📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 নাফরমানি আবশ্যিকভাবে লাঞ্ছনা ও অপমানের কারণ হয়

📄 নাফরমানি আবশ্যিকভাবে লাঞ্ছনা ও অপমানের কারণ হয়


সবধরণের ইজ্জত সম্মান কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও ইতাআতের মধ্যেই রয়েছে। আল্লাহ তাআলার ইরশাদ—

مَن كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا)

যে ব্যক্তি ইজ্জত সম্মান কামনা করে (তার জেনে নেওয়া উচিত) ইজ্জত সম্মান সব আল্লাহ তাআলার জন্যই। (আর তিনিই অন্যকে ইজ্জت সম্মান দান করেন) ৫৫

মানুষের জন্য উচিত হলো, সে যেন ইজ্জত সম্মান আল্লাহ তাআলার অনুসরণের মধ্যে তালাশ করে। আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ব্যতীত অন্য কোনো জায়গায় যেন তালাশ না করে। সালাফে সালেহীনদের দোআর মধ্যে এক দোআ ছিল-

اللَّهُمَّ أَعِزْنِي بِطَاعَتِكَ وَلَا تُخْزِنِي بِمَعْصِيتِكَ ،

হে আল্লাহ আপনার আনুগত্য দ্বারা আমাকে সম্মান দান করুন ও আপনার অবাধ্যতা দ্বারা আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না।

ঈমান হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন- খারাপ অভ্যাসের লোকের নিকট (সম্পদের প্রাচুর্যতার কারণে) যদিও শক্তিশালী খচ্চর, উত্তম চালচলনের তুর্কি ঘোড়া থাকুক না কেন, নাফরমানির জিল্লতি ও অপমান তাদের অন্তরকে ছেড়ে দিতে পারে না। (এর ওপর ভিত্তি করেই হাল আমলে মূল্যবান গাড়ি বাড়ি) আল্লাহ তাআলার ফয়সালা তো তাই, যে তার নাফরমানি করবে তাকে তিনি অপমানিত করবেন।

যামানার মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহর এই ব্যাপারটি স্পষ্টকারী কিছু কবিতা এমনই রয়েছে'

رَأَيْتُ الذُنُوبَ تُمِيْتُ القُلُوب وقد يُورِثُ الذُّلَّ إِدْمَانُهَا

আমি গুনাহকে দেখলাম যে, সে অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয় আর তাদের ওপর সর্বদাই জিল্লতি ও অপমানকে পরিত্যাক্ত সম্পত্তির ন্যায় রেখে যায়।

وتَرْكُ الذُنُوبِ حَيَاةُ القُلوبِ وَخَيْرٌ لِنَفْسِكَ عِصْيَانُهَا

গুনাহ পরিত্যাগ করা অন্তরের জীবিত থাকার কারণ আর নফসের জন্য গুনাহের অবাধ্য হওয়া উত্তম।

وهل أفسد الدين إلا الملوك وأحبار سُوءٍ وَرُهبانها

দ্বীনকে সর্বদা শাসকবর্গ, বাদশাগণ উলামায়ে সু ও তাদের রাহেব ও দরবেশরা নষ্ট করেছে। ৫৬

টিকাঃ
৫৫ সূরা ফাতির: ১০
৫৬ আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহ আকল, বুদ্ধি ও বিবেককে নষ্ট করে দেয়, বরবাদ করে দেয়

📄 গুনাহ আকল, বুদ্ধি ও বিবেককে নষ্ট করে দেয়, বরবাদ করে দেয়


নিঃসন্দেহে আকল, বুদ্ধি ও বিবেককে রৌশন করতে হলে সবসময় এক নূর থাকে। আর নাফরমানি সর্বদা আক্কলের নূরকে নির্বাপিত করে দেয়। যখন আক্কলের নূর নিভে যায় তখন সে অপূর্ণাঙ্গ ও দুর্বল হয়ে যায়। আসলাফদের থেকে কোনো এক বুযুর্গ বলেন' যখনই কোনো ব্যক্তি আল্লাহ তাআলার অবাধ্য হলো, তাহলে তার আকল মরে গেল। আর এবিষয়টি একেবারেই সুস্পষ্ট। এ কারণে যে, যদি তার আকল খারাপ কাজের সময় উপস্থিত হতো, তাহলে তার আকল বা বিবেক তাকে বাঁধাপ্রদান করত। অথচ আকল সর্বদা রাব্বুল আলামিনের কব্জায় আর তা সবসময় তাঁর জানাশোনার মধ্যেই থাকে। আল্লাহর ফেরেশতা সবসময় তার দিকে নজরদারি করে ও তাকে দেখতে থাকে।

কুরআন ও ঈমানের নসিহতকারী তাকে দিনের আলোতে খারাপ কাজ থেকে বাঁধাপ্রদান করে থাকে। (এভাবে রাতের নির্জনতার মাঝেও সাবধানকারী, তার বিবেক তাকে বাঁধাপ্রদান করে) অতঃপর কোনো অবাধ্যতার সাথে দুনিয়া ও আখিরাতের নেক কাজ যা তার থেকে ছুটে গেছে, যেমন-অস্থায়ী স্বাদ ও আনন্দ হাজার গুণ হয়েও তার বদলা হতে পারে না। সুতরাং সুস্থ বিবেকসম্পন্ন কোনো বান্দা কি এসবের সাথে গুনাহকে কম ও স্বাভাবিক মনে করে নিজেকে শাস্তির যোগ্য বানানোর দুঃসাহস করতে পারে?

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহ যখন বেশি হয়ে যায় তখন গুনাহগার ব্যক্তির অন্তরে মোহর লেগে যায়

📄 গুনাহ যখন বেশি হয়ে যায় তখন গুনাহগার ব্যক্তির অন্তরে মোহর লেগে যায়


যখন কোনো ব্যক্তির অন্তরের গুনাহ বৃদ্ধির কারণে মোহর মেরে দেওয়া হয়, তাহলে সে গাফেলদের কাতারে পড়ে যায়। আর গাফেলদের জন্য সিরাতে মুস্তাকিমের দিকে প্রত্যাবর্তন করা অসম্ভব হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলার ইরশাদ-

كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِم مَّا كَانُوا يَكْسِبُونَ

কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে। ৫৭

কোনো কোনো সালাফ মরিচার ব্যাপারে বলেছেন যে, এটি গুনাহর পরে গুনাহ করার কারণে লেগে থাকে। হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন' গুনাহর পর গুনাহ করতে থাকলে অন্তর অন্ধ হয়ে যায়। অন্য কোনো সালাফ বলেছেন' যখন মানুষের গুনাহ ও তাদের নাফরমানি অনেক বেশি বেড়ে যায় তখন তাদের অন্তরকে ঘিরে নেয়। মূলত কথা হলো এই যে, গুনাহ ও আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার কারণে অন্তর মরিচা পড়ে যায়। (শুরুতে এই মরিচা হালকা হয়) আর যখন নাফরমানি বেড়ে যায় তখন অন্তরের মরিচা আরও পাকাপোক্ত হয়। তারপর এই মরিচা সকল বস্তুর ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে। এমনকি ব্যক্তির অন্তরের মধ্যে তালা এবং মোহর হয়ে যায়। অন্তর একটি পর্দা ও গিলাফের মধ্যে লেপ্টে যায়। এ অবস্থা যখন হিদায়াত ও পথপ্রাপ্ত হওয়ার পর অর্জিত হয় তখন ব্যাপারটা উল্টা হয়ে যায়। হিদায়াত, যা কখনও তার ওপর প্রাধান্যপ্রাপ্ত ছিল তা নিচে পড়ে যায় আর বদবখতি, যা নিচে ছিল সেটি তার ওপর প্রাধান্যতা লাভ করে। সুতরাং ঐ সময় তার শত্রু শয়তান তার ওপর প্রাধান্যতা পেয়ে তাকে যেদিকে ইচ্ছে সেদিকে চালিয়ে নিতে থাকে।

টিকাঃ
৫৭ সূরা মুতাফফিফীন: ১৪

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহ রাসূলুল্লাহ সাঃ এর লানতের অন্তর্ভুক্ত

📄 গুনাহ রাসূলুল্লাহ সাঃ এর লানতের অন্তর্ভুক্ত


গুনাহ ও অবাধ্যতা করাকে আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম লা'নত করেছেন। আর পাপাচারের বিষয়টি আরও বড়। পাপি ব্যক্তি তো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর লা'নতের অন্তর্ভুক্ত আরও আগে। আর তিনি এই লা'নত দুনিয়ার কাউকে নিদৃষ্ট করা ব্যতীতই করেছেন।

অবশ্য তিনি সমকামীদের ওপর এবং ঐ ব্যক্তির ওপর যে মহিলাদের পোশাক পরিধান করে ও সেই মহিলা যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে, ঘুষদাতা, ঘুষখোরের ওপর লা'নত করেছেন। তাদের ছাড়াও অন্যান্য খারাপকাজের ব্যাপারেও তিনি লা'নত করেছেন। সুতরাং এসব কাজে যদি শুধু কর্মসম্পাদনকারীর মর্জি হয়, তাহলে তাদের গণনা এদের মধ্যে পড়ে যাবে; যাদের ওপর আল্লাহ তাআলা, তাঁর রাসূল এবং ফেরেশতারা লা'নত করেছেন।

اللهم إنا نستغفرك ونتوب إليك

হে আল্লাহ! আমরা আপনার কাছে ক্ষমা চাইতেছি ও আপনার নিকট তাওবা করছি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00