📄 গুনাহগারদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহতা
সহীহ মুসলিমের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَعُ فِي النَّارِ صِبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَارَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُوسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَعُ صِبْغَةً فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَطُّ وَهَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةً قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ وَلَا رَأَيْتُ شِدَّةَ قَطُّ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে দুনিয়ার সর্বাধিক সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ডুবিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নিয়ামতের সুখ শান্তি অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না। আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। তারপর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা কঠিন জীবন যাপন করেছিল। তখন তাকে মূহূর্তের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে হে আদম সন্তান কখনও কঠিন সমস্যা ও কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছিলে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও দুঃখ কষ্টে পতিত হইনি। আর কখনও কোনো কঠোর অবস্থার মুখোমুখিও হইনি। ৪০
টিকাঃ
40 মুসলিম (কিতাবু সিফাতিল মুনাফিক্বীন ও আহকা-মুহুম, হাদীস নং ৭০৮৮/অথবা মুসলিম: ৪/২১৬২, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৫। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ভোগবিলাসী ব্যক্তি যেমন জাহান্নামের শাস্তি স্পর্শ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসের স্বাদ ভুলে যাবে তেমনি দুনিয়ার সবচেয়ে দুস্থ ও কঠোর অবস্থার সম্মুখীন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদের যাতনা ভুলে যাবে।
সহীহ মুসলিমের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَعُ فِي النَّارِ صِبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَارَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُوسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَعُ صِبْغَةً فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَطُّ وَهَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةً قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ وَلَا رَأَيْتُ شِدَّةَ قَطُّ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে দুনিয়ার সর্বাধিক সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ডুবিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নিয়ামতের সুখ শান্তি অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না। আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। তারপর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা কঠিন জীবন যাপন করেছিল। তখন তাকে মূহূর্তের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে হে আদম সন্তান কখনও কঠিন সমস্যা ও কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছিলে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও দুঃখ কষ্টে পতিত হইনি। আর কখনও কোনো কঠোর অবস্থার মুখোমুখিও হইনি। ৪০
টিকাঃ
40 মুসলিম (কিতাবু সিফাতিল মুনাফিক্বীন ও আহকা-মুহুম, হাদীস নং ৭০৮৮/অথবা মুসলিম: ৪/২১৬২, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৫। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ভোগবিলাসী ব্যক্তি যেমন জাহান্নামের শাস্তি স্পর্শ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসের স্বাদ ভুলে যাবে তেমনি দুনিয়ার সবচেয়ে দুস্থ ও কঠোর অবস্থার সম্মুখীন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদের যাতনা ভুলে যাবে।
📄 লোকদেখানো আমল অতঃপর সেই গুনাহের শাস্তি
মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأْتِي بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ . فَقَدْ قِيلَ . ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ . وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِيٌّ . فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ . وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ . فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ " .
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল। তাঁকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাঁর নিয়ামতরাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন- এর বিনিময়ে 'কী আমল করেছিলে?” সে বলবে, আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে বলে, তুমি বীর-লড়াকু সৈনিক। (সুতরাং দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে।
এরপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে যে জ্ঞান অর্জন করেছে ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজিদ পাঠ করেছে। তখন তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)।
তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এত বড় নিয়ামত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি। তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করেছি। জবাবে আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকে বলে, তুমি একজন ক্বারী। (সুতরাং দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে।
তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে, যাকে আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা এবং সর্ববিধ বিত্ত-বৈভব দান করেছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা বলা হবে। সে তা চিনতে পারবে (স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এসব নিয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছো? জবাবে সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোনো খাত বাকি নেই যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ করো, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্য তা করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে অভিহিত করে। (সুতরাং দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে৪১
টিকাঃ
৪১ সহীহ মুসলিম অধ্যায়: ৪৩ লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে সে জাহান্নামের যোগ্য হয়। (ই.ফা. ৪৭৭০, ই.সে. ৪৭৭১)
মুসলিম শরীফের বর্ণনায় এসেছে-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ نَعَمْ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " إِنَّ أَوَّلَ النَّاسِ يُقْضَى يَوْمَ الْقِيَامَةِ عَلَيْهِ رَجُلٌ اسْتُشْهِدَ فَأْتِي بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ قَاتَلْتُ فِيكَ حَتَّى اسْتُشْهِدْتُ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ قَاتَلْتَ لأَنْ يُقَالَ جَرِيءٌ . فَقَدْ قِيلَ . ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ وَرَجُلٌ تَعَلَّمَ الْعِلْمَ وَعَلَّمَهُ وَقَرَأَ الْقُرْآنَ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ تَعَلَّمْتُ الْعِلْمَ وَعَلَّمْتُهُ وَقَرَأْتُ فِيكَ الْقُرْآنَ . قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ تَعَلَّمْتَ الْعِلْمَ لِيُقَالَ عَالِمٌ . وَقَرَأْتَ الْقُرْآنَ لِيُقَالَ هُوَ قَارِيٌّ . فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ حَتَّى أُلْقِيَ فِي النَّارِ . وَرَجُلٌ وَسَّعَ اللَّهُ عَلَيْهِ وَأَعْطَاهُ مِنْ أَصْنَافِ الْمَالِ كُلِّهِ فَأُتِيَ بِهِ فَعَرَّفَهُ نِعَمَهُ فَعَرَفَهَا قَالَ فَمَا عَمِلْتَ فِيهَا قَالَ مَا تَرَكْتُ مِنْ سَبِيلٍ تُحِبُّ أَنْ يُنْفَقَ فِيهَا إِلَّا أَنْفَقْتُ فِيهَا لَكَ قَالَ كَذَبْتَ وَلَكِنَّكَ فَعَلْتَ لِيُقَالَ هُوَ جَوَادٌ . فَقَدْ قِيلَ ثُمَّ أُمِرَ بِهِ فَسُحِبَ عَلَى وَجْهِهِ ثُمَّ أُلْقِيَ فِي النَّارِ " .
হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যার বিচার করা হবে, সে হচ্ছে এমন একজন যে শহীদ হয়েছিল। তাঁকে উপস্থিত করা হবে এবং আল্লাহ তাঁর নিয়ামতরাশির কথা তাকে বলবেন এবং সে তার সবটাই চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন- এর বিনিময়ে 'কী আমল করেছিলে?” সে বলবে, আমি তোমারই পথে যুদ্ধ করেছি এমনকি শেষ পর্যন্ত শহীদ হয়েছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন- তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্যেই যুদ্ধ করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে বলে, তুমি বীর-লড়াকু সৈনিক। (সুতরাং দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে।
এরপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকে উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার করা হবে যে জ্ঞান অর্জন করেছে ও বিতরণ করেছে এবং কুরআন মাজিদ পাঠ করেছে। তখন তাকে হাজির করা হবে। আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রদত্ত নিয়ামতের কথা তাকে বলবেন এবং সে তা চিনতে পারবে (যথারীতি তার স্বীকারোক্তিও করবে)।
তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এত বড় নিয়ামত পেয়ে বিনিময়ে তুমি কী করলে? জবাবে সে বলবে, আমি জ্ঞান অর্জন করেছি। তা শিক্ষা দিয়েছি এবং তোমারই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠ করেছি। জবাবে আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি তো জ্ঞান অর্জন করেছিলে এজন্যে যাতে লোকে তোমাকে জ্ঞানী বলে। কুরআন তিলাওয়াত করেছিলে এ জন্যে যাতে লোকে বলে, তুমি একজন ক্বারী। (সুতরাং দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে।
তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে, সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। তারপর এমন এক ব্যক্তির বিচার হবে, যাকে আল্লাহ তাআলা সচ্ছলতা এবং সর্ববিধ বিত্ত-বৈভব দান করেছেন। তাকে উপস্থিত করা হবে এবং প্রদত্ত নিয়ামতসমূহের কথা বলা হবে। সে তা চিনতে পারবে (স্বীকারোক্তিও করবে)। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, এসব নিয়ামতের বিনিময়ে তুমি কী আমল করেছো? জবাবে সে বলবে, সম্পদ ব্যয়ের এমন কোনো খাত বাকি নেই যাতে সম্পদ ব্যয় করা তুমি পছন্দ করো, আমি সে খাতে তোমার সন্তুষ্টির জন্য ব্যয় করেছি। তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, তুমি মিথ্যা বলেছো। তুমি বরং এ জন্য তা করেছিলে যাতে লোকে তোমাকে দানবীর বলে অভিহিত করে। (সুতরাং দুনিয়াতে) তা বলা হয়েছে। তারপর নির্দেশ দেওয়া হবে। সে মতে তাকেও উপুড় করে হেঁচড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে৪১
টিকাঃ
৪১ সহীহ মুসলিম অধ্যায়: ৪৩ লোক দেখানো এবং খ্যাতির উদ্দেশে যে যুদ্ধ করে সে জাহান্নামের যোগ্য হয়। (ই.ফা. ৪৭৭০, ই.সে. ৪৭৭১)
📄 গুনাহের এক আলামত হল সম্পদের প্রাচুর্য
সাইয়িদুনা উকবা ইবনে আমের বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِذَا رَأَيْتَ اللهَ يُعْطِي الْعَبْدَ مِنَ الدُّنيا على معاصيه ما يُحِبُّ، فإنَّما هو استدراج ثم تلا رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّمَ : فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ
যখন তুমি দেখবে, আল্লাহ পাক তাঁর নাফরমানি ও অবাধ্যতা করার পরেও তাঁর পছন্দ মোতাবেক নিয়ামত দান করছেন, তাহলে তুমি বুঝে নাও যে, এটি হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেন, “অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্য তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।” (সূরা আনআম: ৪৪) ৪২
সালাফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেন- “যখন তুমি খেয়াল করবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমার ওপর তাঁর নিয়ামত লাগাতার অবতীর্ণ করছেন অথচ তুমি তার নাফরমানি ও অবাধ্যতায় অটল রয়েছ, তাহলে সাবধান হয়ে যাও, এটাই হলো তাঁর পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। যার সাথে তোমাকে তিনি ছাড় দিচ্ছেন।"
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَوْلَا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَبًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِثُونَ وَزُخْرُفًا وَإِن كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا " وَال وَاخِرَةُ عِندَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ
যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি। যার উপর তারা চড়ত। তাদের গৃহের জন্য দরজা দিতাম এবং পালঙ্ক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র।
আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের জন্যেই, যারা পরহেযগার। ৪৩
অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা এই সব লোকদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন, যারা এই ধারণা পোষণ করে যে, দুনিয়ার নিয়ামত তাদেরকে নিজেদের ইজ্জত-সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে জারি আছে। ইরশাদ করেন—
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَغَمَهُ وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَ مَنِ وَأَمَّا إِذَا مَا ا أَهَنَنِ
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিজিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলে' আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন। ৪৪
পরীক্ষা উভয় দিক থেকেই করা হতে পারে। নিয়ামত মতের আধিক্যের সাথেও আবার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার মাধ্যমেও। এমনটা আবশ্যকীয় নয় যার রিজিকের মধ্যে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে সে কোনো মহান ব্যক্তি ছিলেন। তার হিসাব নিকাশ নেওয়া হবে না। আর যার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, তাকে অপদস্থ করা হবে। বরং বেশি নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রিজিকে প্রশস্ততার সাথে তাকে মসিবত ও ফিতনায় পতিত করা হবে। দরিদ্র, অসহায় ব্যক্তির রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার পাশাপাশি তার হিসাবনিকাশে স্বল্পতা অথবা একেবারেই হিসাব লওয়া হবে না। সম্মান দেওয়া হবে।
জামে তিরমিজির মধ্যে একটি রেওয়ায়াত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন "অবশ্যই আল্লাহ তাআলা দুনিয়া দান করেন যাকে তিনি মুহাব্বত করেন আর তাঁকেও দেন যাকে তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু ঈমান কেবল তার ভাগ্যেই জুটে যাকে তিনি মহব্বত করেন।”
টিকাঃ
৪২ মুসনাদে আহমাদ: ১৪৫১৪, (শুআইব আরনাউতের তাহকীককৃত: ১৭৩১১), তাবারানী: ১৭/৩৩০ হাদীস নং ৯১৩, শুআবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী: ৪৫৪০, মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুর রুক্বাক্ব হাদীস : ৫২০১
৪৩ সূরা যুখরুফ: ৩৩-৩৫
৪৪ সূরা ফাজর: ১৪-১৬
সাইয়িদুনা উকবা ইবনে আমের বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-
إِذَا رَأَيْتَ اللهَ يُعْطِي الْعَبْدَ مِنَ الدُّنيا على معاصيه ما يُحِبُّ، فإنَّما هو استدراج ثم تلا رسول الله صلَّى الله عليه وسلَّمَ : فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّى إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُبْلِسُونَ
যখন তুমি দেখবে, আল্লাহ পাক তাঁর নাফরমানি ও অবাধ্যতা করার পরেও তাঁর পছন্দ মোতাবেক নিয়ামত দান করছেন, তাহলে তুমি বুঝে নাও যে, এটি হলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। অতঃপর আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিলাওয়াত করেন, “অতঃপর তারা যখন ঐ উপদেশ ভুলে গেল, যা তাদেরকে দেওয়া হয়েছিল, তখন আমি তাদের সামনে সব কিছুর দ্বার উম্মুক্ত করে দিলাম। এমনকি, যখন তাদেরকে প্রদত্ত বিষয়াদির জন্য তারা খুব গর্বিত হয়ে পড়ল, তখন আমি অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম। তখন তারা নিরাশ হয়ে গেল।” (সূরা আনআম: ৪৪) ৪২
সালাফে সালেহীনদের কেউ কেউ বলেন- “যখন তুমি খেয়াল করবে যে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন তোমার ওপর তাঁর নিয়ামত লাগাতার অবতীর্ণ করছেন অথচ তুমি তার নাফরমানি ও অবাধ্যতায় অটল রয়েছ, তাহলে সাবধান হয়ে যাও, এটাই হলো তাঁর পক্ষ থেকে অবকাশ দেওয়া। যার সাথে তোমাকে তিনি ছাড় দিচ্ছেন।"
মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ তাআলা বলেন— وَلَوْلَا أَن يَكُونَ النَّاسُ أُمَّةً وَحِدَةً لَّجَعَلْنَا لِمَن يَكْفُرُ بِالرَّحْمَنِ لِبُيُوتِهِمْ سُقُفًا مِّن فِضَّةٍ وَمَعَارِجَ عَلَيْهَا يَظْهَرُونَ وَلِبُيُوتِهِمْ أَبْوَبًا وَسُرُرًا عَلَيْهَا يَتَّكِثُونَ وَزُخْرُفًا وَإِن كُلُّ ذَلِكَ لَمَّا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا " وَال وَاخِرَةُ عِندَ رَبِّكَ لِلْمُتَّقِينَ
যদি সব মানুষের এক মতাবলম্বী হয়ে যাওয়ার আশংকা না থাকত, তবে যারা দয়াময় আল্লাহ তাআলাকে অস্বীকার করে আমি তাদেরকে দিতাম তাদের গৃহের জন্য রৌপ্য নির্মিত ছাদ ও সিঁড়ি। যার উপর তারা চড়ত। তাদের গৃহের জন্য দরজা দিতাম এবং পালঙ্ক দিতাম যাতে তারা হেলান দিয়ে বসত এবং স্বর্ণনির্মিতও দিতাম। এগুলো সবই তো পার্থিব জীবনের ভোগ সামগ্রী মাত্র।
আর পরকাল আপনার পালনকর্তার কাছে তাঁদের জন্যেই, যারা পরহেযগার। ৪৩
অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলা এই সব লোকদেরকে প্রত্যাখ্যান করেন, যারা এই ধারণা পোষণ করে যে, দুনিয়ার নিয়ামত তাদেরকে নিজেদের ইজ্জত-সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে জারি আছে। ইরশাদ করেন—
إِنَّ رَبَّكَ لَبِالْمِرْصَادِ فَأَمَّا الْإِنسَانُ إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ رَبُّهُ فَأَكْرَمَهُ وَنَغَمَهُ وَأَمَّا إِذَا مَا ابْتَلَلَهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُ فَيَقُولُ رَبِّي فَيَقُولُ رَبِّي أَكْرَ مَنِ وَأَمَّا إِذَا مَا ا أَهَنَنِ
নিশ্চয় আপনার পালকর্তা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। মানুষ এরূপ যে, যখন তার পালনকর্তা তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর সম্মান ও অনুগ্রহ দান করেন, তখন বলে, আমার পালনকর্তা আমাকে সম্মান দান করেছেন। এবং যখন তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর রিজিক সংকুচিত করে দেন, তখন বলে' আমার পালনকর্তা আমাকে হেয় করেছেন। ৪৪
পরীক্ষা উভয় দিক থেকেই করা হতে পারে। নিয়ামত মতের আধিক্যের সাথেও আবার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার মাধ্যমেও। এমনটা আবশ্যকীয় নয় যার রিজিকের মধ্যে প্রশস্ততা দেওয়া হয়েছে সে কোনো মহান ব্যক্তি ছিলেন। তার হিসাব নিকাশ নেওয়া হবে না। আর যার রিজিক সংকুচিত করে দেওয়া হয়, তাকে অপদস্থ করা হবে। বরং বেশি নিয়ামতপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে রিজিকে প্রশস্ততার সাথে তাকে মসিবত ও ফিতনায় পতিত করা হবে। দরিদ্র, অসহায় ব্যক্তির রিজিক সংকুচিত করে দেওয়ার পাশাপাশি তার হিসাবনিকাশে স্বল্পতা অথবা একেবারেই হিসাব লওয়া হবে না। সম্মান দেওয়া হবে।
জামে তিরমিজির মধ্যে একটি রেওয়ায়াত আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন "অবশ্যই আল্লাহ তাআলা দুনিয়া দান করেন যাকে তিনি মুহাব্বত করেন আর তাঁকেও দেন যাকে তিনি পছন্দ করেন না। কিন্তু ঈমান কেবল তার ভাগ্যেই জুটে যাকে তিনি মহব্বত করেন।”
টিকাঃ
৪২ মুসনাদে আহমাদ: ১৪৫১৪, (শুআইব আরনাউতের তাহকীককৃত: ১৭৩১১), তাবারানী: ১৭/৩৩০ হাদীস নং ৯১৩, শুআবুল ঈমান লিল বায়হাক্বী: ৪৫৪০, মিশকাতুল মাসাবিহ, কিতাবুর রুক্বাক্ব হাদীস : ৫২০১
৪৩ সূরা যুখরুফ: ৩৩-৩৫
৪৪ সূরা ফাজর: ১৪-১৬
📄 মাল ও দৌলত, সুনাম-সুখ্যাতি ও একাগ্রতার মধ্যেও গুনাহর আলামত
কোনো কোনো আসলাফ বলেন, অনেক সময় আল্লাহর নিয়ামতের দ্বারা পরিপূর্ণ ব্যক্তিকে অবকাশ ও ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু সে এর খবরই রাখেনা, বুঝেও না। অনুরূপভাবে মানুষকে কোনো কোনো সময় মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা, সুনাম, সুখ্যাতির সুরতে ফিতনায় আপতিত করা হয়। কিন্তু সে অনুভবই করতে পারে না। আর কখনও কখনও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে একাগ্রতা দিয়ে ধোঁকার মধ্যে রাখা হয়। অথচ সে জানেও না। (এই সময়গুলোতে ইসতিগফার, আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া ও অন্তর খুলে নেক কাজে ব্যয় করা উচিত) এই কথা অবশ্যই জানা উচিত যে, গুনাহ ও পাপাচার সর্বাবস্থায় ক্ষতিকর ও অনিষ্টকারী হয়ে থাকে। আর এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, অন্তরের মধ্যে গুনাহের প্রভাব শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়ার ন্যায় প্রভাব বিস্তার করে। আর তা স্ব স্ব অবস্থান ও স্তর মোতাবেক প্রভাব বিস্তার করে। দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বপ্রকার খারাপ কাজ, রোগ ও অপরাধ গুনাহের কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে।
কোনো কোনো আসলাফ বলেন, অনেক সময় আল্লাহর নিয়ামতের দ্বারা পরিপূর্ণ ব্যক্তিকে অবকাশ ও ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু সে এর খবরই রাখেনা, বুঝেও না। অনুরূপভাবে মানুষকে কোনো কোনো সময় মানুষের পক্ষ থেকে প্রশংসা, সুনাম, সুখ্যাতির সুরতে ফিতনায় আপতিত করা হয়। কিন্তু সে অনুভবই করতে পারে না। আর কখনও কখনও আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তাকে একাগ্রতা দিয়ে ধোঁকার মধ্যে রাখা হয়। অথচ সে জানেও না। (এই সময়গুলোতে ইসতিগফার, আল্লাহর দিকে রুজু হওয়া ও অন্তর খুলে নেক কাজে ব্যয় করা উচিত) এই কথা অবশ্যই জানা উচিত যে, গুনাহ ও পাপাচার সর্বাবস্থায় ক্ষতিকর ও অনিষ্টকারী হয়ে থাকে। আর এতে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই যে, অন্তরের মধ্যে গুনাহের প্রভাব শরীরের মধ্যে বিষক্রিয়ার ন্যায় প্রভাব বিস্তার করে। আর তা স্ব স্ব অবস্থান ও স্তর মোতাবেক প্রভাব বিস্তার করে। দুনিয়া ও আখিরাতে সর্বপ্রকার খারাপ কাজ, রোগ ও অপরাধ গুনাহের কারণেই সৃষ্টি হয়ে থাকে।