📄 গুনাহের অপরাধের নির্মম শাস্তি
আল্লাহ তাআলা নাফরমান ও তাঁর অবাধ্যতাকারী বিভিন্ন জাতিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। যাতে করে পরবর্তী জাতিসমূহ এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং গুনাহের মধ্যে পতিত হওয়া থেকে নিজেদের আঁচলকে বাঁচিয়ে রাখে।
মানবজাতির পিতা-মাতা (আদম ও হাওয়া) কে সুখ-শান্তি, নিয়ামতরাজি, আনন্দ এবং সুন্দর সুন্দর ঘর বিশিষ্ট জান্নাত থেকে বের করে মসিবত, কষ্ট ও দুঃখের ঘর দুনিয়াতে কোন জিনিস নিক্ষেপ করেছিল?
ইবলিসকে কোন জিনিস মহিমান্বিতদের মর্যাদা থেকে বের করে তার জাহের ও বাতেনকে বিকৃত করে অভিশাপের উপযোগী বানিয়ে দিয়েছিল? (কেবল নাফরমানি করার কারণে)
সাইয়িদুনা নুহ আলাইহিস সালামের যুগে দুনিয়ার তামام বাসিন্দাদেরকে কোন জিনিস বন্যায় প্লাবিত করে দিয়েছিল? পানি জমিনের ওপর এই পরিমাণ এসে পৌঁছেছিল যে, পাহাড় পর্যন্ত তাতে ডুবে গিয়েছিল?
আদ জাতির ওপর ঘোর অন্ধকারকে কোন জিনিস চাপিয়ে দিয়েছিল যে, তারা জমিনে মৃত পড়েছিল? কেমন যেন তারা খেজুরের গাছের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে পড়ে ছিল। ৪৫ এই তীব্র অন্ধকার যেখান দিয়ে অতিক্রম করেছে সেখানকার ঘরবাড়ি, ক্ষেতখামার এবং পশুপ্রাণীদেরকে ধ্বংস ও বরবাদ করে দিয়েছিল। যাতে করে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে আগমনকারী সকলের জন্য শিক্ষনীয় আলামত হয়ে যায়। (তা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নবীদের নাফরমানি ও অবাধ্যতাই ছিল, যা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।)
ছামুদ জাতির ওপর শক্ত ধরণের জিনিস কীসে পাঠিয়েছিল যে, সেই জিনিসগুলো তাদের কলিজা, তাদের সিনাকে বিদীর্ণ করে দিয়েছিল? এই আজাবের দ্বারা তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিও জাহান্নামের উপত্যকায় গিয়ে পতিত হয়।
কোন জিনিস বা কাজ ছিল, যা লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের বসতি জমিনকে আসমানের দিকে উঠিয়ে আসমানের এতটুকু নিকটে করে দিয়েছিল যে ফেরেশতারা তাদের কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ পর্যন্ত শুনে ফেলেছিল? অতঃপর এই বস্তিকে জমিনের দিকে নিক্ষেপ করলেন। নিচের অংশকে ওপরে আর ওপরের অংশকে নিচের দিকে করে দিলেন এবং তাদের সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। (তা ফিতরতের খেলাফ তাদের পুতি দুর্গন্ধময় খারাপ অভ্যাসই ছিল, যা তাদেরকে এই অবস্থায় এনে দাঁড় করাল।) এই বসতিগুলোর ওপর থেকে এমন নিশানযুক্ত পাথর বর্ষণ করা হয় যেগুলোর ওপর সেই গোত্রের লোকদের নাম লিখিত ছিল। এই জাতির ওপর অনেক আজাব ও সাজা জমা করে দেওয়া হয় যে, তাদের পূর্বে কোনো জাতির ওপর এত নির্মম আজাব পতিত হয়নি। এখনও এই জালেমদের অবস্থা থেকে বেশি দূর নয়।
শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর কালো ছায়ার মত মেঘমালা বৃষ্টি কোন জিনিস কীসের ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল? যখন এই মেঘমালা তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলল তখন তিনি শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর অগ্নিশিখা বর্ষণ করতে শুরু করলেন।
মুসা আলাইহিস সালাম এর যুগের ফিরআউন ও তার জাতিকে কোন জিনিস সমুদ্রের মধ্যে নিমজ্জিত করেছিল? অতপর তাদের রুহগুলোকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সুতরাং তাদের শরীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার জন্য ও তাদের রুহ জ্বালানোর জন্য।
কারুনকে তার ঘর, ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনসমেত জমিনে কোন জিনিস দাবিয়ে দিয়েছে? (তার মালের ওপর বড়াই করার গুনাহের কারণে) তা কোন কারণ ছিল, যার কারণে নুহ আলাইহিস সালাম এর পর বসতির পর বসতিকে ধ্বংস ও বরবাদ করেছিলেন? (যেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আজকাল জায়গায় জায়গায় দেখা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনে উন্মুক্ত নাফরমানি ও তার একত্ববাদকে ঠাট্টা ও পরিহাস তাদেরকে নিয়ে ডুবেছে।) সেই প্রকৃত রহস্য কী ছিল, যা সাহেবে ইয়াসিনের গোত্রকে চিৎকারের সাথে ধ্বংস করে দিয়েছিল? এমনকি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সময়ের করালগ্রাসে পরিণত হয়েছে।
আর কী কারণ ছিল, যা বনি ইসরাইলের ওপর প্রচন্ড লড়াইকারী জাতিকে চাপিয়ে দিলেন? অতঃপর তারা শহর-বন্দরে ছড়িয়ে পড়ল। পুরুষদেরকে তারা হত্যা করে ফেলল। মহিলা ও বাচ্চাদের খুবই বে-হুরমতি ও অসম্মান করল। (মান-সম্মানকে বাকি রাখল না)। ঘরবাড়ি জালিয়ে দিল। ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে গেল। (সে ইরানি গভর্নর বুখতে নসর ছিল যার বাহিনী ফিলিস্তিনে ইহুদিদেরকে নাস্তনাবুদ করেছিল আর বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্ষতি করে। শত বছর পরে যখন ইহুদিরা পূনরায় শক্তিশালী হয়ে গেল তাদের ঘৃণা অনেক বেড়ে গেল এবং আল্লাহর জমিনে পূর্বের চেয়ে বেশি পাপাচার তারা শুরু করে দিল),। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দ্বিতীয়বার তাঁর বান্দাদেরকে চাপিয়ে দিলেন (এভাবে যে, যখন তাদের বাদশাহ হাইরো ডাইস এক খারাপ মহিলাকে পাবার আশায় ইয়াহইয়া (ইউহান্না), ঈসা ও যাকারিয়া আলাইহিমুস সালামকে হত্যা করার লক্ষ্যস্থির করল তখনই রোমীয়রা বনি ইসরাইলের ওপর চড়াও হলো এবং হাজার হাজার ইহুদিদের হত্যা করে। তাদের অসংখ্য লোক কয়েদি বানানো হয়)।
যতটুকু সম্ভব তাদেরকে ধ্বংস ও পর্যদুস্ত করা হয় আর যে বিষয়ের ওপর তারা বিজয়ী হয়েছে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। (বাইতুল মুকাদ্দাসকে দ্বিতীয়বার পুনরায় রোমানরা বিরান করে দিল আর বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা অবশিষ্ট রইল সবাই তারা রোমের কায়সারের প্রজা হিসেবে রয়ে গেল)। কী মোআমালা ছিল যা তাদের ওপর কয়েক ধরণের আজাব ও কয়েক ধরণের শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কখনও হত্যা ও লুটপাটের মাধ্যমে, কখনও অসম্মান করার মাধ্যমে, কখনও শহরকে বরবাদ করে দেওয়ার মাধ্যমে, কখনও বাদশাহদের জুলম অত্যাচারের মাধ্যমে এবং কখনও তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে বানর-শুকর বানিয়ে দিয়ে। পরিশেষে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কসম খেয়ে নিলেন-
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর সে সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৪৬
টিকাঃ
৪৫ সূরা আল-হাক্কাহ: ৭
৪৬ সূরা আরাফ: ১৬৭ ইহুদিদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত লাঞ্চনা, অপমান ও অপদস্থতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ইতিহাস এই জীবন্ত সাক্ষ্যী যে, তারা সর্বযুগে যেখানেই ছিল, গোলাম ও প্রজা বানিয়ে রাখা হয়েছে তাদেরকে। আগামিদিন তাদের ওপর এমন এমন শাসক চেপে বসেছিল; যারা তাদেরকে নিজেরদের জুলম ও অত্যাচারের মহড়া বানিয়ে রেখেছিল। জার্মানিতে হিটলারের জুলম কারও কাছে গোপনীয় নয়। যদি কখনও তাদের সাময়িক কোনো নিরাপত্তা ও শান্তি অর্জিত হয়েও যায় এবং তাদের নামে কোথাও রাজত্ব জারি হয়েও যায় তাও অন্যের কথা ও শক্তির জোড়ে। আমেরিকা ও ব্রিটেন ইসরাইলের সাহায্যা যদি না করত তাহলে ইয়াহুদিদের রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনের ভূমিতে চারদিনও নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারত না। অবস্থাদৃষ্টে মনে ইয়াহুদিদের সাহায্যকারী সবাইকে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা আজাবের বৃষ্টি বর্ষণ করবন। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা নাফরমান ও তাঁর অবাধ্যতাকারী বিভিন্ন জাতিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। যাতে করে পরবর্তী জাতিসমূহ এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং গুনাহের মধ্যে পতিত হওয়া থেকে নিজেদের আঁচলকে বাঁচিয়ে রাখে।
মানবজাতির পিতা-মাতা (আদম ও হাওয়া) কে সুখ-শান্তি, নিয়ামতরাজি, আনন্দ এবং সুন্দর সুন্দর ঘর বিশিষ্ট জান্নাত থেকে বের করে মসিবত, কষ্ট ও দুঃখের ঘর দুনিয়াতে কোন জিনিস নিক্ষেপ করেছিল?
ইবলিসকে কোন জিনিস মহিমান্বিতদের মর্যাদা থেকে বের করে তার জাহের ও বাতেনকে বিকৃত করে অভিশাপের উপযোগী বানিয়ে দিয়েছিল? (কেবল নাফরমানি করার কারণে)
সাইয়িদুনা নুহ আলাইহিস সালামের যুগে দুনিয়ার তামام বাসিন্দাদেরকে কোন জিনিস বন্যায় প্লাবিত করে দিয়েছিল? পানি জমিনের ওপর এই পরিমাণ এসে পৌঁছেছিল যে, পাহাড় পর্যন্ত তাতে ডুবে গিয়েছিল?
আদ জাতির ওপর ঘোর অন্ধকারকে কোন জিনিস চাপিয়ে দিয়েছিল যে, তারা জমিনে মৃত পড়েছিল? কেমন যেন তারা খেজুরের গাছের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে পড়ে ছিল। ৪৫ এই তীব্র অন্ধকার যেখান দিয়ে অতিক্রম করেছে সেখানকার ঘরবাড়ি, ক্ষেতখামার এবং পশুপ্রাণীদেরকে ধ্বংস ও বরবাদ করে দিয়েছিল। যাতে করে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে আগমনকারী সকলের জন্য শিক্ষনীয় আলামত হয়ে যায়। (তা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নবীদের নাফরমানি ও অবাধ্যতাই ছিল, যা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।)
ছামুদ জাতির ওপর শক্ত ধরণের জিনিস কীসে পাঠিয়েছিল যে, সেই জিনিসগুলো তাদের কলিজা, তাদের সিনাকে বিদীর্ণ করে দিয়েছিল? এই আজাবের দ্বারা তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিও জাহান্নামের উপত্যকায় গিয়ে পতিত হয়।
কোন জিনিস বা কাজ ছিল, যা লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের বসতি জমিনকে আসমানের দিকে উঠিয়ে আসমানের এতটুকু নিকটে করে দিয়েছিল যে ফেরেশতারা তাদের কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ পর্যন্ত শুনে ফেলেছিল? অতঃপর এই বস্তিকে জমিনের দিকে নিক্ষেপ করলেন। নিচের অংশকে ওপরে আর ওপরের অংশকে নিচের দিকে করে দিলেন এবং তাদের সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। (তা ফিতরতের খেলাফ তাদের পুতি দুর্গন্ধময় খারাপ অভ্যাসই ছিল, যা তাদেরকে এই অবস্থায় এনে দাঁড় করাল।) এই বসতিগুলোর ওপর থেকে এমন নিশানযুক্ত পাথর বর্ষণ করা হয় যেগুলোর ওপর সেই গোত্রের লোকদের নাম লিখিত ছিল। এই জাতির ওপর অনেক আজাব ও সাজা জমা করে দেওয়া হয় যে, তাদের পূর্বে কোনো জাতির ওপর এত নির্মম আজাব পতিত হয়নি। এখনও এই জালেমদের অবস্থা থেকে বেশি দূর নয়।
শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর কালো ছায়ার মত মেঘমালা বৃষ্টি কোন জিনিস কীসের ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল? যখন এই মেঘমালা তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলল তখন তিনি শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর অগ্নিশিখা বর্ষণ করতে শুরু করলেন।
মুসা আলাইহিস সালাম এর যুগের ফিরআউন ও তার জাতিকে কোন জিনিস সমুদ্রের মধ্যে নিমজ্জিত করেছিল? অতপর তাদের রুহগুলোকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সুতরাং তাদের শরীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার জন্য ও তাদের রুহ জ্বালানোর জন্য।
কারুনকে তার ঘর, ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনসমেত জমিনে কোন জিনিস দাবিয়ে দিয়েছে? (তার মালের ওপর বড়াই করার গুনাহের কারণে) তা কোন কারণ ছিল, যার কারণে নুহ আলাইহিস সালাম এর পর বসতির পর বসতিকে ধ্বংস ও বরবাদ করেছিলেন? (যেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আজকাল জায়গায় জায়গায় দেখা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনে উন্মুক্ত নাফরমানি ও তার একত্ববাদকে ঠাট্টা ও পরিহাস তাদেরকে নিয়ে ডুবেছে।) সেই প্রকৃত রহস্য কী ছিল, যা সাহেবে ইয়াসিনের গোত্রকে চিৎকারের সাথে ধ্বংস করে দিয়েছিল? এমনকি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সময়ের করালগ্রাসে পরিণত হয়েছে।
আর কী কারণ ছিল, যা বনি ইসরাইলের ওপর প্রচন্ড লড়াইকারী জাতিকে চাপিয়ে দিলেন? অতঃপর তারা শহর-বন্দরে ছড়িয়ে পড়ল। পুরুষদেরকে তারা হত্যা করে ফেলল। মহিলা ও বাচ্চাদের খুবই বে-হুরমতি ও অসম্মান করল। (মান-সম্মানকে বাকি রাখল না)। ঘরবাড়ি জালিয়ে দিল। ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে গেল। (সে ইরানি গভর্নর বুখতে নসর ছিল যার বাহিনী ফিলিস্তিনে ইহুদিদেরকে নাস্তনাবুদ করেছিল আর বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্ষতি করে। শত বছর পরে যখন ইহুদিরা পূনরায় শক্তিশালী হয়ে গেল তাদের ঘৃণা অনেক বেড়ে গেল এবং আল্লাহর জমিনে পূর্বের চেয়ে বেশি পাপাচার তারা শুরু করে দিল),। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দ্বিতীয়বার তাঁর বান্দাদেরকে চাপিয়ে দিলেন (এভাবে যে, যখন তাদের বাদশাহ হাইরো ডাইস এক খারাপ মহিলাকে পাবার আশায় ইয়াহইয়া (ইউহান্না), ঈসা ও যাকারিয়া আলাইহিমুস সালামকে হত্যা করার লক্ষ্যস্থির করল তখনই রোমীয়রা বনি ইসরাইলের ওপর চড়াও হলো এবং হাজার হাজার ইহুদিদের হত্যা করে। তাদের অসংখ্য লোক কয়েদি বানানো হয়)।
যতটুকু সম্ভব তাদেরকে ধ্বংস ও পর্যদুস্ত করা হয় আর যে বিষয়ের ওপর তারা বিজয়ী হয়েছে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। (বাইতুল মুকাদ্দাসকে দ্বিতীয়বার পুনরায় রোমানরা বিরান করে দিল আর বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা অবশিষ্ট রইল সবাই তারা রোমের কায়সারের প্রজা হিসেবে রয়ে গেল)। কী মোআমালা ছিল যা তাদের ওপর কয়েক ধরণের আজাব ও কয়েক ধরণের শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কখনও হত্যা ও লুটপাটের মাধ্যমে, কখনও অসম্মান করার মাধ্যমে, কখনও শহরকে বরবাদ করে দেওয়ার মাধ্যমে, কখনও বাদশাহদের জুলম অত্যাচারের মাধ্যমে এবং কখনও তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে বানর-শুকর বানিয়ে দিয়ে। পরিশেষে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কসম খেয়ে নিলেন-
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর সে সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৪৬
টিকাঃ
৪৫ সূরা আল-হাক্কাহ: ৭
৪৬ সূরা আরাফ: ১৬৭ ইহুদিদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত লাঞ্চনা, অপমান ও অপদস্থতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ইতিহাস এই জীবন্ত সাক্ষ্যী যে, তারা সর্বযুগে যেখানেই ছিল, গোলাম ও প্রজা বানিয়ে রাখা হয়েছে তাদেরকে। আগামিদিন তাদের ওপর এমন এমন শাসক চেপে বসেছিল; যারা তাদেরকে নিজেরদের জুলম ও অত্যাচারের মহড়া বানিয়ে রেখেছিল। জার্মানিতে হিটলারের জুলম কারও কাছে গোপনীয় নয়। যদি কখনও তাদের সাময়িক কোনো নিরাপত্তা ও শান্তি অর্জিত হয়েও যায় এবং তাদের নামে কোথাও রাজত্ব জারি হয়েও যায় তাও অন্যের কথা ও শক্তির জোড়ে। আমেরিকা ও ব্রিটেন ইসরাইলের সাহায্যা যদি না করত তাহলে ইয়াহুদিদের রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনের ভূমিতে চারদিনও নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারত না। অবস্থাদৃষ্টে মনে ইয়াহুদিদের সাহায্যকারী সবাইকে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা আজাবের বৃষ্টি বর্ষণ করবন। ইনশাআল্লাহ।
📄 শেষ জামানায় গুনাহগারদের আলামত
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ الدِّينِ الْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَرِ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبٌ الذِّئَابِ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَبِي يَغْتَرُونَ أَمْ عَلَيَّ يَجْتَرِئُونَ فَبِي حَلَفْتُ الأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ مِنْهُمْ حَيْرَانًا"
শেষ যামানায় কিছু লোকের উদ্ভব হবে যারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে। তারা জনগণের সামনে ভেড়ার চামড়ার মত কোমল পোশাক পরবে। তাদের মুখের ভাষা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি; কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ে বাঘের মত হিংস্র। আল্লাহ তাআলা তাদের বলবেন- তোমরা কি আমার বিষয়ে ধোঁকায় পড়ে আছ নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ? আমার শপথ! আমি তাদের উপর তাদের মধ্য হতেই এমন বিপর্যয় আপতিত করব, যা তাদের খুবই সহনশীল ব্যক্তিদের পর্যন্ত হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। ৪৭
টিকাঃ
৪৭ জামি তিরমিযী: ২৪০৪
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ الدِّينِ الْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَرِ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبٌ الذِّئَابِ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَبِي يَغْتَرُونَ أَمْ عَلَيَّ يَجْتَرِئُونَ فَبِي حَلَفْتُ الأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ مِنْهُمْ حَيْرَانًا"
শেষ যামানায় কিছু লোকের উদ্ভব হবে যারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে। তারা জনগণের সামনে ভেড়ার চামড়ার মত কোমল পোশাক পরবে। তাদের মুখের ভাষা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি; কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ে বাঘের মত হিংস্র। আল্লাহ তাআলা তাদের বলবেন- তোমরা কি আমার বিষয়ে ধোঁকায় পড়ে আছ নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ? আমার শপথ! আমি তাদের উপর তাদের মধ্য হতেই এমন বিপর্যয় আপতিত করব, যা তাদের খুবই সহনশীল ব্যক্তিদের পর্যন্ত হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। ৪৭
টিকাঃ
৪৭ জামি তিরমিযী: ২৪০৪
📄 আসমানের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট গুনাহগারদের আলামত
ইবনু আবিদ দুনিয়া জাফর বিন হামাদ থেকে আর তিনি স্বীয় পিতার ও দাদার কাছ থেকে রেওয়ায়াত করেন যে, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন, মানুষের ওপর এমন এক যুগ আসবে যখন ইসলাম কেবলমাত্র রেওয়াজ-রীতিনীতি হিসেবে আর কুরআন কেবল নামেই অবশিষ্ট থাকবে। ঐ যুগের মুসলমানদের মসজিদগুলো হিদায়াত না থাকার কারণে বিরান হবে, আসমানের ছাদের নিচে তামাম মাখলুকের মধ্য থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে তাদের আলেমরা। ফিতনা তাদের থেকেই বের হবে আর তাদের কাছেই ফেরত আসবে।
ইবনু আবিদ দুনিয়া জাফর বিন হামাদ থেকে আর তিনি স্বীয় পিতার ও দাদার কাছ থেকে রেওয়ায়াত করেন যে, হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু ইরশাদ করেন, মানুষের ওপর এমন এক যুগ আসবে যখন ইসলাম কেবলমাত্র রেওয়াজ-রীতিনীতি হিসেবে আর কুরআন কেবল নামেই অবশিষ্ট থাকবে। ঐ যুগের মুসলমানদের মসজিদগুলো হিদায়াত না থাকার কারণে বিরান হবে, আসমানের ছাদের নিচে তামাম মাখলুকের মধ্য থেকে সবচেয়ে নিকৃষ্ট হবে তাদের আলেমরা। ফিতনা তাদের থেকেই বের হবে আর তাদের কাছেই ফেরত আসবে।
📄 সুদ ও জেনার মত গুনাহ
সিমাক ইবনে হারব আবদুর রহমান থেকে আর তিনি তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন সুদ ও জেনা কোনো জনপদের মধ্যে ব্যাপক হয়ে যায় তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়ে দেন।
সিমাক ইবনে হারব আবদুর রহমান থেকে আর তিনি তার পিতা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেন যে, যখন সুদ ও জেনা কোনো জনপদের মধ্যে ব্যাপক হয়ে যায় তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ধ্বংস করার আদেশ দিয়ে দেন।