📄 গুনাহ পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুককে শয়তান যেভাবে ওয়াসওয়াসা দেয়
মানুষ যখন উপরোক্ত জিনিসের জন্য একবার গুনাহ করে বসে আর তখনি শয়তান পিছনে ভালোভাবে লেগে যায়। কারণ কখন জানি তার বোধশক্তির মাঝে ধরা পড়ে যায়, যে কাজ সে করেছে তাতে ভুল করেছে। শয়তান ঐ গুনাহগার ব্যক্তিকে তার কৃত গুনাহটি গুনাহ নয় এই কথাটা প্রমাণ করার জন্য এমন এমন দলিল ও ব্যাখ্যা বুঝায় এবং অন্তরের ভেতরে গেঁথে দেয় যে, যদি কেউ তাকে বুঝাতে আসে, এমন কাজ করো না। এটা করলে গুনাহ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হবেন, তাহলে সে উল্টো তাকেই শয়তানের প্রস্তুতকৃত দলিল ও ব্যাখ্যা দ্বারা নিরুত্তর করার চেষ্টা করে। সেইসব ঠুনকো দলিল দ্বারা গুনাহগার বলা থেকে নিজের প্রতিরক্ষা করে এবং নিজের পক্ষে সাফাই দেয়। সে বলে, না আমি যা করেছি, সঠিক করেছি। আমি তো কেবল নিজের পেট চালানোর জন্য এসব চক্কর চালাই। কাউকে তো হত্যা করি না। দুনিয়াতে এমন ব্যক্তিও তো রয়েছে, যে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আরেকজনকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। এক্ষেত্রে আমি তো এমন ব্যক্তির চেয়েও ভালো আছি। অথবা সে বলে, আরে ভাই ছাড়ুন না। দেখেছি কত নামাজি নামাজ পড়ে, কত হাজি হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ে তারপর আবার মানুষের গলায় না-জায়িয ফায়দার ছুরি চালিয়ে দেয়, মিথ্যা বলে ইত্যাদি। আরও কত কী! কী ফায়দা দিয়েছে তাহলে এসব নামাজ আর হজ করা? আমরা তো এসব নামাজি ও হাজিদের থেকে ভালো আছি। যারা নামাজ-কালাম পড়ে আবার উল্টাপাল্টাও করে। এভাবেই শয়তান সব অপরাধী ও গুনাহগারকে গুনাহর মধ্যে দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য এ ধরণের ঠুনকো দলিল দিয়ে বুঝায়- যাতে করে সে নিজের গুনাহকে শয়তানের বেকার ও কাঁচা দলিলের ভিত্তিতে জায়িয মনে করে। গুনাহ করার ফলে যে উপকার হাসিল হয় তাকে নিজের বৈধ অধিকার মনে করে। অতঃপর সেই গুনাহর কাজেই লেগে থাকে। গুনাহর রাস্তায় চলতে থাকে।
📄 শয়তান মানুষকে গুনাহপূর্ণ জীবনকে সুন্দর ও সুশোভিত করে দেখায়
এভাবেই শয়তান তার সামনে গুনাহ, অবাধ্যতা ও আল্লাহর নাফরমানিতে ভরা জীবনকে অত্যন্ত সুন্দর ও সুশোভিত করে তার সম্মুখে মেলে ধরে। এই বিষয়টিকেই আল্লাহ তাআলা কুরআন কারীমের মধ্যে এভাবে আলোচনা করেছেন-
زُيِّنَ لِلَّذِينَ كَفَرُوا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَيَسْخَرُونَ مِنَ الَّذِينَ ءَامَنُوا - وَالَّذِينَ اتَّقَوْا فَوْقَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ وَاللَّهُ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ)
পার্থিব জীবনকে কাফিরদের জন্য (দ্বীন ইসলামকে অস্বীকারকারীদের জন্য) সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে। (যখন) তারা ঈমানদারদেরকে (দুনিয়ার দৃষ্টিতে তাদেরকে সুখি না দেখে তাদের প্রতি) লক্ষ্য করে হাসাহাসি করে। পক্ষান্তরে যারা পরহেযগার তারা সেই কাফিরদের তুলনায় কিয়ামতের দিন অত্যন্ত উচ্চমর্যাদায় থাকবে। আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সীমাহীন রুজি দান করেন। ১৭
অন্য এক স্থানে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
كَذَلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ ﴾
এমনিভাবে কাফিরদের দৃষ্টিতে তাদের কাজকর্মকে সুশোভিত করে দেয়া হয়েছে। ১৮
অতএব যে সকল কাজ সত্যকে অস্বীকারকারী কাফিররা করে বেড়াচ্ছে, এসবই তাদের নিকট সুন্দর ও সুশোভিত করে দেওয়া হয়েছে। এই সকল খারাপ কাজগুলো তাদের নিকট খারাপই মনে হয় না, তাহলে তা পরিত্যাগ কেমনে করবে?
অন্য আরেক স্থানে আল্লাহ তাআলা আরও সুস্পষ্ট আকারে বর্ণনা করেন এভাবে-
وَزُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ)
তাদের মন্দকাজগুলো তাদের জন্য শোভনীয় করে দেওয়া হলো। (তাই তারা স্বীয় কুফরি থেকে ফিরে আসে না) আর আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না১৯
আরেক জায়গায় আল্লাহ পাক নিজেদের গর্হিত ও গুনাহর কাজগুলো (ভালো ও উত্তম কাজ যারা মনে করে তাদের সম্পর্কে সুস্পষ্টতার সাথে তাদের গোমরাহ তথা পথভ্রষ্ট হিসেবে) নির্ধারিত করেন। তিনি ইরশাদ করেন-
اَفَمَنْ زُيِّنَ لَهُ سُوءُ عَمَلِهِ فَرَوَاهُ حَسَنًا فَإِنَّ اللَّهَ يُضِلُّ مَن يَشَاءُ وَيَهْدِي مَن يَشَاءُ فَلَا تَذْهَبْ نَفْسُكَ عَلَيْهِمْ حَسَرَتٍ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِمَا يَصْنَعُونَ
যাকে মন্দকর্ম শোভনীয় করে দেখানো হয়, সে তাকে উত্তম মনে করে, সে কি সমান যে মন্দকে মন্দ মনে করে। নিশ্চয় আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথ প্রদর্শন করেন। সুতরাং আপনি তাদের জন্যে অনুতাপ করে নিজেকে ধ্বংস করবেন না। নিশ্চয়ই আল্লাহ জানেন তারা যা করে। ২০
টিকাঃ
১৭ সূরা বাকারা: ২১২
১৮ সূরা আনআম: ১২২
১৯ সূরা তাওবা: ৩৭
২০ সূরা ফাতির: ৮
📄 প্রবৃত্তির অনুসরণ
গুনাহের অনেক বড় একটি কারণ হলো, নফসানি খাহেশাত তথা অন্তরের খারাপ প্রবৃত্তিকে পূর্ণ করা। বাস্তবায়ন করা। এর জন্য মানুষ চারিত্রিক অপরাধে জড়িত হয়ে পড়ে। বরং মিডিয়া যুদ্ধের এই দুনিয়ায় অধিকাংশ দ্বীন থেকে বঞ্চিত (যারা দ্বীনধর্মের কোনো তোয়াক্কাই করে না সেসব) লোকেরাই এর পিছনে লেগে আছে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ حُجِبَتْ النَّارُ بِالشَّهَوَاتِ وَحُجِبَتْ الْجَنَّةُ بِالْمَكَارِهِ
সাইয়িদুনা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দোজখের আবরণ হলো, নফসের খারাপ প্রবৃত্তি। ২১ আর বেহেশতের আবরণ হলো সেসব বিষয়, যেগুলোকে অন্তর খারাপ ২২ মনে করে। ২৩
এমন কত গুনাহই তো আছে যেগুলোতে লিপ্ত হওয়ার সময় আমরা নিতান্তই মামুলি ও তুচ্ছ মনে করি এবং অনিষ্ট মনে করি না। কী ক্ষতি হবে এর দ্বারা? কিন্তু রাসূলে আরাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ছোট থেকে ছোট ও তুচ্ছ গুনাহ থেকে বাঁচার জন্যেও আদেশ দিয়েছেন।
عَنْ أَنَسٍ قَالَ إِنَّكُمْ لَتَعْمَلُونَ أَعْمَالاً هِيَ أَدَقُ فِي أَعْيُنِكُمْ مِنْ الشَّعَرِ إِنْ كُنَّا لَنَعُدُّهَا عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ الْمُوبِقَاتِ
সাইয়িদুনা আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, তোমরা এমন সব কাজ করে থাক, যা তোমাদের দৃষ্টিতে চুল থেকেও চিকন। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সময়ে আমরা এগুলোকে ধ্বংসকারী মনে করতাম। ২৪
এটিও বাস্তবতা যে, ব্যক্তি যখন গুনাহকে মামুলি মনে করে, তা থেকে বিরত থাকে না, তখন সে বড় বড় কবিরা গুনাহের সমুদ্রে নিমজ্জিত হয়ে যায়। যা তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করে।
জেনে রাখুন, যে ব্যক্তির বয়স ৬০ বৎসরে গিয়ে পৌঁছেছে, আর সে গুনাহ থেকে পরহেয করে না, তাহলে সে কিয়ামতের দিন আল্লাহর দরবারে নিরুত্তর হয়ে যাবে। ঐ সময় তাঁর কাছে কোনো ওযর আপত্তি গৃহিত হবে না আর তার এই গুনাহই জাহান্নামে প্রবেশ করাবে।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ أَعْذَرَ اللَّهُ إِلَى امْرِئٍ أَخَّرَ أَجَلَهُ حَتَّى بَلَغَهُ سِيِّينَ سَنَةٌ
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ্ যার আয়ু দীর্ঘ করেছেন, এমনকি যাকে ষাট বছরে পৌঁছে দিয়েছেন তার ওযর পেশ করার সুযোগ রাখেননি। ২৫
মানুষের বড় একটি দুর্বলতা হলো, সে তার ইচ্ছামত গুনাহর কাজ করতে থাকে। আর ভাবতে থাকে, এখনও তো দীর্ঘকালের আয়ু বাকি রয়ে গেছে। এখন আর কতই বা বয়স হয়েছে! যখন বৃদ্ধ হয়ে যাব তখন তাওবা করে নেব। এখনও অনেক সময় আছে। এখন এই কাজ জরুরি নয়। এটা আগে করে নিই। তারপর একসময় আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।
কেউ কেউ তো বলে, 'আপনারা মৌলবীরা তো মানুষদেরকে ভয় দেখাতে থাকেন। এমন কোনো বিষয় নেই যে আল্লাহ তাআলা ক্ষমা করবেন না। আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল দয়ালু। (বাহ কত সুন্দর যুক্তি তাদের) আর বদবখত তো সে ব্যক্তিই যে আল্লাহর রহমতকে ঢাল ও বাহানা বানিয়ে গুনাহ করে যায়। এমন ব্যক্তির বোঝা উচিত, জানা উচিত যে, জাব্বার এবং কাহহার আল্লাহ তাআলারই নাম।
এভাবেই একটি শিশুবাচ্চা সান্ত্বনা ও আশার বাণী শুনে শুনে ষাট বছরের সেই বয়স পর্যন্ত পৌঁছে যায় (যাকে বলা হয় আরযালুল উমুর) যেই সময়ে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে তার আজাব থেকে বাঁচার এবং কোনো প্রকার ওজরখাহি পেশ করার সকল দরজা বন্ধ হয়ে যায়। আর তার ওপর হুজ্জত কায়েম হয়ে যায়।
অথচ আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন এ ধরণের লোকের ব্যাপারে কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন-
وَلَيْسَتِ التَّوْبَةُ لِلَّذِينَ يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ حَتَّى إِذَا حَضَرَ أَحَدَهُمُ الْمَوْتُ قَالَ إِنِّي تُبْتُ الْشَنَ وَلَا الَّذِينَ يَمُوتُونَ وَهُمْ كُفَّارٌ أُولَئِكَ أَعْتَدْنَا لَهُمْ عَذَابًا أَلِيمًا )
আর এমন লোকদের জন্য কোনো ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে। এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে, আমি এখন তাওবা করছি। যারা কুফরি অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি। ২৬
সুতরাং যারা পরবর্তীতে তাওবা করে নিবে বলে পাপ কাজ করতেই থাকে তাদের অবস্থা কী হতে পারে। তাদের ভাগ্যে কি তাওবা নসিব হবে? তবে যদি আল্লাহ দয়াপরবশ হয়ে তাওবা করার সুযোগ করে দেন। তাদের কথা ভিন্ন। কিন্তু অবস্থা তো বলে এমন লোকদের জন্য তাওবার দরজা বন্ধ হয়ে যায়।)
টিকাঃ
২১ যেমন: জিনা, চুরি, মদ, খেল-তামাশা, ফিল্ম বা মুভি অথবা ড্রামা দেখা ইত্যাদি।
২২ যেমন: ইবাদত-বন্দেগি, তাকওয়া-পরহেযগারি, জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ ইত্যাদি।
২৩ সহীহ বুখারী: ৬৪৮৭
২৪ বুখারী: ৬৪৯২
২৫ বুখারী: ৬৪১৯
২৬ সূরা নিসা: ১৮
📄 গুনাহের কালিমা ও তার রঙ যখন অন্তরকে ঘিরে নেয়
সুতরাং গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তিরা এভাবেই নিজের সাথে ও অন্যের সাথে ছলছাতুরি করে গুনাহ করে যেতে থাকে, খারাপ ও গর্হিত কাজ করে যেতে থাকে আর মনে মনে ভাবে যা করছে ঠিকই করছে। অতঃপর গুনাহ করতে করতে তার অবস্থার এমন অবনতি হয় যে, তার অন্তরই মরে যায়। এখন সে গুনাহ ও পাপাচারের বিরুদ্ধে আওয়াজ উঠানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কদম উঠানোর জন্য যেকোনো প্রকারের কার্যক্রম গ্রহণ করে। এই হলো, দুর্ভাগার শেষ পর্যায়, যে তার অন্তর মরে যাওয়া শুরু করে এবং আস্তে আস্তে অন্তর একেবারেই অন্তরের মৃত্যু হয়ে যায়। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ ব্যাপারে ভীতিপ্রদর্শন করার জন্য নিম্ন বর্ণিত হাদীসে আমাদেরকে রাহনুমায়ি করেন, আমাদেরকে সঠিক পথ দেখান-
وَ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ : إِنِ الْمُؤْمِنَ إِذَا أَذْنَبَ كَانَتْ نُكْتَةٌ سَوْدَاءُ فِي قَلْبِهِ فَإِنْ تَابَ وَاسْتَغْفَرَ صُقِلَ قَلْبُهُ وَإِنْ زَادَ زَادَتْ حَتَّى تَعْلُوَ قَلْبَهُ فَذَلِكُمُ الرَّانُ الَّذِي ذَكَرَ اللهُ تَعَالَى كَلَّا بَلْ رَانَ عَلَى قُلُوبِهِمْ مَا كَانُوا يَكْسِبُونَ رَوَاهُ أَحْمَدُ وَالتَّرْمِذِيُّ وَابْنُ مَاجَهُ وَقَالَ التَّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ
সাইয়িদুনা হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, "অবশ্যই যখন মুমিন কোনো গুনাহ করে ফেলে তখন তার অন্তরের মধ্যে একটি কালো দাগ পড়ে যায়। অতঃপর যখন সে তাওবা করে নেয়, গুনাহকে পরিত্যাগ করে এবং আল্লাহ তাআলার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে তখন তার অন্তরের সেই কালো দাগটি মুছে দেওয়া হয়। আর যদি সে তাওবা করার পরিবর্তে বেশি বেশি গুনাহ করে, তাহলে (এই গুনাহের আধিক্যতার কারণে) তার অন্তরও বেশি কালো হয়ে যায়। অবশেষে সেটি তার অন্তরকে ঢেকে ফেলে। এ হলো সেই মরিচা যার ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা কুরআন মাজিদে বলেছেন, 'এটা কখনও নয়, বরং তাদের অন্তরের ওপর গুনাহের মরিচা লেগে আছে, যা তারা প্রতিনিয়ত উপার্জন উপার্জন করেছে।'২৭ হাদীসটি ইমাম তিরমিজি ও ইমাম ইবনু মাজাহ রেওয়ায়াত করেছেন। আর ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ। ২৮
টিকাঃ
২৭ সূরা মুতাফফিফিন: ৮৩
২৮ মিশকাতুল মাসাবিহ: ২৩৪২ (শায়ক আলবানির তাহকীককৃত) [জামে তিরমিযী: ৩৩৩৪, সুনানে ইবনে মাজাহঃ ৪২৪৪, আহমাদ: ৭৯৫২, মুসতাদরাক লিল হাকিম: ৩৯০৮, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকি: ২০৭৬৩, শুআবুল ইমান: ৬৮০৮, সহীহ আত তারগীব: ৩১৪১]