📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 খারপ সঙ্গ, আড্ডাবাজি জাহান্নামে নিয়ে যাবার কারণ

📄 খারপ সঙ্গ, আড্ডাবাজি জাহান্নামে নিয়ে যাবার কারণ


গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণগুলোর মধ্য থেকে বড় সামাজিক কারণ হলো, খারাপ আড্ডা, অনুষ্ঠান ও পথভ্রষ্ট সোসাইটিও। একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে—যেমন বৈঠক তেমন সোহবত। মানুষ যেমন লোকের সাথে উঠাবসা করে সে তেমনই হয়ে যায়। যেই মজলিস বা অনুষ্ঠানে তার আসা-যাওয়া থাকে ঐ অনুষ্ঠানের রঙ তার মাঝে অবশ্যই পতিত হয়। তাই মানুষের জন্য আবশ্যক হলো, নিজেদের সাথি ও বন্ধু চিন্তা-ভাবনা করে এবং ভালোভাবে পরখ করে নির্বাচন করা। কেননা, ব্যক্তি যে ধরণের অভ্যাস ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয় অন্যকেও সেই সব অভ্যাস ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দেয়। যদি সে বদ স্বভাবের হয়—যেমন : চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, নেশাখোর, অশ্লীল ভিডিও ও ফিল্ম ইত্যাদি দেখে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে তার সাথে উপবেশনকারীদের মাঝেও সে এসব খারাপ স্বভাবগুলোর আমদানি করবে। এ কারণে রহমতে আলম রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنَّمَا مَثَلُ الجليس الصَّالِحِ ، وجليس السوء ، كحامل المسك ، ونافخ الكبير ، فَحَامِلُ المسك ، إمَّا أَنْ يَحْذِيَكَ ، وإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً ، ونافِخُ الكبير ، إِمَّا أَنْ يَحْرِقَ ثِيَابَكَ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةٌ

সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো, কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) ও হাপরে ফুৎকারকারী (কামারের) ন্যায়। কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে অথবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে অথবা তার কাছ থেকে সুবাস লাভ করবে। আর হাপরে ফুৎকারকারী (কামার) হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে। ৩৪

এই মূল্যবান হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন, একজন সাথির ভালো ও খারাপ স্বভাবের প্রভাব অপর সাথির ওপর অবশ্যই পতিত হয়। তাই তিনি সৎ সঙ্গীকে আতর বিক্রেতার সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন। কেননা, যখন সে তার কাছে গিয়ে বসবে তিন বিষয়ের মধ্য হতে কোনো এক বিষয় অবশ্যই তার অর্জিত হবে।
১. হয়ত তোমাকে আতর উপহার দেবে, অথবা
২. সে তার কাছ থেকে মূল্য দিয়ে ক্রয় করে নেবে, কিংবা
৩. কমপক্ষে তুমি তার নিকট থেকে আতরের ঘ্রাণ নিতে পারবে, যার প্রভাব তোমার হৃদয়, শরীর এবং তোমার কাপড়ের মাঝে ফুটে উঠবে। সৎ সঙ্গী থাকলে এভাবেই তার কাছ থেকে উপকার লাভ করবে। আর তার সাথে উঠাবসা করলে অবশ্যই তোমার উপকার লাভ হবে।

আর তিনি অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত দিয়েছেন হাপরে ফুৎকারকারী কামারের সাথে। হয়তো সে তার আগুন থেকে ফুলকি উড়িয়ে তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে না হয় কমপক্ষে এর থেকে বিষাদময় এক দূর্গন্ধ তুমি পাবে অথবা তার প্রভাব তোমার কাপড় বা শরীরে লাগবে। এমনই হলো অসৎ সঙ্গী যে, তার সাথে বসার কারণে নিশ্চিতভাবে তোমার ক্ষতি হবেই।

তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একেক মানুষের মেজাজ বা স্বভাব একেক ধরণের হয়ে থাকে। কিছু আছে ভালো কাজের বার্তাবাহক হওয়ার কারণে নেক কাজ ও উত্তম কাজের দিকে পথপ্রদর্শন করে আর কিছু আছে খারাপ কাজে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে, অসৎ কাজ ও গর্হিত কাজের দিকে পথপ্রদর্শন করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসের মাঝে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - " إِنَّ مِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحَ لِلْخَيْرِ مَغَالِيقَ لِلشَّرِّ وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحَ لِلشَّرِّ مَغَالِيقَ لِلْخَيْرِ فَطُوبَى لِمَنْ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الْخَيْرِ عَلَى يَدَيْهِ وَوَيْلٌ لِمَنْ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الشَّرِّ عَلَى يَدَيْهِ

সাইয়িদুনা হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় অনেক লোক এমন আছে, যারা কল্যাণের চাবিকাঠি এবং অকল্যাণের দ্বার রুদ্ধকারী। পক্ষান্তরে এমন লোকও আছে যারা অকল্যাণের দ্বার উন্মোচনকারী এবং কল্যাণের পথ রুদ্ধকারী। সেই লোকের জন্য সুসংবাদ যার দুহাতে আল্লাহ কল্যাণের চাবি রেখেছেন এবং সেই লোকের জন্য ধ্বংস যার দুহাতে আল্লাহ অকল্যাণের চাবি রেখেছেন। ৩৫

টিকাঃ
৩৪ বুখারী ২১০১ (রাবি আবু মুসা আশআরি রদি.), ৫৫৩৪, মুসলিম ২৬২৮, আহমদ ১৯১২৭, ১৯১৬৩
৩৫ সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৭

গুনাহে লিপ্ত হওয়ার কারণগুলোর মধ্য থেকে বড় সামাজিক কারণ হলো, খারাপ আড্ডা, অনুষ্ঠান ও পথভ্রষ্ট সোসাইটিও। একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে—যেমন বৈঠক তেমন সোহবত। মানুষ যেমন লোকের সাথে উঠাবসা করে সে তেমনই হয়ে যায়। যেই মজলিস বা অনুষ্ঠানে তার আসা-যাওয়া থাকে ঐ অনুষ্ঠানের রঙ তার মাঝে অবশ্যই পতিত হয়। তাই মানুষের জন্য আবশ্যক হলো, নিজেদের সাথি ও বন্ধু চিন্তা-ভাবনা করে এবং ভালোভাবে পরখ করে নির্বাচন করা। কেননা, ব্যক্তি যে ধরণের অভ্যাস ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয় অন্যকেও সেই সব অভ্যাস ও বৈশিষ্ট্যের অধিকারী বানিয়ে দেয়। যদি সে বদ স্বভাবের হয়—যেমন : চোর, ডাকাত, ছিনতাইকারী, নেশাখোর, অশ্লীল ভিডিও ও ফিল্ম ইত্যাদি দেখে অভ্যস্ত থাকে, তাহলে তার সাথে উপবেশনকারীদের মাঝেও সে এসব খারাপ স্বভাবগুলোর আমদানি করবে। এ কারণে রহমতে আলম রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন-

إِنَّمَا مَثَلُ الجليس الصَّالِحِ ، وجليس السوء ، كحامل المسك ، ونافخ الكبير ، فَحَامِلُ المسك ، إمَّا أَنْ يَحْذِيَكَ ، وإِمَّا أَنْ تَبْتَاعَ مِنْهُ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ مِنْهُ رِيحًا طَيِّبَةً ، ونافِخُ الكبير ، إِمَّا أَنْ يَحْرِقَ ثِيَابَكَ ، وَإِمَّا أَنْ تَجِدَ رِيحًا خَبِيثَةٌ

সৎ সঙ্গী ও অসৎ সঙ্গীর উদাহরণ হলো, কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) ও হাপরে ফুৎকারকারী (কামারের) ন্যায়। কস্তুরী বহনকারী (আতরওয়ালা) হয়তো তোমাকে কিছু দান করবে অথবা তার কাছ থেকে তুমি কিছু খরিদ করবে অথবা তার কাছ থেকে সুবাস লাভ করবে। আর হাপরে ফুৎকারকারী (কামার) হয়তো তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে অথবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে। ৩৪

এই মূল্যবান হাদীসে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্পষ্ট করেছেন, একজন সাথির ভালো ও খারাপ স্বভাবের প্রভাব অপর সাথির ওপর অবশ্যই পতিত হয়। তাই তিনি সৎ সঙ্গীকে আতর বিক্রেতার সাথে সাদৃশ্য দিয়েছেন। কেননা, যখন সে তার কাছে গিয়ে বসবে তিন বিষয়ের মধ্য হতে কোনো এক বিষয় অবশ্যই তার অর্জিত হবে।
১. হয়ত তোমাকে আতর উপহার দেবে, অথবা
২. সে তার কাছ থেকে মূল্য দিয়ে ক্রয় করে নেবে, কিংবা
৩. কমপক্ষে তুমি তার নিকট থেকে আতরের ঘ্রাণ নিতে পারবে, যার প্রভাব তোমার হৃদয়, শরীর এবং তোমার কাপড়ের মাঝে ফুটে উঠবে। সৎ সঙ্গী থাকলে এভাবেই তার কাছ থেকে উপকার লাভ করবে। আর তার সাথে উঠাবসা করলে অবশ্যই তোমার উপকার লাভ হবে।

আর তিনি অসৎ সঙ্গীর দৃষ্টান্ত দিয়েছেন হাপরে ফুৎকারকারী কামারের সাথে। হয়তো সে তার আগুন থেকে ফুলকি উড়িয়ে তোমার কাপড় পুড়িয়ে দেবে না হয় কমপক্ষে এর থেকে বিষাদময় এক দূর্গন্ধ তুমি পাবে অথবা তার প্রভাব তোমার কাপড় বা শরীরে লাগবে। এমনই হলো অসৎ সঙ্গী যে, তার সাথে বসার কারণে নিশ্চিতভাবে তোমার ক্ষতি হবেই।

তবে এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, একেক মানুষের মেজাজ বা স্বভাব একেক ধরণের হয়ে থাকে। কিছু আছে ভালো কাজের বার্তাবাহক হওয়ার কারণে নেক কাজ ও উত্তম কাজের দিকে পথপ্রদর্শন করে আর কিছু আছে খারাপ কাজে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে, অসৎ কাজ ও গর্হিত কাজের দিকে পথপ্রদর্শন করে। যেমন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাদীসের মাঝে বর্ণিত হয়েছে-

عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ - صلى الله عليه وسلم - " إِنَّ مِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحَ لِلْخَيْرِ مَغَالِيقَ لِلشَّرِّ وَإِنَّ مِنَ النَّاسِ مَفَاتِيحَ لِلشَّرِّ مَغَالِيقَ لِلْخَيْرِ فَطُوبَى لِمَنْ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الْخَيْرِ عَلَى يَدَيْهِ وَوَيْلٌ لِمَنْ جَعَلَ اللَّهُ مَفَاتِيحَ الشَّرِّ عَلَى يَدَيْهِ

সাইয়িদুনা হযরত আনাস ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, নিশ্চয় অনেক লোক এমন আছে, যারা কল্যাণের চাবিকাঠি এবং অকল্যাণের দ্বার রুদ্ধকারী। পক্ষান্তরে এমন লোকও আছে যারা অকল্যাণের দ্বার উন্মোচনকারী এবং কল্যাণের পথ রুদ্ধকারী। সেই লোকের জন্য সুসংবাদ যার দুহাতে আল্লাহ কল্যাণের চাবি রেখেছেন এবং সেই লোকের জন্য ধ্বংস যার দুহাতে আল্লাহ অকল্যাণের চাবি রেখেছেন। ৩৫

টিকাঃ
৩৪ বুখারী ২১০১ (রাবি আবু মুসা আশআরি রদি.), ৫৫৩৪, মুসলিম ২৬২৮, আহমদ ১৯১২৭, ১৯১৬৩
৩৫ সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৩৭

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 আকিদায়ে তাওহিদের সাথে বিদ্রোহ করা সকল গুনাহের মূল

📄 আকিদায়ে তাওহিদের সাথে বিদ্রোহ করা সকল গুনাহের মূল


গুনাহে পতিত হওয়ার আরও অনেক কারণ আছে যেগুলো মানুষকে গুনাহের কাদায় ফাঁসিয়ে দেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শিরক হলো, সবচেয়ে বড় গুনাহ। কেননা, শিরক এমন গুনাহ, যে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর মানুষ সর্বপ্রকারের গুনাহ করতে থাকে। এর কারণ, আকিদায়ে তাওহীদ চলে যাওয়া। আর আকিদায়ে তাওহীদ মানব বিবেককে সুস্থ ও সঠিক রাখে। যখন মানুষ শিরকে লিপ্ত হয়, তখন তার বিবেক মারা যায়। অতঃপর যখন বিবেক—বুদ্ধিই থাকে না তখন তার কাছে নেকি ও বদির আর কোনো পার্থক্য বাকি থাকে না।

বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে রয়েছে—

“সাইয়িদুনা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” ৩৬

তো যখন সে শিরকের মত গুনাহ করে ফেলল তখন এই শিরকের বদ আছর ও প্রভাব তার ওপর এমনভাবে পতিত হলো যে, সর্বপ্রকার গুনাহ করতে সে এখন কোনো ভয় পায় না। বিনা দ্বিধায় সে গুনাহ করে যেতে থাকে।

এখন শেষ যামানার পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশের বিপরীতে বিভিন্ন দল উপদলের কথা ও তাদের আদেশ মানাকে জরুরি মনে করে। তারা খতমে নবুয়তের উদ্দেশ্যও ভুলে যায়, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের পরে আর কোনো নবুয়ত নেই সেভাবে তার কথা ও আদেশের পর কারও আদেশ চলতে পারে না। কিন্তু তারা তাদের পীর, ফকির, দরবেশ বাবা ও পাগল মাজযুব, নেংটা ফকির, ভন্ড খাজা বাবার কথা ও তাদের আদেশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস, তাঁর কথা ও ফরমান থেকেও বেশি প্রাধান্য দিতে থাকে।

শিরকের গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর আরও খারাপ অবস্থা এমন হয় যে, নিজের কোনো লাভ ও ক্ষতির কারণে সে এখানে সেখানে ঘুরতে থাকে। রিজিকে প্রশস্ততা ও চাকরি পাবার আশায়, পদোন্নতি ও পরীক্ষায় সফলতা লাভের জন্য, সন্তানাদি লাভ, পেরেশানি থেকে মুক্তি ও নাজাতের আশায় আল্লাহ তাআলা ব্যতীত তাঁরই মাখলুককে ডাকে। মাখলুকের কাছে মুশকিল আসানের জন্য যায়। নজর ও মান্নত মাখলুকের নামে দেয়। তাজিমি সেজদার নামে লম্বা জুব্বা ও হাবাকাবা পরিহিতদের সামনে কপাল ঠেকায়।

সারকথা হলো, মানুষ যখন শিরকের মতো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয় তখন এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার গুনাহ ও অপরাধ সংঘটিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। অর্থাৎ শিরক হলো এমন বড় গুনাহ, যা সবচেয়ে বড় গুনাহ ও অপরাধ হওয়ার পাশাপাশি বাকি অন্যসব গুনাহের মূল উৎস। শিরক থেকেই অন্য সব গুনাহের জন্ম ও সুত্রপাত ঘটে। এই গুনাহ করার পর মানুষের কোনো শক্তি থাকে না। যা তাকে অন্যান্য গুনাহ থেকে বাঁধাপ্রদান করতে পারে। বরং অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হওয়াটা তার কাছে খুব সুন্দর মনে হয়। এর কারণ হলো, আকিদায়ে তাওহীদ জীবনের এক মাপকাঠি ও প্রতিরোধকারী ছিল। আকিদায়ে তাওহীদের বরকত সাথে থাকার কারণে সে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারত। আর গুনাহ তার কাছ থেকে দূরে থাকত। যখন এই প্রতিরোধকারী আর বাকি নেই তখন তার জীবনে গুনাহ আর গুনাহ দিয়ে ভরে যায়। তাই মানুষের জন্য সকল বিষয় থেকে বেশি প্রয়োজনীয় ও আবশ্যকীয় হলো, নিজের আকিদা বিশ্বাসের হেফাজত করা, যেন কখনও কোথাও ভুলেও শিরকের জালে ফেঁসে না যায়।

টিকাঃ
৩৬ বুখারী: ৪৭৬১। সম্পূর্ণ হাদীস হল এই: 'আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, অথবা অন্য কেউ জিজ্ঞেস করলো, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে। আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- "এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে আহবান করে না। আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।,, [৪৪ ৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০০)

গুনাহে পতিত হওয়ার আরও অনেক কারণ আছে যেগুলো মানুষকে গুনাহের কাদায় ফাঁসিয়ে দেয়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে শিরক হলো, সবচেয়ে বড় গুনাহ। কেননা, শিরক এমন গুনাহ, যে গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর মানুষ সর্বপ্রকারের গুনাহ করতে থাকে। এর কারণ, আকিদায়ে তাওহীদ চলে যাওয়া। আর আকিদায়ে তাওহীদ মানব বিবেককে সুস্থ ও সঠিক রাখে। যখন মানুষ শিরকে লিপ্ত হয়, তখন তার বিবেক মারা যায়। অতঃপর যখন বিবেক—বুদ্ধিই থাকে না তখন তার কাছে নেকি ও বদির আর কোনো পার্থক্য বাকি থাকে না।

বুখারী ও মুসলিমের মধ্যে রয়েছে—

“সাইয়িদুনা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।” ৩৬

তো যখন সে শিরকের মত গুনাহ করে ফেলল তখন এই শিরকের বদ আছর ও প্রভাব তার ওপর এমনভাবে পতিত হলো যে, সর্বপ্রকার গুনাহ করতে সে এখন কোনো ভয় পায় না। বিনা দ্বিধায় সে গুনাহ করে যেতে থাকে।

এখন শেষ যামানার পয়গম্বর হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশের বিপরীতে বিভিন্ন দল উপদলের কথা ও তাদের আদেশ মানাকে জরুরি মনে করে। তারা খতমে নবুয়তের উদ্দেশ্যও ভুলে যায়, যেভাবে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়তের পরে আর কোনো নবুয়ত নেই সেভাবে তার কথা ও আদেশের পর কারও আদেশ চলতে পারে না। কিন্তু তারা তাদের পীর, ফকির, দরবেশ বাবা ও পাগল মাজযুব, নেংটা ফকির, ভন্ড খাজা বাবার কথা ও তাদের আদেশকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হাদীস, তাঁর কথা ও ফরমান থেকেও বেশি প্রাধান্য দিতে থাকে।

শিরকের গুনাহে লিপ্ত হওয়ার পর আরও খারাপ অবস্থা এমন হয় যে, নিজের কোনো লাভ ও ক্ষতির কারণে সে এখানে সেখানে ঘুরতে থাকে। রিজিকে প্রশস্ততা ও চাকরি পাবার আশায়, পদোন্নতি ও পরীক্ষায় সফলতা লাভের জন্য, সন্তানাদি লাভ, পেরেশানি থেকে মুক্তি ও নাজাতের আশায় আল্লাহ তাআলা ব্যতীত তাঁরই মাখলুককে ডাকে। মাখলুকের কাছে মুশকিল আসানের জন্য যায়। নজর ও মান্নত মাখলুকের নামে দেয়। তাজিমি সেজদার নামে লম্বা জুব্বা ও হাবাকাবা পরিহিতদের সামনে কপাল ঠেকায়।

সারকথা হলো, মানুষ যখন শিরকের মতো কবিরা গুনাহে লিপ্ত হয় তখন এমন ব্যক্তির পক্ষ থেকে সর্বপ্রকার গুনাহ ও অপরাধ সংঘটিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। অর্থাৎ শিরক হলো এমন বড় গুনাহ, যা সবচেয়ে বড় গুনাহ ও অপরাধ হওয়ার পাশাপাশি বাকি অন্যসব গুনাহের মূল উৎস। শিরক থেকেই অন্য সব গুনাহের জন্ম ও সুত্রপাত ঘটে। এই গুনাহ করার পর মানুষের কোনো শক্তি থাকে না। যা তাকে অন্যান্য গুনাহ থেকে বাঁধাপ্রদান করতে পারে। বরং অন্যান্য গুনাহে লিপ্ত হওয়াটা তার কাছে খুব সুন্দর মনে হয়। এর কারণ হলো, আকিদায়ে তাওহীদ জীবনের এক মাপকাঠি ও প্রতিরোধকারী ছিল। আকিদায়ে তাওহীদের বরকত সাথে থাকার কারণে সে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকতে পারত। আর গুনাহ তার কাছ থেকে দূরে থাকত। যখন এই প্রতিরোধকারী আর বাকি নেই তখন তার জীবনে গুনাহ আর গুনাহ দিয়ে ভরে যায়। তাই মানুষের জন্য সকল বিষয় থেকে বেশি প্রয়োজনীয় ও আবশ্যকীয় হলো, নিজের আকিদা বিশ্বাসের হেফাজত করা, যেন কখনও কোথাও ভুলেও শিরকের জালে ফেঁসে না যায়।

টিকাঃ
৩৬ বুখারী: ৪৭৬১। সম্পূর্ণ হাদীস হল এই: 'আবদুল্লাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, অথবা অন্য কেউ জিজ্ঞেস করলো, আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, কাউকে আল্লাহর সমকক্ষ স্থির করা, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এরপর কোনটি? তিনি জবাব দিলেন, তোমার সন্তানকে এ আশংকায় হত্যা করা যে, তারা তোমার খাদ্যে ভাগ বসাবে। আমি বললাম, এরপর কোনটি? তিনি বললেন, এরপর হচ্ছে তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করা। বর্ণনাকারী বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর এ কথার সমর্থনে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়- "এবং তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে আহবান করে না। আল্লাহ্ যার হত্যা নিষিদ্ধ করেছেন, যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না।,, [৪৪ ৭৭] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৪৩৯৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৪৪০০)

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহ করার পূর্বে ভালভাবে চিন্তা-ভাবনা করে নিন

📄 গুনাহ করার পূর্বে ভালভাবে চিন্তা-ভাবনা করে নিন


পরিশেষে গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য শাইখ ইবরাহিম বিন আদহাম রাহিমাহুল্লাহ এর এক ব্যক্তির সাথে নসিহতে পরিপূর্ণ একটি কথোপকথন আপনাদের সামনে পেশ করছি। যাতে করে আমাদের অনুভূতি আসে যে, আমরা গুনাহ করে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টিতে লিপ্ত হচ্ছি।

এক ব্যক্তি ইবরাহিম বিন আদহাম এর খেদমতে হাজির হয়ে তার কাছে আরজ করতে লাগল,

অপরিচিত ব্যক্তি : হে ইবরাহিম বিন আদহাম, আমি অনেক গুনাহ করেছি। আপনার নিকট আবেদন করছি আপনি আমাকে নসিহত করে দিন যে, ভবিষ্যতে আমার নফস যেন আমাকে গুনাহে নিমজ্জিত না করতে পারে।

ইবরাহিম বিন আদহাম : যদি তুমি পাঁচ বিষয়ের ওপর সামর্থ অর্জন করতে পার তাহলে গুনাহ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

অপরিচিত ব্যক্তি : সেই পাঁচ বিষয় কী কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : প্রথম ব্যাপার হলো, যদি তুমি আল্লাহর নাফরমানি করার ইচ্ছা করো, তাহলে তার দেওয়া রিজিক থেকে খেয়ো না।

অপরিচিত ব্যক্তি : তাহলে আমি কী খাবো, যেখানে সকল রিজিক তাঁরই সৃষ্টি করা।

ইবরাহিম বিন আদহাম : নিজে চিন্তা করো তো, তোমার কাছে কেমন লাগবে যার দেওয়া রিজিক থেকে খাচ্ছ, তাঁরই অবাধ্যতা নাফরমানি করবে?

অপরিচিত ব্যক্তি : অবশ্যই নয়। আর দ্বিতীয় বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম: যদি তাঁর নাফরমানি করার ইচ্ছা করো, তাহলে তার দেওয়া জায়গাতেও থাকবে না।

অপরিচিত ব্যক্তি: এটা তো প্রথম বিষয় থেকেও অনেক গুরুতর। আসমান জমিনের সবকিছু যেখানে তার সৃষ্টি করা তখন আমি কোথায় থাকব?

ইবরাহিম বিন আদহাম: তোমার কাছে এটা কী ভালো লাগে, যার বানানো জমিনে থাক তাঁরই নাফরমানি করবে?

অপরিচিত ব্যক্তি : কখনও নয়। আর তৃতীয় বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : যখন তুমি তাঁরই দেওয়া রিজিক খাচ্ছো, তাঁরই সৃষ্টি করা জমিনে থাকতে তুমি বাধ্য তাহলে তুমি এক কাজ করো, এমন কোনো জায়গায় গিয়ে গুনাহ করো যেখানে তিনি তোমাকে না দেখেন।

অপরিচিত ব্যক্তি : এটা কীভাবে সম্ভব যে, তার কাছ থেকে গোপন থাকব অথচ তিনি সকল প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ের ওপর নজর রাখেন।

ইবরাহিম বিন আদহাম: হে আল্লাহর বান্দা, তোমার নিকট কি গ্রহণযোগ্য যে, তুমি তাঁর দেওয়া রিজিক খেয়ে, তাঁরই বানানো জমিনে অবস্থান করে তাঁকে দেখিয়ে গুনাহ করবে?

অপরিচিত ব্যক্তি: অবশ্যই অবশ্যই না। চতুর্থ বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : যখন মালাকুল মওত তোমার জান কবজ করার জন্য আসবে তখন তুমি তাকে বলবে, আমাকে এতটুকু সময় দাও যে আমি তাওবা করে কিছু নেক কাজ করে নেব।

অপরিচিত ব্যক্তি: সে কখনও মানবে না।

ইবরাহিম বিন আদহাম : যখন তুমি মৃত্যুকে সামান্য সময়ের জন্য স্থগিত করিয়ে তাওবা করতে সক্ষম নও তাহলে তুমি মুক্তি ও নাজাতের আশা করে কেন বসে আছ?

অপরিচিত ব্যক্তি: পঞ্চম বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : কিয়ামতের দিন ফেরেশতা যখন তোমাকে জাহান্নামে ফেলার জন্য নিয়ে চলবে তখন তুমি তাদের সাথে যেয়ো না।

অপরিচিত ব্যক্তি: এটা তো সম্ভবই নয় যে, সে আমাকে ছেড়ে দেবে।

ইবরাহিম বিন আদহাম : তাহলে তুমি নাজাতের আশা করে কেন বসে আছো?

অপরিচিত ব্যক্তি : হে ইবরাহিম, আমি বুঝে ফেলেছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর কাছ থেকে তাওবা করছি।

তারপর ঐ ব্যক্তি ইবাদতে এমনভাবে লেগে গেল যে, মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো জিনিস তাকে ইবাদত থেকে আলাদা করতে পারেনি। ৩৭

আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করছি, তিনি যেন আমাদেরকে গুনাহের সকল প্রকার মাধ্যম থেকে বেঁচে থেকে তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবনযাপন করার তাওফিক দান করেন।

এখানে তো আমরা এমন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছি, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে মানুষ গুনাহে লিপ্ত হয়। এখন আপনারা গুনাহের আলামত ও তার ক্ষতিসমূহ জেনে নিন। যাতে করে নিজের আঁচলকে গুনাহের কালিমা থেকে বাঁচিয়ে আখিরাতে কামিয়াবি অর্জন করে জান্নাতের ওয়ারিস হতে পারেন।

আল্লাহর মুখাপেক্ষী
মাওলানা তাহের নাক্কাশ
১ এপ্রিল ২০০২
লাহোর

টিকাঃ
৩৭ কিতাবুত তাওয়াবিন-ইবনু কুদামা: ২৮৫-২৮৬

পরিশেষে গুনাহ থেকে বাঁচার জন্য শাইখ ইবরাহিম বিন আদহাম রাহিমাহুল্লাহ এর এক ব্যক্তির সাথে নসিহতে পরিপূর্ণ একটি কথোপকথন আপনাদের সামনে পেশ করছি। যাতে করে আমাদের অনুভূতি আসে যে, আমরা গুনাহ করে আল্লাহ তাআলার অসন্তুষ্টিতে লিপ্ত হচ্ছি।

এক ব্যক্তি ইবরাহিম বিন আদহাম এর খেদমতে হাজির হয়ে তার কাছে আরজ করতে লাগল,

অপরিচিত ব্যক্তি : হে ইবরাহিম বিন আদহাম, আমি অনেক গুনাহ করেছি। আপনার নিকট আবেদন করছি আপনি আমাকে নসিহত করে দিন যে, ভবিষ্যতে আমার নফস যেন আমাকে গুনাহে নিমজ্জিত না করতে পারে।

ইবরাহিম বিন আদহাম : যদি তুমি পাঁচ বিষয়ের ওপর সামর্থ অর্জন করতে পার তাহলে গুনাহ তোমার কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।

অপরিচিত ব্যক্তি : সেই পাঁচ বিষয় কী কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : প্রথম ব্যাপার হলো, যদি তুমি আল্লাহর নাফরমানি করার ইচ্ছা করো, তাহলে তার দেওয়া রিজিক থেকে খেয়ো না।

অপরিচিত ব্যক্তি : তাহলে আমি কী খাবো, যেখানে সকল রিজিক তাঁরই সৃষ্টি করা।

ইবরাহিম বিন আদহাম : নিজে চিন্তা করো তো, তোমার কাছে কেমন লাগবে যার দেওয়া রিজিক থেকে খাচ্ছ, তাঁরই অবাধ্যতা নাফরমানি করবে?

অপরিচিত ব্যক্তি : অবশ্যই নয়। আর দ্বিতীয় বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম: যদি তাঁর নাফরমানি করার ইচ্ছা করো, তাহলে তার দেওয়া জায়গাতেও থাকবে না।

অপরিচিত ব্যক্তি: এটা তো প্রথম বিষয় থেকেও অনেক গুরুতর। আসমান জমিনের সবকিছু যেখানে তার সৃষ্টি করা তখন আমি কোথায় থাকব?

ইবরাহিম বিন আদহাম: তোমার কাছে এটা কী ভালো লাগে, যার বানানো জমিনে থাক তাঁরই নাফরমানি করবে?

অপরিচিত ব্যক্তি : কখনও নয়। আর তৃতীয় বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : যখন তুমি তাঁরই দেওয়া রিজিক খাচ্ছো, তাঁরই সৃষ্টি করা জমিনে থাকতে তুমি বাধ্য তাহলে তুমি এক কাজ করো, এমন কোনো জায়গায় গিয়ে গুনাহ করো যেখানে তিনি তোমাকে না দেখেন।

অপরিচিত ব্যক্তি : এটা কীভাবে সম্ভব যে, তার কাছ থেকে গোপন থাকব অথচ তিনি সকল প্রকাশ্য ও গোপন বিষয়ের ওপর নজর রাখেন।

ইবরাহিম বিন আদহাম: হে আল্লাহর বান্দা, তোমার নিকট কি গ্রহণযোগ্য যে, তুমি তাঁর দেওয়া রিজিক খেয়ে, তাঁরই বানানো জমিনে অবস্থান করে তাঁকে দেখিয়ে গুনাহ করবে?

অপরিচিত ব্যক্তি: অবশ্যই অবশ্যই না। চতুর্থ বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : যখন মালাকুল মওত তোমার জান কবজ করার জন্য আসবে তখন তুমি তাকে বলবে, আমাকে এতটুকু সময় দাও যে আমি তাওবা করে কিছু নেক কাজ করে নেব।

অপরিচিত ব্যক্তি: সে কখনও মানবে না।

ইবরাহিম বিন আদহাম : যখন তুমি মৃত্যুকে সামান্য সময়ের জন্য স্থগিত করিয়ে তাওবা করতে সক্ষম নও তাহলে তুমি মুক্তি ও নাজাতের আশা করে কেন বসে আছ?

অপরিচিত ব্যক্তি: পঞ্চম বিষয় কী?

ইবরাহিম বিন আদহাম : কিয়ামতের দিন ফেরেশতা যখন তোমাকে জাহান্নামে ফেলার জন্য নিয়ে চলবে তখন তুমি তাদের সাথে যেয়ো না।

অপরিচিত ব্যক্তি: এটা তো সম্ভবই নয় যে, সে আমাকে ছেড়ে দেবে।

ইবরাহিম বিন আদহাম : তাহলে তুমি নাজাতের আশা করে কেন বসে আছো?

অপরিচিত ব্যক্তি : হে ইবরাহিম, আমি বুঝে ফেলেছি। আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাচ্ছি এবং তাঁর কাছ থেকে তাওবা করছি।

তারপর ঐ ব্যক্তি ইবাদতে এমনভাবে লেগে গেল যে, মৃত্যু ব্যতীত অন্য কোনো জিনিস তাকে ইবাদত থেকে আলাদা করতে পারেনি। ৩৭

আল্লাহ তাআলার কাছে দোআ করছি, তিনি যেন আমাদেরকে গুনাহের সকল প্রকার মাধ্যম থেকে বেঁচে থেকে তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক জীবনযাপন করার তাওফিক দান করেন।

এখানে তো আমরা এমন কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেছি, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে মানুষ গুনাহে লিপ্ত হয়। এখন আপনারা গুনাহের আলামত ও তার ক্ষতিসমূহ জেনে নিন। যাতে করে নিজের আঁচলকে গুনাহের কালিমা থেকে বাঁচিয়ে আখিরাতে কামিয়াবি অর্জন করে জান্নাতের ওয়ারিস হতে পারেন।

আল্লাহর মুখাপেক্ষী
মাওলানা তাহের নাক্কাশ
১ এপ্রিল ২০০২
লাহোর

টিকাঃ
৩৭ কিতাবুত তাওয়াবিন-ইবনু কুদামা: ২৮৫-২৮৬

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহের আলামত

📄 গুনাহের আলামত


ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, অনেক জাহেল আছে যারা আল্লাহ তাআলার রহমত ও তাঁর মাগফিরাত এবং তাঁর দয়া অনুগ্রহকে অপাত্রে ভরসা করে (অর্থাৎ যেমন ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার আশা নেই, সেখানেও ক্ষমার আশা করে গুনাহ করতে থাকা)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশ-নিষেধগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। সেগুলোর ওপর আমল করে না। আর ভুলে যায় যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন যুল জালাল। তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও। অপরাধী জাতির ওপর থেকে আল্লাহর আজাব কখনও ফিরে যাবে না।

যে ব্যক্তি লাগাতার গুনাহ করতে থাকে, গুনাহর ওপর পড়ে থাকে সাথে সাথে সে ক্ষমা করার ওপর ভরসা করে বসে থাকে, তার দৃষ্টান্ত তো ঐ ব্যক্তির মত, যে জেনে বুঝে সত্যের বিরোধিতাকারী।

জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি কত সুন্দরই না বলেছেন: যার কথা তুমি মান্য করো না তার রহমতের আশা করা একেবারেই বোকামি ও অপমানজনক ব্যাপার।

কোনো এক আলেম বলেন, যে রাব্বুল আলামিন তিন দিরহাম চুরি করার অপরাধে তোমার হাত কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর পরকালীন সাজার ব্যাপারে একেবারে নির্ভয় হয়ে বসে যেয়ো না যে, তিনি এমনই হবেন। (বরং সেখানে তো কয়েকগুণ বেশি কঠিন হবেন)

সাইয়িদুনা হাসান ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, "জনাব, আপনাকে বেশি বেশি কান্না করতে দেখা যায়। (এর কারণ কী?) তখন তিনি বললেন- সব সময় আমি এই ভয়ে থাকি যে, আমাকে যদি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়? অতঃপর তো কেউ আমার দিকে ভ্রুক্ষেপও করবে না।

এক ব্যক্তি ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করল, আমরা এমন লোকের মজলিস ও সোহবত লাভে কী পদ্ধতি অবলম্বন করব যারা আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি ও আজাবের এই পরিমাণ ভয় দেখায় যে, আমাদের অন্তর টুকরা টুকরা হয়ে যায়। (আর কঠিন ভয়ের কারণে আমরা কাঁদতে থাকতাম) তখন তিনি বললেন' আল্লাহর শপথ! তুমি এমন লোকদের সোহবত গ্রহণ করবে, যে তোমাকে আল্লাহর পাকড়াও এর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তুমি নিরাপত্তা অনুভব করে নাও, এটি তোমার জন্য ঐ বিষয় থেকে উত্তম যে, তুমি এমন লোকের সোহবত গ্রহণ করো, যে তোমাকে শান্তি ও নিরাপত্তার একিন দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে তুমি ভয়ংকর মসিবতের শিকার হয়ে যাও।

ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহিমাহুল্লাহ বলেন, অনেক জাহেল আছে যারা আল্লাহ তাআলার রহমত ও তাঁর মাগফিরাত এবং তাঁর দয়া অনুগ্রহকে অপাত্রে ভরসা করে (অর্থাৎ যেমন ক্ষেত্রে আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমার আশা নেই, সেখানেও ক্ষমার আশা করে গুনাহ করতে থাকা)। আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের আদেশ-নিষেধগুলোকে নষ্ট করে ফেলে। সেগুলোর ওপর আমল করে না। আর ভুলে যায় যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হলেন যুল জালাল। তিনি কঠিন শাস্তিদাতাও। অপরাধী জাতির ওপর থেকে আল্লাহর আজাব কখনও ফিরে যাবে না।

যে ব্যক্তি লাগাতার গুনাহ করতে থাকে, গুনাহর ওপর পড়ে থাকে সাথে সাথে সে ক্ষমা করার ওপর ভরসা করে বসে থাকে, তার দৃষ্টান্ত তো ঐ ব্যক্তির মত, যে জেনে বুঝে সত্যের বিরোধিতাকারী।

জনৈক জ্ঞানী ব্যক্তি কত সুন্দরই না বলেছেন: যার কথা তুমি মান্য করো না তার রহমতের আশা করা একেবারেই বোকামি ও অপমানজনক ব্যাপার।

কোনো এক আলেম বলেন, যে রাব্বুল আলামিন তিন দিরহাম চুরি করার অপরাধে তোমার হাত কেটে ফেলার আদেশ দিয়েছেন, তাঁর পরকালীন সাজার ব্যাপারে একেবারে নির্ভয় হয়ে বসে যেয়ো না যে, তিনি এমনই হবেন। (বরং সেখানে তো কয়েকগুণ বেশি কঠিন হবেন)

সাইয়িদুনা হাসান ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহুমা-এর কাছে জিজ্ঞাসা করা হলো, "জনাব, আপনাকে বেশি বেশি কান্না করতে দেখা যায়। (এর কারণ কী?) তখন তিনি বললেন- সব সময় আমি এই ভয়ে থাকি যে, আমাকে যদি জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হয়? অতঃপর তো কেউ আমার দিকে ভ্রুক্ষেপও করবে না।

এক ব্যক্তি ইমাম হাসান বসরী রহিমাহুল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করল, আমরা এমন লোকের মজলিস ও সোহবত লাভে কী পদ্ধতি অবলম্বন করব যারা আমাদেরকে আল্লাহ তাআলার শাস্তি ও আজাবের এই পরিমাণ ভয় দেখায় যে, আমাদের অন্তর টুকরা টুকরা হয়ে যায়। (আর কঠিন ভয়ের কারণে আমরা কাঁদতে থাকতাম) তখন তিনি বললেন' আল্লাহর শপথ! তুমি এমন লোকদের সোহবত গ্রহণ করবে, যে তোমাকে আল্লাহর পাকড়াও এর ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করে। এমনকি তুমি নিরাপত্তা অনুভব করে নাও, এটি তোমার জন্য ঐ বিষয় থেকে উত্তম যে, তুমি এমন লোকের সোহবত গ্রহণ করো, যে তোমাকে শান্তি ও নিরাপত্তার একিন দেয়, কিন্তু পরবর্তীতে তুমি ভয়ংকর মসিবতের শিকার হয়ে যাও।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00