📄 গুনাহ আকল, বুদ্ধি ও বিবেককে নষ্ট করে দেয়, বরবাদ করে দেয়
নিঃসন্দেহে আকল, বুদ্ধি ও বিবেককে রৌশন করতে হলে সবসময় এক নূর থাকে। আর নাফরমানি সর্বদা আক্কলের নূরকে নির্বাপিত করে দেয়। যখন আক্কলের নূর নিভে যায় তখন সে অপূর্ণাঙ্গ ও দুর্বল হয়ে যায়। আসলাফদের থেকে কোনো এক বুযুর্গ বলেন' যখনই কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হলো, তাহলে তার আকল মরে গেল। আর এবিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট। এ কারণে যে, যদি তার আকল খারাপ কাজের সময় উপস্থিত হতো, তাহলে তার আকল বা বিবেক তাকে বাঁধাপ্রদান করত। অথচ আকল সর্বদা রাব্বুল আলামিনের কব্জায় আর তা সবসময় তাঁর জানাশোনার মধ্যেই থাকে। আল্লাহর ফেরেশতা সবসময় তার দিকে নজরদারি করে ও তাকে দেখতে থাকে।
কুরআন ও ঈমানের নসিহতকারী তাকে দিনের আলোতে খারাপ কাজ থেকে বাঁধাপ্রদান করে থাকে। (এভাবে রাতের নির্জনতার মাঝেও সাবধানকারী, তার বিবেক তাকে বাঁধাপ্রদান করে) অতঃপর কোনো অবাধ্যতার সাথে দুনিয়া ও আখিরাতের নেক কাজ যা তার থেকে ছুটে গেছে, যেমন-অস্থায়ী স্বাদ ও আনন্দ হাজার গুণ হয়েও তার বদলা হতে পারে না। সুতরাং সুস্থ বিবেকসম্পন্ন কোনো বান্দা কি এসবের সাথে গুনাহকে কম ও স্বাভাবিক মনে করে নিজেকে শাস্তির যোগ্য বানানোর দুঃসাহস করতে পারে?
📄 গুনাহ যখন বেশি হয়ে যায় তখন গুনাহগার ব্যক্তির অন্তরে মোহর লেগে যায়
যখন কোনো ব্যক্তির অন্তরের গুনাহ বৃদ্ধির কারণে মোহর মেরে দেওয়া হয়, তাহলে সে গাফেলদের কাতারে পড়ে যায়। আর গাফেলদের জন্য সিরাতে মুস্তাকিমের দিকে প্রত্যাবর্তন করা অসম্ভব হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার ইরশাদ-
كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ
কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। ৫৭
কোনো কোনো সালাফ মরিচার ব্যাপারে বলেছেন যে, এটি গুনাহর পরে গুনাহ করার কারণে লেগে থাকে। হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন' গুনাহর পর গুনাহ করতে থাকলে অন্তর অন্ধ হয়ে যায়। অন্য কোনো সালাফ বলেছেন' যখন মানুষের গুনাহ ও তাদের নাফরমানি অনেক বেশি বেড়ে যায় তখন তাদের অন্তরকে ঘিরে নেয়। মূলত কথা হলো এই যে, গুনাহ ও আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার কারণে অন্তর মরিচা পড়ে যায়। (শুরুতে এই মরিচা হালকা হয়) আর যখন নাফরমানি বেড়ে যায় তখন অন্তরের মরিচা আরও পাকাপোক্ত হয়। তারপর এই মরিচা সকল বস্তুর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে। এমনকি ব্যক্তির অন্তরের মধ্যে তালা এবং মোহর হয়ে যায়। অন্তর একটি পর্দা ও গিলাফের মধ্যে লেপ্টে যায়। এ অবস্থা যখন হিদায়াত ও পথপ্রাপ্ত হওয়ার পর অর্জিত হয় তখন ব্যাপারটা উল্টা হয়ে যায়। হিদায়াত, যা কখনও তার ওপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত ছিল তা নিচে পড়ে যায় আর বদবখতি, যা নিচে ছিল সেটি তার ওপর প্রাধান্যতা লাভ করে। সুতরাং ঐ সময় তার শত্রু শয়তান তার ওপর প্রাধান্যতা পেয়ে তাকে যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে চালিয়ে নিতে থাকে।
টিকাঃ
৫৭ সূরা মুতাফফিফীন: ১৪
📄 গুনাহ রাসূলুল্লাহ সাঃ এর লানতের অন্তর্ভুক্ত
গুনাহ ও অবাধ্যতা করাকে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা'নত করেছেন। আর পাপাচারের বিষয়টি আরও বড়। পাপি ব্যক্তি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লা'নতের অন্তর্ভুক্ত আরও আগে। আর তিনি এই লা'নত দুনিয়ার কাউকে নিদৃষ্ট করা ব্যতীতই করেছেন।
অবশ্য তিনি সমকামীদের ওপর এবং ঐ ব্যক্তির ওপর যে মহিলাদের পোশাক পরিধান করে ও সেই মহিলা যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে, ঘুষদাতা, ঘুষখোরের ওপর লা'নত করেছেন। তাদের ছাড়াও অন্যান্য খারাপকাজের ব্যাপারেও তিনি লা'নত করেছেন। সুতরাং এসব কাজে যদি শুধু কর্মসম্পাদনকারীর মর্জি হয়, তাহলে তাদের গণনা এদের মধ্যে পড়ে যাবে; যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা, তাঁর রাসূল এবং ফেরেশতারা লা'নত করেছেন।
اللهم إنا نستغفرك ونتوب إليك
হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাইতেছি ও আপনার নিকট তাওবা করছি।
📄 আল্লাহর রাসূল সাঃ ও ফেরেশতাদের দুআ থেকে বঞ্চিত হওয়া
আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তাঁর নবীকে আদেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন :
الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ ءَامَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ ءَابَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّتِهِمْ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
যারা আরশ বহন করে এবং যারা তার চারপাশে আছে, তারা তাদের পালনকর্তার সপ্রশংস পবিত্রতা বর্ণনা করে। তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে' হে আমাদের পালনকর্তা, আপনার রহমত ও জ্ঞান সবকিছুতে পরিব্যাপ্ত। অতএব, যারা তওবা করে এবং আপনার পথে চলে, তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা করুন। হে আমাদের পালনকর্তা, আর তাদেরকে দাখিল করুন চিরকাল বসবাসের জান্নাতে, যার ওয়াদা আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং আপনি তাদেরকে অমঙ্গল থেকে রক্ষা করুন। আপনি যাকে সেদিন অমঙ্গল থেকে রক্ষা করবেন, তার প্রতি অনুগ্রহই করবেন। এটাই মহাসাফাল্য। ৫৮
টিকাঃ
৫৮ সূরা গাফির: ৭-৯