📄 অন্তরাত্মাকে দুর্বল ও কমজোর বানিয়ে দেওয়া
অন্তরের দুর্বলতার বিষয়টি তো একেবারেই প্রকাশ্য। বরং গুনাহ তাকে দুর্বল করতেই থাকে। এমনকি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে যায়। আর শরীরের সম্পর্ক? মুমিনের শক্তি তো তার অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত হয়। ব্যক্তির অন্তর যত শক্তিশালী হবে সেই পরিমাণ তার শরীর শক্তিশালী হবে। অবশ্য পাপি (গুনাহগার) ব্যক্তি যদিও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হোক না কেন, কিন্তু প্রয়োজনের সময় (লড়াই ও মারামারির সময় যেমন) সেটি অনেক দুর্বল হয়ে যায়। অন্তরের শক্তি; যার প্রতি শরীর মুখাপেক্ষী সবচেয়ে বেশি সেটি তার সাথে খেয়ানত করে। পারস্য ও রোমানদের শক্তির প্রতি সামান্য খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, শারীরিকভাবে তারা কী পরিমাণ শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তাদের শক্তি তাদেরকে কীভাবে ধোঁকা দিয়ে দিল। অথচ মনের শক্তির প্রতি তারা বেশি মুখাপেক্ষী ছিল। মুকাবেলায় ঈমানদারদের শরীর কী পরিমাণ দুর্বল ও জীর্ণশীর্ণ ছিল। (কিন্তু তাদের নফসের ইসলাহের কারণে আল্লাহ তাআলা তাদেরকেই বিজয়ের মালা পরান)।
📄 ইতাআত (আল্লাহর আনুগত্য) থেকে বঞ্চিত হওয়া
যদি গুনাহ করার আর কোনো সাজা ও শান্তি না হয় কেবল এই শাস্তি ব্যতীত যে, তাকে কোনো এক নেক কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা হয়, তাহলে এটিই অনেক বড় অন্তর বিরান হওয়ার কারণ হবে। আর এই ইতাআত না থাকা তাকে অন্য এক নেক কাজ করা থেকে মাহরুম করে দেয়। আর সেটি তৃতীয় আরেকটি নেক কাজ করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। তার পর চতুর্থ, পঞ্চম। এমনকি ব্যক্তি নেক কাজ থেকে একেবারেই মাহরুম হয়ে যায়। অথচ প্রত্যেক নেক কাজ তার জন্য দুনিয়া ও তাতে যা কিছু রয়েছে সবকিছু থেকে উত্তম ছিল। এতো ঐ ব্যক্তির মত যে এমন লোকমা খেয়ে নিল যার কারণে সে এক দীর্ঘ অসুস্থতায় পতিত হয়ে গেল। আর সেই এক লোকমা তাকে অগণিত লোকমা খাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল যা তার চেয়ে অনেক বেশি পবিত্র ছিল। আল্লাহ তাআলাই সাহায্যস্থল।
📄 গুনাহগার ব্যক্তির বয়স কমে যাওয়া ও আবশ্যিক ভাবে বরকত শেষ হয়ে যাওয়া
নেক কাজ যেমনিভাবে বয়স বৃদ্ধি করে তেমনিভাবে পাপকাজ বয়স কমিয়ে দেয়। এই বিষয়টির ক্ষেত্রে গোপন রহস্য হলো, নিশ্চয়ই মানুষের দুনিয়ার বয়স তার পরিপূর্ণ জীবনের সময়ের নাম (যাকে সে যেকোনভাবে পূর্ণ করে)। কিন্তু তার জীবন সেটিই (হায়াতে তাইয়েবা) গণ্য হবে তার জীবনের যে সময়টুকু স্বীয় রবের দিকে মনোনিবেশ করে যাপিত হয় এবং তাঁর স্মরণ, মহব্বত এবং সন্তুষ্টির জন্য কুরবান হওয়ার ক্ষেত্রে যাপিত হয়েছে।
📄 গুনাহ অন্যান্য গুনাহের সৃষ্টি করে
এক গুনাহ আরেক গুনাহর জন্ম দেওয়ার কারণ হয়। তার প্রভাব মানুষের ওপর এই পরিমাণ পতিত হয় যে, পরবর্তীতে গুনাহ পরিত্যাগ করা ও গুনাহর দুর্গ থেকে বের হওয়া তার সম্ভবপর হয় না।
কোনো এক সালাফ বলেছেন— খারাপ কাজের সাজা হলো, তারপর অন্য আরেকটি খারাপ কাজ সংঘটিত হওয়া। আর নেক কাজের প্রতিদানের দলিল-প্রমাণ হলো, তারপর আরেকটি নেক কাজের তাওফীক অর্জিত হয়ে যাওয়া।
সুতরাং বান্দা যখন কোনো নেক কাজ করে তখন তার পাশ্বে দাঁড়ানো অন্য এক নেক কাজ বলে (আল্লাহর বান্দা) আমাকেও পূর্ণ করো। যখন সে এটি করে ফেলে তখন তৃতীয় আরেকটি নেক কাজ তাকে এভাবেই দাওয়াত দেয়। অতঃপর চতুর্থ, পঞ্চম... এভাবে অগণিত নেক কাজ তার অর্জিত হতে থাকে এবং ফায়দা বাড়তে থাকে। থাকে। ইতাআত বা আনুগত্য করা এবং নেক আমলের মাঝে বৃদ্ধি হতে থাকে। অনুরূপ খারাপ কাজের ক্ষেত্রেও হয়। অর্থাৎ একটির পর আরেকটি সংগঠিত হয়।