📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 প্রবৃত্তির অনুসরণ

📄 প্রবৃত্তির অনুসরণ


গুনাহের অনেক বড় একটি কারণ হলো, নফসানি খাহেশাত তথা অন্তরের খারাপ প্রবৃত্তিকে পূর্ণ করা। বাস্তবায়ন করা। এর জন্য মানুষ চারিত্রিক অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে। বরং মিডিয়া যুদ্ধের এই দুনিয়ায় অধিকাংশ দ্বীন থেকে বঞ্চিত (যারা দ্বীনধর্মের কোনো তোয়াক্কাই করে না সেসব) লোকেরাই এর পিছনে লেগে আছে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حُجِبَتْ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ وَحُجِبَتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ

সাইয়িদুনা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দোজখের আবরণ হলো, নফসের খারাপ প্রবৃত্তি। ২১ আর বেহেশতের আবরণ হলো সেসব বিষয়, যেগুলোকে অন্তর খারাপ ২২ মনে করে। ২৩

এমন কত গুনাহই তো আছে যেগুলোতে লিপ্ত হওয়ার সময় আমরা নিতান্তই মামুলি ও তুচ্ছ মনে করি এবং অনিষ্ট মনে করি না। কী ক্ষতি হবে এর দ্বারা? কিন্তু রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট থেকে ছোট ও তুচ্ছ গুনাহ থেকে বাঁচার জন্যেও আদেশ দিয়েছেন।

عَنْ أَنَسٍ قَالَ إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أَعْمَالاً هِيَ أَدَقُ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنْ الشَّعَرِ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ الْمُوبِقَاتِ

সাইয়িদুনা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তোমরা এমন সব কাজ করে থাক, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও চিকন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী মনে করতাম। ২৪

এটিও বাস্তবতা যে, ব্যক্তি যখন গুনাহকে মামুলি মনে করে, তা থেকে বিরত থাকে না, তখন সে বড় বড় কবিরা গুনাহের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে যায়। যা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।

জেনে রাখুন, যে ব্যক্তির বয়স ৬০ বৎসরে গিয়ে পৌঁছেছে, আর সে গুনাহ থেকে পরহেয করে না, তাহলে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে নিরুত্তর হয়ে যাবে। ঐ সময় তাঁর কাছে কোনো ওযর আপত্তি গৃহিত হবে না আর তার এই গুনাহই জাহান্নামে প্রবেশ করাবে।

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَعْذَرَ اللَّهُ إِلَى امْرِئٍ أَخَّرَ أَجَلَهُ حَتَّى بَلَغَهُ سِيِّينَ سَنَةٌ

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ যার আয়ু দীর্ঘ করেছেন, এমনকি যাকে ষাট বছরে পৌঁছে দিয়েছেন তার ওযর পেশ করার সুযোগ রাখেননি। ২৫

মানুষের বড় একটি দুর্বলতা হলো, সে তার ইচ্ছামত গুনাহর কাজ করতে থাকে। আর ভাবতে থাকে, এখনও তো দীর্ঘকালের আয়ু বাকি রয়ে গেছে। এখন আর কতই বা বয়স হয়েছে! যখন বৃদ্ধ হয়ে যাব তখন তাওবা করে নেব। এখনও অনেক সময় আছে। এখন এই কাজ জরুরি নয়। এটা আগে করে নিই। তারপর একসময় আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।

কেউ কেউ তো বলে, 'আপনারা মৌলবীরা তো মানুষদেরকে ভয় দেখাতে থাকেন। এমন কোনো বিষয় নেই যে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু। (বাহ কত সুন্দর যুক্তি তাদের) আর বদবখত তো সে ব্যক্তিই যে আল্লাহর রহমতকে ঢাল ও বাহানা বানিয়ে গুনাহ করে যায়। এমন ব্যক্তির বোঝা উচিত, জানা উচিত যে, জাব্বার এবং কাহহার আল্লাহ তাআলারই নাম।

এভাবেই একটি শিশুবাচ্চা সান্ত্বনা ও আশার বাণী শুনে শুনে ষাট বছরের সেই বয়স পর্যন্ত পৌঁছে যায় (যাকে বলা হয় আরযালুল উমুর) যেই সময়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার আজাব থেকে বাঁচার এবং কোনো প্রকার ওজরখাহি পেশ করার সকল দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আর তার ওপর হুজ্জত কায়েম হয়ে যায়।

অথচ আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন এ ধরণের লোকের ব্যাপারে কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন-
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْشَنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا )

আর এমন লোকদের জন্য কোনো ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে। এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে, আমি এখন তাওবা করছি। যারা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। ২৬

সুতরাং যারা পরবর্তীতে তাওবা করে নিবে বলে পাপ কাজ করতেই থাকে তাদের অবস্থা কী হতে পারে। তাদের ভাগ্যে কি তাওবা নসিব হবে? তবে যদি আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে তাওবা করার সুযোগ করে দেন। তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু অবস্থা তো বলে এমন লোকদের জন্য তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায়।)

টিকাঃ
২১ যেমন: জিনা, চুরি, মদ, খেল-তামাশা, ফিল্ম বা মুভি অথবা ড্রামা দেখা ইত্যাদি।
২২ যেমন: ইবাদত-বন্দেগি, তাকওয়া-পরহেযগারি, জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ ইত্যাদি।
২৩ সহীহ বুখারী: ৬৪৮৭
২৪ বুখারী: ৬৪৯২
২৫ বুখারী: ৬৪১৯
২৬ সূরা নিসা: ১৮

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহের কালিমা ও তার রঙ যখন অন্তরকে ঘিরে নেয়

📄 গুনাহের কালিমা ও তার রঙ যখন অন্তরকে ঘিরে নেয়


সুতরাং গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিরা এভাবেই নিজের সাথে ও অন্যের সাথে ছলছাতুরি করে গুনাহ করে যেতে থাকে, খারাপ ও গর্হিত কাজ করে যেতে থাকে আর মনে মনে ভাবে যা করছে ঠিকই করছে। অতঃপর গুনাহ করতে করতে তার অবস্থার এমন অবনতি হয় যে, তার অন্তরই মরে যায়। এখন সে গুনাহ ও পাপাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কদম উঠানোর জন্য যেকোনো প্রকারের কার্যক্রম গ্রহণ করে। এই হলো, দুর্ভাগার শেষ পর্যায়, যে তার অন্তর মরে যাওয়া শুরু করে এবং আস্তে আস্তে অন্তর একেবারেই অন্তরের মৃত্যু হয়ে যায়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে ভীতিপ্রদর্শন করার জন্য নিম্ন বর্ণিত হাদীসে আমাদেরকে রাহনুমায়ি করেন, আমাদেরকে সঠিক পথ দেখান-

وَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ فَإِنْ تَابَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ زَادَ زَادَتْ حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ فَذَلِكُمُ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهُ وَقَالَ التَّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ

সাইয়িদুনা হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "অবশ্যই যখন মুমিন কোনো গুনাহ করে ফেলে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর যখন সে তাওবা করে নেয়, গুনাহকে পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তার অন্তরের সেই কালো দাগটি মুছে দেওয়া হয়। আর যদি সে তাওবা করার পরিবর্তে বেশি বেশি গুনাহ করে, তাহলে (এই গুনাহের আধিক্যতার কারণে) তার অন্তরও বেশি কালো হয়ে যায়। অবশেষে সেটি তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এ হলো সেই মরিচা যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে বলেছেন, 'এটা কখনও নয়, বরং তাদের অন্তরের ওপর গুনাহের মরিচা লেগে আছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন উপার্জন করেছে।'২৭ হাদীসটি ইমাম তিরমিজি ও ইমাম ইবনু মাজাহ রেওয়ায়াত করেছেন। আর ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। ২৮

টিকাঃ
২৭ সূরা মুতাফফিফিন: ৮৩
২৮ মিশকাতুল মাসাবিহ: ২৩৪২ (শায়ক আলবানির তাহকীককৃত) [জামে তিরমিযী: ৩৩৩৪, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৪২৪৪, আহমাদ: ৭৯৫২, মুসতাদরাক লিল হাকিম: ৩৯০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ২০৭৬৩, শুআবুল ইমান: ৬৮০৮, সহীহ আত তারগীব: ৩১৪১]

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 অন্তর থেকে তাকওয়া-পরহেযগারী ও আল্লাহর ভয় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া

📄 অন্তর থেকে তাকওয়া-পরহেযগারী ও আল্লাহর ভয় নিঃশেষ হয়ে যাওয়া


মানুষ গুনাহের মধ্যে নিমজ্জিত হওয়ার বড় একটি কারণ হলো, তাকওয়া ও খোদাভীতি শেষ হয়ে যাওয়া। কেননা, তাকওয়া ও খোদাভীতি এমন একটি শক্তি, যা মানুষকে গুনাহ ও অবাধ্যতা থেকে বাঁচিয়ে রাখে। এই শক্তির উপস্থিতিতে মুমিন ব্যক্তির মন-মগজের মধ্যে সবসময়ই এই চিন্তা-ভাবনাই থাকে যে প্রতিটি সময়ের কার্যক্রমগুলো নোট করা হচ্ছে, লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। তার আমলের রেকর্ড প্রতিনিয়ত তৈরি করা হচ্ছে। দুই ফেরেশতা আল্লাহর পক্ষ থেকে ডিউটিরত আছে। যারা প্রতিটি মুহুর্তের হিসাব এবং তার ছোট থেকে ছোট কাজের নোটও করছে।

তাই এ আসল ব্যাপারটা যখন তার ভালোভাবে বুঝে আসে, তারপর থেকে কোনো সময় কোনো কাজ করার পূর্বে সে অবশ্যই ভাবে যে, কোথাও আবার একাজটি আমার মাবুদের অসন্তুষ্টির কারণ তো হয়ে যাবে না! অতএব আল্লাহ তাআলার ভয় ও আশঙ্কা তাকে গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে ফিরিয়ে রাখে ও গুনাহ থেকে তাকে বাঁধাপ্রদান করে। কিন্তু যখনি আখিরাতের প্রতি মানুষের পরিপূর্ণ একিন ও দৃঢ়বিশ্বাস না থাকে তখনই মরার পর আখিরাতে আমাদেরকে আমাদের রবের দরবারে নিজেদের আমলের ব্যাপারে জবাবদিহী করতে হবে সেই ধ্যান ও খেয়ালটাও তার অন্তর থেকে বেরিয়ে যায়। এমন ব্যক্তি বিনা দ্বিধায় কোনো ভয় ভীতি না রেখে গুনাহের কাদামাটিতে গড়াগড়ি খেতে থাকে। আর নিজের এই দুর্গন্ধময় চিন্তা-ভাবনার প্রচার প্রসার করতে থাকে যে, এ তো চারদিনের জীবন, এনজয় করে নাও, মওজ মাস্তি করে নাও, জানা নেই সামনে কী আছে? এমন যেন না হয় যে, এখানকার আরাম আয়েশ ও ভোগ-বিলাস থেকেও মাহরুম হতে হয় আর সামনের জিন্দেগিতেও কিছু না মিলে।

কেউ তো বলে, যদি এসব গুনাহ হয়ে থাকে, তাহলে এখানকার সবাই এমন করে যাচ্ছে, তাহলে সবাই খারাপ। বাকি রইল হিসাব কিতাবের ব্যাপারটি। সুতরাং যখন হিসাব নিকাশের বিষয় সামনে আসবে তখন দেখা যাবে। আসতাগফিরুল্লাহ। কতেক জাহেল ও নাদান কিসিমের লোক এই দুনিয়ার খেল-তামাশাকেই জীবনের আসল মাকসাদ ধরে নিয়েছে। গুনাহকে তো গুনাহই মনে করছে না। ওয়াজ নসিহতেও হৃদয় বিগলিত হয় না। বরং বড় প্রতাপের সাথে বলে বেড়ায়'এই মজাদার জীবনের স্বাদ নাও; যা ইচ্ছে তাই করো। মনে যা আসে করতে থাক। কেননা, পরজগৎ বলে কিছু নেই। কেউ কি দেখেছে পরজগতকে? এমন লোকও তো আছে যারা আল্লাহ তাআলাকে সামান্য পরিমাণ ভয়ও করে না। যদি কখনও তাদের মুখ থেকে বের হয়ে আসে, তাওবা তাওবা। আল্লাহ মাফ করো। এমন লোকদের থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাই অথবা এমন কাজ কারবার থেকে পানাহ চাই ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু এগুলো কেবল মুখের বুলি। মুসলিম হিসেবে মুখ ফসকে বেরিয়ে যায়। আর যদি তাদের এই মুখের কথাকে সত্য মনে ধরে নেওয়া হয়, তাহলে মানতেই হয় যে- তাদের কাজকর্ম অবশ্যই আল্লাহভীতির বিপরীত রয়েছে। অতএব প্রকৃতপক্ষে খোদাভীতি, তাকওয়া ও পরহেযগারী হলো, গুনাহে লিপ্ত হওয়াকে বাঁধাপ্রদান করে আখিরাতে কামিয়াব ও সফল বানায়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাকিমের মধ্যে তাঁর ভয়ে ভীতদের উচু মর্তবার কথা বর্ণনা করেছেন-

وَلِمَنْ خَافَ مَقَam رَبِّهِ جَنَّتَانِ

যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে (দাঁড়িয়ে জীবনের হিসাব নিকাশ দেওয়ার জন্য) পেশ হওয়ার ভয় রাখে, তার জন্যে রয়েছে দুটি উদ্যান। ২৯

এর মানে হলো, আল্লাহকে ভয় করতে করতে জীবন অতিবাহিত করেছে এবং এরই ভিত্তিতে গুনাহ থেকে বেঁচে থেকেছে। কুরআনে হাকিমে অন্য এক জায়গায় আল্লাহ তাআলাকে ভয়কারীর ঠিকানা এভাবেই শনাক্ত করেছেন-
﴿وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى﴾

পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দন্ডায়মান হওয়াকে ভয় করেছে এবং খেয়াল-খুশি থেকে নিজেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত।৩০

টিকাঃ
২৯ সূরা আর রাহমান: ৪৬
৩০ সূরা নাযিআত: ৪০

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 কিয়ামতের দিনের ব্যাপারে মিথ্যাবাদিতার শাস্তি

📄 কিয়ামতের দিনের ব্যাপারে মিথ্যাবাদিতার শাস্তি


এরা তো সে সব লোক যারা গুনাহ থেকে আঁচল বাঁচিয়ে নিজেদের কথা ও কাজের দ্বারা প্রমাণ করে যে, তাদেরকে আল্লাহর কাছে একদিন জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। কিন্তু যারা তাদের কথা ও কাজের দ্বারা পরকালে জবাবদিহিতার বিষয়টি মিথ্যাপ্রতিপন্ন করেছে, তাদের ভয়াবহ শাস্তির আলোচনা কুরআনে কারীম কয়েক জায়গায় করেছে। মহান আল্লাহ তাআলা বলেন-
﴿بَلْ كَذَّبُوا بِالسَّاعَةِ وَأَعْتَدْنَا لِمَن كَذَّبَ بِالسَّاعَةِ سَعِيرًا﴾

বস্তুত তারা কিয়ামত অস্বীকার করে আর যে কিয়ামতকে অস্বীকার করে, আমি তার জন্য অগ্নি প্রস্তুত করেছি।৩১

টিকাঃ
৩১ সূরা ফুরকান: ১১

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00