📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 মুআমালাত লেনদেন, উঠাবসা কঠিন হয়ে যাওয়া

📄 মুআমালাত লেনদেন, উঠাবসা কঠিন হয়ে যাওয়া


গুনাহগার ব্যক্তি দুনিয়াবি চলাফেরা চালচলনে যেদিকেই মনোনিবেশ করুক না কেন, সে তার সম্মুখের দরজা বন্ধ পায় অথবা কমপক্ষে এমন হয় যে, সকল বিষয় তার কাছে কঠিন হয়ে যায়। অথচ তার বিপরীতে যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করে, আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তাআলা তার কার্যাদি সহজ করে দেন। আর যে ব্যক্তি তাকওয়া ও খোদাভীরুতা পরিহার করে, আল্লাহ তাআলা তার কাজকে কঠিন বানিয়ে দেন।

আল্লাহু আকবার! কী পরিমাণ হয়রানি ও পেরেশানির কথা! ব্যক্তির কল্যাণের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ও তার মাসলাহাতকে সীমাবদ্ধ করা হচ্ছে। কিন্তু তার কাছে এর সামান্য অনুভূতিও নেই যে, সবকিছু কেমনে হয়ে যাচ্ছে? আর কোথা থেকে করা হচ্ছে?

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহগার ব্যক্তির অন্তরে গভীর অন্ধকার ছেয়ে যাওয়া

📄 গুনাহগার ব্যক্তির অন্তরে গভীর অন্ধকার ছেয়ে যাওয়া


প্রকৃতপক্ষে গুনাহগার ব্যক্তি তার অন্তরে ঠিক অন্ধকার রাত্রির ন্যায় অন্ধকার অনুভব করে। তার অন্তরের জন্য পাপকাজের অন্ধকার এমন হয়ে যায় যেমন চোখের অন্ধকার অনুভূত হয়। নিঃসন্দেহে আনুগত্য এক নূর আর অবাধ্যতা ও পাপাচার হলো অন্ধকার।

সাইয়িদুনা আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, অবশ্যই নেক কাজ চেহারায় ঔজ্জ্বল্য, অন্তরে নূর, রিজিকে প্রশস্ততা, শরীরের মধ্যে শক্তি ও মাখলুকের অন্তরে মহব্বত পয়দা করে। অথচ খারাপ কাজ করার কারণে চেহারা কুৎসিত হয়। অন্তর ও কবরে অন্ধকার, শরীরে দুর্বলতা, রিজিকে অপ্রশস্ততা ও মাখলুকের অন্তরে হিংসা ও বিদ্বেষ পয়দা হয়।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 অন্তরাত্মাকে দুর্বল ও কমজোর বানিয়ে দেওয়া

📄 অন্তরাত্মাকে দুর্বল ও কমজোর বানিয়ে দেওয়া


অন্তরের দুর্বলতার বিষয়টি তো একেবারেই প্রকাশ্য। বরং গুনাহ তাকে দুর্বল করতেই থাকে। এমনকি জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটে যায়। আর শরীরের সম্পর্ক? মুমিনের শক্তি তো তার অন্তরের সাথে সম্পৃক্ত হয়। ব্যক্তির অন্তর যত শক্তিশালী হবে সেই পরিমাণ তার শরীর শক্তিশালী হবে। অবশ্য পাপি (গুনাহগার) ব্যক্তি যদিও শারীরিকভাবে শক্তিশালী হোক না কেন, কিন্তু প্রয়োজনের সময় (লড়াই ও মারামারির সময় যেমন) সেটি অনেক দুর্বল হয়ে যায়। অন্তরের শক্তি; যার প্রতি শরীর মুখাপেক্ষী সবচেয়ে বেশি সেটি তার সাথে খেয়ানত করে। পারস্য ও রোমানদের শক্তির প্রতি সামান্য খেয়াল করলে দেখা যাবে যে, শারীরিকভাবে তারা কী পরিমাণ শক্তিশালী ছিল। কিন্তু তাদের শক্তি তাদেরকে কীভাবে ধোঁকা দিয়ে দিল। অথচ মনের শক্তির প্রতি তারা বেশি মুখাপেক্ষী ছিল। মুকাবেলায় ঈমানদারদের শরীর কী পরিমাণ দুর্বল ও জীর্ণশীর্ণ ছিল। (কিন্তু তাদের নফসের ইসলাহের কারণে আল্লাহ তাআলা তাদেরকেই বিজয়ের মালা পরান)।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 ইতাআত (আল্লাহর আনুগত্য) থেকে বঞ্চিত হওয়া

📄 ইতাআত (আল্লাহর আনুগত্য) থেকে বঞ্চিত হওয়া


যদি গুনাহ করার আর কোনো সাজা ও শান্তি না হয় কেবল এই শাস্তি ব্যতীত যে, তাকে কোনো এক নেক কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখা হয়, তাহলে এটিই অনেক বড় অন্তর বিরান হওয়ার কারণ হবে। আর এই ইতাআত না থাকা তাকে অন্য এক নেক কাজ করা থেকে মাহরুম করে দেয়। আর সেটি তৃতীয় আরেকটি নেক কাজ করা থেকে ফিরিয়ে রাখে। তার পর চতুর্থ, পঞ্চম। এমনকি ব্যক্তি নেক কাজ থেকে একেবারেই মাহরুম হয়ে যায়। অথচ প্রত্যেক নেক কাজ তার জন্য দুনিয়া ও তাতে যা কিছু রয়েছে সবকিছু থেকে উত্তম ছিল। এতো ঐ ব্যক্তির মত যে এমন লোকমা খেয়ে নিল যার কারণে সে এক দীর্ঘ অসুস্থতায় পতিত হয়ে গেল। আর সেই এক লোকমা তাকে অগণিত লোকমা খাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল যা তার চেয়ে অনেক বেশি পবিত্র ছিল। আল্লাহ তাআলাই সাহায্যস্থল।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00