📄 গুনাহের আলামত
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, অনেক জাহেল আছে যারা আল্লাহ তাআলার রহমত ও তাঁর মাগফিরাত এবং তাঁর দয়া অনুগ্রহকে অপাত্রে ভরসা করে (অর্থাৎ যেমন ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার আশা নেই, সেখানেও ক্ষমার আশা করে গুনাহ করতে থাকা)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশ-নিষেধগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। সেগুলোর ওপর আমল করে না। আর ভুলে যায় যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন যুল জালাল। তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও। অপরাধী জাতির ওপর থেকে আল্লাহর আজাব কখনও ফিরে যাবে না।
যে ব্যক্তি লাগাতার গুনাহ করতে থাকে, গুনাহর ওপর পড়ে থাকে সাথে সাথে সে ক্ষমা করার ওপর ভরসা করে বসে থাকে, তার দৃষ্টান্ত তো ঐ ব্যক্তির মত, যে জেনে বুঝে সত্যের বিরোধিতাকারী।
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি কত সুন্দরই না বলেছেন: যার কথা তুমি মান্য করো না তার রহমতের আশা করা একেবারেই বোকামি ও অপমানজনক ব্যাপার।
কোনো এক আলেম বলেন, যে রাব্বুল আলামিন তিন দিরহাম চুরি করার অপরাধে তোমার হাত কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর পরকালীন সাজার ব্যাপারে একেবারে নির্ভয় হয়ে বসে যেয়ো না যে, তিনি এমনই হবেন। (বরং সেখানে তো কয়েকগুণ বেশি কঠিন হবেন)
সাইয়িদুনা হাসান ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, "জনাব, আপনাকে বেশি বেশি কান্না করতে দেখা যায়। (এর কারণ কী?) তখন তিনি বললেন- সব সময় আমি এই ভয়ে থাকি যে, আমাকে যদি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়? অতঃপর তো কেউ আমার দিকে ভ্রুক্ষেপও করবে না।
এক ব্যক্তি ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করল, আমরা এমন লোকের মজলিস ও সোহবত লাভে কী পদ্ধতি অবলম্বন করব যারা আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি ও আজাবের এই পরিমাণ ভয় দেখায় যে, আমাদের অন্তর টুকরা টুকরা হয়ে যায়। (আর কঠিন ভয়ের কারণে আমরা কাঁদতে থাকতাম) তখন তিনি বললেন' আল্লাহর শপথ! তুমি এমন লোকদের সোহবত গ্রহণ করবে, যে তোমাকে আল্লাহর পাকড়াও এর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তুমি নিরাপত্তা অনুভব করে নাও, এটি তোমার জন্য ঐ বিষয় থেকে উত্তম যে, তুমি এমন লোকের সোহবত গ্রহণ করো, যে তোমাকে শান্তি ও নিরাপত্তার একিন দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে তুমি ভয়ংকর মসিবতের শিকার হয়ে যাও।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, অনেক জাহেল আছে যারা আল্লাহ তাআলার রহমত ও তাঁর মাগফিরাত এবং তাঁর দয়া অনুগ্রহকে অপাত্রে ভরসা করে (অর্থাৎ যেমন ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার আশা নেই, সেখানেও ক্ষমার আশা করে গুনাহ করতে থাকা)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশ-নিষেধগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। সেগুলোর ওপর আমল করে না। আর ভুলে যায় যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন যুল জালাল। তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও। অপরাধী জাতির ওপর থেকে আল্লাহর আজাব কখনও ফিরে যাবে না।
যে ব্যক্তি লাগাতার গুনাহ করতে থাকে, গুনাহর ওপর পড়ে থাকে সাথে সাথে সে ক্ষমা করার ওপর ভরসা করে বসে থাকে, তার দৃষ্টান্ত তো ঐ ব্যক্তির মত, যে জেনে বুঝে সত্যের বিরোধিতাকারী।
জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি কত সুন্দরই না বলেছেন: যার কথা তুমি মান্য করো না তার রহমতের আশা করা একেবারেই বোকামি ও অপমানজনক ব্যাপার।
কোনো এক আলেম বলেন, যে রাব্বুল আলামিন তিন দিরহাম চুরি করার অপরাধে তোমার হাত কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর পরকালীন সাজার ব্যাপারে একেবারে নির্ভয় হয়ে বসে যেয়ো না যে, তিনি এমনই হবেন। (বরং সেখানে তো কয়েকগুণ বেশি কঠিন হবেন)
সাইয়িদুনা হাসান ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, "জনাব, আপনাকে বেশি বেশি কান্না করতে দেখা যায়। (এর কারণ কী?) তখন তিনি বললেন- সব সময় আমি এই ভয়ে থাকি যে, আমাকে যদি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়? অতঃপর তো কেউ আমার দিকে ভ্রুক্ষেপও করবে না।
এক ব্যক্তি ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করল, আমরা এমন লোকের মজলিস ও সোহবত লাভে কী পদ্ধতি অবলম্বন করব যারা আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি ও আজাবের এই পরিমাণ ভয় দেখায় যে, আমাদের অন্তর টুকরা টুকরা হয়ে যায়। (আর কঠিন ভয়ের কারণে আমরা কাঁদতে থাকতাম) তখন তিনি বললেন' আল্লাহর শপথ! তুমি এমন লোকদের সোহবত গ্রহণ করবে, যে তোমাকে আল্লাহর পাকড়াও এর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তুমি নিরাপত্তা অনুভব করে নাও, এটি তোমার জন্য ঐ বিষয় থেকে উত্তম যে, তুমি এমন লোকের সোহবত গ্রহণ করো, যে তোমাকে শান্তি ও নিরাপত্তার একিন দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে তুমি ভয়ংকর মসিবতের শিকার হয়ে যাও।
📄 মানুষকে খারাপকাজ থেকে বাধাপ্রদান করে নিজে তাতে লিপ্ত ব্যক্তির পরিণাম
হাদীসে পাকে এসেছে, উসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-
" يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ، فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ، فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ، فَيَقُولُونَ أَنْ فُلَانُ، مَا شَأْنُكَ أَلَيْسَ كُنتَ تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ قَالَ كُنتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ ".
হাদীসে পাকে এসেছে, উসামা বিন যায়েদ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-
" يُجَاءُ بِالرَّجُلِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُلْقَى فِي النَّارِ، فَتَنْدَلِقُ أَقْتَابُهُ فِي النَّارِ، فَيَدُورُ كَمَا يَدُورُ الْحِمَارُ بِرَحَاهُ، فَيَجْتَمِعُ أَهْلُ النَّارِ عَلَيْهِ، فَيَقُولُونَ أَنْ فُلَانُ، مَا شَأْنُكَ أَلَيْسَ كُنتَ تَأْمُرُنَا بِالْمَعْرُوفِ وَتَنْهَى عَنِ الْمُنْكَرِ قَالَ كُنتُ آمُرُكُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَلَا آتِيهِ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَآتِيهِ ".
📄 চাকরিতে নিয়োগকৃত কর্মচারীর পক্ষ থেকে হয়ে যাওয়া গুনাহের আলামত
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রহিমাহুল্লাহ আবু রাফে রাদিয়াল্লাহ আনহুর আছার স্বীয় মুসনাদে নকল করেছেন-
فبينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مسرعا إلى المغرب إذ مر بالبقيع فقال أف لك أف لك مرتين فكبر في ذرعي وتأخرت وظننت أنه يريدني فقال ما لك امش قال قلت أحدثت حدثا يا رسول الله قال وما ذاك قلت أففت بي قال لا ولكن هذا قبر فلان بعثته ساعيا على بني فلان فغل نمرة فدرع الآن مثلها من نار
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিব সালাতের জন্য তাড়াতাড়ি করে আসছিলেন। আমরা বাকী নামক স্থানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি বললেন, "তোমার জন্য আফসোস, তোমার জন্য আফসোস।” তিনি বলেন, এটা আমার কাছে কঠিন মনে হলো। অতএব আমি পেছনে রয়ে গেলাম। আর আমি মনে করলাম, তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বললেন, তোমার কী হলো? চলো। আমি বললাম, আমি কি কোনো ঘটনা ঘটিয়েছি? তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম, আপনি বললেন তোমার জন্য আফসোস। তিনি বললেন, না, (আমি যাকে লক্ষ করে) আফসোস বলেছি, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যাকে আমি অমূক গোত্রের নিকট যাকাত উসুলকারী করে পাঠিয়েছিলাম। সে একখানা চাদর আত্মসাৎ করেছিল। এখন তাকে ঐরূপ আগুনের একখানা চাদর পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। (আর এভাবেই তার কবরে আজাব হচ্ছে) ৩৯
টিকাঃ
৩৮ বুখারী: ৩২৬৭, মুসলিম: ২৯৮৯
৩৯ মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৯۲, সুনানুন নাসায়ী: ৮৬৩ [ইফা]
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বাল রহিমাহুল্লাহ আবু রাফে রাদিয়াল্লাহ আনহুর আছার স্বীয় মুসনাদে নকল করেছেন-
فبينا رسول الله صلى الله عليه وسلم مسرعا إلى المغرب إذ مر بالبقيع فقال أف لك أف لك مرتين فكبر في ذرعي وتأخرت وظننت أنه يريدني فقال ما لك امش قال قلت أحدثت حدثا يا رسول الله قال وما ذاك قلت أففت بي قال لا ولكن هذا قبر فلان بعثته ساعيا على بني فلان فغل نمرة فدرع الآن مثلها من نار
একবার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিব সালাতের জন্য তাড়াতাড়ি করে আসছিলেন। আমরা বাকী নামক স্থানের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তখন তিনি বললেন, "তোমার জন্য আফসোস, তোমার জন্য আফসোস।” তিনি বলেন, এটা আমার কাছে কঠিন মনে হলো। অতএব আমি পেছনে রয়ে গেলাম। আর আমি মনে করলাম, তিনি আমাকেই উদ্দেশ্য করেছেন। তিনি বললেন, তোমার কী হলো? চলো। আমি বললাম, আমি কি কোনো ঘটনা ঘটিয়েছি? তিনি বললেন, তা কী? আমি বললাম, আপনি বললেন তোমার জন্য আফসোস। তিনি বললেন, না, (আমি যাকে লক্ষ করে) আফসোস বলেছি, সে হচ্ছে ঐ ব্যক্তি যাকে আমি অমূক গোত্রের নিকট যাকাত উসুলকারী করে পাঠিয়েছিলাম। সে একখানা চাদর আত্মসাৎ করেছিল। এখন তাকে ঐরূপ আগুনের একখানা চাদর পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। (আর এভাবেই তার কবরে আজাব হচ্ছে) ৩৯
টিকাঃ
৩৮ বুখারী: ৩২৬৭, মুসলিম: ২৯৮৯
৩৯ মুসনাদ আহমাদ: ৬/৩৯۲, সুনানুন নাসায়ী: ৮৬৩ [ইফা]
📄 গুনাহগারদের জন্য জাহান্নামের ভয়াবহতা
সহীহ মুসলিমের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَعُ فِي النَّارِ صِبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَارَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُوسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَعُ صِبْغَةً فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَطُّ وَهَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةً قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ وَلَا رَأَيْتُ شِدَّةَ قَطُّ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে দুনিয়ার সর্বাধিক সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ডুবিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নিয়ামতের সুখ শান্তি অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না। আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। তারপর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা কঠিন জীবন যাপন করেছিল। তখন তাকে মূহূর্তের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে হে আদম সন্তান কখনও কঠিন সমস্যা ও কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছিলে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও দুঃখ কষ্টে পতিত হইনি। আর কখনও কোনো কঠোর অবস্থার মুখোমুখিও হইনি। ৪০
টিকাঃ
40 মুসলিম (কিতাবু সিফাতিল মুনাফিক্বীন ও আহকা-মুহুম, হাদীস নং ৭০৮৮/অথবা মুসলিম: ৪/২১৬২, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৫। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ভোগবিলাসী ব্যক্তি যেমন জাহান্নামের শাস্তি স্পর্শ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসের স্বাদ ভুলে যাবে তেমনি দুনিয়ার সবচেয়ে দুস্থ ও কঠোর অবস্থার সম্মুখীন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদের যাতনা ভুলে যাবে।
সহীহ মুসলিমের মধ্যে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَنَسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُؤْتَى بِأَنْعَمِ أَهْلِ الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ النَّارِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُصْبَعُ فِي النَّارِ صِبْغَةً ثُمَّ يُقَالُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ خَيْرًا قَطُّ هَلْ مَرَّ بِكَ نَعِيمٌ قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَارَبِّ وَيُؤْتَى بِأَشَدِّ النَّاسِ بُوسًا فِي الدُّنْيَا مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَيُصْبَعُ صِبْغَةً فِي الْجَنَّةِ فَيُقَالُ لَهُ يَا ابْنَ آدَمَ هَلْ رَأَيْتَ بُوسًا قَطُّ وَهَلْ مَرَّ بِكَ شِدَّةً قَطُّ فَيَقُوْلُ لَا وَاللَّهِ يَا رَبِّ مَا مَرَّ بِي بُؤْسٌ قَطُّ وَلَا رَأَيْتُ شِدَّةَ قَطُّ.
আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন- রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- কিয়ামতের দিন জাহান্নামীদের মধ্য হতে দুনিয়ার সর্বাধিক সম্পদশালী ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে এবং তাকে জাহান্নামের আগুনে ডুবিয়ে তোলা হবে। অতঃপর তাকে বলা হবে হে আদম সন্তান, তুমি কি কখনও আরাম-আয়েশ দেখেছ? পূর্বে কখনও তোমার নিয়ামতের সুখ শান্তি অর্জিত হয়েছিল? সে বলবে, না। আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও সুখ ভোগ করিনি। তারপর জান্নাতীদের মধ্য হতে এমন একজন ব্যক্তিকে উপস্থিত করা হবে, যে দুনিয়াতে সর্বাপেক্ষা কঠিন জীবন যাপন করেছিল। তখন তাকে মূহূর্তের জন্য জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে হে আদম সন্তান কখনও কঠিন সমস্যা ও কঠোরতার সম্মুখীন হয়েছিলে? সে বলবে, না, আল্লাহর কসম! হে আমার প্রতিপালক, আমি কখনও দুঃখ কষ্টে পতিত হইনি। আর কখনও কোনো কঠোর অবস্থার মুখোমুখিও হইনি। ৪০
টিকাঃ
40 মুসলিম (কিতাবু সিফাতিল মুনাফিক্বীন ও আহকা-মুহুম, হাদীস নং ৭০৮৮/অথবা মুসলিম: ৪/২১৬২, বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৫৪২৫। দুনিয়ার সবচেয়ে বেশি সম্পদশালী ভোগবিলাসী ব্যক্তি যেমন জাহান্নামের শাস্তি স্পর্শ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল সুখ-শান্তি ও ভোগ-বিলাসের স্বাদ ভুলে যাবে তেমনি দুনিয়ার সবচেয়ে দুস্থ ও কঠোর অবস্থার সম্মুখীন ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করা মাত্রই দুনিয়ার সকল দুঃখ-কষ্ট ও বিপদ-আপদের যাতনা ভুলে যাবে।