📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহের দ্বিতীয় কারণ

📄 গুনাহের দ্বিতীয় কারণ


গুনাহে নিমজ্জিত হওয়ার দ্বিতীয় কারণ হলো, ধন-দৌলত উপার্জন করা। মানুষ বেশি থেকে বেশি ধনসম্পদ উপার্জন করে সম্পদশালী হওয়ার জন্য এমন সকল পথ-পদ্ধতি ও কৌশল অবলম্বন করে, যে কারণে সম্পদের দেবিকে নিজের করায়ত্ত করে নিতে পারে। এর জন্য কারো হক মেরে দিতে হলে হক মেরে দেয়। কারো কোনো ক্ষতি করতে হলে তাই করে। চুরি-ডাকাতি, হত্যা, গুমসহ হেন অপরাধ নেই, যা করতে দ্বিধা করে। রাতারাতি লাখপতি ও কোটিপতি হতে গুনাহের কণ্টকময় পথ বেছে নিতেও দ্বিতীয়বার ভাবে না।

📘 গুনাহ থেকে ফিরে আসুন > 📄 গুনাহের তৃতীয় কারণ

📄 গুনাহের তৃতীয় কারণ


গুনাহে নিমজ্জিত হওয়ার তৃতীয় কারণ, যার দিকে মানুষের লোভ-লালসা অত্যাধিক, তা হলো-জায়গা-জমি। সারা দেশে যেসব আদালত রয়েছে, উকিলদের সারি, জর্জদের বিচারালয়, আদালত কাচারি প্রতিষ্ঠিত আছে এবং শুরু থেকে নিয়ে আজ অবধি এক নিয়মমাফিক নেজাম চলে আসছে, এগুলোর শেষ কোথায়? এ হলো মানুষের কামনা-বাসনা, জায়গা-জমি ও ধন-দৌলত সোনা-রূপার চক্কর সৃষ্টি করার নেজাম। এসকল বিচারালয়, আদালতসমূহ, উকিল, জর্জ-ব্যারিস্টার সকলেই জায়গা-জমির ঝগড়া মিটাতে মিটাতে বৃদ্ধ হয়ে মারা যাচ্ছে এবং তার স্থানে নতুন নতুন জর্জ ব্যারিস্টার আসছে। এক সময় তারাও বুড়ো হচ্ছে। এভাবেই জমি সংক্রান্ত মোকাদ্দামা যারা নেয় তাদেরও একই অবস্থা। এরই ভিত্তিতে হত্যা হচ্ছে। কেন? এর কারণ হলো, মানুষ সবসময় এই লালসায় থাকে যে, বেশির থেকে বেশি জমিনের মালিক যেন সে হতে পারে। বেশির থেকে বেশি জমিনে তার কর্তৃত্ব যেন চলে। সে বিনা অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে যেন মালিক হতে পারে। যদি তার কাছে এক একর থাকে, এমতাবস্থায় তার যদি ৫০ একর মিলে যায়, তাহলে তো আরাম আয়েশ এর জিন্দেগী হয়ে যাবে। যদি ১০০ একর থাকে, তাহলে হাজার হওয়া চাই। এই লোভ-লালসা ও লিপ্সাই বড় বড় অপরাধ ও গুনাহ সংঘটিত করায়।

যেহেতু মানুষ এসব জিনিসের জন্য লালায়িত থাকে। কোনো না কোনোভাবে যদি এসব জিনিস তার কব্জায় এসে যায়, তাহলে সে দুনিয়ার প্রভাবশালী, জাঁকজমকপূর্ণ, উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন একজন সমৃদ্ধ ব্যক্তিতে পরিণত হবে।

তাইতো মক্কার কুফফাররা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে লোভ দেখিয়েছিল যে, যদি সে মাল ও দৌলত চায়, তাহলে আমরা সকল ধন-সম্পদ স্তুপাকারে তার পদতলে এনে জমা করব। আর যদি সে কোনো সুন্দরী ও লাবন্যময়ী মহিলাকে চায়, তাহলে যেই মহিলার দিকে তিনি ইশারা করবেন, আমরা তার বন্ধনে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত। আর যদি তিনি এই ভূমির বাদশাহি কামনা করেন, তাহলে আমরা তাকে নিজেদের বাদশাহ ও সরদার মেনে নিলাম। কিন্তু শর্ত কী ছিল? শর্ত ছিল সে যেন আমাদের মা'বুদ, আমাদের উপাস্য, আমাদের দেব-দেবিকে কিছু না বলে এবং তাদেরকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন না করে। এমনটা যেন না বলে, এসব দেব-দেবি ও মূর্তিগুলো কিছুই করতে পারে না। আমাদেরকে গুনাহে লিপ্ত হতে যেন বাঁধা না দেয়। আমরা এ সকল শর্তাবলী ও দাবিগুলো মানার জন্য প্রস্তুত। কিন্তু দোজাহানের সরদার কী বললেন? তিনি বললেন, 'হে কাফেররা শুনে নাও, যদি তোমরা আমার ডান হাতে চাঁদ আর বাম হাতে সূর্য এনে দাও তবুও আমি আমার রবের তাওহীদ তথা একত্ববাদ বর্ণনা করা থেকে একচুল পরিমাণ পিছপা হব না। কখনও তার প্রচার থেকে ফিরে যাব না। এগুলো তোমাদের খামখেয়ালি যে তোমরা এতসব লোভ-লালসা দেখিয়ে আমাকে তাওহীদের বাণী প্রচার করা থেকে বিরত রাখতে চাও। এভাবেই তাঁর সত্য ঘোষণা ছিল, আমি অন্যায় ও গুনাহের বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়াই করতে থাকব, এর পরিণাম যাই হোক না কেন।,

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00