📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহের ক্ষতিসমূহ

📄 গুনাহের ক্ষতিসমূহ


গুনাহের মারাত্মক পর্যায়ের ও নিন্দনীয় প্রকারের আলামত থাকে। যা অন্তর ও শরীরের জন্য, দুনিয়া ও আখিরাতে মারাত্মক ক্ষতিকর। যা আল্লাহ তাআলা ব্যতীত কেউ জানতে পারবে না। (যে তা কেমন লাগে) সেগুলো থেকে কতিপয় ক্ষতিসমূহের বর্ণনা নিম্নে পেশ করা হলো-

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া

📄 ইলম থেকে বঞ্চিত হওয়া


ইলম হলো এক নূর, যা অন্তরের মধ্যে জায়গা নেয়। আর গুনাহ এই নূরকে নির্বাপিত করে দেয়। মুহাম্মাদ বিন ইদরিস শাফিয়ী রহিমাহুল্লাহ যখন স্বীয় উস্তাদ ইমাম মালেক এর নিকট পড়ার জন্য বসলেন এবং তাকে পড়ে শুনালেন তখন শাগরেদের অধিক যেহেন শক্তি, মেধার নূর এবং ইলমের বুঝ ও পরিপূর্ণ বোধশক্তি উস্তাদকে পেরেশান করে দিল। ইমাম সাহেব রহিমাহুল্লাহ তাকে বললেন- আমি দেখছি যে, আল্লাহ পাক তোমার অন্তরে নূর ঢেলে দিয়েছেন। তাকে গুনাহের অন্ধকার দ্বারা কখনও নিভিয়ে দিয়ো না। ইমাম শাফিয়ী রহিমাহুল্লাহ পরবর্তীতে (অন্যদের জন্য নসিহত স্বরূপ) অনুরূপ কথাই বর্ণনা করেছেন-
شكوت الى وكيع سوء حفظي | فأرشدني الى ترك المعاصي
وأخبرني بأن العلم نور
ونور الله لا يهدى لعاصي
আমি আমার উস্তাদ আল্লামা ওয়াকি রহিমাহুল্লাহ এর নিকট নিজের দুর্বল মেধা শক্তির ব্যাপারে অভিযোগ করলাম।

তখন তিনি আমাকে গুনাহকে পরিত্যাগ করার দিকনির্দেশনা দিলেন। (যদি তুমি তোমার মেধা শক্তিকে শক্তিশালী বানাতে চাও, তাহলে গুনাহকে আজ থেকে পরিত্যাগ করো)।

তিনি আরও ইরশাদ করলেন- জেনে রাখ, ইলম হলো নূর। আর নূর কোনো পাপিকে দেওয়া হয় না।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 রিজক থেকে বঞ্চিত হওয়া

📄 রিজক থেকে বঞ্চিত হওয়া


মুসনাদে আহমদের মধ্যে বর্ণিত আছে যে, কোনো সন্দেহ নেই মানুষ যে গুনাহ করে তার কারণে রিজিক থেকে বঞ্চিত হয়। ৫০

অথচ তাকওয়া-পরহেযগারী রিজিককে টেনে আনার কারণ হয়ে যায়। আর তাকওয়া ও পরহেযাগারিতা পরিত্যাগ করার দ্বারা অস্বচ্ছলতা চলে আসে। গুনাহকে যেই পরিমাণ ছাড়া যাবে রিজিক সেই পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে।

টিকাঃ
50 মুসনাদে আহমাদ: ৫২৭৭

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 আল্লাহ ও গুনাহগারদের মধ্যকার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া

📄 আল্লাহ ও গুনাহগারদের মধ্যকার সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া


(ইবাদত ও ইসতিগফারের মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার দিকে প্রত্যাবর্তন করা মানুষকে পাপাচার থেকে দূরে সরিয়ে রাখে) আল্লাহ তাআলার সত্ত্বা ও তার ইবাদতের ব্যাপারে অন্তরের মধ্যে সংকীর্ণভাবকে ফেলে দেওয়া এবং সাবধান করাটাই এমন এক স্বাদ দানকারী আমল, গুনাহকে পরিত্যাগ করার ক্ষেত্রে তার মত অন্য কোনো সম্পূরক আমল নেই। বুদ্ধিমান লোকেরা গুনাহ তরক করার পাশাপাশি শয়তানের থাবা থেকে মুক্তি পেয়ে যায়।

বর্ণিত আছে- কোনো এক ব্যক্তি নেককার বুযুর্গ ব্যক্তির কাছে গিয়ে নিজের অন্তরের ভেতর অনুভূত নির্জনতা ও একাকিত্বের কথা বলল। তখন ঐ নেককার বুযুর্গ ব্যক্তি তাকে বললেন- যখন তুমি ঐ অবস্থাতে ছিলে যে, গুনাহ তোমার অন্তরকে বিরান করে তোমার অন্তরকে নির্জনতায় ফেলে দিয়েছে তখন তুমি (নিজের নফসের ওপর স্থির করে নাও) এসব গুনাহকে পরিত্যাগ করো (বিলকুল ছেড়ে দাও)। ওয়াহশাত তথা একাকিত্ব ও নির্জনতা দূর হয়ে যাবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00