য হলো আল্লাহ তাআলার জিকিরের মাঝে।

মাকহুল বলেন: জিকরুল্লাহ তথা আল্লাহর স্মরণ হলো শিফা ও আরোগ্য আর মানুষের স্মরণ হলো রোগ ও ব্যাধি।

ইমাম বায়হাকী মাকহুল থেকে মারফু মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেন: যদি আমি জিকির করি তাহলে সেই জিকির আমার শিফা দান করে। আর যখন আমি জিকির থেকে গাফেল থাকি আমার অধঃপতন হয়। যেমন বলা হয়:

إذَا مَرِضْنَا تَدَاوَيْنَا بِذِكْرِكُمْ وَنَتْرُكُ الذِّكْرَ أَحْيَاناً فَنَنْتَكِسُ

যখন আমরা রোগাক্রান্ত হয়ে যাই তোমার জিকির আমাকে সুস্থ করে তোলে। আর যখনই তোমার জিকির ছেড়ে দেই আমার অধঃপতন হয়।

তিনি বলেন: জিকির হলো আল্লাহর সাথে সম্পর্কস্থাপনের আসল বস্তু, বন্ধুত্বস্থাপনের মূল বিষয়। আর গাফলতি ও উদাসীনতা হলো আল্লাহর সাথে শত্রুতা পোষণের মূল বিষয় ও আসল বস্তু। তাই বান্দা যদি সর্বদা তার রবের জিকিরে থাকবে, তাঁকে স্মরণ করবে এমনকি তাকে ভালবাসতে থাকবে তাহলে তার সাথে সম্পর্ক হবে আর যদি বান্দা তার রবের জিকির থেকে গাফেল থাকে এমনকি তার প্রতি সে অসন্তুষ্ট হয়ে যায় তাহলে তার সাথে শত্রুতা হবে।

ইমাম আওযায়ি বলেন, হাসান বিন আতিয়াহ বলেন, বান্দা তার রবের সাথে সীমালঙ্ঘন করে বা শত্রুতাপোষণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে বান্দা তার রবের জিকিরকে ও যারা তাঁর জিকির করে তাদেরকে অপছন্দ করা। সুতরাং এই শত্রুতা ও বিদ্বেষের কারণ হলো গাফলতি। বান্দা যখনই আল্লাহর জিকিরকে অপছন্দ করে, যারা জিকির করে তাদেরকে অপছন্দ করে তখন থেকেই আল্লাহ তাআলা তাকে শত্রু হিসেবে গ্রহণ করে যেভাবে আল্লাহ তাঁর জিকিরকারীকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে। ৮৮

তাই জিকির থেকে গাফেল ও উদাসীন থাকা আমাদের অনুচিত। কেননা জিকিরে গাফেল ব্যক্তি আল্লাহর শত্রুতে পরিণত হয় এবং জিকিরকারী ব্যক্তি আল্লাহর বন্ধু হয়।

টিকাঃ
৮৫ সূরা যুখরুফ: ৩৬
৮৬ সূরা ইউনুস: ৭-৮
৮৭ আত তাযকিরাতু ফিল ওয়ায: ১০২-১০৩
৮৮ আল ওয়াবিলুস সবিল: ৯০

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 দীর্ঘ হায়াত আশা করা

📄 দীর্ঘ হায়াত আশা করা


মুসলিম গুনাহে পতিত হয়ে যায়, হিসাবের কথা ভুলে যায়, ভুলে যায় প্রতিক্ষিতি প্রতিদান যেদিন পাবে সেদিনের কথা। এগুলো ভুলে যায় বান্দা তার দীর্ঘ হায়াতের আশা ও মওতের কথা ভুলে গেলে, মৃত্যু যন্ত্রণার কথা ভুলে গেলে, কবর ও সিরাতে মুসতাকিমের কথা ভুলে গেলে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা বলেন-

أَلَمْ يَأْنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا أَن تَخْشَعَ قُلُوبُهُمْ لِذِكْرِ اللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ الْحَقِّ وَلَا يَكُونُوا كَالَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلُ فَطَالَ عَلَيْهِمُ الْأَمَدُ فَقَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ﴾

যারা মুমিন, তাদের জন্যে কি আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে, তার কারণে হৃদয় বিগলিত হওয়ার সময় আসেনি? তারা তাদের মত যেন না হয়, যাদেরকে পূর্বে কিতাব দেয়া হয়েছিল। তাদের উপর সুদীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তঃকরণ কঠিন হয়ে গেছে। তাদের অধিকাংশই পাপাচারী। ৮৯

আবদুল্লাহ ইবন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন-

أَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَنْكِبِي فَقَالَ كُنْ فِي الدُّنْيَا كَأَنَّكَ غَرِيبٌ أَوْ عَابِرُ سبيل

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার কাধে ধররে বললেন, দুনিয়াতে তুমি এমনভাবে থাকো যেন তুমি আগন্তুক অথবা পথচারী।৯০

হাফিজ ইবনু রজব হাম্বলি রহিমাহুল্লাহ বলেন : দুনিয়াতে অল্প হায়াতের আশা করার প্রেক্ষিতে এই হাদীসখানা হলো আসল বা মূল। আর নিঃসন্দেহে মুমিনদের জন্য উচিত নয় দুনিয়াকে বাসস্থান ও বসবাসের জায়গা হিসেবে গ্রহণ করে তাতে প্রশান্তি লাভ করবে। বরং মুমিনের জন্য উচিত হলো এখানে থাকবে সফরের ডানার ওপর ভর করে, যেখানে সে সফর বা যাত্রার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করবে। ৯১

সাইয়িদুনা আলি ইবন আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন: আমি তোমাদের ব্যাপারে দুই জিনিসের ভয় করি। আর তাহলো, কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ ও দীর্ঘ হায়াতের আশা করা। কেননা কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ হক থেকে বিরত রাখে আর দীর্ঘ হায়াতের আশা আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয়।

হাসান বসরি রহিমাহুল্লাহ বলেন : বান্দা দীর্ঘ হায়াতের আশা করেনা কেবল আমলকে ভুলে যায়। ৯২

জনৈক ব্যক্তি বসরায় কোন এক যাহেদকে বলল, বাগদাদে কী আপনার কোন প্রয়োজন আছে? তখন যাহেদ বলল, আমার আশাকে এত লম্বা করা পছন্দ করি না যে, সে বাগদাদ আসা যাওয়া করবে।

কোন এক হাকিম বলেন: জাহেল ব্যক্তি তার আশার ওপর ভরসা করে আর জ্ঞানী ব্যক্তি ভরসা করে নিজের আমলের ওপর।

কোন এক সাহিত্যিক বলেন: আশা হলো মরীচিকার মত। যে তা দেখে সেই ধোঁকা খায় আর যে তার আশা করে সেই ত্রুটিযুক্ত হয়। ৯৩

হাসান রহিমাহুল্লাহ বলেন: উলামাদের তিনজন একত্রিত হলো। তারা তাদের একজনকে বলল, তোমার আশা আকাঙ্খা কী? সে বলল, আমার কোছে যে মাসই এসেছে আমি ধারণা করেছি যে মৃত্যুবরণ করব মাসটিতে। হাসান বলেন: তার সাথি তাকে বলল, নিশ্চয় এটি আশা আকাঙ্খা। অতপর দ্বিতীয় জনকে বলা হলো, তোমার আশা কী? সে বলল, আমার কাছে এমন কোন জুমা আসে নি যাতে আমি আশা করিনি যে সে জুমাতে আমি মৃত্যুবরণ করব। হাসান রহিমাহুল্লাহ বলেন: এটিও আশা। অতপর তারা দুজনে তৃতীয় জনকে জিজ্ঞেস করল, তোমার আশা কী? সে বলল, যার শ্বাস নিঃশ্বাস অন্যের হাতে তার কী আশা থাকতে পারে?

কোন এক সালাফ বলেন: এমন কোন ঘুমে যাইনি যে, নিজেকে বলেছি আমি এই ঘুম থেকে জাগ্রত হবো।

মারুফ কারখি নামাজে দাঁড়ালেন। অতপর এক ব্যক্তিকে বললেন, সামনে অগ্রসর হও, আর আমাদের নামাজের ইমামতি কর। অতপর লোকটি বলল, যদি আমি এই নামাজে আপনাদের ইমামতি করি তাহলে এ ছাড়া আর কোন নামাজে আপনাদের ইমামতি করবো না। মারুফ কারখি বললেন, তুমি নিজের ব্যাপারে বলছ যে, আরও এক নামাজ পড়ানোর কথা। আল্লাহর কাছে দীর্ঘ আশা থেকে পানাহ চাই। কেননা, নিশ্চয়ই দীর্ঘ আশা নেক আমল থেকে বাধাপ্রদান করে। ৯৪

আল্লামা ইবনুল কাইয়িম রহিমাহুল্লাহ বলেন: প্রবৃত্তির অনুসরণ ও উচ্চ আশা সকল ফাসাদের মূল, সকল অনিষ্টের মূল। কেননা, প্রবৃত্তির অনুসরণ হক জানতে ও হকের ইচ্ছা করা থেকে অন্ধ বানিয়ে দেয়, আর উচ্চ আশা আখিরাতকে ভুলিয়ে দেয় এবং আখিরাতের পাথেয় প্রস্তুতি গ্রহণ করতে ভুলিয়ে দেয়।

হাদীসে এরশাদ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ সেই ব্যক্তি বুদ্ধিমান যে নিজের নাফসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং মৃত্যুর পরবর্তী সমযের জন্য কাজ করে। আর সেই ব্যক্তি নির্বোধ ও অক্ষম যে তার নাফসের দাবির অনুসরণ করে আর আল্লাহ্ তা'আলার নিকটে বৃথা আশা পোষণ করে। ৯৫

তাই আমরা নফসের দাবির অনুসারে চলে নির্বোধ হতে চাই না, আল্লাহর নিকট বৃথা আশা করতে চাই না। আল্লাহর কাছে পবিত্রতা ও নিরাপত্তা কামনা করছি।

টিকাঃ
৮৯ সূরা হাদীদ: ১৬
৯০ সহিহুল বুখারী: ২১৩
১১ জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম: ৭১০
৯২ আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদদীন: ৩৪
৯৩ আদাবুদ দুনিয়া ওয়াদদীন: ৩৪
৯৪ জামিউল উলুমি ওয়াল হিকাম: ৭১৭
৯৫ জামিউত তিরমিযি: ২৪৫৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00