📄 কুরআনের ভাষায় অন্যায় ও খারাপকাজে লিপ্ত হওয়ার কিছু কারণ
খারাপকাজে আকৃষ্টকারী কিছু কারণ কুরআনে কারিম একস্থানে এভাবেই শনাক্ত করেছে,
আল্লাহ তাআলা বলেন- زُيِّنَ لِلنَّاسِ حُبُّ الشَّهَوَاتِ مِنَ النِّسَاءِ وَالْبَنِينَ وَالْقَنَاطِيرِ الْمُقَنطَرَةِ مِنَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ وَالْخَيْلِ الْمُسَوَّمَةِ وَالْأَنْعَامِ وَالْحَرْثِ ذَلِكَ مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَثَابِ
মানবকূলকে মোহগ্রস্ত করেছে নারী, সন্তান-সন্ততি, রাশিকৃত স্বর্ণ- রৌপ্য, চিহ্নিত অশ্ব, গবাদি পশুরাজি এবং ক্ষেত-খামারের মত আকর্ষণীয় বস্তুসামগ্রী। এসবই হচ্ছে পার্থিব জীবনের ভোগ্য বস্তু। আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়। ৭
এই আয়াতে কারীমার মধ্যে আল্লাহ তাআলা সেইসব বিশেষ নিয়ামতসমূহের আলোচনা করেছেন, যা তিনি নিজের বান্দাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন এবং বিশেষভাবে সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর রেখেছেন যে, প্রত্যেক মানুষই সেদিকে মনোনিবেশ করে ও ধাবিত হয়ে যায়। সেগুলোকে হাসিল করতে হলে সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করে। আর এই চেষ্টা-প্রচেষ্টায় সে আল্লাহর অবাধ্যতা ও গুনাহের কাজও করে বসে। এমন নিয়ামত যা পেয়ে বান্দা নিজের সৃষ্টিকর্তাকে ভুলে গিয়ে তাঁর অবাধ্যতা ও গুনাহ করে বসে সেগুলো এই আয়াতে এভাবে বলা হয়েছে-
নারী
সন্তান-সন্ততি
সোনারোপার স্তুপ (ব্যাংক-ব্যলেন্স
চিহ্নিত ঘোড়া (নতুন নতুন মূল্যবান গাড়ি)
গবাদি পশুরাজি (বিভিন্ন পশুর খামার)...
ক্ষেত-খামার।
নারী লিন্সা, সন্তানাদির আশা-আকাঙ্ক্ষা, ধন-সম্পদ, সোনা-রোপা, নগদ টাকা পয়সা, ব্যাংক-ব্যালেন্স, নতুন নতুন দামি গাড়ি, বিভিন্ন পশুর খামার, জমিনের মালিকানা ইত্যাদি এসব কিছু কী! মুমিন ব্যক্তির তো এই উদ্দেশ্য নয়। মুমিনের মাকসাদ বা উদ্দেশ্য তো কেবল আখিরাতের কামিয়াবি অর্জন। তারা তো রবের সন্তুষ্টি চায়; যাতে করে রবকে সন্তুষ্ট করে তাঁর সুন্দর ও সৌন্দর্যমন্ডিত জান্নাতের মালিক হতে পারে। দুনিয়ার শান-শওকত ও ধন-দৌলত ইত্যাদি তো তার উদ্দেশ্যই নয়। তারা এই পরিমাণ জীবিকা অর্জন করুক, যার দ্বারা এই দুনিয়ায় সম্মানের জীবনযাপন করতে পারে এবং আল্লাহ তাআলার ইবাদত বন্দেগী নিয়মিতভাবে করতে সহজ হয়। যদি সে দুনিয়াবি শোভা-সৌন্দর্য ও বিলাসিতা এবং লোভ-লালসায় পড়ে যায়, তাহলে সে গুনাহর শিকার হয়ে যাবে; যা এই সব বস্তুর সাথে প্রাসঙ্গিকভাবে জড়িত থাকে। আর এই সকল গুনাহ তাকে তার মনজিল থেকে বহুদূরে নিয়ে যাবে, যা কখনওই তার মনঃপূত হবে না। তাই তো সে মনে করে যে, এগুলো তো পার্থিব জীবনের শোভা-সৌন্দর্য ও ক'দিনের আরাম-আয়েশ মাত্র। যখনই জীবন শেষ হবে এই সকল সামানা আসবাবপত্র এখানেই যুগ যুগ ধরে পড়ে রবে। এসবের কিছুই মানুষের সাথে যাবে না। এই দিকে দৃষ্টিপাত করেই আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন—
اعْلَمُوا أَنَّمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا لَعِبٌ وَلَهُوٌ وَزِينَةٌ وَتَفَاخُرٌ بَيْنَكُمْ وَتَكَاثُرٌ فِي الْأَمْوَالِ وَالْأَوْلَادِ كَمَثَلِ غَيْثٍ أَعْجَبَ الْكُفَّارَ نَبَاتُهُ ثُمَّ يَهِيجُ فَتَرَلَهُ مُصْفَرًا ثُمَّ يَكُونُ حُطَبًا وَفِي الْأَنْ ءَاخِرَةِ عَذَابٌ شَدِيدٌ وَمَغْفِرَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرِضُونَ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا مَتَاعُ الْغُرُورِ
তোমরা জেনে রাখ, পার্থিব জীবন, ক্রীড়া-কৌতুক, সাজ-সজ্জা, পারস্পরিক অহমিকা এবং ধন ও সন্তানাদির প্রাচুর্য ব্যতীত আর কিছু নয়। যেমন এক বৃষ্টির অবস্থা, যার সবুজ ফসল কৃষকদেরকে চমৎকৃত করে। এরপর তা শুকিয়ে যায়। ফলে তুমি তাকে পীতবর্ণ দেখতে পাও। এরপর তা খড়কুটো হয়ে যায়। আর পরকালে আছে কঠিন শাস্তি এবং আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি। পার্থিব জীবন প্রতারণার উপকরণ বৈ কিছু নয়।
কুরআনে হাকিমের মধ্যে আল্লাহ তাআলা জায়গায় জায়গায় ধন-সম্পদ যে অস্থায়ী সে ব্যাপারে বর্ণনা দিয়েছেন। আর তার বিপরীতে আখিরাতের নিয়ামতকে দুনিয়ার নিয়ামত থেকে উত্তম, উৎকৃষ্ট এবং স্থায়ী বলে এই সকল নিয়ামত অর্জনের ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-
وَاللَّهُ عِندَهُ حُسْنُ الْمَثَابِ
আল্লাহর নিকটই হলো উত্তম আশ্রয়।
এর মানে হলো, আখিরাতের ঘর এই অস্থায়ী দুনিয়ার ঘর থেকে উত্তম হবে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
الْمَالُ وَالْبَنُونَ زِينَةُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَالْبَاقِيَاتُ الصَّالِحَاتُ خَيْرٌ عِندَ رَبِّكَ ثَوَابًا وَخَيْرٌ أَمَلًا
ধনৈশ্বর্য ও সন্তান-সন্ততি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য এবং স্থায়ী সৎকর্মসমূহ আপনার পালনকর্তার কাছে প্রতিদান প্রাপ্তি ও আশা লাভের জন্যে উত্তম। ৯
টিকাঃ
৭ সূরা আলে ইমরান: ১৪
৮ সূরা হাদিদ: ২০
৯ সূরা কাহফ: ৪৬
📄 দুনিয়ার ধন-সম্পদের আসল হাকিকত
এখন ধন-সম্পদ আসবাব পত্রের হাকিকত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ফরমানের আলোকে আপনাদের সামনে রাখা হচ্ছে— যেগুলোর কারণে মানুষ গুনাহে নিমজ্জিত হয়।
أَبُو عَاصِمٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ لَوْ كَانَ لِابْنِ آدَمَ وَادِيَانِ مِنْ مَالٍ لَأَبْتَغَى ثَالِثًا وَلَا يَمْلَأَ جَوْفَ ابْنِ آدَمَ إِلا التَّرَابُ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَى مَنْ تَابَ.
ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, যদি আদাম সন্তানের দুই উপত্যকা ভরা মালধন থাকে, তবুও সে তৃতীয়টার আকাঙ্ক্ষা করবে। আর মাটি ছাড়া বনি আদামের পেট কিছুতেই ভরবে না। আর যে তওবা করবে, আল্লাহ্ তার তওবা কবুল করবেন। ১০
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ سَمِعْتُ الزُّهْرِيَّ يَقُولُ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ وَسَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ عَنْ حَكِيمِ بْنِ حِزَامٍ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ سَأَلْتُهُ فَأَعْطَانِي ثُمَّ قَالَ هَذَا الْمَالُ وَرُبَّمَا قَالَ سُفْيَانُ قَالَ لِي يَا حَكِيمُ إِنَّ هَذَا الْمَالَ خَضِرَةٌ حُلْوَةٌ فَمَنْ أَخَذَهُ بِطِيبٍ نَفْسٍ بُورِكَ لَهُ فِيهِ وَمَنْ أَخَذَهُ بِإِشْرَافِ نَفْسٍ لَمْ يُبَارَكْ لَهُ فِيهِ وَكَانَ كَالَّذِي يَأْكُلُ وَلَا يَشْبَعُ وَالْيَدُ الْعُلْيَا خَيْرٌ مِنَ الْيَدِ السُّفْلَى
সাইয়িদুনা হাকিম ইবনু হিযাম রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে কিছু চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি তাঁর কাছে আবার চাইলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি তাঁর কাছে আবার চাইলাম। তিনি দিলেন। এরপর বললেন- এ হলো ধন-সম্পদ (দুনিয়া)। সুফইয়ানের বর্ণনামতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- হে হাকিম, এ মাল সবুজ ও সুমিষ্ট। যে লোক তা খুশি মনে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে। আর যে ব্যক্তি তা লালসা নিয়ে গ্রহণ করবে, তার জন্য তাতে বরকত দেওয়া হবে না। বরং সে ঐ ব্যক্তির মত যে খায় কিন্তু তৃপ্ত হয় না। আর উপরের (দাতার) হাত নিচের (গ্রহীতার) হাত থেকে শ্রেষ্ঠ। ১১
মানুষ মনে করে, গুনাহ করে অপরাধ করে যে মাল সে একত্রিত করেছে, পুঞ্জিভূত করেছে অতঃপর আলমারি ও লোহার সিন্দুক ভরে নিয়েছে, ব্যাংকে সংরক্ষিত করে রেখেছে, এখন এসব কিছু তার হয়ে গেছে। এসব যেন প্রকৃতপক্ষেই তার ধন-সম্পদ। আর অন্যরা যদি জায়িয পদ্ধতিতে ধন-সম্পদ উপার্জন করে জমা করে ব্যাংক ব্যালেন্স বানিয়ে রাখে, তাহলে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঐ ব্যক্তির মাল অর্পণ করে দেননি বরং ইরশাদ করেছেন-
"তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি, নিজের সম্পদ হতে তার উত্তরাধিকারীর সম্পদকে অধিক প্রিয় মনে করে? তারা সবাই জবাব দিলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল, আমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যে তার নিজের সম্পদকে সবচেয়ে অধিক প্রিয় মনে করে না। তখন তিনি বললেন- নিশ্চয়ই মানুষের নিজের সম্পদ তা-ই, যা সে (সৎ কাজে ব্যয়ের মাধ্যমে) আগে পাঠিয়েছে। আর সে পিছনে যা রেখে যাবে তা তার ওয়ারিছের মাল।”১২
দুনিয়াতে ধন-দৌলত একত্রিতকারী মনোযোগ দিয়ে শুনে নাও। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন লোকদের ব্যাপারে ইরশাদ করেছেন, “যে ব্যক্তি দুনিয়াতে অনেক ধন-সম্পদ রেখে যাবে আখিরাতে সে ব্যক্তিই গরীব হবে। অবশ্য যাকে আল্লাহ পাক ধন-দৌলত দিয়েছেন অতঃপর সে ডানে-বামে সামনে-পিছনে চতুর্দিকে তা (গরীব মিসকিনদেরকে) বিলিয়ে দিয়েছে এবং নিজেদের ধন-সম্পদকে নেককাজে ব্যয় করেছে। সে আখিরাতে গরীব হবে না।” ১৩
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ لَيْسَ الْغِنَى عَنْ كَثْرَةِ الْعَرَضِ وَلَكِنَّ الْغِنَى عَلَى النَّفْسِ.
অর্থাৎ সাইয়িদুনা আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ধনের আধিক্য হলে ধনী হয় না, বরং অন্তরের ধনীই প্রকৃত ধনী।১৪
অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে ধনী তো সে ব্যক্তি, যার অন্তরও ধনী। আর সে অন্তর খুলে নিজের ধন-দৌলতকে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ ফী সাবিলিল্লাহ এর মাঝে দুই হাতে ব্যয় করে। এমন নয় যে, সে জোড়জবরদস্তি করে জমিয়ে রাখে। সে ব্যক্তি তো ধনী নয় যে অন্যায় কাজ, গুনাহ ও অবাধ্যতা করে টাকা পয়সা একত্রিত করে। অতঃপর সেই টাকা পয়সাকেও এমন জায়গায় খরচ করে যা বেশি গুনাহে লিপ্ত হওয়া সাব্যস্তকারী হয়। আর এটাও হাকিকত যে, যখন রিজিক ও ধন-সম্পদের মধ্যে আধিক্য এসে যায় তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ বিভিন্ন প্রকারের গুনাহে লিপ্ত হয়ে যায়। কেবলমাত্র সেই ব্যক্তিই গুনাহ থেকে বাঁচতে পারে, যার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ থাকে। (এভাবেই জানা যায়, গুনাহের কারণগুলোর মধ্যে ধন-সম্পদ সবচেয়ে বড় কারণ)
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
بَلْ تُؤْثِرُونَ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَانْ ءَاخِرَةُ خَيْرٌ وَأَبْقَى
বস্তুতঃ তোমরা (আখিরাতের জীবনকে অগ্রাধিকার না দিয়ে) পার্থিব জীবনকে অগ্রাধিকার দাও, অথচ পরকালের জীবন উৎকৃষ্ট ও স্থায়ী।১৫
আর সেই সন্তান-সন্ততি; মানুষ তাদের জন্য কতোই না পরিশ্রম করে থাকে। সারাজীবন ধোঁকাবাজি করে বেড়ায় এজন্য যে, এর দ্বারা মাল ও দৌলত কামাই করে সে নিজের সন্তানাদিকে সুখে রাখতে পারবে। এই সন্তানাদির সুখ-শান্তির জন্য মানুষ বিভিন্ন ধরণের গুনাহে নিমজ্জিত হয়ে থাকে। এই সন্তানাদি ও ধন-সম্পদের ব্যাপারেই আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-
وَاعْلَمُوا أَنَّمَا أَمْوَلُكُمْ وَأَوْلَادُكُمْ فِتْنَةٌ وَأَنَّ اللَّهَ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ )
আর জেনে রাখ, তোমাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি (ফিতনা) অকল্যাণের সম্মুখিনকারী। বস্তুতঃ (এই ফিতনায় শিকার হওয়া থেকে বেঁচে যাওয়ার সুরতে) আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা প্রতিদান।১৬
টিকাঃ
১০ বুখারী: ৬৪৩৬ ও ৬৪৩৭; মুসলিম ১২/৩৯, হাঃ ১০৪৯, আহমাদ ৩৪০১
১১ বুখারী: হাদীস নং ৬৪৪১। এ হাদীসে অন্যের কাছে হাত পাতাকে ঘৃণিত কাজ বলে গণ্য করা হয়েছে এবং দান করাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
১২ বুখারী: ৫৪৪২।
১৩ বুখারী: ৬৪৪৩
১৪ বুখারী: ৬৪৪৬, মুসলিম ১২/৪০, হাঃ ১০৫১, আহমাদ ৭৩২০ আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাওয়াক্কুলই মানুষকে প্রকৃতপক্ষে ধনী অন্তঃকরণ দান করে, যার ফলে সে গরীব হয়েও দান করতে ভয় করে না। অপরপক্ষে আল্লাহর প্রতি যার বিশ্বাস ও নির্ভরতা দৃঢ় নয়, সে অগাধ সম্পদের অধিকারী হয়েও, গরীব হয়ে যাওয়ার ভয়ে দান করা থেকে বিরত থাকে।
১৫ সূরা আ,লা: ১৬-১৭
১৬ সূরা আনআম: ২৮
📄 নিজের গুনাহের ব্যাপারে সাফাই দেওয়ার জন্য কমজোর ও ঠুনকো দলিল
মানুষ যখন উপরোক্ত জিনিসের জন্য একবার গুনাহ করে বসে। আর তখনি শয়তান পিছনে ভাল ভাবে লেগে যায়, কারণ কখন জানি তার বোধশক্তির মাঝে ধরা পড়ে যায় যে কাজ করেছে তাতে সে ভুল করছে। শয়তান ঐ গুনাহগার ব্যক্তিকে তার কৃত গুনাহটি গুনাহ নয় এই কথাটা প্রমাণ করার জন্য এমন এমন দলিল ও ব্যাখ্যা বুঝায় এবং অন্তরের ভেতরে গেঁথে দেয় যে, যদি কেউ তাকে বুঝাতে আসে যে, এমন কাজ করো না, এমন কাজ করলে গুনাহ হয়ে যাবে, আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হবেন তাহলে সে উল্টো তাঁকেই শয়তানের প্রস্তুতকৃত দলিল ও ব্যাখ্যা দ্বারা নিরুত্তর করার চেষ্টা করে, সেইসব ঠুনকো দলিল দ্বারা গুনাহগার বলা থেকে নিজের প্রতিরক্ষা করে, এবং নিজের পক্ষে সাফাই দেয়। সে বলে, না আমি যা করছি, সঠিক করছি। আমি তো কেবল নিজের পেট চালানোর এসব চক্কর চালাই। কাউকে হত্যা তো করিনা, দুনিয়াতে এমন ব্যক্তিও তো রয়েছে যে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আরেকজনকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে, এক্ষেত্রে আমি তো এমন ব্যক্তির চেয়েও ভাল আছি। অথবা সে বলে, আরে ভাই ছাড়ুন না। দেখেছি কত নামাজি নামাজ পড়ে, কত হাজি হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ে তারপর আবার মানুষের গলায় না-জায়েয ফায়দার ছুরি চালিয়ে দেয়, মিথ্যা বলে ইত্যাদি আরও কত কী! কী ফায়দা দিয়েছে তাহলে এসব নামাজ আর হজ করা? আমরা তো এসব নামাজি ও হাজিদের থেকে ভাল আছি, যারা নামাজ'কালাম পড়ে আবার উল্টাপাল্টাও করে। এভাবেই শয়তান সব অপরাধী ও গুনাহগারকে গুনাহর মধ্যে দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য এ ধরণের ঠুনকো দলিল দিয়ে বুঝায়- যাতে করে সে নিজের গুনাহকে শয়তানের বেকার ও কাঁচা দলিলের ভিত্তিতে জায়েয মনে করে। গুনাহ করার ফলে যে উপকার হাসিল হয় তাকে নিজের বৈধ অধিকার মনে করে, অতঃপর সেই গুনাহর কাজেই লেগে থাকে, গুনাহর রাস্তায় চলতে থাকে।
📄 গুনাহ পরিত্যাগ করতে ইচ্ছুককে শয়তান যেভাবে ওয়াসওয়াসা দেয়
মানুষ যখন উপরোক্ত জিনিসের জন্য একবার গুনাহ করে বসে আর তখনি শয়তান পিছনে ভালোভাবে লেগে যায়। কারণ কখন জানি তার বোধশক্তির মাঝে ধরা পড়ে যায়, যে কাজ সে করেছে তাতে ভুল করেছে। শয়তান ঐ গুনাহগার ব্যক্তিকে তার কৃত গুনাহটি গুনাহ নয় এই কথাটা প্রমাণ করার জন্য এমন এমন দলিল ও ব্যাখ্যা বুঝায় এবং অন্তরের ভেতরে গেঁথে দেয় যে, যদি কেউ তাকে বুঝাতে আসে, এমন কাজ করো না। এটা করলে গুনাহ হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা অসন্তুষ্ট হবেন, তাহলে সে উল্টো তাকেই শয়তানের প্রস্তুতকৃত দলিল ও ব্যাখ্যা দ্বারা নিরুত্তর করার চেষ্টা করে। সেইসব ঠুনকো দলিল দ্বারা গুনাহগার বলা থেকে নিজের প্রতিরক্ষা করে এবং নিজের পক্ষে সাফাই দেয়। সে বলে, না আমি যা করেছি, সঠিক করেছি। আমি তো কেবল নিজের পেট চালানোর জন্য এসব চক্কর চালাই। কাউকে তো হত্যা করি না। দুনিয়াতে এমন ব্যক্তিও তো রয়েছে, যে নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য আরেকজনকে হত্যা পর্যন্ত করে ফেলে। এক্ষেত্রে আমি তো এমন ব্যক্তির চেয়েও ভালো আছি। অথবা সে বলে, আরে ভাই ছাড়ুন না। দেখেছি কত নামাজি নামাজ পড়ে, কত হাজি হজ করেছে, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজও পড়ে তারপর আবার মানুষের গলায় না-জায়িয ফায়দার ছুরি চালিয়ে দেয়, মিথ্যা বলে ইত্যাদি। আরও কত কী! কী ফায়দা দিয়েছে তাহলে এসব নামাজ আর হজ করা? আমরা তো এসব নামাজি ও হাজিদের থেকে ভালো আছি। যারা নামাজ-কালাম পড়ে আবার উল্টাপাল্টাও করে। এভাবেই শয়তান সব অপরাধী ও গুনাহগারকে গুনাহর মধ্যে দৃঢ় ও প্রতিষ্ঠিত রাখার জন্য এ ধরণের ঠুনকো দলিল দিয়ে বুঝায়- যাতে করে সে নিজের গুনাহকে শয়তানের বেকার ও কাঁচা দলিলের ভিত্তিতে জায়িয মনে করে। গুনাহ করার ফলে যে উপকার হাসিল হয় তাকে নিজের বৈধ অধিকার মনে করে। অতঃপর সেই গুনাহর কাজেই লেগে থাকে। গুনাহর রাস্তায় চলতে থাকে।