📄 গুনাহের এক আলামত হল সম্পদের প্রাচুর্য
সাইয়িদুনা উকবা ইবনে আমের বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِذَا رَأَيْتَ اللهَ يُعْطِي الْعَبْدَ مِنَ الدُّنيا على معاصيه ما يُحِبُّ، فإنَّما هو استدراج ثم تلا رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّمَ : فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ
যখন তুমি দেখবে, আল্লাহ পাক তাঁর নাফরমানি ও অবাধ্যতা করার পরেও তাঁর পছন্দ মোতাবেক নিয়ামত দান করছেন, তাহলে তুমি বুঝে নাও যে, এটি হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেন, “অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্য তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।” (সূরা আনআম: ৪৪) ৪২
সালাফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেন- “যখন তুমি খেয়াল করবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমার ওপর তাঁর নিয়ামত লাগাতার অবতীর্ণ করছেন অথচ তুমি তার নাফরমানি ও অবাধ্যতায় অটল রয়েছ, তাহলে সাবধান হয়ে যাও, এটাই হলো তাঁর পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। যার সাথে তোমাকে তিনি ছাড় দিচ্ছেন।"
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَوْلَا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَبًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِثُونَ وَزُخْرُفًا وَإِن كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا " وَال وَاخِرَةُ عِندَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ
যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি। যার উপর তারা চড়ত। তাদের গৃহের জন্য দরজা দিতাম এবং পালঙ্ক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র।
আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের জন্যেই, যারা পরহেযগার। ৪৩
অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা এই সব লোকদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন, যারা এই ধারণা পোষণ করে যে, দুনিয়ার নিয়ামত তাদেরকে নিজেদের ইজ্জত-সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে জারি আছে। ইরশাদ করেন—
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَغَمَهُ وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَ مَنِ وَأَمَّا إِذَا مَا ا أَهَنَنِ
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিজিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলে' আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন। ৪৪
পরীক্ষা উভয় দিক থেকেই করা হতে পারে। নিয়ামত মতের আধিক্যের সাথেও আবার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার মাধ্যমেও। এমনটা আবশ্যকীয় নয় যার রিজিকের মধ্যে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে সে কোনো মহান ব্যক্তি ছিলেন। তার হিসাব নিকাশ নেওয়া হবে না। আর যার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, তাকে অপদস্থ করা হবে। বরং বেশি নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রিজিকে প্রশস্ততার সাথে তাকে মসিবত ও ফিতনায় পতিত করা হবে। দরিদ্র, অসহায় ব্যক্তির রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার পাশাপাশি তার হিসাবনিকাশে স্বল্পতা অথবা একেবারেই হিসাব লওয়া হবে না। সম্মান দেওয়া হবে।
জামে তিরমিজির মধ্যে একটি রেওয়ায়াত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন "অবশ্যই আল্লাহ তাআলা দুনিয়া দান করেন যাকে তিনি মুহাব্বত করেন আর তাঁকেও দেন যাকে তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু ঈমান কেবল তার ভাগ্যেই জুটে যাকে তিনি মহব্বত করেন।”
টিকাঃ
৪২ মুসনাদে আহমাদ: ১৪৫১৪, (শুআইব আরনাউতের তাহকীককৃত: ১৭৩১১), তাবারানী: ১৭/৩৩০ হাদীস নং ৯১৩, শুআবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী: ৪৫৪০, মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুর রুক্বাক্ব হাদীস : ৫২০১
৪৩ সূরা যুখরুফ: ৩৩-৩৫
৪৪ সূরা ফাজর: ১৪-১৬
সাইয়িদুনা উকবা ইবনে আমের বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِذَا رَأَيْتَ اللهَ يُعْطِي الْعَبْدَ مِنَ الدُّنيا على معاصيه ما يُحِبُّ، فإنَّما هو استدراج ثم تلا رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّمَ : فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ
যখন তুমি দেখবে, আল্লাহ পাক তাঁর নাফরমানি ও অবাধ্যতা করার পরেও তাঁর পছন্দ মোতাবেক নিয়ামত দান করছেন, তাহলে তুমি বুঝে নাও যে, এটি হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেন, “অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্য তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।” (সূরা আনআম: ৪৪) ৪২
সালাফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেন- “যখন তুমি খেয়াল করবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমার ওপর তাঁর নিয়ামত লাগাতার অবতীর্ণ করছেন অথচ তুমি তার নাফরমানি ও অবাধ্যতায় অটল রয়েছ, তাহলে সাবধান হয়ে যাও, এটাই হলো তাঁর পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। যার সাথে তোমাকে তিনি ছাড় দিচ্ছেন।"
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَوْلَا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَبًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِثُونَ وَزُخْرُفًا وَإِن كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا " وَال وَاخِرَةُ عِندَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ
যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি। যার উপর তারা চড়ত। তাদের গৃহের জন্য দরজা দিতাম এবং পালঙ্ক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র।
আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের জন্যেই, যারা পরহেযগার। ৪৩
অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা এই সব লোকদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন, যারা এই ধারণা পোষণ করে যে, দুনিয়ার নিয়ামত তাদেরকে নিজেদের ইজ্জত-সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে জারি আছে। ইরশাদ করেন—
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَغَمَهُ وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَ مَنِ وَأَمَّا إِذَا مَا ا أَهَنَنِ
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিজিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলে' আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন। ৪৪
পরীক্ষা উভয় দিক থেকেই করা হতে পারে। নিয়ামত মতের আধিক্যের সাথেও আবার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার মাধ্যমেও। এমনটা আবশ্যকীয় নয় যার রিজিকের মধ্যে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে সে কোনো মহান ব্যক্তি ছিলেন। তার হিসাব নিকাশ নেওয়া হবে না। আর যার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, তাকে অপদস্থ করা হবে। বরং বেশি নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রিজিকে প্রশস্ততার সাথে তাকে মসিবত ও ফিতনায় পতিত করা হবে। দরিদ্র, অসহায় ব্যক্তির রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার পাশাপাশি তার হিসাবনিকাশে স্বল্পতা অথবা একেবারেই হিসাব লওয়া হবে না। সম্মান দেওয়া হবে।
জামে তিরমিজির মধ্যে একটি রেওয়ায়াত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন "অবশ্যই আল্লাহ তাআলা দুনিয়া দান করেন যাকে তিনি মুহাব্বত করেন আর তাঁকেও দেন যাকে তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু ঈমান কেবল তার ভাগ্যেই জুটে যাকে তিনি মহব্বত করেন।”
টিকাঃ
৪২ মুসনাদে আহমাদ: ১৪৫১৪, (শুআইব আরনাউতের তাহকীককৃত: ১৭৩১১), তাবারানী: ১৭/৩৩০ হাদীস নং ৯১৩, শুআবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী: ৪৫৪০, মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুর রুক্বাক্ব হাদীস : ৫২০১
৪৩ সূরা যুখরুফ: ৩৩-৩৫
৪৪ সূরা ফাজর: ১৪-১৬
📄 মাল ও দৌলত, সুনাম-সুখ্যাতি ও একাগ্রতার মধ্যেও গুনাহর আলামত
কোনো কোনো আসলাফ বলেন, অনেক সময় আল্লাহর নিয়ামতের দ্বারা পরিপূর্ণ ব্যক্তিকে অবকাশ ও ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু সে এর খবরই রাখেনা, বুঝেও না। অনুরূপভাবে মানুষকে কোনো কোনো সময় মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা, সুনাম, সুখ্যাতির সুরতে ফিতনায় আপতিত করা হয়। কিন্তু সে অনুভবই করতে পারে না। আর কখনও কখনও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে একাগ্রতা দিয়ে ধোঁকার মধ্যে রাখা হয়। অথচ সে জানেও না। (এই সময়গুলোতে ইসতিগফার, আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া ও অন্তর খুলে নেক কাজে ব্যয় করা উচিত) এই কথা অবশ্যই জানা উচিত যে, গুনাহ ও পাপাচার সর্বাবস্থায় ক্ষতিকর ও অনিষ্টকারী হয়ে থাকে। আর এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, অন্তরের মধ্যে গুনাহের প্রভাব শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়ার ন্যায় প্রভাব বিস্তার করে। আর তা স্ব স্ব অবস্থান ও স্তর মোতাবেক প্রভাব বিস্তার করে। দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বপ্রকার খারাপ কাজ, রোগ ও অপরাধ গুনাহের কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে।
কোনো কোনো আসলাফ বলেন, অনেক সময় আল্লাহর নিয়ামতের দ্বারা পরিপূর্ণ ব্যক্তিকে অবকাশ ও ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু সে এর খবরই রাখেনা, বুঝেও না। অনুরূপভাবে মানুষকে কোনো কোনো সময় মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা, সুনাম, সুখ্যাতির সুরতে ফিতনায় আপতিত করা হয়। কিন্তু সে অনুভবই করতে পারে না। আর কখনও কখনও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে একাগ্রতা দিয়ে ধোঁকার মধ্যে রাখা হয়। অথচ সে জানেও না। (এই সময়গুলোতে ইসতিগফার, আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া ও অন্তর খুলে নেক কাজে ব্যয় করা উচিত) এই কথা অবশ্যই জানা উচিত যে, গুনাহ ও পাপাচার সর্বাবস্থায় ক্ষতিকর ও অনিষ্টকারী হয়ে থাকে। আর এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, অন্তরের মধ্যে গুনাহের প্রভাব শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়ার ন্যায় প্রভাব বিস্তার করে। আর তা স্ব স্ব অবস্থান ও স্তর মোতাবেক প্রভাব বিস্তার করে। দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বপ্রকার খারাপ কাজ, রোগ ও অপরাধ গুনাহের কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে।
📄 গুনাহের অপরাধের নির্মম শাস্তি
আল্লাহ তাআলা নাফরমান ও তাঁর অবাধ্যতাকারী বিভিন্ন জাতিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। যাতে করে পরবর্তী জাতিসমূহ এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং গুনাহের মধ্যে পতিত হওয়া থেকে নিজেদের আঁচলকে বাঁচিয়ে রাখে।
মানবজাতির পিতা-মাতা (আদম ও হাওয়া) কে সুখ-শান্তি, নিয়ামতরাজি, আনন্দ এবং সুন্দর সুন্দর ঘর বিশিষ্ট জান্নাত থেকে বের করে মসিবত, কষ্ট ও দুঃখের ঘর দুনিয়াতে কোন জিনিস নিক্ষেপ করেছিল?
ইবলিসকে কোন জিনিস মহিমান্বিতদের মর্যাদা থেকে বের করে তার জাহের ও বাতেনকে বিকৃত করে অভিশাপের উপযোগী বানিয়ে দিয়েছিল? (কেবল নাফরমানি করার কারণে)
সাইয়িদুনা নুহ আলাইহিস সালামের যুগে দুনিয়ার তামام বাসিন্দাদেরকে কোন জিনিস বন্যায় প্লাবিত করে দিয়েছিল? পানি জমিনের ওপর এই পরিমাণ এসে পৌঁছেছিল যে, পাহাড় পর্যন্ত তাতে ডুবে গিয়েছিল?
আদ জাতির ওপর ঘোর অন্ধকারকে কোন জিনিস চাপিয়ে দিয়েছিল যে, তারা জমিনে মৃত পড়েছিল? কেমন যেন তারা খেজুরের গাছের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে পড়ে ছিল। ৪৫ এই তীব্র অন্ধকার যেখান দিয়ে অতিক্রম করেছে সেখানকার ঘরবাড়ি, ক্ষেতখামার এবং পশুপ্রাণীদেরকে ধ্বংস ও বরবাদ করে দিয়েছিল। যাতে করে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে আগমনকারী সকলের জন্য শিক্ষনীয় আলামত হয়ে যায়। (তা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নবীদের নাফরমানি ও অবাধ্যতাই ছিল, যা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।)
ছামুদ জাতির ওপর শক্ত ধরণের জিনিস কীসে পাঠিয়েছিল যে, সেই জিনিসগুলো তাদের কলিজা, তাদের সিনাকে বিদীর্ণ করে দিয়েছিল? এই আজাবের দ্বারা তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিও জাহান্নামের উপত্যকায় গিয়ে পতিত হয়।
কোন জিনিস বা কাজ ছিল, যা লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের বসতি জমিনকে আসমানের দিকে উঠিয়ে আসমানের এতটুকু নিকটে করে দিয়েছিল যে ফেরেশতারা তাদের কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ পর্যন্ত শুনে ফেলেছিল? অতঃপর এই বস্তিকে জমিনের দিকে নিক্ষেপ করলেন। নিচের অংশকে ওপরে আর ওপরের অংশকে নিচের দিকে করে দিলেন এবং তাদের সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। (তা ফিতরতের খেলাফ তাদের পুতি দুর্গন্ধময় খারাপ অভ্যাসই ছিল, যা তাদেরকে এই অবস্থায় এনে দাঁড় করাল।) এই বসতিগুলোর ওপর থেকে এমন নিশানযুক্ত পাথর বর্ষণ করা হয় যেগুলোর ওপর সেই গোত্রের লোকদের নাম লিখিত ছিল। এই জাতির ওপর অনেক আজাব ও সাজা জমা করে দেওয়া হয় যে, তাদের পূর্বে কোনো জাতির ওপর এত নির্মম আজাব পতিত হয়নি। এখনও এই জালেমদের অবস্থা থেকে বেশি দূর নয়।
শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর কালো ছায়ার মত মেঘমালা বৃষ্টি কোন জিনিস কীসের ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল? যখন এই মেঘমালা তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলল তখন তিনি শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর অগ্নিশিখা বর্ষণ করতে শুরু করলেন।
মুসা আলাইহিস সালাম এর যুগের ফিরআউন ও তার জাতিকে কোন জিনিস সমুদ্রের মধ্যে নিমজ্জিত করেছিল? অতপর তাদের রুহগুলোকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সুতরাং তাদের শরীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার জন্য ও তাদের রুহ জ্বালানোর জন্য।
কারুনকে তার ঘর, ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনসমেত জমিনে কোন জিনিস দাবিয়ে দিয়েছে? (তার মালের ওপর বড়াই করার গুনাহের কারণে) তা কোন কারণ ছিল, যার কারণে নুহ আলাইহিস সালাম এর পর বসতির পর বসতিকে ধ্বংস ও বরবাদ করেছিলেন? (যেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আজকাল জায়গায় জায়গায় দেখা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনে উন্মুক্ত নাফরমানি ও তার একত্ববাদকে ঠাট্টা ও পরিহাস তাদেরকে নিয়ে ডুবেছে।) সেই প্রকৃত রহস্য কী ছিল, যা সাহেবে ইয়াসিনের গোত্রকে চিৎকারের সাথে ধ্বংস করে দিয়েছিল? এমনকি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সময়ের করালগ্রাসে পরিণত হয়েছে।
আর কী কারণ ছিল, যা বনি ইসরাইলের ওপর প্রচন্ড লড়াইকারী জাতিকে চাপিয়ে দিলেন? অতঃপর তারা শহর-বন্দরে ছড়িয়ে পড়ল। পুরুষদেরকে তারা হত্যা করে ফেলল। মহিলা ও বাচ্চাদের খুবই বে-হুরমতি ও অসম্মান করল। (মান-সম্মানকে বাকি রাখল না)। ঘরবাড়ি জালিয়ে দিল। ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে গেল। (সে ইরানি গভর্নর বুখতে নসর ছিল যার বাহিনী ফিলিস্তিনে ইহুদিদেরকে নাস্তনাবুদ করেছিল আর বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্ষতি করে। শত বছর পরে যখন ইহুদিরা পূনরায় শক্তিশালী হয়ে গেল তাদের ঘৃণা অনেক বেড়ে গেল এবং আল্লাহর জমিনে পূর্বের চেয়ে বেশি পাপাচার তারা শুরু করে দিল),। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দ্বিতীয়বার তাঁর বান্দাদেরকে চাপিয়ে দিলেন (এভাবে যে, যখন তাদের বাদশাহ হাইরো ডাইস এক খারাপ মহিলাকে পাবার আশায় ইয়াহইয়া (ইউহান্না), ঈসা ও যাকারিয়া আলাইহিমুস সালামকে হত্যা করার লক্ষ্যস্থির করল তখনই রোমীয়রা বনি ইসরাইলের ওপর চড়াও হলো এবং হাজার হাজার ইহুদিদের হত্যা করে। তাদের অসংখ্য লোক কয়েদি বানানো হয়)।
যতটুকু সম্ভব তাদেরকে ধ্বংস ও পর্যদুস্ত করা হয় আর যে বিষয়ের ওপর তারা বিজয়ী হয়েছে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। (বাইতুল মুকাদ্দাসকে দ্বিতীয়বার পুনরায় রোমানরা বিরান করে দিল আর বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা অবশিষ্ট রইল সবাই তারা রোমের কায়সারের প্রজা হিসেবে রয়ে গেল)। কী মোআমালা ছিল যা তাদের ওপর কয়েক ধরণের আজাব ও কয়েক ধরণের শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কখনও হত্যা ও লুটপাটের মাধ্যমে, কখনও অসম্মান করার মাধ্যমে, কখনও শহরকে বরবাদ করে দেওয়ার মাধ্যমে, কখনও বাদশাহদের জুলম অত্যাচারের মাধ্যমে এবং কখনও তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে বানর-শুকর বানিয়ে দিয়ে। পরিশেষে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কসম খেয়ে নিলেন-
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর সে সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৪৬
টিকাঃ
৪৫ সূরা আল-হাক্কাহ: ৭
৪৬ সূরা আরাফ: ১৬৭ ইহুদিদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত লাঞ্চনা, অপমান ও অপদস্থতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ইতিহাস এই জীবন্ত সাক্ষ্যী যে, তারা সর্বযুগে যেখানেই ছিল, গোলাম ও প্রজা বানিয়ে রাখা হয়েছে তাদেরকে। আগামিদিন তাদের ওপর এমন এমন শাসক চেপে বসেছিল; যারা তাদেরকে নিজেরদের জুলম ও অত্যাচারের মহড়া বানিয়ে রেখেছিল। জার্মানিতে হিটলারের জুলম কারও কাছে গোপনীয় নয়। যদি কখনও তাদের সাময়িক কোনো নিরাপত্তা ও শান্তি অর্জিত হয়েও যায় এবং তাদের নামে কোথাও রাজত্ব জারি হয়েও যায় তাও অন্যের কথা ও শক্তির জোড়ে। আমেরিকা ও ব্রিটেন ইসরাইলের সাহায্যা যদি না করত তাহলে ইয়াহুদিদের রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনের ভূমিতে চারদিনও নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারত না। অবস্থাদৃষ্টে মনে ইয়াহুদিদের সাহায্যকারী সবাইকে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা আজাবের বৃষ্টি বর্ষণ করবন। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ তাআলা নাফরমান ও তাঁর অবাধ্যতাকারী বিভিন্ন জাতিকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়েছেন। যাতে করে পরবর্তী জাতিসমূহ এর থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে এবং গুনাহের মধ্যে পতিত হওয়া থেকে নিজেদের আঁচলকে বাঁচিয়ে রাখে।
মানবজাতির পিতা-মাতা (আদম ও হাওয়া) কে সুখ-শান্তি, নিয়ামতরাজি, আনন্দ এবং সুন্দর সুন্দর ঘর বিশিষ্ট জান্নাত থেকে বের করে মসিবত, কষ্ট ও দুঃখের ঘর দুনিয়াতে কোন জিনিস নিক্ষেপ করেছিল?
ইবলিসকে কোন জিনিস মহিমান্বিতদের মর্যাদা থেকে বের করে তার জাহের ও বাতেনকে বিকৃত করে অভিশাপের উপযোগী বানিয়ে দিয়েছিল? (কেবল নাফরমানি করার কারণে)
সাইয়িদুনা নুহ আলাইহিস সালামের যুগে দুনিয়ার তামام বাসিন্দাদেরকে কোন জিনিস বন্যায় প্লাবিত করে দিয়েছিল? পানি জমিনের ওপর এই পরিমাণ এসে পৌঁছেছিল যে, পাহাড় পর্যন্ত তাতে ডুবে গিয়েছিল?
আদ জাতির ওপর ঘোর অন্ধকারকে কোন জিনিস চাপিয়ে দিয়েছিল যে, তারা জমিনে মৃত পড়েছিল? কেমন যেন তারা খেজুরের গাছের ন্যায় ভূপাতিত হয়ে পড়ে ছিল। ৪৫ এই তীব্র অন্ধকার যেখান দিয়ে অতিক্রম করেছে সেখানকার ঘরবাড়ি, ক্ষেতখামার এবং পশুপ্রাণীদেরকে ধ্বংস ও বরবাদ করে দিয়েছিল। যাতে করে কিয়ামত পর্যন্ত দুনিয়াতে আগমনকারী সকলের জন্য শিক্ষনীয় আলামত হয়ে যায়। (তা আল্লাহ তাআলা ও তাঁর নবীদের নাফরমানি ও অবাধ্যতাই ছিল, যা তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছিল।)
ছামুদ জাতির ওপর শক্ত ধরণের জিনিস কীসে পাঠিয়েছিল যে, সেই জিনিসগুলো তাদের কলিজা, তাদের সিনাকে বিদীর্ণ করে দিয়েছিল? এই আজাবের দ্বারা তাদের সর্বশেষ ব্যক্তিও জাহান্নামের উপত্যকায় গিয়ে পতিত হয়।
কোন জিনিস বা কাজ ছিল, যা লুত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের বসতি জমিনকে আসমানের দিকে উঠিয়ে আসমানের এতটুকু নিকটে করে দিয়েছিল যে ফেরেশতারা তাদের কুকুরের ঘেউ ঘেউ আওয়াজ পর্যন্ত শুনে ফেলেছিল? অতঃপর এই বস্তিকে জমিনের দিকে নিক্ষেপ করলেন। নিচের অংশকে ওপরে আর ওপরের অংশকে নিচের দিকে করে দিলেন এবং তাদের সবাই ধ্বংস হয়ে গেল। (তা ফিতরতের খেলাফ তাদের পুতি দুর্গন্ধময় খারাপ অভ্যাসই ছিল, যা তাদেরকে এই অবস্থায় এনে দাঁড় করাল।) এই বসতিগুলোর ওপর থেকে এমন নিশানযুক্ত পাথর বর্ষণ করা হয় যেগুলোর ওপর সেই গোত্রের লোকদের নাম লিখিত ছিল। এই জাতির ওপর অনেক আজাব ও সাজা জমা করে দেওয়া হয় যে, তাদের পূর্বে কোনো জাতির ওপর এত নির্মম আজাব পতিত হয়নি। এখনও এই জালেমদের অবস্থা থেকে বেশি দূর নয়।
শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর কালো ছায়ার মত মেঘমালা বৃষ্টি কোন জিনিস কীসের ভিত্তিতে পাঠানো হয়েছিল? যখন এই মেঘমালা তাদেরকে আচ্ছাদিত করে ফেলল তখন তিনি শুআইব আলাইহিস সালাম এর জাতির ওপর অগ্নিশিখা বর্ষণ করতে শুরু করলেন।
মুসা আলাইহিস সালাম এর যুগের ফিরআউন ও তার জাতিকে কোন জিনিস সমুদ্রের মধ্যে নিমজ্জিত করেছিল? অতপর তাদের রুহগুলোকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। সুতরাং তাদের শরীর সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার জন্য ও তাদের রুহ জ্বালানোর জন্য।
কারুনকে তার ঘর, ধন-সম্পদ ও পরিবার-পরিজনসমেত জমিনে কোন জিনিস দাবিয়ে দিয়েছে? (তার মালের ওপর বড়াই করার গুনাহের কারণে) তা কোন কারণ ছিল, যার কারণে নুহ আলাইহিস সালাম এর পর বসতির পর বসতিকে ধ্বংস ও বরবাদ করেছিলেন? (যেগুলোর ধ্বংসাবশেষ আজকাল জায়গায় জায়গায় দেখা যায়। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনে উন্মুক্ত নাফরমানি ও তার একত্ববাদকে ঠাট্টা ও পরিহাস তাদেরকে নিয়ে ডুবেছে।) সেই প্রকৃত রহস্য কী ছিল, যা সাহেবে ইয়াসিনের গোত্রকে চিৎকারের সাথে ধ্বংস করে দিয়েছিল? এমনকি তাদের সর্বশেষ ব্যক্তি পর্যন্ত সময়ের করালগ্রাসে পরিণত হয়েছে।
আর কী কারণ ছিল, যা বনি ইসরাইলের ওপর প্রচন্ড লড়াইকারী জাতিকে চাপিয়ে দিলেন? অতঃপর তারা শহর-বন্দরে ছড়িয়ে পড়ল। পুরুষদেরকে তারা হত্যা করে ফেলল। মহিলা ও বাচ্চাদের খুবই বে-হুরমতি ও অসম্মান করল। (মান-সম্মানকে বাকি রাখল না)। ঘরবাড়ি জালিয়ে দিল। ধন-সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে গেল। (সে ইরানি গভর্নর বুখতে নসর ছিল যার বাহিনী ফিলিস্তিনে ইহুদিদেরকে নাস্তনাবুদ করেছিল আর বাইতুল মুকাদ্দাসের ক্ষতি করে। শত বছর পরে যখন ইহুদিরা পূনরায় শক্তিশালী হয়ে গেল তাদের ঘৃণা অনেক বেড়ে গেল এবং আল্লাহর জমিনে পূর্বের চেয়ে বেশি পাপাচার তারা শুরু করে দিল),। অতঃপর আল্লাহ তাআলা তাদের ওপর দ্বিতীয়বার তাঁর বান্দাদেরকে চাপিয়ে দিলেন (এভাবে যে, যখন তাদের বাদশাহ হাইরো ডাইস এক খারাপ মহিলাকে পাবার আশায় ইয়াহইয়া (ইউহান্না), ঈসা ও যাকারিয়া আলাইহিমুস সালামকে হত্যা করার লক্ষ্যস্থির করল তখনই রোমীয়রা বনি ইসরাইলের ওপর চড়াও হলো এবং হাজার হাজার ইহুদিদের হত্যা করে। তাদের অসংখ্য লোক কয়েদি বানানো হয়)।
যতটুকু সম্ভব তাদেরকে ধ্বংস ও পর্যদুস্ত করা হয় আর যে বিষয়ের ওপর তারা বিজয়ী হয়েছে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। (বাইতুল মুকাদ্দাসকে দ্বিতীয়বার পুনরায় রোমানরা বিরান করে দিল আর বনি ইসরাইলের মধ্যে যারা অবশিষ্ট রইল সবাই তারা রোমের কায়সারের প্রজা হিসেবে রয়ে গেল)। কী মোআমালা ছিল যা তাদের ওপর কয়েক ধরণের আজাব ও কয়েক ধরণের শাস্তি চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কখনও হত্যা ও লুটপাটের মাধ্যমে, কখনও অসম্মান করার মাধ্যমে, কখনও শহরকে বরবাদ করে দেওয়ার মাধ্যমে, কখনও বাদশাহদের জুলম অত্যাচারের মাধ্যমে এবং কখনও তাদের আকৃতি পরিবর্তন করে বানর-শুকর বানিয়ে দিয়ে। পরিশেষে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তাআলা কসম খেয়ে নিলেন-
وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর সে সময়ের কথা স্মরণ করো, যখন তোমার পালনকর্তা সংবাদ দিয়েছেন যে, অবশ্যই কিয়ামত দিবস পর্যন্ত ইহুদীদের উপর এমন লোক পাঠাতে থাকবেন যারা তাদেরকে নিকৃষ্ট শাস্তি দান করতে থাকবে। নিঃসন্দেহে তোমার পালনকর্তা শীঘ্র শাস্তি দানকারী এবং তিনি ক্ষমাশীল, দয়ালু। ৪৬
টিকাঃ
৪৫ সূরা আল-হাক্কাহ: ৭
৪৬ সূরা আরাফ: ১৬৭ ইহুদিদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত লাঞ্চনা, অপমান ও অপদস্থতা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদের ইতিহাস এই জীবন্ত সাক্ষ্যী যে, তারা সর্বযুগে যেখানেই ছিল, গোলাম ও প্রজা বানিয়ে রাখা হয়েছে তাদেরকে। আগামিদিন তাদের ওপর এমন এমন শাসক চেপে বসেছিল; যারা তাদেরকে নিজেরদের জুলম ও অত্যাচারের মহড়া বানিয়ে রেখেছিল। জার্মানিতে হিটলারের জুলম কারও কাছে গোপনীয় নয়। যদি কখনও তাদের সাময়িক কোনো নিরাপত্তা ও শান্তি অর্জিত হয়েও যায় এবং তাদের নামে কোথাও রাজত্ব জারি হয়েও যায় তাও অন্যের কথা ও শক্তির জোড়ে। আমেরিকা ও ব্রিটেন ইসরাইলের সাহায্যা যদি না করত তাহলে ইয়াহুদিদের রাষ্ট্র ইসরাইল ফিলিস্তিনের ভূমিতে চারদিনও নিজের পায়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারত না। অবস্থাদৃষ্টে মনে ইয়াহুদিদের সাহায্যকারী সবাইকে মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা আজাবের বৃষ্টি বর্ষণ করবন। ইনশাআল্লাহ।
📄 শেষ জামানায় গুনাহগারদের আলামত
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ الدِّينِ الْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَرِ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبٌ الذِّئَابِ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَبِي يَغْتَرُونَ أَمْ عَلَيَّ يَجْتَرِئُونَ فَبِي حَلَفْتُ الأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ مِنْهُمْ حَيْرَانًا"
শেষ যামানায় কিছু লোকের উদ্ভব হবে যারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে। তারা জনগণের সামনে ভেড়ার চামড়ার মত কোমল পোশাক পরবে। তাদের মুখের ভাষা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি; কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ে বাঘের মত হিংস্র। আল্লাহ তাআলা তাদের বলবেন- তোমরা কি আমার বিষয়ে ধোঁকায় পড়ে আছ নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ? আমার শপথ! আমি তাদের উপর তাদের মধ্য হতেই এমন বিপর্যয় আপতিত করব, যা তাদের খুবই সহনশীল ব্যক্তিদের পর্যন্ত হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। ৪৭
টিকাঃ
৪৭ জামি তিরমিযী: ২৪০৪
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন,
يَخْرُجُ فِي آخِرِ الزَّمَانِ رِجَالٌ يَخْتِلُونَ الدُّنْيَا بِالدِّينِ يَلْبَسُونَ لِلنَّاسِ جُلُودَ الضَّأْنِ مِنَ الدِّينِ الْسِنَتُهُمْ أَحْلَى مِنَ السُّكَرِ وَقُلُوبُهُمْ قُلُوبٌ الذِّئَابِ يَقُولُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ أَبِي يَغْتَرُونَ أَمْ عَلَيَّ يَجْتَرِئُونَ فَبِي حَلَفْتُ الأَبْعَثَنَّ عَلَى أُولَئِكَ مِنْهُمْ فِتْنَةً تَدَعُ الْحَلِيمَ مِنْهُمْ حَيْرَانًا"
শেষ যামানায় কিছু লোকের উদ্ভব হবে যারা পার্থিব স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে ধর্মকে প্রতারণার হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করবে। তারা জনগণের সামনে ভেড়ার চামড়ার মত কোমল পোশাক পরবে। তাদের মুখের ভাষা হবে চিনির চেয়ে মিষ্টি; কিন্তু তাদের হৃদয় হবে নেকড়ে বাঘের মত হিংস্র। আল্লাহ তাআলা তাদের বলবেন- তোমরা কি আমার বিষয়ে ধোঁকায় পড়ে আছ নাকি আমার প্রতি ধৃষ্টতা দেখাচ্ছ? আমার শপথ! আমি তাদের উপর তাদের মধ্য হতেই এমন বিপর্যয় আপতিত করব, যা তাদের খুবই সহনশীল ব্যক্তিদের পর্যন্ত হতবুদ্ধি ও কিংকর্তব্যবিমূঢ় করে ছাড়বে। ৪৭
টিকাঃ
৪৭ জামি তিরমিযী: ২৪০৪