📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহর কারণে বান্দা রবের কাছে নগন্য ও তুচ্ছ হয়ে যায়

📄 গুনাহর কারণে বান্দা রবের কাছে নগন্য ও তুচ্ছ হয়ে যায়


ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন- গুনাহগার এই পরিমাণ আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে যায় যে, তারা প্রকাশ্য খোলাখুলিভাবে গুনাহ করা শুরু করে দেয়। যদি সে পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হতো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখতেন। আর যখন বান্দা স্বীয় রবের নিকট অনেক নিচু ও নগন্য হয়ে যায় তখন তার কোনো ইজ্জত সম্মান কেউ করে না।

যেমনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ফরমান- وَمَن يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّكْرِمٍ )

আর আল্লাহ তাআলা যাকে লাঞ্ছিত করেন তার কোন সম্মানকারী নেই। ৫৪

যদিও লোকেরা নিজেদের প্রয়োজনের স্বার্থে প্রকাশ্যে তাকে বড় মনে করে অথবা তাকে ভয় ও আশংকার কারণে বড় মনে করে। কিন্তু সে মানুষের অন্তরে অনেক নিচু ও অপমানিত ও অসম্মানী হয়।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 বান্দার দৃষ্টিতে গুনাহ করার ছোট ও মামুলি ব্যাপার হয়ে যায়

📄 বান্দার দৃষ্টিতে গুনাহ করার ছোট ও মামুলি ব্যাপার হয়ে যায়


বান্দা গুনাহ করতেই থাকে করতেই থাকে। এমনকি তার দৃষ্টিতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাটা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। আর তার অন্তরে গুনাহ অনেক ছোট ও মামুলি বিষয় মনে হয়। তা-ই হলো ধ্বংস ও বরবাদ হওয়ার আলামত। যখন বান্দার দৃষ্টিতে মামুলি মনে হয় তখন আল্লাহ তাআলার কাছে বিষয়টি অনেক বড় হয়ে যায়।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহের খারাবি ও অনিষ্টতার কারণে সাধারণ মানুষ ও প্রাণিদেরও কষ্ট হয়

📄 গুনাহের খারাবি ও অনিষ্টতার কারণে সাধারণ মানুষ ও প্রাণিদেরও কষ্ট হয়


গুনাহের কুলক্ষণের কারণে এবং জুলুম অত্যাচারের ফলস্বরূপ গুনাহগার পাপি ব্যক্তির সাথে সাথে অন্যান্য মানুষও জ্বলে যায়।

ইমাম মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহর উক্তি আছে—যখন প্রবল দুর্ভিক্ষ আসে এবং বৃষ্টিকে বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন অন্যান্য প্রাণীরা বনি আদমের গুনাহগারদেরকে অভিসম্পাত করতে থাকে। আর স্বীয় জবানিতে বলতে থাকে—এই সব কিছু বনি আদমের খারাপ আমলের কারণে হচ্ছে।

সাইয়িদুনা ইকরিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—জমিনে চলাফেরাকারী বিষাক্ত ও অবিষাক্ত সকল প্রাণী জবান দ্বারা বলে—আমাদেরকে বনি আদমের গুনাহের কারণে বৃষ্টি থেকে মাহরুম করে দেওয়া হয়েছে।

সুতরাং গুনাহগারকে তার গুনাহের সাজা ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে বেগুনাহ থেকে লা'নতপ্রাপ্ত না হয়।

টিকাঃ
৫৪ সূরা হাজ্জ: ১৮

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 নাফরমানি আবশ্যিকভাবে লাঞ্ছনা ও অপমানের কারণ হয়

📄 নাফরমানি আবশ্যিকভাবে লাঞ্ছনা ও অপমানের কারণ হয়


সবধরণের ইজ্জত সম্মান কেবলমাত্র আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও ইতাআতের মধ্যেই রয়েছে। আল্লাহ তাআলার ইরশাদ—

مَن كَانَ يُرِيدُ الْعِزَّةَ فَلِلَّهِ الْعِزَّةُ جَمِيعًا)

যে ব্যক্তি ইজ্জত সম্মান কামনা করে (তার জেনে নেওয়া উচিত) ইজ্জত সম্মান সব আল্লাহ তাআলার জন্যই। (আর তিনিই অন্যকে ইজ্জت সম্মান দান করেন) ৫৫

মানুষের জন্য উচিত হলো, সে যেন ইজ্জত সম্মান আল্লাহ তাআলার অনুসরণের মধ্যে তালাশ করে। আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ব্যতীত অন্য কোনো জায়গায় যেন তালাশ না করে। সালাফে সালেহীনদের দোআর মধ্যে এক দোআ ছিল-

اللَّهُمَّ أَعِزْنِي بِطَاعَتِكَ وَلَا تُخْزِنِي بِمَعْصِيتِكَ ،

হে আল্লাহ আপনার আনুগত্য দ্বারা আমাকে সম্মান দান করুন ও আপনার অবাধ্যতা দ্বারা আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না।

ঈমান হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বলেন- খারাপ অভ্যাসের লোকের নিকট (সম্পদের প্রাচুর্যতার কারণে) যদিও শক্তিশালী খচ্চর, উত্তম চালচলনের তুর্কি ঘোড়া থাকুক না কেন, নাফরমানির জিল্লতি ও অপমান তাদের অন্তরকে ছেড়ে দিতে পারে না। (এর ওপর ভিত্তি করেই হাল আমলে মূল্যবান গাড়ি বাড়ি) আল্লাহ তাআলার ফয়সালা তো তাই, যে তার নাফরমানি করবে তাকে তিনি অপমানিত করবেন।

যামানার মুহাদ্দিস আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহর এই ব্যাপারটি স্পষ্টকারী কিছু কবিতা এমনই রয়েছে'

رَأَيْتُ الذُنُوبَ تُمِيْتُ القُلُوب وقد يُورِثُ الذُّلَّ إِدْمَانُهَا

আমি গুনাহকে দেখলাম যে, সে অন্তরকে মৃত বানিয়ে দেয় আর তাদের ওপর সর্বদাই জিল্লতি ও অপমানকে পরিত্যাক্ত সম্পত্তির ন্যায় রেখে যায়।

وتَرْكُ الذُنُوبِ حَيَاةُ القُلوبِ وَخَيْرٌ لِنَفْسِكَ عِصْيَانُهَا

গুনাহ পরিত্যাগ করা অন্তরের জীবিত থাকার কারণ আর নফসের জন্য গুনাহের অবাধ্য হওয়া উত্তম।

وهل أفسد الدين إلا الملوك وأحبار سُوءٍ وَرُهبانها

দ্বীনকে সর্বদা শাসকবর্গ, বাদশাগণ উলামায়ে সু ও তাদের রাহেব ও দরবেশরা নষ্ট করেছে। ৫৬

টিকাঃ
৫৫ সূরা ফাতির: ১০
৫৬ আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক রহিমাহুল্লাহ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00