📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 সুদ ও জেনার মত গুনাহ

📄 সুদ ও জেনার মত গুনাহ


সিমাক ইবনে হারব আবদুর রহমান থেকে আর তিনি তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন সুদ ও জেনা কোনো জনপদের মধ্যে ব্যাপক হয়ে যায় তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়ে দেন।

সিমাক ইবনে হারব আবদুর রহমান থেকে আর তিনি তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন সুদ ও জেনা কোনো জনপদের মধ্যে ব্যাপক হয়ে যায় তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়ে দেন।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 ধ্বংস ও বরবাদকারী গুনাহের আলামত

📄 ধ্বংস ও বরবাদকারী গুনাহের আলামত


মারাসিলুল হাসান এর মধ্যে রয়েছে, যখন মানুষের ইলমকে প্রকাশ করতে শুরু করবে (তাকাব্বর ও ফখরের সাথে বলবে যে, আমরা ইলমওয়ালা, লোকেরা তাদেরকে আল্লামা, ফাহহামা ইত্যাদি উপাধিতে ডাকতে থাকবে) এবং আমলকে নষ্ট করে বসবে (বে আমল ও বদ আমল হয়ে যাবে)। একে অপরের সাথে মুখের কথার দ্বারা ভালোবাসা প্রকাশ করতে শুরু করবে। অন্তরের মধ্যে অন্যের সাথে বিদ্বেষ রাখতে শুরু করবে এবং (আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার পরিবর্তে) একে অপরের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অভিশাপ দেন। তাদেরকে বধির করে দেন (যে তারা হক কথা শুনতে পারে না, সত্য কথা তাদের কানেই বাজে না) এবং তাদের দৃষ্টিকে অন্ধ বানিয়ে দেন (যে তাদের কাছে সত্য বিষয় দেখা যায় না, প্রস্ফুটিত হয়না)।

মারাসিলুল হাসান এর মধ্যে রয়েছে, যখন মানুষের ইলমকে প্রকাশ করতে শুরু করবে (তাকাব্বর ও ফখরের সাথে বলবে যে, আমরা ইলমওয়ালা, লোকেরা তাদেরকে আল্লামা, ফাহহামা ইত্যাদি উপাধিতে ডাকতে থাকবে) এবং আমলকে নষ্ট করে বসবে (বে আমল ও বদ আমল হয়ে যাবে)। একে অপরের সাথে মুখের কথার দ্বারা ভালোবাসা প্রকাশ করতে শুরু করবে। অন্তরের মধ্যে অন্যের সাথে বিদ্বেষ রাখতে শুরু করবে এবং (আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার পরিবর্তে) একে অপরের সাথে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। তখন আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর অভিশাপ দেন। তাদেরকে বধির করে দেন (যে তারা হক কথা শুনতে পারে না, সত্য কথা তাদের কানেই বাজে না) এবং তাদের দৃষ্টিকে অন্ধ বানিয়ে দেন (যে তাদের কাছে সত্য বিষয় দেখা যায় না, প্রস্ফুটিত হয়না)।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 পাঁচটি খারাপ অভ্যাস ধারণকারী গুনাহগারদের আলামত

📄 পাঁচটি খারাপ অভ্যাস ধারণকারী গুনাহগারদের আলামত


সুনানে ইবনে মাজাহ এর মধ্যে সাইয়িদুনা আবদুল্লাহ বিন উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর হাদীস রয়েছে যে, আমি মুহাজিরদের ঐ দশজনের জামাতের দশম ব্যক্তি ছিলাম, যারা রাসুলের নিকট (ইলম অর্জনের জন্য) থাকত। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের দিকে মনোনিবেশ করলেন আর বললেন—

হে মুহাজিরগণ, তোমরা পাঁচটি বিষয়ে পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। তবে আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি যেন তোমরা তার সম্মুখীন না হও। (সেই পাঁটি বিষয় নিম্নে আলোচিত হলো)

(১) যখন কোন জাতির মধ্যে প্রকাশ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে তখন সেখানে মহামারী আকারে প্লেগরোগের প্রাদুর্ভাব হয়। তাছাড়া এমন সব ব্যাধির উদ্ভব হয়, যা পূর্বেকার লোকদের মধ্যে কখনও দেখা যায়নি।

(২) যখন কোনো জাতি ওজন ও পরিমাপে কারচুপি করে তখন তাদের উপর নেমে আসে দুর্ভিক্ষ। কঠিন বিপদ-মুসীবত পতিত হয় এবং চাপিয়ে দেওয়া হয় জালেম বাদশাহ বা দূর্নীতিপরায়নশাসক।

(৩) যখন কোনো জাতি নিজেদের যাকাতের সম্পদ দেওয়া বন্ধ করে দেয় তখন আসমানের বৃষ্টি বর্ষণকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর যদি সেখানে চতুষ্পদ জন্তু না থাকত তাহলে কখনওই বৃষ্টি বর্ষণ করা হত না।

(৪) যখন কোনো জাতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অঙ্গীকার ভঙ্গ করে, তখন আল্লাহ তাদের উপর তাদের বিজাতীয় দুশমনকে ক্ষমতাসীন করেন এবং সে তাদের সহায়-সম্পদ সবকিছু কেড়ে নেয়।

(৫) যখন তোমাদের শাসকবর্গ আল্লাহর কিতাব মোতাবেক মীমাংসা করে না এবং আল্লাহর নাজিলকৃত বিধানকে গ্রহণ করে না, তখন আল্লাহ তাদের পরস্পরের মধ্যে যুদ্ধ বাধিয়ে দেন। ৪৮

টিকাঃ
48 ইবনু মাজাহ: ৪০১৯, মুসতাদরাক লিল হাকিম: ৪/৫৪

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহগারদের বন্ধুত্বের আশাকারীদের আলামত

📄 গুনাহগারদের বন্ধুত্বের আশাকারীদের আলামত


عن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم - : إن أول ما دخل النقص على بني إسرائيل كان الرجل يلقى الرجل فيقول يا هذا اتق الله ودع ما تصنع فإنه لا يحل لك ثم يلقاه من الغد فلا يمنعه ذلك أن يكون أكيله وشريه وقعدة فلما فعلوا ذلك ضرب الله قلوب بعضهم ببعض ثم قال لعن الذين كفروا من بني إسرائيل على لسان داؤد وعيسى ابن مريم ذلك بما عصوا وكانوا يعتدون كانوا لا يتناهون عن منكر فعلوه لبئس ما كانوا يفعلون ثم قال كلا والله لتأمرن بالمعروف ولتنهون عن المنكر ولتأخذن على يد الظالم ولتأطرنه على الحق أطرا ولتقصرنه على الحق قصرا.

وفي موضع أخر - أو ليضربن الله بقلوب بعضكم على بعض ثم يلعنكم كما لعنهم

সাইয়িদুনা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, "বনি ইসরাইলের মধ্যে সর্বপ্রথম যে দোষ পতিত হয়, কোনো ভাইয়ের মধ্যে গুনাহ দেখলে তাকে নিষেধ করতেন। বলতেন, আরে ভাই, আল্লাহকে ভয় করো আর যা তুমি করছ, তা পরিত্যাগ করো। এটি তোমার জন্য বৈধ নয়। অতঃপর তার সাথে পরের দিন মোলাকাত হলে বিলকুল নিষেধ করতেন না। আর এর কারণ হলো, সে তার সাথে খানাপিনাকারী, উপবেশনকারী হতে চায়। যখন তারা নিজেদের মোআমালা এভাবে করে নিল তখন আল্লাহ তাআলা তাদের দিল একে অপরের সাথে মিলিয়ে দিল। (যার খারাপ ও গর্হিত কাজের ওপর ঘৃণা আসা উচিত ছিল সে খারাপ কাজে লিপ্ত الْعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَاءِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُنكَرٍ فَعَلُوهُ ، لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ تَرَى كَثِيرًا مِنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَن سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَكِنَّ كَثِيرًا مِنْهُمْ فَاسِقُونَ ﴾

বনী-ইসলাঈলের মধ্যে যারা কাফের, তাদেরকে দাউদ ও মরিয়মতনয় ঈসার মুখে অভিসম্পাত করা হয়েছে। এটা একারণে যে, তারা অবাধ্যতা করত এবং সীমা লংঘন করত। তারা পরস্পরকে মন্দ কাজে নিষেধ করত না, যা তারা করত। তারা যা করত তা অবশ্যই মন্দ ছিল। আপনি তাদের অনেককে দেখবেন, কাফিরদের সাথে বন্ধুত্ব করে। তারা নিজেদের জন্য যা পাঠিয়েছে তা অবশ্যই মন্দ। তা এই যে, তাদের প্রতি আল্লাহ ক্রোধান্বিত হয়েছেন এবং তারা চিরকাল আযাবে থাকবে। যদি তারা আল্লাহর প্রতি ও রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ বিষয়ের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করত, তবে কাফিরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করত না। কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই দুরাচার। (সূরা মায়েদা: ৭৮-৮১)

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-আল্লাহর শপথ! তোমরা অবশ্যই সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করতে থাক এবং জালিমদের হাত ধরে রাখবে আর অবশ্যই জালিমকে হকের দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেবে। আর তাকে হকের ব্যাপারে অপূর্ণাঙ্গ মনে করবে। যদি এমন না করো, তাহলে আল্লাহ তাআলা তোমাদের অন্তরসমূহকেও একে অপরের সাথে মিলিয়ে দেবেন। তোমাদের ওপরেও অনুরূপ লানত করবেন যেরূপ তাদেরকে করেছেন। (অর্থাৎ ইয়াহুদি নাসারাদের মত) ৪৯

হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম আলাইহাস সালাম দুনিয়াতে আসার অনেক আগে বনি ইসরাইলের কোনো এক নবী বুখতে নসরকে বলল-

আমাদের খারাপ আমলের কারণে (যা আমাদেরই হাতের উপার্জন) আপনি আমাদের ওপর এমন বান্দাদেরকে চাপিয়ে দিলেন যে কিনা আমাদেরকেও চিনে না আর না আমাদের ওপর রহম করে। তখন বুখতে নসর নবী দানিয়েল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞেস করলেন- আমাকে কোন জিনিস আপনার জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়েছে? তিনি উত্তর দিলেন- আমার জাতি নিজের ওপর জুলুম করার কারণে ও তোর অপরাধগুলো বেড়ে যাওয়ার কারণে।

টিকাঃ
49 আবু দাউদ: কিতাবুল মালাহিম হাদীস নং ৪৩৩৬, জামি তিরমিযী: হাদীস নং ১৩০৪৭-৪৭

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00