📄 গুনাহগার ব্যক্তির বয়স কমে যাওয়া ও আবশ্যিক ভাবে বরকত শেষ হয়ে যাওয়া
নেক কাজ যেমনিভাবে বয়স বৃদ্ধি করে তেমনিভাবে পাপকাজ বয়স কমিয়ে দেয়। এই বিষয়টির ক্ষেত্রে গোপন রহস্য হলো, নিশ্চয়ই মানুষের দুনিয়ার বয়স তার পরিপূর্ণ জীবনের সময়ের নাম (যাকে সে যেকোনভাবে পূর্ণ করে)। কিন্তু তার জীবন সেটিই (হায়াতে তাইয়েবা) গণ্য হবে তার জীবনের যে সময়টুকু স্বীয় রবের দিকে মনোনিবেশ করে যাপিত হয় এবং তাঁর স্মরণ, মহব্বত এবং সন্তুষ্টির জন্য কুরবান হওয়ার ক্ষেত্রে যাপিত হয়েছে।
📄 গুনাহ অন্যান্য গুনাহের সৃষ্টি করে
এক গুনাহ আরেক গুনাহর জন্ম দেওয়ার কারণ হয়। তার প্রভাব মানুষের ওপর এই পরিমাণ পতিত হয় যে, পরবর্তীতে গুনাহ পরিত্যাগ করা ও গুনাহর দুর্গ থেকে বের হওয়া তার সম্ভবপর হয় না।
কোনো এক সালাফ বলেছেন— খারাপ কাজের সাজা হলো, তারপর অন্য আরেকটি খারাপ কাজ সংঘটিত হওয়া। আর নেক কাজের প্রতিদানের দলিল-প্রমাণ হলো, তারপর আরেকটি নেক কাজের তাওফীক অর্জিত হয়ে যাওয়া।
সুতরাং বান্দা যখন কোনো নেক কাজ করে তখন তার পাশ্বে দাঁড়ানো অন্য এক নেক কাজ বলে (আল্লাহর বান্দা) আমাকেও পূর্ণ করো। যখন সে এটি করে ফেলে তখন তৃতীয় আরেকটি নেক কাজ তাকে এভাবেই দাওয়াত দেয়। অতঃপর চতুর্থ, পঞ্চম... এভাবে অগণিত নেক কাজ তার অর্জিত হতে থাকে এবং ফায়দা বাড়তে থাকে। থাকে। ইতাআত বা আনুগত্য করা এবং নেক আমলের মাঝে বৃদ্ধি হতে থাকে। অনুরূপ খারাপ কাজের ক্ষেত্রেও হয়। অর্থাৎ একটির পর আরেকটি সংগঠিত হয়।
📄 তাওবা ও ইসতিগফার দূরত্ব তৈরি হওয়া
মানুষের জন্য খুবই ভয়ের অবস্থা হয়। সে এমন অবস্থায় পতিত হওয়ার পর গুনাহ ব্যক্তির অন্তরকে অত্যন্ত দুর্বল বানিয়ে দেয়। অন্তরের মধ্যে নাফরমানি ও অবাধ্যতার শক্তি বৃদ্ধি পায় আর তাওবা করার ইচ্ছা আস্তে আস্তে দুর্বল হতে থাকে। এমনকি তার অন্তর থেকে পরিপূর্ণভাবে তাওবা করার ইচ্ছা শেষ হয়ে যায়। এমন অবস্থার সময় যদি তার মৃত্যু এসে যায়, তাহলে আল্লাহ তাআলার দিকে কখনও মনোনিবেশ হয়ে তাওবাকারী হয় না। কখনও কখনও তার জবান থেকে ইসতিগফারের শব্দাবলী উচ্চারিত হয়ে যায়, তারপরেও তার তাওবার কিছু হয় না। তার অন্তর নাফরমানিতে কঠিনভাবে লেপ্টে আছে, তাতেই সে সর্বদা লিপ্ত এবং পাপাচারের ময়লা আবর্জনায় পতিত হওয়ার ওপর অটল থাকে। এই সকল রোগ থেকে তার মারাত্মক (আধ্যাত্মিক) রোগ হয় এবং সে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়।
📄 অন্তর থেকে খারাপকে খারাপ মনে করার অবস্থা শেষ হয়ে যায়
(মানুষের মন তাকে খারাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করতে থাকে। আর গুনাহ তার দিলে খটখট করতে থাকে, কিন্তু) যখন ব্যক্তির অন্তর থেকে খারাপ কাজকে খারাপ মনে করার অনুভূতি চলে যায় তখন আস্তে আস্তে গুনাহ করাটা তার অভ্যাসে পরিণত হয়। অতঃপর সে এই পরিমাণ অভ্যস্ত হয়ে যায় যে, সে মনেও করে না লোকেরা তাকে দেখছে ও তার ব্যাপারে (খারাপ খারাপ) কথাবার্তা বলছে। পাপাচার লোকদের (মদ্যপ ও যিনাকারী) নিকট তাকে চূড়ান্ত পর্যায়ের আরামপ্রিয়তা বলা হয়। ৫১
আর পাপের ব্যাপারে অজ্ঞাত লোকদের সামনে সে দিল খুলে তার পাপের দাস্তান বয়ান করে শুনায়। সে বলে বেড়ায়- এই তোমরা শোনো, আমি কী কী করেছি? এমনই হলো তারা, যাদেরকে মাফ করা হবে না এবং তাদের তাওবার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। যেমনটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
عَنِ ابْنِ أَخِي ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " كُلُّ أُمَّتِي مُعَافَى إِلَّا الْمُجَاهِرِينَ، وَإِنَّ مِنَ الْمَجَانَةِ أَنْ يَعْمَلَ الرَّجُلُ بِاللَّيْلِ عَمَلاً، ثُمَّ يُصْبِحَ وَقَدْ سَتَرَهُ اللَّهُ، فَيَقُولَ يَا فُلانُ عَمِلْتُ الْبَارِحَةَ كَذَا وَكَذَا ، وَقَدْ بَاتَ يَسْتُرُهُ رَبُّهُ وَيُصْبِحُ يَكْشِفُ سِتْرَ اللَّهِ عَنْهُ ".
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন' আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি যে, আমার সকল উম্মাতকে মাফ করা হবে। তবে প্রকাশকারী ব্যতীত। আর নিশ্চয় এ বড়ই অন্যায় যে, কোনো লোক রাতের বেলা অপরাধ করল যা আল্লাহ গোপন রাখলেন। কিন্তু সে সকাল হলে বলে বেড়াতে লাগল, হে অমুক, আমি আজ রাতে এই এই কাজ করেছি। অথচ সে এমন অবস্থায় রাত কাটাল যে, আল্লাহ তার কর্ম লুকিয়ে রেখেছিলেন। আর সে ভোরে উঠে তার উপর আল্লাহর দেওয়া আবরণ খুলে ফেলল।,, ৫২
টিকাঃ
৫১ যেমন বর্তমানের ইউরোপিয়ান সমাজ। এমনকি তারা পাপকাজের ব্যাপারে গর্ব করে।
৫২ সহীহ বুখারী কিতাবুল আদব হাদীস নং ৬০৬৯, মুসলিম ৫৩/৮, হাঃ ২৯৯০