📄 সকল খারাপকাজ পূর্ববর্তী উম্মতের রেখে যাওয়া মিরাছ
সুতরাং আমরা কওমে লূতের সমকামিতা, শুআইব আলাইহিস সালাম-এর জাতির পরিমাপে কম দেওয়া, ফিরাউন ও তার সম্প্রদায়ের জমিনে চুড়ান্ত পর্যায়ের ফাসাদ ও পাপাচার, হুদ আলাইহিস সালাম-এর সম্প্রদায়ের জুলম-অত্যাচার ও তাকাব্বুর তাদের রেখে যাওয়া মিরাছ বা পরিত্যাক্ত সম্পদ। সুতরাং প্রত্যেক পাপি ব্যক্তি এই সকল খারাপ জাতির বেশভূষা পরিধান করে, যারা একনিষ্টভাবে আল্লাহর শত্রু ছিল।
সাইয়িদুনা হযরত আবদুল্লাহ বিন উমর রদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন-
يُعِثْتُ بالسيف بينَ يَدَيِ الساعة حتى يُعبَدَ اللهُ وحده لا شريك له، وجُعِلَ رِزْقي تحت ظل رُمْحي، وجُعِلَ الدِّلة والصغار على من خالف أمري
আমাকে কিয়ামত পর্যন্ত সময়ের জন্য তরবারি দিয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। (আমার পর আমার উম্মত জিহাদ জারি রাখবে) এমনকি যতক্ষণ পর্যন্ত এক আল্লাহর জন্য ইবাদত না করা হয়; যার কোনো শরিক নেই। আমার রিজিক আমার বর্শার ছায়ার নিচে (গনিমতের সুরতে) রাখা হয়েছে। যে আমার (দ্বীনের) বিরোধিতা করবে লজ্জা ও অপমান তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্যতা অবলম্বন করে (খারাপ কাজের ক্ষেত্রে) সে তাদের অন্তর্ভুক্ত হবে।৫৩
টিকাঃ
৫০ মুসনাদ আহমাদ: ২/৫০
📄 গুনাহর কারণে বান্দা রবের কাছে নগন্য ও তুচ্ছ হয়ে যায়
ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন- গুনাহগার এই পরিমাণ আল্লাহর কাছে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে যায় যে, তারা প্রকাশ্য খোলাখুলিভাবে গুনাহ করা শুরু করে দেয়। যদি সে পাপাচার ও অবাধ্যতায় লিপ্ত না হতো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তাদেরকে তা থেকে বাঁচিয়ে রাখতেন। আর যখন বান্দা স্বীয় রবের নিকট অনেক নিচু ও নগন্য হয়ে যায় তখন তার কোনো ইজ্জত সম্মান কেউ করে না।
যেমনটি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের ফরমান- وَمَن يُهِنِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِن مُّكْرِمٍ )
আর আল্লাহ তাআলা যাকে লাঞ্ছিত করেন তার কোন সম্মানকারী নেই। ৫৪
যদিও লোকেরা নিজেদের প্রয়োজনের স্বার্থে প্রকাশ্যে তাকে বড় মনে করে অথবা তাকে ভয় ও আশংকার কারণে বড় মনে করে। কিন্তু সে মানুষের অন্তরে অনেক নিচু ও অপমানিত ও অসম্মানী হয়।
📄 বান্দার দৃষ্টিতে গুনাহ করার ছোট ও মামুলি ব্যাপার হয়ে যায়
বান্দা গুনাহ করতেই থাকে করতেই থাকে। এমনকি তার দৃষ্টিতে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাটা অপ্রয়োজনীয় হয়ে যায়। আর তার অন্তরে গুনাহ অনেক ছোট ও মামুলি বিষয় মনে হয়। তা-ই হলো ধ্বংস ও বরবাদ হওয়ার আলামত। যখন বান্দার দৃষ্টিতে মামুলি মনে হয় তখন আল্লাহ তাআলার কাছে বিষয়টি অনেক বড় হয়ে যায়।
📄 গুনাহের খারাবি ও অনিষ্টতার কারণে সাধারণ মানুষ ও প্রাণিদেরও কষ্ট হয়
গুনাহের কুলক্ষণের কারণে এবং জুলুম অত্যাচারের ফলস্বরূপ গুনাহগার পাপি ব্যক্তির সাথে সাথে অন্যান্য মানুষও জ্বলে যায়।
ইমাম মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহর উক্তি আছে—যখন প্রবল দুর্ভিক্ষ আসে এবং বৃষ্টিকে বন্ধ করে দেওয়া হয় তখন অন্যান্য প্রাণীরা বনি আদমের গুনাহগারদেরকে অভিসম্পাত করতে থাকে। আর স্বীয় জবানিতে বলতে থাকে—এই সব কিছু বনি আদমের খারাপ আমলের কারণে হচ্ছে।
সাইয়িদুনা ইকরিমা রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন—জমিনে চলাফেরাকারী বিষাক্ত ও অবিষাক্ত সকল প্রাণী জবান দ্বারা বলে—আমাদেরকে বনি আদমের গুনাহের কারণে বৃষ্টি থেকে মাহরুম করে দেওয়া হয়েছে।
সুতরাং গুনাহগারকে তার গুনাহের সাজা ততক্ষণ পর্যন্ত হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত সে বেগুনাহ থেকে লা'নতপ্রাপ্ত না হয়।
টিকাঃ
৫৪ সূরা হাজ্জ: ১৮